| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কবি সাফো প্রেম মুগ্ধা এক নারী লিখছেন মনোজিৎকুমার দাস

Reporter
মনোজিৎকুমার দাস / ৯৮৩ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১

সাফো কবি হিসাবে সর্বকালের শ্রেষ্ট নারী কবি। তাঁর কবি প্রতিভাকে তুলে ধরবার জন্য প্রথমেই তাঁর কয়েকটি কবিতার বঙ্গানুবাদ তুলে ধরবো।

১) ভালোবাসা

মিষ্টি মা গো, অলস তাঁতের পানে আমি ঝুঁকে থাকি

আকাঙ্ক্ষায় পরিশ্রান্ত হয়ে সেই বালকের জন্যে

যে এখনও এক সুন্দরের স্বপ্ন হয়ে আছে— ভরে আছে

আমার আত্মায়, জীবনে, আফ্রোদিতি ইচ্ছায়।

২) হে প্রিয়তমা

হে প্রিয়তম, তোমার ত্বক কী শুভ্র সমুজ্জ্বল

ঠিক যেন খাঁটি শ্বেতস্বচ্ছ স্ম্ফটিকের মতো

যেন এক সাদা লিলি তনু সুকোমল

কেবলি খুলে দেয় রাতে পাপড়ি তার যত।

৩) কাছে আসো, প্রিয় হে আমার

এই রাতে পার হও লিলি ফুলে ভরা প্রান্তর

কত না নক্ষত্র জ্বলে মাথার ওপর

দু’চোখ ভ’রে দেখে আমাদের প্রেম

আকাশটা উজ্জ্বল নিকষিত হেম।

৪) কিন্তু জেনো যে হৃদয় চায় ভালোবাসিবারে

একটি নতুন প্রেম পুষ্পিত সম্ভারে

ভরিবে শূন্যেরে তার মধুরিম আনন্দ সঞ্চারে।

৫) নিঃশ্বাসের কাছে আসো, আরও কাছে, হে আমার প্রেম

আবার হবে সবকিছু নব আভাময়, নিকষিত হেম।

৬) যখন মনে হয় ভালোবাসা শূন্যে হারিয়েছে

ভালোবাসা পারে কি ছাড়িয়ে যেতে অদৃশ্য বাঁধন

ভালোবেসেছিল যে সে মরেছে যখন?

