এবারে আমরা দেখব ইরান এবং তুরান অর্থাৎ পারসিক ভাষী এবং তুর্কি ভাষী মানুষদের দেশের সীমান্তজুড়ে বয়ে যাওয়া আমু দরিয়া কতটা স্বাভাবিক অভেদ্য নিরাত্তার বেষ্টনী হিসেবে বিবেচিত হত। আমু দরিয়া অঞ্চলের পরম্পরাগত রাজনৈতিক বিভাজনেও এই নদীকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক অভেদ্য নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে বিবেচনা করা হত না। দুই রাজ্যের সীমান্ত হিসেবেও আমু দরিয়া নদী স্বীকৃত নয়। উত্তর বাদাকশনের পাহাড়ি অঞ্চলে এই খরস্রোতা নদী সহজে পার হওয়া যায় না। বাদাকশনকে ঘিরে থাকা আমু দরিয়া উত্তরের পাহাড় থেকে বয়ে এসে পশ্চিম হয়ে শেষমেশ দক্ষিণে খুলুম অঞ্চলে পড়েছে। নদীর উত্তর প্রান্ত এতই জল ধরে রাখার ক্ষমতা যে এর ডান দিকের তীরভূমি প্রায়শই জলের প্রবাহে ভেসে যায়। শীতের সময়ে দারওয়াজের ওপরের অঞ্চলের জল জমে বরফ হয়ে যায়। নদীর বুকে জমা বরফের ওপর দিয়েই মুসাফিরেরা এই অঞ্চলে পৌঁছয়। শীতে হিন্দুকুশ পর্বতের হিমবাহ থেকে ধেয়ে আসে তীব্র কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া।
সমতলে আবার নদীর আলাদা চেহারা। সেখানে সে স্বাভাবিকভাবে বয়ে যায়। নদী অগভীরও নয়, স্রোতও কম। নদীর বহু অংশে সহজে বড় বাহিনী নিয়ে হেঁটে পার হওয়া যায়। বলখের উত্তরে আমু দরিয়া এশিয়া জোড়া অভিযাত্রীর চেনা নদী। তারা জানে এই নদীর কোন কোন জায়গা দিয়ে হেঁটে সহজে পার হওয়া যায়। সহজে নদী ফেরি পার হওয়ার জায়গাগুলো বহু কাল থেকে এই অঞ্চলে অভিযানে আসা মুসাফির আর অভিযাত্রী দলের চিহ্নিত করা। কোন সেই অতীত থেকে স্কিথিয়, নাগ, শক, জাটেরা মধ্য এশিয়া আর ভারতবর্ষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হিন্দুকুশ পাহাড় থেকে নেমে এই সব চেনা জায়গা দিয়েই নদী পেরিয়েছে। হিন্দুকুশ পেরিয়ে আমু দরিয়ার বুকের জল ডিঙ্গিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ সেই কোন কাল থেকে বাদাকশানের দক্ষিণের উপত্যকায় এবং মধ্য এশিয়ার যাকে সোনার দুয়ার বলে, সে সব এলাকায় এসেছে’।
বাদাকশানের তুলনায় কিন্তু বলখের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই সুগম। ভূগোলবিদেরা বহুকাল থেকেই বলখকে শ্রেষ্ঠ শহর, মাদার অব টাউনস নামে বিশ্বে পরিচয় দিয়েছে। ব্যাক্ট্রিয় সমভূমির আমু দরিয়ার দক্ষিণের রাজধানী শহর বলখ। রাজধানী শহরের বাইরে বলখ দুটো ভৌগোলিক এলাকায় বিভক্ত — জুরজাঁ আর তুর্কিস্তান। এই অঞ্চল বলখের ফসল উৎপাদন