মানুষের মুখ বন্ধ করা যায় কিন্তু দেওয়ালে আঁকা আটকাবে কে? তা আটকাতে শাসকরা বরাবর ব্যর্থ হয়েছে। এখন যেমন তালিবানরা আটকাতে পারছে না আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা গ্রাফিটি শিল্পী সামসিয়া হাসানির ছবি। আত্মগোপনকারী সামসিয়া নিজের জীবন বিপন্ন করে আলিবান অধ্যুষিত আফগানিস্তানের জনপদে প্রতিবাদের ভাষ্য ফুটিয়ে তুলছেন নিজের ছবিতে। এমনিতেই তার একটা আন্তর্জাতিক পরিচিতি রয়েছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছে তার কাজ। পুরুষশাসিত সমাজে মেয়েরা কীভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে সেটাই তার কাজের বিষয়।

যেখানে দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হেলিকপ্টার বোঝাই ডলার আর বিশ্বস্ত অনুচর সহ কোন প্রতিবাদ না করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, সে দেশের এক মহিলা শিল্পী আঁকছেন – বন্দুকধারী রক্তচক্ষু তালিবানের দিকে ফুলের টব এগিয়ে দিচ্ছে এক কিশোরী। কখনও বা একাকিনী এক নারী পিছনে রাখা হাতে পুষ্পগুচ্ছ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ট্যাঙ্কের দিকে। এই সাহসিকাকেই কখনও বা দেখা যায় পিছনে দাঁড়ানো তালিবান যোদ্ধাদের ভ্রূকুটি উপেক্ষা করে তার সিন্থেসাইজারটিকে আঁকড়ে পথ চলতে। এভাবে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে প্রতিরোধের আগুন।
‘ফরেন পলিসি’ নির্বাচিত বিশ্বের ১০০জন গ্লোবাল থিঙ্কারদের মধ্যে সামসিয়া একজন। সারা বিশ্বের মহিলারা সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে যে কাজ করে চলেছেন তা তুলে ধরার জন্য ‘গুডনাইট স্টোরিজ ফর রেবেল গার্লস’ নামে একটা সংকলন প্রকাশিত হয়। এটা ইতিমধ্যেই বেশ আলোচ্য বিষয়। তার দ্বিতীয় খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে সামসিয়ার কাজ। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বাহিত হয়ে সামসিয়ার প্রতিবাদ ছড়িয়ে যাচ্ছে সারা পৃথিবীতে। ধর্মান্ধ সন্ত্রাসীদের শক্তি এই ক্ষমতার কাছে তুচ্ছ। তারা খুঁজছে সামসিয়াকে। কাবুলে লুকিয়ে থাকা সামসিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে।

ক’দিন আগে প্রকাশিত হয়েছে ‘ডেথ টু ডার্কনেস’ নামে তার এক সাম্প্রতিক ছবি। তাতে দেখা যাচ্ছে বন্দুকধারী যোদ্ধার পায়ের কাছে বসে কাঁদছে একটি মেয়ে। তার হাতে ধরা ফুলের টবটি পড়ে আছে রাস্তায়, তবুও টবের ফুলটি বৃন্তচ্যুত হয়নি। এই ছবি এঁকে সামসিয়া যেন জানিয়ে দিলেন তার প্রতিবাদ চলবেই, বন্দুকের শক্তিতে তাকে থামানো যাবেনা। তালিবানদের ব্যাখ্যায় ইসলামে ছবি আঁকা নিষিদ্ধ, ছবি আঁকার অপরাধে অতীতে তারা শাস্তিও দিয়েছে। সামসিয়া একথা জানেন না তা নয়, তিনি বলেছেন, “বদ্ধ হৃদয়গুলি যদি এক জায়গায় জড়ো হয় তাহলে তারা খুব শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তখন তারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে।”