চলে গেছে বৈকি, একেবারে গেছে।

অবশ্যই! এত সেই আত্মা যা ভালোবাসার ভার বহিয়াছে

শরীর নয়

ভালোবাসা করি অনুভব অন্য এক অবিনশ্বরতায়।

যখন আমি ছিলাম এই দুনিয়ায়,

হারিয়েছিলাম আমার ভালোবাসা নিরীশ্বরতায়,

অবাক এই আমি যখন তাহারে আবার ফিরে পেতে চাই

বারবার পুনর্বার তার কাছেই ভালোবাসা যাচি।

চলে যাওয়ার পর

আমি শিখেছিলাম তা শুদ্ধ হওয়ার জন্য যা করেছি আশা।

তোমার সাথে শূন্যে গেছে উড়ে সেই গাঢ় ভালোবাসা,

যেমন গিয়েছে ছেড়ে তোমার আত্মা নশ্বর শরীরের বাসা

পাখা মেলে স্বর্গ পানে

সেখানে প্রতীক্ষারত তোমার ভালোবাসা তোমাকেই টানে।

সাফো প্রাচীন গ্রিক অ্যাওলিয়ান কাব্যধারার দুই শ্রেষ্ঠ কবির মধ্যে একজন। আরেকজন কবি হলেন আলকেওস। খ্রিষ্টপূর্ব সাত শতকের শেষপাদে [৬৩০ থেকে ৬১২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মধ্যবর্তী কোনো সময়ে] গ্রিসের মাইটেলেনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সাফো। আবার অনেকেই মতপ্রকাশ করেছেন যে তার জন্মস্থান গ্রিসের লেসবস দ্বীপের এরেসস নামক স্থানে। তার পিতার নাম স্কামানদ্রোনিমাস। পিতার খুব আদরের কন্যা ছিলেন সাফো। তার বয়স যখন মাত্র ছয় বছর, তখন পিতা মারা যান। তার তিন ভাই ছিল। সাফো একটি কবিতায় বড় ভাই ক্যারাঙ্কাসকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন। কারণ, সে মিসরীয় এক বারাঙ্গনার প্রতি এমন অনুরক্ত ছিল যে যেন সেই বারাঙ্গনা তাকে প্রচুর মুক্তিপণ দিয়ে দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছিল। কেউ কেউ অনুমান করেন যে সাফো কেইস নামের এক সুন্দরী মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন। এই ধারণাটি এসেছে তার কবিতা থেকে। কিন্তু সাফো বিয়ে করেছিলেন এবং তার একটি সন্তান ছিল। তিনি একজন কবি হিসেবে কবিতায় নানা চরিত্রের, বিষয়ের বর্ণনা করেছেন। নিজের বাস্তব জীবনের তথ্য তুলে ধরেননি।

সাফো সেই সময়ের বিখ্যাত গ্রিক কবি আলকেওস, স্টেসিকোরাস এবং পিথাকাসের সমসাময়িক ছিলেন। শুধু সমসাময়িক ছিলেন না, আলকেওসের সঙ্গে তার গভীর বন্ধুত্বের কথা উভয়ের কবিতার মধ্যে পাওয়া যায়। তার জীবন সম্পর্কে খুব সামান্য তথ্য সহজলভ্য। পারিয়ান মার্বেল থেকে জানা যায় যে সেই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তিনি লেসবস থেকে সিসিলি গমন করেন। প্রচলিত গল্পে আছে যে তিনি ফাওনের প্রেমে পড়েন। প্রচলিত কিংবদন্তি অনুযায়ী ধারণা করা হয় যে ফাওন আফ্রোদিতির প্রেমে পড়েছিল। সেই প্রসঙ্গ নিয়ে লেখা তার কিছু কবিতা ফাওনের সঙ্গে তার প্রেমের বিভ্রান্তিকর তথ্যের উৎস। মাইটেলিনে সাফো একটি মহিলা সাহিত্য সংঘ গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে অধিকাংশই ছিল তার অনুরক্ত কাব্যভক্ত। সেই সময়ের আথেনীয় সমাজ নারীদের এই স্বাধীনতাকে অনুমোদন দেয়নি। নারীদের নিয়ে সাফোর এই উৎসাহকে সমাজের নিয়ন্ত্রকরা বাড়াবাড়ি মনে করেছে। তার কবিতায় এই সকল অনুরাগিণী নারীর উল্লেখ থেকে পরবর্তীকালে তার চরিত্র নিয়ে এই ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয় যে তিনি নারীর প্রতি আসক্ত ছিলেন। নারীদের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক ছিল। ধীরে ধীরে এই রটনা পল্লবিত হতে হতে তাকে নারী সমকামী কবি হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়। এমনকি লেসবিয়ান শব্দটির উৎস ধরা হয় সাফোর বাসস্থান লেসবস দ্বীপের নামানুসারে।

এগুলোর সূচনা হয়েছিল কমেডি নাট্যকারদের হাতে। সাফোর সমসাময়িক কবিরা তার কাব্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কবিতার আঙ্গিক ও বিষয়ের বিচারে তিনি নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। তার সমকালের বিখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক সোলন তার একটি কবিতা আবৃতি শুনে মন্তব্য করেছিলেন যে এই কবিতাটি যেন মৃত্যুর পূর্বে তিনি পাঠ করে যেতে পারেন। সাফোর নয়টি কাব্যগ্রন্থের কথা জানা যায়। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র কয়েকটি খণ্ডাংশ কালের সীমা পেরিয়ে একালে এসে পৌঁছেছে। তাঁর সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সুন্দর কবিতাটি দেবী আফ্রোদিতির প্রশস্তিমূলক।