এলাকা। বাদাকশনের অবস্থান আমু দরিয়ার দক্ষিণ তীরে। দশম শতের আরব ভৌগোলিক ইস্তাখারি এই অঞ্চল সম্বন্ধে লিখছেন, ‘খুবই জনাকীর্ণ এবং উর্বর অঞ্চল, প্রচুর জলধারায় সিক্ত আর অসংখ্য আঙ্গুর ক্ষেতে ভর্তি’। অতীতে বাদাকশনের রাজধানীর একই নাম ছিল। বাদাকশন বা গুকচা নদীকে আরবেরা নাম দিয়েছিল দীর্ঘম। যতদূরসম্ভব এই বাদাকশন শহরটির মধ্যযুগের নাম ছিল ফৈজাবাদ শহর।
বাদাকশনকেও প্রকৃতি তার মত করে সুরক্ষিত রেখেছে। আক্রমনকারী বাহিনী যদি গিরিখাত আর গিরিসংকটের মধ্যে দিয়ে বাদাকশনে ঢুকতে চায় তাহলে তাকে নানান আদিবাসী বাহিনীর প্রতিরোধ পেরিয়ে আসতে হবে। আমরা আগেই মুঘল আমলা আবুল ফজলের আলোচনায় দেখেছি বিভিন্ন সরু পাহাড়ি গিরিসংকটের মধ্যে দিয়ে সন্তর্পণে বাদাকশন উপত্যকায় পৌঁছতে হয়। পূর্ব বা পশ্চিম দিক থেকে এই অলঙ্ঘনীয় প্রাকৃতিক বাধা পেরিয়ে কোনও বাহিনীই বাদাকশনে সহজে প্রবেশ করতে পারে নি। পূর্বে তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে পামীর এবং অন্যদিকে ভারতবর্ষ থেকে ইতিপূর্বে বাদাকশন আক্রমণের নিদর্শন নেই।
আমরা আগে ঐতিহাসিক আবদুল হামিদ লাহোরির থেকে উদ্ধৃতি দিয়েও দেখিয়েছি এই অঞ্চলে যে ধুলিমুষ্ঠি পরিমান রাজস্ব আদায় হয়। সেই যুক্তিতে মুঘলদের বলখ বাদাকশন অভিযানের জোরালো কারণ নেই। লাহোরি বলছেন এই দুই প্রদেশের রাজস্বে মুঘল হিন্দুস্তানের সাধারণ একজন মাঝারিগোছের তৃতীয় শ্রেণীর মনসবদারের মাইনে হয় না। মুঘল যুদ্ধ তাত্ত্বিক হস গোমানস মুঘল ওয়ারফেয়ার বইতে বলছেন যেহেতু মুঘলেরা দক্ষিণ এশিয়াকে বিশাল ধনী করে তুলেছিল, তাই তাদের দেখাদেখি মধ্য এবং পশ্চিম এশিয় বহু ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী দক্ষিণ এশিয়ায় বা মুঘল হিন্দুস্তানে অভিবাসিত হয়ে আসতে থাকে এবং বিপুল মাইনেয় মুঘল মনসবদারিতে প্রবেশ করে, কেউ কেউ মুঘল হিন্দুস্তান এড়িয়ে দক্ষিণের রাজ্যগুলোয় আশ্রয় নেয়। আমরা আওরঙ্গজেবের বিবাহ পর্বে হস হগোমানসএর মুঘল ওয়ারফেয়ার বই থেকে যে স্তবকটি দিয়ে আলোচনা শুরু করেছি, সেই স্তবকটি আবারও চুম্বকে আলোচনা করলাম। ইসলামি বিশ্বে সব থেকে বেশি বেতন দিত মুঘল রাষ্ট্র। সে সময় এশিয়া জোড়া অভিজাতরা স্পষ্ট জানত মধ্য এশিয়ায় গরীব স্বাধীন রাজা হওয়ার থেকে ভারতে এসে মুঘলদের অধীনে চাকরি করে বড়লোক হওয়া সুখের (The message to put across is clear: it was better to become a wealthy servant in Mughal India than to remain an autonomous but poor king in