কবিতা অবশ্য ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়ার সাহায্যে বিশিষ্ট রূপ ধারণ করে; এবং ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া বলতে চলতি ভাষায় সাধারণত আমরা হৃদয়াবেগ বুঝি। কিন্তু হৃদয়াবেগেরও প্রকারভেদ আছে। বাংলা কবিতার অধিকাংশ এত নির্জীব তার কারণ আমাদের কাব্যে সিগনিফিকেন্ট ইমোশন-এর একান্ত অভাব। এর জন্য মূলত দায়ী ভারতীয় ইতিহাসের গতি, এবং এরই প্রতিক্রিয়ায় রবীন্দ্রনাথের প্রভাবের শেষের দিকের প্রকৃতি। রবীন্দ্রনাথকে যে-যুগ জন্ম দিয়েছিল, সে-যুগের প্রাণশক্তি বহুপূর্বে নিঃশেষিত। তাঁর সময়ে যেটা ছিল কাব্যের বিষয়বস্তুর উপযুক্ত, এবং যে-ভঙ্গিতে তিনি তা প্রকাশ করেছিলেন, তাদের জীবনীশক্তি আজকে নেই। এ-সব প্রসঙ্গ অনেককটা অবান্তর। কিন্তু যুগধর্মের, কালান্তরের কথা মুখে বললেও এদের প্রকৃত অর্থ অনেকের কাছে দুর্বোধ্য। সে-জন্য মাঝে-মাঝে অতি-সাধারণ কথার পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন। ভারতবর্ষে বুর্জোয়া সভ্যতার প্রগতিক ফলাফলের শ্রেষ্ঠ উদাহারণ রবীন্দ্রনাথ। তাঁর আগে মাইকেলের মতো কবি ছিলেন, কিন্তু পরে রবীন্দ্রনাথের মতো উল্লেখযোগ্য কবি হয়নি। দাসদেএ বুর্জোয়া সভ্যতার অগ্রগতি অল্পদিন পরেই দমিত হয়, কারণ বর্ধিষ্ণু দাসদেশে বুর্জোয়া প্রভুর স্বার্থবিরোধী। কয়েকদিনের ক্ষিপ্র চকিত প্রগতি, তারপর নিরুদ্ধগতি, এদের দোটানায় আর যাই হোক কোনো দেশীয় প্রাণবান ঐতিহ্যের সৃষ্টি হয় না। রবীন্দ্রনাথের কাব্যেও এই দোটানার প্রভাব বর্তমান।
তাই আমাদের কাব্য প্রকৃত ঐতিহ্যহীন। এক হিশেবে ভারতের বিপুল সংস্কৃত সাহিত্য রবীন্দ্রনাথে শেষবারের জন্য স্বধর্মে পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল। যে স্বতন্ত্র দেশীয় ঐতিহ্যের গৌরব আমরা করি আসলে তা স্বাবলম্বী নয়, বর্তমানে তার নিজস্ব মেরুদন্ড নেই। এর অভাবে বিচারবুদ্ধিকে আমরা বারবার বিসর্জন দিয়েছি, অনুভূতির নামে ভাববিলাসের জয়গানে আমরা মুখর। রোমাণ্টিক আন্দোলনের একটি অন্যতম বিশেষত্ব, বিচারবুদ্ধির ও অনুভূতির মধ্যে তীক্ষ্ণ পার্থক্য-টানা এবং প্রথমটির বিসর্জন, আমাদের দেশে উর্বর ভূমি পেয়েছে। এ-ধারার সঙ্গে মিশেছে বৈষ্ণব কবিতার ভাববিলাস। আমাদের কবিতার রক্তস্বল্পতার এটি একটি কারণ, অবশ্য এর প্রধান কারণ লেখক ও সমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান। ইচ্ছে থাকলেও এ-ব্যবধান কাটিয়ে ওঠা বাঙালি কবিদের পক্ষে কঠিন। ভাবের ও ভাষার যে-ভঙ্গিতে আজকাল তারা অভ্যস্থ, সাধারণ জীবনের সঙ্গে তার সহজ যোগসূত্র নেই। পৃথিবীর সঙ্গে পাশ্চাত্য শিক্ষা আমাদের পরিচিত করেছে বটে, কিন্তু বণিক সভ্যতার গতিতে শিক্ষিত এবং অশিক্ষিতের মধ্যে, সত্যিকারের শিক্ষিত এবং অর্ধ শিক্ষিতের মধ্যে দুস্তর পারাবারের সৃষ্টি করেছে। ভারতবর্ষের অসংখ্য লোকের অক্ষরজ্ঞান নেই, সুতরাং লেখক ও পাঠক বলতে সাধারণত মধ্যবিত্ত শ্রেণীকেই বোঝায়। এই রেডিও-পীড়িত সিনেমা-জর্জরিত, ফুটবল-উৎকণ্ঠিত শ্রেণীর জীবন-যাত্রা শেষ পর্যন্ত মহৎ কবিতার পরিপন্থী। ফলে আমাদের দেশের বিশিষ্ট আধুনিক কবিরা নিঃসঙ্গ, এবং নিঃসঙ্গতায় লাভের চেয়ে লোকসান বেশি। যতদিন পর্যন্ত ভারতবর্ষে আমূল সমাজবিপ্লব না-ঘটে, কুটিল কালচক্রে ভাঙন না-ধরে, ততদিন এই নিঃসঙ্গতা, হতাশা আর অবিশ্বাস, বর্তমান সভ্যতার যেগুলি বিশেষত্ব, তাদের ঘিরে থাকবে, ততদিন তাদের শ্রেষ্ঠ রচনা প্রাণবান মূলসূত্রের অভাবে পীড়িত হবে। ইতিমধ্যে নেইমামার চেয়ে কানামামার অন্বেষণ করাই ভালো। রিয়ালিটির থেকে নিষ্কৃতির চেষ্টার পরাজয়ের দুর্বল ভঙ্গি, প্রকৃতির স্বপ্নলোক ক্লীবের অলীক স্বর্গ। অন্যদিকে সাংসারিক সচেতনতা আধুনিক বাঙালি কবিদের সাহায্য করতে পারে, কারণ সচেতনতা, এমনকী নিজেদের সামাজিক ব্যর্থতার সচেতনতাও, ক্ষমতা ও সংযম আনে। কালক্রমে যখন তাঁদের বিষয়বস্তুতে আসন্ন পরিবর্তনের ভাঙন ধরবে তখন অন্তত তাদের সচেতন দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরবর্তীযুগের কবি এবং পাঠকের কৃতজ্ঞ থাকবেন।
(বৈশাখ, ১৩৪৫; কবিতা।) ১৯৩৮, উড়ো খৈ
… অগাস্টের একটি করাল রাত্রে সরোজ দত্ত নিখোঁজ হন। শেষের সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তের মুখোমুখি কীভাবে তিনি হন শুধু ত্রিকালজ্ঞ পুলিশ জানে।
সরোজবাবুর সঙ্গে শেষ দেখা কবে হয়েছিল? খুব সম্ভব তিরিশের দশকের শেষে, দিল্লি যাবার আগে? একটি বন্ধু সবিস্ময়ে মনে করিয়ে দিলেন, ১৯৬৬-র জানুয়ারিতে একটি বৌভাতের নিমন্ত্রণে সরোজ দত্তের সঙ্গে আমার গল্পগুজব হয়, খেতে বসেছিলাম পাশাপাশি। মনে না থাকাটা অহমিকার দরুন নয়, ক্ষীণ স্মৃতিশক্তি প্রায়ই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। অনেকদিন অদেখা প্রিয় বান্ধবীদের মুখ পর্যন্ত অস্পষ্ট ধূসর হয়ে আসছে।