এ কথা বলা বিশ্বের প্রথম নারী কবি। কিন্তু তাকে বিচার করার এটিই প্রধান বিষয় নয়। বরং কবি হিসাবেই সাফো বিশ্ব কবিতায় এক বিশাল ব্যতিক্রম ও নিজস্ব কণ্ঠস্বর হিসাবে বিবেচ্য। গ্রীসের লেসবস দ্বীপে তার জন্ম। লেসবস সে সময় গ্রীসের জ্ঞান ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিলো। লেসবস দ্বীপের অধিবাসীদের লেসবিয়ান বলা হয়। সাফো’র কারণেই পরবর্তীতে লেসবিয়ান শব্দটির ভিন্ন মানে দাঁড়ায়। নারী সমকামীকে লেসবিয়ান বলা হয়। সাফো তাই ছিলেন বলে অনেকের ধারণা। তার কবিতাতেও নারীর প্রতি তীব্র প্রেম ও কামনা লক্ষ করা যায়।

 

সাফোকে সমকামী হিসাবে চিহ্নিত করা হলেও সেটাই শেষ কথা নয়। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কও আছে। আসলে কাব্যে এবং প্রেমের কবিতার সকল ক্ষেত্রেই যৌনতাই একমাত্র ব্যখ্যা নয়। অন্যদিকে, ফাউন বলে এক নৌকার মাঝি’র কথা সাফোর প্রেমের কবিতায় আছে। ধারণা করা হয় এই মাঝি’র সঙ্গেও তার প্রেম ছিলো। তাই সাফোর সকল প্রেমই যে সমলৈঙ্গিক কামনা তা নয়।

কবিতা লেখার পাশাপাশি সাফো শিক্ষকতা করতেন। অবিবাহিত মেয়েদের নিয়ে থিয়াসস নামে তার একটি বিশেষ স্কুল ছিলেন। ধারণা করা হয়, প্লেটো-সক্রেটিসের মতো তিনি শিষ্যকূলদের কাব্য, দর্শন ইত্যাদির শিক্ষা দিতেন। অবিবাহিত মেয়েরা এখানে সাফোর কাছে প্রেম, বিয়ে ও জীবনের নানা শিক্ষা পেতেন। এরমধ্যে কারো কারো সাথে তার আন্তরিক সম্পর্ক হয়ে যায়। সাফোর এই কুমারী নারী সমাজ যথাযথ কারণেই অনেকে মেনে নিতে পারেনি। নানা ধরণের অভিযোগ ওঠে তাকে ও এবং ছাত্রীদের ঘিরে।

গিরিন্না, আত্তিস, এনাক্টরিয়া প্রমুখ নারীকে নিয়ে তার প্রসঙ্গে নানা মতামত পাওয়া যায়। অবশেষে তাকে লেসবস থেকে নির্বাসিতও করা হয়।

কিন্তু ব্যক্তি সাফোকে নিয়ে যতো কথাই থাকুক তার কবিতা নিয়ে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই। লিখিত সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম নারী কবিই শুধু নয়, প্রেমের কবিতার ইহিতাসে তিনি অগ্রগণ্য কবি। তার কবিতা আজকের সময়েও ভীষণ প্রাসঙ্গিক।