Central Asia)। সামগ্রিক ট্রান্সঅক্সানিয়া তুর্কিস্তান এমন কী বলখ এবং বাদাকশন মিলিয়ে অর্থে আর শস্য মিলিয়ে ইমাম কুলি খান এবং নজর আহমেদ খান যে পরিমান রাজস্ব তুলতেন, তার তুলনায় ভারত সরকারের মনসবদার ভৃত্যরা অনেক বেশি মাইনে পেত। ইমাম কুলি খান এবং নজর আহমেদ খান ১ কোটি ২০ লক্ষ খানিস, তৎকালীন ভারতীয় মুদ্রায় ৩০ লক্ষ টাকা তুলতেন। ভারতবর্ষে দোআস্পাওসিহআসপা ৭০০০ মনসবদার ১ কোটি দাম অর্থাৎ আড়াই লক্ষ টাকা মাইনে পেতেন। আমিনুলদোউলা আসফ খান, একাই জায়গিরের মূল্য তুলতেন ৫০ লক্ষ টাকা। অন্যভাবে বললে অটোমান সম্রাটেরা তাদের সামরিক, প্রশাসনিক আমলাদের মুঘল মাইনের একচতুর্থাংশ দিত, সাফাভি সাম্রাজ্য দিত মাত্র এক তৃতীয়াংশ। সব থেকে বড় কথা অটোমান বা সাফাভিদের মুদ্রার তুলনায় মুঘল সাম্রাজ্যের মুদ্রা অনেক বেশি স্থিতিশীল ছিল। রাষ্ট্রীয় রোজগারের দিকে তাকিয়ে দেখলে দেখব ১৬১৫-য় মুঘল রাজত্বের বাৎসরিক রাজস্ব ছিল ১২০ মিলিয়ন রূপোর টাকা, অটোমানদের বাৎসরিক রাজস্ব, মুঘলদের প্রায় একতৃতীয়াংশ ৪৫ মিলিয়ন রূপোর টাকা আর সাফাভি/ইরানের ১০%-এরও কম ১৫ মিলিয়ন রূপোর টাকা।
এই সব ভৌগোলিক অগম্যতা, রাজস্ব ঘাটতি সত্ত্বেও মুঘল শাসক প্রধান শাহজাহান মনে করেছিলেন সামরিকভাবে এই নিরাপদতম অঞ্চলে মুঘল সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা বেড়াজাল আরও বেশি করে বাড়ানো দরকার। তাই সেই কাজে আবারও কঠিনতম পরীক্ষা দিতে পাঠিয়ে দিলেন সদ্য যুবা, ত্রিশ বছরে পা না দেওয়া শাহজাদা আওরঙ্গজেবকে। কেন এই সিদ্ধান্ত? শুধুই কী সাম্রাজ্যস্পৃহা? না কী অন্য কিছু? আরও একটু বিশদে বলখ আর বাদাকশনের মাহাত্ম্য আলোচনা করা যাক।
বলখ ছিল দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বাঞ্চল, পশ্চিম এশিয়া থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে রুশ দেশে পৌঁছবার রাজপথের মধ্যিখানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য, বিশ্রাম নেওয়ার শহর, রেশমপথ ঐতিহাসিকদের ভাষায় এম্পোরিয়াম। ভিয়েতনাম থেকে শুরু হয়ে বার্মা হয়ে বাংলার চট্টগ্রাম-তাম্রলিপ্ত হয়ে চিন, আমুদরিয়া, ইরাক, তুর্কি পৌঁছবার রাজপথ, প্রত্যেকটিকে যেতে হত বলখ আর বাদাকশন অঞ্চল হয়েই। ম্যাকক্রিন্ডল এনসিয়েন্ট ইন্ডিয়া এবং গৌরাঙ্গ গোপাল সেনগুপ্তর প্রাচীন ভারতের পথ পরিচয় সূত্র ধরে বলতে পারি, বলখ আর বাদাকশন মুঘল অভিযান সিদ্ধান্তের ১৫০০ বছর আগে বৌদ্ধ আমলে অর্থাৎ প্রায় ২০০০ খ্রি.