নতুন বছর মানেই নতুন ক্যালেন্ডার। তাও আবার তথ্য নির্ভর বিজ্ঞানভিত্তিক। যা নয়া প্রজন্মের কাছে শিক্ষামূলক বার্তা। সম্প্রতি নতুন বছরে মাইক্রোবায়োলজিস্ট সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিজ্ঞান তথ্য ভিত্তিক একটি অভিনব ক্যালেন্ডার প্রকাশিত হল।
এর মুখ্য উদ্দেশ্য হল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সৃজনশীল চিন্তার বীজ বপন করা। কলকাতায় সোসাইটির পক্ষ থেকে ক্যালেন্ডারটি আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করেন সোসাইটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি ও দীনবন্ধু এন্ড্রুজ কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপিকা ডঃ স্বপ্না মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘পাঠ্য বইয়ের বাইরে পড়ুয়াদের বিজ্ঞান চেতনা ও গবেষণাকে উৎসাহ দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ। উল্লেখ করা যেতে পারে সর্বভারতীয় স্তরে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক ক্যালেন্ডার তৈরির প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানাধিকারী ক্যালেন্ডারটিকেই সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়েছে।’
দীনবন্ধু এন্ড্রুজ কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সোমনাথ মুখোপাধ্যায় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের এই প্রচোষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল জ্ঞান অর্জন, গবেষণা ও মূল্যবোধ সৃষ্টি করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ পরীক্ষা ও নম্বর নির্ভর। ছাত্রদের একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান এখন নির্দিষ্ট সিলেবাস তোতাপাখির মতো মুখস্ত করে পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করা, কিন্তু ভাল শিক্ষা অর্জন করা নয়। এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাত্রদের স্বাধীন সত্তার বিকাশ ঘটায়।’

প্রসঙ্গত, এই ক্যালেন্ডারটি তথাকথিত ক্যালেন্ডারের মতো একেবারেই নয়। বারো মাসের বারো পাতা বিশিষ্ট এই ক্যালেন্ডারটির বিষয় এবং উপস্থাপনা সম্পূর্ণ নতুন। চলতি ইংরেজি বছরের ক্যালেন্ডারে মাইক্রোবিয়াল বায়োটেকনোলজি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অণুজীব বা মাইক্রোবসকে ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য, বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক যেমন ইনসুলিন, ভ্যাক্সিন, অ্যান্টিবায়োটিক এবং শিল্পে ব্যবহার্য নানাবিধ মূল্যবান দ্রব্যাদি প্রস্তুত করা যায়। আমাদের দেশে কোন কোন ইনস্টিটিউটে মাইক্রোবিয়াল বায়োটেকনোলজি বিভাগ গড়ে তোলা হয়েছে বা অণুজীব ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় মূল্যবান দ্রব্যাদির উৎপাদন কৌশলগুলি কী কী তার উপর বিস্তারিত তথ্য অত্যন্ত সুকৌশলে আকর্ষনীয় ভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই ক্যালেন্ডারে। নয়া প্রযুক্তিতে অভ্যস্থ নতুন প্রজন্ম পাবেন কিউ আর কোড সম্বলিত তথ্য।
উল্লেখ্য, সোমনাথবাবু আরও বলেন,ক্যালেন্ডারটি প্রকাশের পর থেকেই চাহিদার পাশাপাশি শিক্ষক ও গবেষক মহলে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছে। স্বপ্না মুখোপাধ্যায় উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে জানান, ‘কেউ কেউ আমাদেরকে এটি বিক্রি করার পরামর্শও দিয়েছেন। তবে আমরা বিজ্ঞানের প্রসারের জন্য, আমাদের নিজস্ব আগ্রহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে বিতরণ করছি।এখন এটি এতই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে অনেকেই অন্তত একটি পিডিএফ কপি পেতেও দারুণ আগ্রহী’।
প্রসঙ্গত, সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রত্যন্ত প্রান্তে বিজ্ঞানের জনপ্রিয়করণের জন্যে ভবিষ্যতে মাইক্রোবায়োলজিস্ট সোসাইটির আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে যেটি অচিরেই শুরু হতে চলেছে তা হল বিদ্যালয় স্তরে মাইক্রোবায়োলজিকে জনপ্রিয় করে তুলতে পশ্চিমবঙ্গ ব্যাপী মাইক্রোবায়োলজি লিটারেসি মিশন-এর উদ্যোগ। এতে করে আগামী প্রজন্ম যে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরে আগ্ৰহী হবে — একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।