দুঃখজনক হলেও সত্য, সাফোর অধিকাংশ কবিতাই হারিয়ে গেছে। অনেক কবিতাই আবার আংশিক পাওয়া যায়। বহু কবিতার একটা দুটা পংক্তি বা লাইন মাত্র পাওয়া যায়। অথচ সাফো প্রচুর লিখেছেন বলে জানা যায়। অন্তত কয়েক হাজার কবিতা তিনি লিখেছেন। কিন্তু তার খুব কম অংশই ইতিহাসের গর্ভ থেকে উদ্ধার করা গেছে। বলা হয়ে থাকে, ১৪১ খ্রিস্টাব্দে এবং ১০৭৩ খ্রিস্টাব্দে পরপর দুইবার চার্চের আদেশে সাফোর অনেক কবিতা ধ্বংস করা হয়েছে। তার কবিতার তীব্র যৌনতাই এর কারণ ছিলো। একমাত্র আফ্রোদিতির প্রতি গাথা (Ode to Aphrodite) কবিতাটি পূর্ণাঙ্গ আকারে পাওয়া যায়।

সাফো বরাবরই ভক্ত ছিলেন আফ্রোদিতির। গ্রীকদের সৌন্দর্য, আনন্দ, প্রেম আর প্রজননের আদিম দেবী আফ্রোদিতি। রোমানরা তাকে ভেনাস নামেই ডাকেন। সাফোর কোন কোন কবিতায় তাকে সাইপ্রিয়ান বলা হয়েছে। কারণ পুরাণ অনুযায়ী আফ্রোদিতির জন্ম সাইপ্রাস দ্বীপে। প্রেমের দেবী আফ্রোদিতিই তার কবিতার অন্যতম প্রেরণা। এই দেবীর প্রতি তার একনিষ্ঠ প্রেমও নারী প্রেমের একাধিক কবিতা লিখতে অনুঘটক হিসাবে কাজ করেছে হয়তো বা।

সাফোর কবিতা গীতধর্মী। তিনি লায়ার নামে এক গ্রীক বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে এই কবিতাগুলো সুর করে পড়তেন বা গাইতেন। বলা হয়ে থাকে সাফো যে লায়ার বাজিয়ে গান গাইতেন পরবর্তীতে খুৎরপ বা গীতিকবিতা শব্দটি এই লায়ার শব্দ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে। প্রাচীন সমালোচরা বলেছেন, সাফো গীতিকবিতার পাশাপাশি শোকগাঁথা এবং আয়াম্বিক ছন্দের কবিতাও লিখতেন। কিন্তু সেগুলো আর পাওয়া যায় না। অন্যদিকে পরবর্তীকালে সাফোকে অনুসরণ করে অনেকে কবিতা লিখেছেন, যা সাফোর নামে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টাও হয়েছে। সাফোর কবিতা যথার্থই ব্যতিক্রমধর্মী। তার কবিতা পরবর্তীকালের বহু বড় কবিদের অনুপ্রাণিত করেছেন। রোমান কবি কাতাল্লুস সাফোর বহু কবিতা অনুবাদ করেছিলেন। ইংরেজ কবি লর্ড বায়রণ সাফোকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন। বায়রন ছাড়াও শেলি, টেনিসনের মতো কবিরাও সাফোর কবিতা অনুবাদ করেছেন এবং প্রভাবিত হয়েছেন তার কবিতা দ্বারা। সাফোর কবিতার তীব্র প্রেম, ইন্দ্রিয়জ কামনা ও যৌনতা আধুনিক কবিতায় প্রভাব ফেলেছে। পুরুষতান্ত্রিক কাব্যচর্চার বিরুদ্ধেও সাফোর কবিতা ভিন্ন স্বর হিসাবে আলোচিত। তার কবিতা মূলতই প্রেম ও ব্যক্তি সম্পর্ক নির্ভর। তবু সাফোর কবিতায় ইতিহাস, পুরাণ এমনকি সমকালও ঠাঁই পেয়েছে প্রেমের আড়ালেই।

