হুগলির আরামবাগ মহকুমার গোঘাট এলাকা বরাবরই রাজনৈতিক সংঘর্ষে অশান্ত থেকেছে। বাম আমল থেকে তৃণমূলের ১৯ জন কর্মীকে শহীদ হতে হয়েছে সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর হাতে। ২০১৯ সালে স্থানীয় সিপিআইএম ওরফে বিজেপি নেতাদের ফতোয়া অমান্য করে একুশে জুলাই তৃণমূলের শহীদ তর্পণে বিগ্রেড গিয়েছিল গোঘাটের নকুণ্ডা এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের তপশিলি নেতা লালচাঁদ বাগ। সেই অপরাধেই ২২ শে জুলাই নৃশংসভাবে তাকে খুন করা হয়। এই ঘটনাকে মনে রেখে সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছে তৃণমূল, শহীদের রক্ত ব্যর্থ না হওয়ার সংকল্প গ্রহণ করেছে বার বার কিন্তু নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ পালন করেছে অক্ষরে অক্ষরে। বদলের পরেও তারা বদলার রাজনীতিতে যায়নি।

সেই শহীদ লালচাঁদ বাগের স্মৃতি তর্পণ করতে গোঘাটের নকুণ্ডা অঞ্চলে একটি ভাব-গম্ভীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদারের নেতৃত্বে। এই অনুষ্ঠানে শহীদ লাল চাঁদের মা পারুল বালা বাগ, স্ত্রী রিনা ও দুই সন্তান উপস্থিত ছিল। তৃণমূলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদারের বক্তব্য, ‘সিপিএমের যখন দুর্দিন এসে উপস্থিত হলো রাতারাতি ওদের হারমাদরা বিজেপিতে ঢুকে তাদের ভোটব্যাঙ্ক বাড়িয়ে দিল।

তারা মিলি জুলি ভাবে আগের সেই সন্ত্রাসের পরিবেশ, সেই ভয়ের পরিবেশ কায়েম করতে চেয়েছে নকুন্ডা তথা গোঘাট এলাকা জুড়ে। এমনকি ২০১১ সালে এখানকার বাম নেতা যিনি পরবর্তীতে বিজেপি নেতা হয়েছেন সেই বিশ্বনাথ কারকেরা ইন্ধন দিয়ে লালচাঁদ বাগকে খুন করান। আমি চাই আর কারো যেন লাল চাঁদের মতো পরিনতি না হয়। সিপিএম যে কাজ করেছে আমরা তা করব না। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা লড়াই করে যাব। দলীয়ভাবে আমরা এলাকার শহীদ পরিবার গুলির পাশে আছি’।

লালচাঁদ খুন হওয়ার পর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী বেচারাম মান্না, দিলীপ যাদব প্রমুখ ওর বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এই পরিবারের স্থায়ী সুরক্ষার বিষয়ে দল চিন্তা করছে। আশা করছি কিছু একটা ব্যবস্থা করা যাবে।