২০১০ বিশ্বকাপ বলতে কি কি মনে পড়ে? স্পেনের তিকিতাকা পাসিং,লা আলবিসেলেস্তেদের মেসি-মারাদোনা জুটি,রবেন-স্নাইডারদের সোনালী দৌড়, পল দ্য অক্টোপাস…..আর? সম্মোহনী সুরে গোটা বিশ্বকে মাতাল করে দেওয়া আফ্রিকা বিশ্বকাপের থিম সং, যার পরতে পরতে এখনও হয়তো লেগে আছে কলম্বিয়ান শাকিরার সেই মনোহরা সুরের সুবাসিত তাল-লয়-ছন্দের সম্মোহনী বিকিরণ,সেই সুরেলা ‘ওয়াকা ওয়াকা’।আজ দশ বছর পরেও যার তালের কল্পনায় বাঙালী কোমর দোলাতে দেখে মেসি থেকে রবেনদের,কিংবা রবিনহো থেকে জাভি-ইনিয়েস্তাদের। ‘ওয়াকা ওয়াকা’-এই ধ্বন্যাত্মক শব্দের অনুরণন বাঙালীর কান ঘেঁষে যাওয়া মানে তাদের মনের অতলে ছায়া ফেলতে থাকবে জার্মানির কাছে চূর্ণ আর্জেন্টিনার কালো শোক, রবেনের পা থেকে বল কেড়ে ‘অ্যা সেভ টু উইন দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ’ এনে দেওয়া কাসিয়াস কিংবা জাবুলানি বলের জালে জড়াবার ভবিষ্যৎ বলে দেওয়া পল অক্টোপাস….একটি মাত্র থিম সং এর আবেশে এতগুলো স্মৃতির বুনন আর দেখেছেন কি? শাকিরা কি দর্জি ছিলেন? নিশ্চয়ই নয়।কিন্তু উনি বাংলা বুঝলে বলে আসতাম ‘The tailor of memories through the cotton of melody’।
কিন্তু সেই শাকিরার ১৪৫ টি গানের মালিকানা এবার কিনে নিল হিপনোসিস। আজ থেকে শাকিরার আজ অবধি গাওয়া ১৪৫টি গানের মালিকানার অধিকারী আর শাকিরা নন। তবে ইতিহাসে এরকম ঘটনা প্রথম নয়। এর আগেও বব ডিলানের গানের স্বত্ব কিনে নিয়েছিল এক সংস্থা। তবে শাকিরার ক্ষেত্রে মোট কত অংকের আর্থিক লেনদেন হয়েছে এই স্বত্ব বিক্রিতে তা খোলসা করেনি কোনো পক্ষই।

শুধুমাত্র আর্থিক সাহায্যলাভের জন্যই কি এই স্বত্ব বিক্রি? ঠিক জানা নেই। তবে শিল্পীর কাছে তার শিল্প সন্তানসম। আর্থিকলাভেও সেই সন্তানের অভিভাবকত্ব খোয়ানো তেতাল্লিশ বর্ষীয়া শাকিরার হৃদয়ে কোনো ঢেউ ভবিষ্যতে তোলপাড় করবে কি না তার খবর আমরা কি কেউ রাখব? শাকিরার সংগীত জীবন শুরু মাত্র বারো বছর বয়সে। বাবা ছিলেন কবি। আর সেই দর্শন এবং ঘরানার প্রভাব পড়েছিল শাকিরার ওপর, খুব ছোটো থেকেই। সেই বারো বছর বয়স থেকে আজ অবধি কন্ঠের কম্পনে বেরোনো একশো পঁয়তাল্লিশটা সুর, প্রায় আট কোটি রেকর্ড, আর মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউয়ের মালিক আজ থেকে অন্য কেউ।
সত্যই, এ পৃথিবী ছোটে অত্যন্ত দ্রুত হারে…অনেকটা মেসির মতো….পাক খায় আরও দ্রুত…অনেকটা ক্রুয়েফ’স টার্নের মতো….আর গোল খায় শুধু শিল্পী।
১৯৯১ সালে যখন শাকিরার প্রথম অ্যালবাম বাজারে আসে তখন তার বয়স মোটে ১৩ বছর। প্রায় তিন দশকে বিক্রি হয়েছে তার গানের ৮ কোটি রেকর্ড। ৪৩ বছর বয়সী এই গায়িকা ও গীতিকারের ঝুলিতে রয়েছে তিনটি গ্রামি অ্যাওয়ার্ড এবং ১২টি ল্যাটিন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড। ২০০১ সালে শাকিরার প্রথম ইংরেজি গানের অ্যালবাম ‘লন্ড্রি সার্ভিস’ কিনেছিল ১৩ কোটি ভক্ত। ২০১০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের জন্য গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা, দিস টাইম ফর আফ্রিকা’ এবং আরো অনেক জনপ্রিয় গান ১৫ দেশের মিউজিক টপ চার্টে চূড়ার জায়গাটি দখল করে রেখেছিল। ফেসবুকের গোড়ার ১০ বছরের ইতিহাসে শাকিরাই প্রথম তারকা যিনি ২০১৪ সালে ১০ কোটি ফলোয়ার অর্জন করেন। এই তারকার হালের অ্যালবাম ‘এল ডোরাডো’ যুক্তরাষ্ট্রে ডায়মন্ড সনদ পায়। ইউটিউবে তার দুটো ভিডিও ছাড়িয়েছে ২০০ কোটি ভিউ। শাকিরার নতুন গান ‘গার্ল লাইক মি’র তালে টিকটকে ভাইরাল হচ্ছে নাচ। বিবিসি বলছে, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই বড় একটি কারণ এখানে।