একটি বাংলা পত্রিকায় (নতুন পরিবেশ, শারদীয় ১৩৮৪) সেদিন সরোজ দত্তের কলমের তীব্র ধার আবার অনুভব করলাম। অতি আধুনিক বাংলা কবিতা বিষয়ে একটি প্রবন্ধের সমলোচনা, ১৯৪০-এ লেখা। সরোজবাবুর সংক্ষিপ্তসার ও তাঁর ভাষা অনুযায়ী আলোচ্য প্রবন্ধের বক্তব্য হ’ল: “(১) ধনতন্ত্রী সমাজে যে প্রগতি স্তব্ধ হইয়াচে বিপ্লবোত্তর সাম্যবাদী সমাজে সেই প্রগতি অব্যাহত চলিবে, অতএব প্রবন্ধকার আশাবাদী ও প্রগতিতে বিশ্বাসী; (২) ধ্বংসোন্মুখ ধনতন্ত্রী সমাজ ‘ডেকাডেন্ট’ অতএব এ সমাজে সত্য, শিব ও সুন্দরের সাধনা অসম্ভব এবং ‘ডেকাডেন্টস’ সাহিত্যই একমাত্র আন্তরিক সাহিত্য। এই আন্তরিকতার জন্য ডেকাডেন্টস হইয়াও তাঁহাদের সাহিত্যে বৈপ্লিবক শক্তিমত্তা বর্তমান। নজীর ইংরেজ কবি টি.এস.এলিয়ট–এর কাব্য; (৩) ধনতন্ত্রী সভ্যতার বর্তমান অবস্থার অন্তঃসারশূন্যতার যে-কোনোরূপ অভিব্যক্তিই বৈপ্লবিক শক্তি; (৪) কিষাণ-মজদুর লালঝান্ডা-ব্যারিকেড সংঘর্ষ লইয়া নাকি তাঁহাদের উত্তেজক সাহিত্য রচনার নির্দেশ বা ফরমাইস দেওয়া হইতেছে এবং ঐ সকল বস্তুর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তাঁহাদের না থাকায় রোমাণ্টিক হইবার ভয়ে ঐ নির্দেশ বা ফরমাইস তাঁহারা পালন করতে পারিতেছেন না।”
সংক্ষিপ্তসার দেবার পর সরোজ দত্ত জোরালো ভাষায় বলেন যে : —
“ধনতন্ত্রী সভ্যতার বর্তমান অন্তঃসারশূন্যতার যে কোনোরূপ অভিব্যক্তিই বৈপ্লবিক শক্তি নহে, লিভিং, প্যাশনেট ও সেন্সেটিভ মনে এই অন্তঃসারশূন্যতার প্রতিক্রিয়াই প্রতিফলিত হয় বিপ্লবী সাহিত্যে, আন্তরিকতার খড়্গাঘাতে নিষ্ক্রিয় মস্তিষ্কবিলাস সেখানে মহূর্তে ভূলুণ্ঠিত হইয়া পড়ে। তাই একদা যখন রোমাঁ রোলাঁ গান্ধী-রামকৃষ্ণে বিশ্বাসী ছিলেন তখনও তাঁহার সাহিত্য বিপ্লবী সাহিত্য ছিল, প্রাক-বলশেভিক গোর্কীর সাহিত্যের বৈপ্লবিকতাকে বলশেভিকরা অস্বীকার করিতে পারেন নাই, অহিংস টলস্টয়ের সাহিত্য সর্ম্পকে লেনিনের প্রশাংসোচ্ছ্বাস তো বহুবিদিত।… মন যেখানে জাগ্রত ও জীবন্ত, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও প্রবাহমান পারিপার্শ্বিকতার আঘাতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও ভাবাদর্শ সেখানে আন্তরিকতায় উদ্বেল এবং ক্রমবিবর্তনের পথে সত্য উপলদ্ধির অভিমুখে গতিমান। এই সত্য উপলদ্ধির পথে পরিবর্তনশীল ভাবাদর্শের প্রতিটি মুহূর্ত বৈপ্লবিক বেদনায়, উৎকণ্ঠায়, আর্তক্রন্দনে নিবিড়। ডেকাডেন্স-এর প্রতিটি বন্ধনরজ্জু ছেদনের সঙ্গে সঙ্গে তাই তাহার আর্ট হইতে যন্ত্রণায় আর্তনাদ ধ্বনিত হইয়া উঠে। শেষরজ্জু ছিন্ন হইবার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তাহার শান্তি নাই। এই অশান্তি, উদ্বেগ ও আর্তনাদ, মহাভুজঙ্গের নির্মোক পরিহারের এই প্রতিটি মুহূর্ত বৈপ্লবিক… ইহা নিষ্ক্রিয় মস্তিকজীবীর বিলাপ-বিলাস নহে।”
সরোজ দত্তের বক্তব্য বলিষ্ঠ। উপসংহারে তিনি কবি-প্রবন্ধকারকে নির্বোধ, প্রবঞ্চক ইত্যাদি বলেছেন।
বহুদিন পরে লেখাটি পড়ে মনে হ’ল সরোজ দত্ত ঠিক লিখেছিলেন। তিরিশের দশকে অনেক লেখক বোধহয় বিপ্লবীর অভিনয় করে বাহবার চেষ্টায় থাকতেন, তাঁদের আসল চেহারা সরোজ দত্ত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন।
কিন্তু পরের দু-তিনটি পৃষ্টায় আক্রান্ত প্রবন্ধকারের জবাব পড়ে মনে হ’ল ব্যাপারটা অত সহজ নয়। প্রবন্ধকার বলেছেন যে নিজেকে তিনি কখনো ‘বিপ্লবী’ বলেননি। তার কবিতায় যে টাইপের জীবন এবং আত্মপরিক্রমার কথা আছে, সে টাইপ নয়, মুমূর্ষু শ্রেণীর প্রতীক। অবক্ষয় এদের আকর্ষণ করে তার কারণ বোধ হয় এই যে উদীয়মান কোন শ্রেণীর প্রাণশক্তি এদের নেই, বরং পাতিবুর্জোয়ার গভীরে এদের শিকড় ইত্যাদি। অবক্ষয় বিষয়ে সচেতনতা এক ধরণের শক্তি, কিন্তু এমন একটা সময় আসছে যখন সেই শক্তিটুকু দিয়ে চলবে না, তখন মন স্থির করতে হবে। যে কবি তাঁর ব্যক্তিসত্তা অটুট রাখতে পেরেছেন গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যোগ দিলে তাঁর উপকার নিশ্চয় হবে। আর… “He who is bent on living in a little cell, will be dying with a little patience.” প্রবন্ধকারের জবাবটা বালখিল্যসুলভ নয়, যদিও কোথাও একটা ফাঁকি রয়ে গিয়েছে। সরোজবাবুর প্রত্যত্তুরটা কিন্তু অনেকটা উকিলসুলভ। যেমন, কবিপ্রবন্ধকার যে পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত সেই পত্রিকায় তাঁকে এবং অন্যদের মাঝে মাঝে বিপ্লবী বলা হয়েছে: প্রবন্ধকারের কবিতায় বিপ্লবী সুলভ উক্তি আছে অতএব বিপ্লবী শব্দটি আরোপ করা অযৌক্তিক হয়নি ইত্যাদি; সে সময়কার মনোভাব বিষয়ে সরোজ দত্ত যা লিখেছিলেন তা উপভোগ্য — ‘এখনও তাঁহারা আলগোছে গণস্পর্শ বাঁচাইয়া, ‘ডজন অর সো’ হাত ধরাধরি করিয়া কিছুকাল আত্মপরিক্রমায় অতিবাহিত করিবেন; তারপর গণ আন্দোলন আরম্ভ হইলে… তাহারা রাতারাতি স্বগতোক্তি পরিত্যাগ করিয়া গণ-কবি হইয়া বসিবেন।’ তবু নির্বোধ প্রবঞ্চক কথাগুলি অস্বস্তিকর ঠেকল, কেননা প্রবন্ধটি আমার লেখা ১৯৩৮ সালে; এম.এ. পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বৃত্তি পেয়ে তখন জীবনটা মন্দ কাটছিল না।
তারপর অনেক কাল অতিবাহিত হয়েছে। সাহিত্য বিষয়ে বির্তক নান রূপ নিয়েছে, চল্লিশ দশকের শেষাশেষি রবীন্দ্রনাথকে ইতিহাসের ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করার প্রস্তাব উঠেছে, তারপর গান্ধী রবীন্দ্রনাথ আবার কম্যুনিস্টদের অনুরাগ আকর্ষণ করেছেন, নকশালপন্থীরা আবার তাঁদের বর্জন করেছেন। তিরিশ দশকের বেশ কিছু লেখক এখন বিগত। গণ-আন্দোলনের যোগ দিলেও অনেকে লেখক হিসেবে মহান হতে পারেননি; পার্টির ভাবাদর্শ অনেক সময় বাঁদর নাচ নাচিয়েছে। এর জন্য দায়ী অবশ্য গণ-আন্দোলন নয়, ‘লাইন’ বেঠিক হলে আন্দোলনে যোগ দিয়েও ব্যর্থতা আসে। মানিক বন্দ্যোপধ্যায়ের মতো শক্তিমান লেখক পার্টির প্রভাবে কোনো মহারচনা করতে পেরেছিলেন? তাঁর বিচ্ছিন্ন ডায়েরিতে একটা অবিশ্বাসের ভাব তো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিরিশের দশকে ও পরে কবিদের মধ্যে সহজ ও বলিষ্ঠ ভাষায় লেখেন সুভাষ, সুকান্ত, পার্টির সঙ্গে তাঁদের যোগযোগ ছিল। কিন্তু মাও থেকে মেয়াওতে সুভাষের উত্তরণ যুগান্তকারী কিছু একটা হয়নি এবং সুকান্ত বেঁচে থাকরে মস্কোপন্থী সি.পি.আই.-এর জালে আটকে পড়ার যথেষ্ঠ ভয় ছিল। সি.পি.এম.-এ অবশ্য সাহিত্যিক ও বিলেতফেরত সংখ্যা অনেক কম, সাংসারিক বিবিধ ক্ষেত্রে সি.পি.আই-এর মতো সি.পি.এম তাই গুছিয়ে নিতে বড়ো একটা পারেনি।
তিরিশের দশকের শেষে নবীন কবিদের ভাষা স্বচ্ছ হওয়াতে আশার কারণ ছিল। তার আগে কবিদের অনেকেই ইংরেজির ছাত্র ও পরে অধ্যাপক হওয়াতে পেশার দোষে বড়ো বেশি পাউন্ড-ইয়েটস-এলিয়ট-অডেন চর্চা করতেন, কবিতার ভাষা ও ভাবভঙ্গি সাধারণ পাঠকের বোধগম্য হতো না। কিন্তু কিছুদিন কিছু কবির সহজ ভাষার পর ব্যাপারটা আবার গোলমেলে হয়ে গেল, খুব সম্ভব অনেকটা জীবনানন্দ দাসের ক্রমশ প্রসারিত প্রভাবের ফলে। জীবনানন্দের অসাধারণ শক্তি যাঁদের নেই তাঁদের সান্ধ্য ভাষা হজম করা কঠিন। তাঁরা গণ-আন্দোলনে গেলে দেশের দশের সুবিধা হবে না।
৩০ নভেম্বর, ১৯৭৭ (বাবুবৃত্তান্ত; পৃষ্ঠা: ১৩৪–১৩৬)।