পূ থেকেই [হয়ত তারও বহু আগে থেকে] সার্থবাহ বণিকেরা দু-চাকার ষাঁড়ের ক্যারাভানে পথ বাণিজ্য করত। সার্থ-বাহতে ৫০০-৫০০০ শকট থাকত — ইওরোপিয়দের ভাষায় বুলক ট্রেন। বিভিন্ন উলম্বপথ [স্থানীয় এলাকার বাণিজ্য পথ যেটি মূল রাজপথের সঙ্গে মিলত] এবং দিগন্তবিস্তৃতপথে [রাজপথ] বহু বিশ্রামস্থল ছিল — এগুলোর কোনও কোনওটা পরের দিকে গুরুত্বপূর্ণ শহরে পরিণত হবে। এই ধরণের রাজপথ ধরে বণিকদের বিপুল বড় সার্থবাহ বা ক্যারাভান দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে বাংলার তাম্রলিপ্ততে ঢুকে [বা শুরু হয়ে] মগধ হয়ে রাজপুতানা হয়ে তক্ষশীলা হয়ে পুষ্কলাবতী বা আজকের চারস্যাড্ডা হয়ে পুরুষ (পুর) হয়ে খাইবার গিরিপথ হয়ে বলখ বা ব্যাক্ট্রিয়া/বহ্লীক পৌঁছত। বলখ একটা প্রাচীন জনপ্রিয় বাণিজ্যপথের বিশ্রাম শহর। বহ্লীক ব্যাক্ট্রিয়া ছিল এশিয়ার গ্রিসিয় রাজাদের রাজধানী। বলখ শহরে এসে মিলত পূর্ব দিক থেকে আসা রাজপথ চিন এবং মধ্য এশিয়া এবং পশ্চিম থেকে ভূমধ্যসাগর এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সার্থবাহ। একটা পথ আমুদরিয়া [অক্সাস] হয়ে ক্যাস্পিয়ান [আদতে কাজভিন] হয়ে কৃষ্ণসাগর পৌঁছত। আরেকটা পথ হিরাট/হেরাট হয়ে মেসোপটেমিয়া হয়ে এন্টিওকে [তুরস্ক হয়ে ইওরোপ] পৌঁছত। কান্দাহার থেকে আরেকটা পথ হিরাট হয়ে প্রথম রাজপথে মিলত। কান্দাহার থেকে আরেকটা রাজপথ পার্সিপোলিস হয়ে আজকের ইরাকের ব্যাবিলন ছাড়িয়ে যেত।
একই ভাবে চিন থেকে শুরু হওয়া বাণিজ্য পথ আলোচনায় তানসেন সেন বুদ্ধিজম ডিপ্লোম্যাসি এন্ড ট্রেড বইতে বলছেন, সপ্তদশ শতে মধ্য এশিয়ার তাকলামাকান মরুভূমি সংলগ্ন রাষ্ট্রগুলোর মরুদ্যান শহরগুলি — পূর্ব দিকের তুরফান, কুচা, আকসু থেকে ডানহুয়াং হয়ে পশ্চিমের খাসগর পর্যন্ত এলাকার দিয়ে উপমহাদেশ-চিনের স্থলপথ বাণিজ্য, আজ পশ্চিমের কল্যানে যার নাম রেশম পথ — দক্ষিণের পথটি কাশগর, ইয়ারখন্দ এবং খোটান দিয়ে উত্তরের শহর ডানহুয়াং-এর সঙ্গে জুড়েত। ডানহুয়াং থেকে অনেকগুলি রাজপথ চিন থেকে উপমহাদেশের অক্ষহৃদয়ে প্রবেশ করে। কাশগরের দক্ষিণপশ্চিম শহর তাশকুরগান (আজকের জিনজিয়াং প্রদেশের দক্ষিণপশ্চিম এলাকা) হয়ে একটি রাজপথ পামির মালভূমির পাহাড়ি এলাকা পার হয়ে ওয়াখান শহর হয়ে কুরদুজ (আমু দরিয়ার দক্ষিণাঞ্চল) হয়ে আফগানিস্তানের বলখ, বামিয়ান, বেগরাম হয়ে খাইবার পথ হয়ে কাশ্মীরে প্রবেশ করত।