সাফোর কবিতা ভাষা সরল, কিন্তু ইঙ্গিপূর্ণ। শব্দ নির্বাচনে তিনি সাহসী। তার একাধিক কবিতায় কৌতুকের ইঙ্গিতও আছে। দুঃখ-বেদনা নিয়েও তিনি মজা করতে ছাড়েন না। তীব্র প্রেমের জ্বালা ও দেহজ কামনা ঘিরে তার কবিতা এক ধরণের আবেশ তৈরি করে। আফ্রোদিতি নারী হওয়ায় সাফোর প্রেমও সমলৈঙ্গিক হয়ে থাকতে পারে। প্রকৃতিও তার কবিতায় একটা বড় অংশ দখল করে আছে। জ্যোৎস্না ও চাঁদের অনুসঙ্গ ব্যবহার করেছেন তিনি একাধিক কবিতায়।

গোলাপ ফুলের প্রথম পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর কবিতায়। তাঁর রূপের এবং লেখার প্রশংসা করেছেন স্বয়ং সক্রেটিস। লিপিবদ্ধ কবিতার সন্ধান পাওয়া কবিদের মধ্যে তিনি প্রথম কয়েকজনের মধ্যে একজন। কবি সাফো। কবিতার আঙ্গিনায় এমন এক নারী, যাকে সক্রেটিস সেই সময়কার সেরা ১০ জন কবির একজন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।

গ্রিক কবি সাফোইস্লিঅবলে সব সে জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাসে তিনিই প্রথম লেসবিয়ান কবি হিসাবে পরিচিত। তিনি লেসবসে জন্মগ্রহণ করেন, তাই তাঁকে লেসবিয়ান কবি বলা হয়। তবে তাঁকে সমকামীও বলেছেন কিছু ইতিহাসবিদ। সমকামী প্রেমিকা আত্তিস সম্পর্কেও প্রচলিত আছে কিছু মিথ। সাফোর প্রকৃত জীবন সম্পর্কে কমই জানা যায়। তাঁর কবিতা বিশ্লেষণ করে তাঁকে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর অধিকাংশ কবিতা হারিয়ে গেছে। তিনি আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৬২০ থেকে ৬৩০ সালের মাঝামাঝি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাসবিদদের মাঝে তাঁর জীবনী নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তা সত্ত্বেও লেসবস দ্বীপে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সাহিত্যচর্চা আজো কিংবদন্তী। তাঁর কবিতায় তিনি নারী-পুরুষের সম্পর্ক আর প্রকৃতির বর্ণনা করেছেন নিপুণভাবে।

সাফোকে সমকামী বলা ইতিহাসবিদের সংখ্যা কম। অধিকাংশ ইতিহাসবিদ বলেন, সাফো সক্রেটিসের মতো জীবনযাপন করেছেন। সমমনা একদল মানুষ তাঁকে সবসময় ঘিরে থাকতো। আত্তিসও এদের মধ্যে একজন। তারা মূলত কলা, কবিতা, এবং সংস্কৃতি নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত থাকতেন। ধারণা করা হয়, সাফো স্কুলের মতো একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন যা মূলত সমমনা একদল বন্ধুদের আড্ডার ঢঙে গড়ে উঠেছিলো। সাফোর ছিল জীবন ও যৌনতা সম্পর্কে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি তাঁর কবিতার মাধ্যমে জীবন ও যৌনতা সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষায় নিজের মতামত প্রকাশ করে গেছেন। তবে সেই সময়কার মানুষ তাঁর এই মতামতকে হাস্যকর ভেবেছেন। অনেকে তাঁকে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বলেও উপহাস করছেন। তবে এই নারী কবি এবং তাঁর কবিতা যুগে যুগে কবিদের শিখিয়েছে নিজের চিন্তাকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরতে। মহীয়সী এই নারী খ্রিষ্টপূর্ব ৫৭০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

লাঙ্গলবাঁধ, মাগুরা, বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :

One response to “কবি সাফো প্রেম মুগ্ধা এক নারী লিখছেন মনোজিৎকুমার দাস”

  1. Dr. Sandipak Mollick says:

    সন্দীপ্ত সমালোচনা ! মানবিক বিস্তারণের শোভা ! অপরূপ লৈখিক জ্যোতি !

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev