কোভিডের দ্বিতীয় তরঙ্গে দেশের আর্থিক অবস্থা যে আবার নিম্নগামী হবে এটা আগে থেকেই আঁচ করা গিয়েছিল। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অর্থনীতিবিদরা এবার সেটা আরও খোলাখুলি বলে দিলেন। তাদের হিসেবে এবার দেশের জিডিপি ১০.৪ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়াবে ৭.৯ শতাংশ। বোঝাই যাচ্ছে অতিমারির দ্বিতীয় তরঙ্গের অভিঘাত এবারও অর্থনীতির ওপর পড়েছে। তা মানুষের দুর্দশা আরও বাড়িয়েছে। অতিমারির এ পর্বে গ্রামে সংক্রমণ অনেক বেশি হয়েছে, আরও কাজ কমেছে মানুষের, কমেছে গ্রামীণ চাহিদাও। অনিবার্যভাবেই তা ছাপ ফেলেছে বাজারের ওপর। এই আর্থিক অবনমনের আভাস দিয়েছে এসবিআই এর ‘ইকোর্যাপ’ নামে সমীক্ষাটি।
অর্থনীতিবিদরা কোভিড অতিমারির প্রথম তরঙ্গে দেশের আর্থিক অগ্রগতির যে রেখাচিত্রটি এঁকেছিলেন, তার চেহারাটা ছিল অনেকটা ‘V’ এর মত। অর্থাৎ টানা নেমে তা আবার টানা উঠবে। কিন্তু কোভিডের দ্বিতীয় তরঙ্গে এই রেখাচিত্রটির আকার দাঁড়িয়েছে ‘W’ র মত। বোঝাই যাচ্ছে পতন-অভ্যুদয় বন্ধুর পন্থা, অনেক চড়াই উৎরাই পেরোতে হবে দেশের অর্থনীতিকে। গভীর খাদে পড়ার মত টানা অবনমন, তারপর একটু ওঠা, আবার আর্থিক মন্দা, তারপর উত্থান। লিখে যতটা সহজে বোঝানো গেল, ব্যাপারটা মোটেই ততটা সহজ নয়। এ হল, সরকার, অর্থনীতি এবং দেশের যাকে বলে খাবি খাওয়ার মত অবস্থা। সমস্যা খুব কঠিন।

জুলাই এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন মানুষের টিকাকরণ করা যাবে এই হিসেবের ওপর ভিত্তি করে এসবিআই-এর অর্থনীতিবিদরা ৭.৯ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির এই হিসেব কষেছেন। এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক কারণ, গ্রামের তুলনায় দ্বিতীয় তরঙ্গে সংক্রমণ বেড়েছে অনেক, বেড়েছে লকডাউনের সময় এবং এলাকা। আরেকটা কথা মাথায় রাখতে হবে এবার গ্রামে কোভিডের ধাক্কা আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত। স্বাভাবিকভাবে শহরের তুলনায় গ্রামে এই ধাক্কা সামলাতে আরও বেশি সময় লাগবে। কাজেই আর্থিক মন্দা চলবে আরও দীর্ঘ সময় ধরে।
অর্থনীতিবিদদের হিসেবে গুজরাট, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, কেরালা, রাজস্থানের মত রাজ্যে যেখানে প্রায় ৫১-৭৫ শতাংশ মানুষ গ্রামে থাকেন, তাদের আর্থিক দুর্গতি এই ধাক্কায় বেশি হবে। ইতিমধ্যেই এই রাজ্যগুলিতে ট্রাক্টর থেকে শুরু করে দ্বিচক্র যান, সার, ডিজেল ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমেছে। মানে এই জিনিসগুলি ব্যবহার করা বা তা নিয়ে কাজ করা মানুষের আর্থিক ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছে। শুল্ক ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও এই অবস্থার ছাপ পড়েছে। অতিমারির ধাক্কা কাটিয়ে দেশকে অগ্রগতির মূল সড়কে নিয়ে যেতে হলে কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের চলতি ধারণার বদল ঘটাতেই হবে।