সম্রাটকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া এবং উত্তরাধিকার বাছার রাজনীতি
‘আকবর শাহ মারা গেলেন/আকাশ কেঁদে উঠল’
প্রথমত বুন্দেলাদের দিয়ে আবুলফজলের হত্যাকাণ্ড, যা আমরা একটু আগে আসাদ বেগের বয়ানে বিশদে জেনেছি। তাছাড়া আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটবে যা হয়ত সম্রাটের মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করবে। আসাদ যখন দক্ষিণের দিকে রওনা হতে আগরা ছাড়ছেন তখন সম্রাটের অসুস্থতা, তাকাসসুর বাড়ছে। কিন্তু তিনি যে মারা যাবেন এমন কোনও কথা আমরা জেসুঈট পাদ্রি বা আসাদ বেগের বয়ানে পাচ্ছি না। আসাদ বেগের দক্ষিণে রওনা হওয়ার আশেপাশের সময়ে মুঘল দরবারে পরম্পরার বিনোদন — দুই হাতি চঞ্চল (যেটিকে বিজাপুর থেকে আনা হয়েছিল) আর গিরানবরের মধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। আমরা জানি আসাদ বেগ সেই ঘটনায় আগরায় উপস্থিত ছিলেন না।
আসাদ বেগ যখন আকবরের প্রথম মূর্ছা যাওয়ার (ইস্তিদাদ-ই-ইজ্জত) সংবাদ পাচ্ছেন — তখন তিনি দ্বিতীয় দৌত্যে সম্রাটের বার্তা নিয়ে দক্ষিণের দিকে যাচ্ছেন। রাস্তায় উজ্জয়নে, মির্জা শাহরুখের সঙ্গে শিবির ফেলেছেন। গিরানবর হাতিটি শাহজাদাওয়ালা অর্থাৎ গৌহর, অর্থাৎ সেলিমের। দুই হাতির লড়াই খেলায় অংশ হয়ে যাওয়ায় সম্রাটের স্বাস্থ্য আরও খারাপ হল। দুই হাতি, চঞ্চল আর গিরানবরের যুদ্ধের মধ্যেই, ক্রীড়া ক্ষেত্রে শাহজাদা সেলিম, শাহজাদা খুসরুর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হাতাহাতিতে রূপান্তরিত হয় (গিরানবর এবং খুসরুর হাতি অপরূপের মধ্যে আরেকটা লড়ায়ের ঘটনা মহম্মদ হাদির উদ্ধৃতি সহকারে থ্যাকস্টনের অনুবাদে জাহাঙ্গিরনামায় উল্লিখিত হয়েছে। মহম্মদ হাদি বা আসাদ বেগ এই দুটো ঘটনাকে গুলিয়ে ফেলছেন কী না জানি না)। দুই শাহজাদার ঝগড়ার খবর সম্রাটের কাছে পৌঁছলে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন, তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার খিঁচুনি শুরু হয়। চিকিৎসক হাকিম আলি গিলানিকে ডেকে আনা হলে তিনি জানান সম্রাটের সুস্থতা আর তার হাতে নেই; মৃত্যু আসন্ন। মৃত্যুর ছায়া লক্ষ্য করে খানইআজম, রাজা মান সিংহকে ডেকে আনা হল এবং সুলতান খুসরুকে সিংহাসনে বসাবার তোড়জোড়ের উদ্যম শুরু হয়। এই ঘটনার পিছনে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আছে।
মুঘল সাম্রাজ্যে রাজা মান সিংহ এবং খানইআজম দুজনে অসীম ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তারা ঠিক করলেন সম্রাটের সামনে শাহজাদাওয়ালা হাতি গৌহর যখন রোজকারের মত কুর্ণিশের জন্যে পৌঁছবে, তখনই হাতির সঙ্গে শাহজাদাকে আটক করা হবে। কিন্তু আসাদ বেগ বলছেন, এক মুঠো ধুলো ছড়িয়ে সূর্যের আলো আটকানো যায় না। ভাগ্যের কলম যেটা লিখে রেখেছে তাকে চালাকির দ্বারা মুছে ফেলা যায় না। ‘প্রদীপ জ্বেলেছেন সর্বশক্তিমান/ [ফুঁ দিয়ে] নেভাতে চাইলে দাড়ি পুড়বে’। তিনি বলতে চাইলেন সম্রাট পদের জন্যে সেলিমই সর্বশক্তিমানের দ্বারা উদ্দিষ্ট(আসাদ বেগ কেন জাহাঙ্গিরের সিংহাসনে অভিষেকের ঘটনা বাক্যজালে তুষ্ট করতে চাইছেন, সেটা পাঠকের কাছে স্পষ্ট হয়েছে নিশ্চই – কারন তিনি যখন ঘটনাটা লিখছেন, তখন সেলিম জাহাঙ্গীর সম্রাট এবং আসাদ তাঁর দরবারে চাকরি প্রত্যাশী হয়ে সেলিমের রোষের মুখে দাঁড়িয়ে)। নির্দিষ্ট দিনে সেলিম সঙ্গীদের নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে নদী পেরিয়ে বাট্টা বুরুজে পৌঁছলেন। তিনি যখন নৌকো নামতে যাবেন, যে সময় উদ্ভ্রান্ত মীর জিয়াউলমুলক কাজভিনি দৌড়ে এসে তাঁকে সম্রাট আকবরের মৃত্যু সংবাদ, সঙ্গে বিপক্ষ দলের চক্রান্তের খবরও দিলেন। তিনি চোখে জল আর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে নৌকোতে উঠে প্রাসাদে পৌঁছলেন। বিদ্রোহীদের তীর আবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হল। সর্বশক্তিমানের ইচ্ছেতে নৌকো চলে/হতাশায় নাখুদা জামাকাপড় ছেঁড়ে।
সম্রাটের দেহে যখন কিছুটা জীবন অবশিষ্ট ছিল, সে সময় তিনি খানইআজম, মান সিংহ এবং আরও কয়েকজন অভিজাত বৈঠক করেন। মান সিংহ বললেন সেলিমের চরিত্র জানতে এই সাম্রাজ্যের কারোর এবং স্বয়ং সম্রাটেরও বাকি নেই। তিনি আজ অসুস্থ, মৃত্যু মুখে সেলিমের কাণ্ডকারখানার জন্যেই। এই পরিবেশে সুলতান খুসরু সিংহাসনে বসার একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি। উচ্চবংশীয় অভিজাত এবং সম্রাটের তুতো আত্মীয়, খোলামেলা হৃদয়ের তুর্ক-মোঙ্গল সাঈদ খান সেলিমের পুত্রের সিংহাসনে বসার প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেন। তিনি জানতে চান সম্রাট যখন জীবিত, সে সময় কীভাবে সেলিমের পুত্রকে সিংহাসনে বসাবার পরিকল্পনা করা হচ্ছে? এটা শিয়ারওতুরায়ি চাঘতাই অর্থাৎ চাঘতাই এবং চেঙ্গিজ সমাজের নীতির বিরোধী, এটা হতে পারে না। আরেক মহান অভিজাত কুলিজ খান আন্দিজানি, সাঈদ খানের প্রতিবাদকে সমর্থন জানালেন। অসন্তুষ্ট হয়ে মান সিংহের সমর্থকেরা বৈঠক ছেড়ে চলে গেলেন। ফিতনা, বিদ্রোহের মূল উদ্যোগকে খান-ই-আজম শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে বিভ্রান্তি শেষ হল না। এই বিভ্রান্তি চলতে থাকার মধ্যেই রাজা রামদাস কাছোয়া তার দলবল নিয়ে খাজাঞ্চিখানা নিরাপদ করলেন।
সে সময় কেল্লা থেকে বেরিয়ে প্রাসাদে তার অনুগামী বারহার অভিজাতদের বৈঠক ডাকলেন সৈয়দ মুর্তাজা খান। মির্জা শেরিফ মুতামদ খান তার কাছে এসে পরামর্শ চাইলেন। শাহাজাদার সঙ্গে দেখা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করে মুতামদ খানের নেতৃত্বে বারহার অভিজাতরা প্রাসাদ থেকে বেরোলেন (এ বিষয়ে বিশদে জানতে দেখুন আশান জান কয়সারের জাহাঙ্গির্স একসেসন, এন আউটকাম অব অর্থোডক্স রিভাইভ্যালিজম? প্রবন্ধ)। তারা নৌকো করে সেলিমের প্রাসাদে পৌঁছনোর আগেই মীর জুয়াউলমুলকের হুঁশিয়ারিতে মুতামদ খান দল ছুট হয়ে পালিয়ে গেলেন। তার আশেপাশের মানুষেরা সুলতান খুসরুর সিংহাসন দখল নেওয়ার গুজব ছড়াচ্ছিল এবং তারা আরও জানাচ্ছিল শাহ বুরুজ উড়িয়ে দেয়ার জন্যে কামান বসানো হয়েছে। শাহজাদা সেলিম গুজবে প্রভাবিত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্যে নৌকো ঠিক করে ফেলেছিলেন। সেই মুহূর্তে বড় বাহিনী নিয়ে সেলিমের ঘনিষ্ঠ সহচর শেখ রুকনুদ্দিন রোহিলা আবির্ভূত হয়ে তাঁকে আরও কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করতে বলেন। ইতিমধ্যে মির্জা শরিফ মুতামদ খান এসে জানালেন সিংহাসন দখলের সমস্ত চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে, মুর্তাজা খান বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন। শাহাজাদা খুশি হলেন; সঙ্গীসাথীরা স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ল; পালানোর পরিকল্পনা বাতিল হল। মুর্তাজা খান এবং কারা বেগ নতুন করে বারহার অভিজাতদের নিয়ে আবির্ভূত হয়ে সেলিমকে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে অভিহত করে প্রথামত সালাম জানালেন। নাকাড়াইশাদিয়ানা উৎসবের বাজনা বেজে উঠল। কিন্তু সেলিম নাকাড়া বাজাতে বারন করে বললেন পিতা এখনও জীবিত এবনং তিনি তখনও সিংহাসনে প্রথামত আরোহন করেন নি। কিন্তু তাঁর সিংহাসনে আরোহণের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানানোর জন্যে মুর্তাজা খানকে খিলাতইখাসা উপাধি দিলেন, সঙ্গে একটা দামি পাথরের কারুকাজ করা তরোয়াল উপহার দিলেন।
[খবর পেয়ে] অন্যান্যরা তাড়াহুড়ো করে বিশৃঙ্খলভাবে সেলিমের সঙ্গে দেখা করতে আসতে থাকলেন। সেই সন্ধ্যায় খানইআজমও উপস্থিত হয়ে লজ্জাশরমের বালাই না রেখে সেলিমকে তসলিম করলেন। শাহজাদা জানতে দিলেন না যে তিনি খানইআজমের তৈরি চক্রান্ত পরিকল্পনা বিষয়ে জানতেন। তার সঙ্গে মধুর ব্যবহার করলেন। রাজা মান সিংহ বুঝতে পারলেন যে রাজধানীর রাজনৈতিক পরিবেশ তার পক্ষে নেই। পরের দিনই খুসরুকে নিয়ে নৌকো করে বাংলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। সেলিম বুঝলেন অবস্থা তার নিয়ন্ত্রণে। মীর মুর্তাজা খানের মত প্রতিষ্ঠিত অভিজাতরা তার শিবিরে চলে এসেছেন। এবারে তিনি মৃত্যুশয্যায় শুয়ে থাকা পিতার সঙ্গে দেখা করতে রওনা হলেন। আকবরের প্রাণ যেন তার শেষ বেঁচে থাকা পুত্রকে দেখার জন্যেই দেহে আটকে ছিল। জাহাঙ্গির বাবার পা ছুঁলেন। আকবর চোখ খুললেন। ইঙ্গিতে বললেন সেলিমের জন্যে শরোপা এবং পাগড়ি (আসাদ বেগের দাবি এগুলো সেলিমের জন্যেই আলাদা করে রাখা ছিল) বার করার জন্যে। সেলিম পরলেন, কষিতে তরোয়াল বাঁধলেন, তসলিম করলেন। আকবরের প্রাণ বেরিয়ে গেল।
‘আকবর শাহ মারা গেলেন/আকাশ কেঁদে উঠল’।
জাহাঙ্গির সিংহাসনে আরোহন করে শারিয়ত অনুযায়ী পিতার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করলেন। কাজটা ঘনিষ্ঠ এবং বিজ্ঞদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হল। আকবরের জানাজা বের হল। নতুন সম্রাট নিজে আকবরের ঘর থেকে, মৃত সম্রাটের মরদেহ কাঁধে করে দৌলতখানা-ই-খাসওআম পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। সেখান থেকে কেল্লার দরজা পর্যন্ত অভিজাতদের সঙ্গে খালি পায়ে, খালি মাথায় হেঁটে গেলেন। জ্ঞানী, সন্ত, সুফি, অভিজাত এবং অন্যান্যরা খালি পায়ে খোলা মাথায় হাঁটলেন। কত যে মানুষ, হাতি ঘোড়া নিয়ে জানাজার সঙ্গে জুড়ল তার ইয়ত্তা নেই। আকবরাবাদ থেকে বিহিস্তাবাদ-সিকান্দ্রা পর্যন্ত জনগণ আল্লাহুআকবর ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তুলল। রাস্তার পাশের অপেক্ষমানেদের জন্যে মুদ্রা বৃষ্টি করা হল। দুহাতে মিষ্টি পানীয় বিতরণ করা হল। জানাজা বিহিস্তাবাদে পৌঁছলে মহামূল্য সম্পদের মত সম্রাট আকবরকে কবর দেওয়া হল। বড় একটা মুসোলিয়াম তৈরি করে চাহার চমন বাগানের নাম দেওয়া হল বেহেস্তাবাদ।
বাবার পারলৌকিক কাজ শেষ হলে জাহাঙ্গির রাজা রামদাসকে কেল্লা আর খাজাঞ্চির দায়িত্ব দিলেন। এই সময়ের তাক কাছে খবর ছিল রাজা মানসিং সুলতান খসরুকে নিয়ে বাংলার দিকে পালাচ্ছেন। মান সিংহর ভাই দরবারি অভিজাত মাধো সিংহকে সম্রাট বললেন তার ভাইকে আগরায় নিয়ে আসতে। মাধো সিংহ পলাতক ভাইএর সঙ্গে দেখা করে রাজার আদেশ শোনালেন। মান সিংহ বললেন নতুন সম্রাটের হাতে খসরুর প্রাণ সংশয় হতে পারে। মান সিংহ বাধ্য হয়ে পালাচ্ছেন। ভাইকে বললেন সম্রাট যদি খসরুর জীবনের মুচলেকা (কাউল) দেন, তাহলে তিনি রাজধানী আসতে পারেন। মাধো সিং দরবারে ফিরে সুবিচারক সম্রাটকে মান সিংহর বার্তা জানালে সম্রাট জীবন রক্ষার জবান দিলেন। রাজা মান সিংহ খসরুর সঙ্গে দরবারে ফিরলেন। জাহাঙ্গির খসরুকে জড়িয়ে ধরে তার মাথায় চুমু দিয়ে তাকে প্রাসাদে পাঠালেন। প্রয়াত সম্রাটের স্মৃতিতে বেশ কিছু দিন গরীবদের মধ্যে নানান ধরণের জিনিসপত্র বিলোনো হচ্ছিল। নতুন সম্রাটের প্রথামত সিংহাসনে আরোহনের সময় তখনও আরও কিছু দিন বাকি।
জাহাঙ্গিরের সিংহাসন আরোহন পর্ব
আসাদ বেগের লেখার শেষ পর্ব শুরু হয়েছে নুরুদ্দিন মহম্মদ জাহাঙ্গির বাদশার সিংহাসনে আরোহণের বর্ণনায়। সিংহাসন আরোহণের উৎসবে দরবার অভূতপূর্ব সাজানো হয়েছে। জাহাঙ্গির তার ঘর দৌলতখানা ছেড়ে নৌকো বাহিত হয়ে সুখ পুল হয়ে কিছু সঙ্গী নিয়ে দরবারের দিকে রওনা হলেন। রাস্তায় সোনারূপোর মুদ্রা ছড়ানো হচ্ছিল। নৌকো ছেড়ে তিনি কেল্লায় ঢুকলেন। উজির এবং বিখ্যাতরা সিংহাসন পর্যন্ত তার সঙ্গে গেলেন। তিনি ক্রমশ মানুষের হৃদয়ে আসীন হচ্ছিলেন। বহু অভিজাতকে মনসব এবং উপাধি দেওয়া হল। উমারা এবং উজিরদের পদবৃদ্ধি হল, থাকবন্দী অনুযায়ী তাদের মনসব দেওয়া হল। অভিজাত এবং আমজনগণকে, খাসওআম, বিচার দিতে তিনি বিচারের সোনার শৃঙ্খল স্থাপন করলেন। আসাদ খান লিখলেন
On the first day, the emperor Jahangir made a chain for justice./With one end tied inside the palace, and the other dangling out the window./Whoever was oppressed could ring on it to complain,/And without a word said, justice would be rendered.
সিংহাসনে আরোহণের কিছু দিন বাদে মহব্বত খান হলেন সিপাহসালার, শরিফ খান হলেন আমীর-উল-উমারা। কয়েক দিনের মধ্যে জাকাত, জিজিয়া-ই-হুমন্দ সহ নানা বৈষম্যমূলক শুল্ক বাদ দেওয়া হলে জাহাঙ্গিরের নাম হিন্দুস্তানজুড়ে ছড়িয়ে যায়। (চলবে)