হাজার হাজার বছরের পরম্পরাওয়ালা বাণিজ্যপথের শহর বলখ দখলে শাহজাহান কেন আওরঙ্গজেবকে পাঠিয়েছিলেন, এই রাজপথ বর্ণনায় পরিষ্কার হয় না? আমরা ভুলে যাই মুঘলেরা ইতিহাস এবং ভূগোল আর বাণিজ্য সচেতন সাম্রাজ্য। মুঘল রাজপুরুষ এবং নারীরা বিশালভাবে ব্যবসা করতেন, ব্যবসার সমস্যা বুঝতেন, ব্যবসার খুঁটিনাটি বুঝতেন। ফলে তাদের জল স্থল উভয় ব্যবসা পথ, তার সমস্যা, তার নিরাপত্তা রক্ষা ইত্যাদি গভীরভাবে বুঝতে হত। জাহাঙ্গীরের মা মারিয়ুজ্জামানির সে যুগে সব থেকে বড় জাহাজ ছিল, শাহজাহানের কন্যা পাদিসা বেগম জাহানারা তো বিপুল বড় ব্যবসা করতেন, নুরজাহানের সঙ্গে ইয়োরোপীয় কোম্পানির দূতেদের কথা বলতে হয়েছে। তাছাড়া মুঘল সুবার মাঝারি বড় আমলারা যেমন মীর জুমলা বড়ভাবে ব্যবসা করে অতুল ঐশ্বর্য সঞ্চয় করেছেন। বঙ্গোপসাগর বইতে অশীন দাশগুপ্ত বলছেন, মুঘল রাজপুরুষদের ভরসাতেই ষোল সতেরো শতাব্দে সমুদ্রে ডিঙা ভাসাতেন সে যুগের ভারতবর্ষজোড়া চাঁদ সওদাগর।
ফলে বাদাকশনের নিরাপত্তায় মুঘলদের মাথাব্যথা বিষয়টির মূল কারণ বুঝতে না পেরে ব্রিটিশ রাজত্বে প্রখ্যাতি পাওয়া চাকুরিজীবি ভদ্রবিত্ত সমাজের ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার যত কটুক্তি সম্রাট শাজাহানের দিকে ছুঁড়ে দিন না কেন, হাজার হাজার বছর ধরে যে বাণিজ্য রাজপথ তুর্কির বসফরাস প্রণালী থেকে বাদাকশন হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ঢুকছে, সেই পথের ভারতের এন্ট্রি পয়েন্টকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যে এই দুটি শহরের সামরিক-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ জরুরি ছিল। তাই শাহজাহান সিদ্ধান্ত নিলেন আমু দরিয়া অঞ্চলের বলখ আর বাদাকশানের মধ্যেকার অঞ্চলে স্থায়ী মুঘল সেনা ঘাঁটি তৈরি করার। সমস্যা হল এসব আলোচনা উপনিবেশিক, প্রাচ্যবাদী বিদ্যালয়স্তরের পড়াশোনায় অন্তর্ভূক্ত করা হয় না। কিন্তু পড়ুয়া, চোখ খোলা, বিশ্ব বণিকদের অন্যতম গন্তব্যস্থল দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তাদায়ক গোষ্ঠীপতি শাহজাহান জানতেন প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের রাজত্ব আন্দিজান থেকে ভারতবর্ষের দিল্লিতে আসার রাস্তা ছিল বলখ হয়ে আন্দিজান হয়ে তাশখন্দ হয়ে সমরখন্দ থেকে বলখ থেকে হিরাট/হেরাট থেকে কান্দাহার, কাবুল। এছাড়াও বাবরের মাতৃভূমি ট্রান্স-অক্সিয়ানা অঞ্চল উদ্ধারের স্বপ্ন থেকে কোনও মুঘল সম্রাটই মানসিকভাবে নিজেদের বের করে করতে পারেন নি। মাথায় রাখতে হবে, আকবরের আমলে তৈমুরীরা ১৫৮৫-তে বাদাকশনের নিয়ন্ত্রণ হারায়। জাহাঙ্গীর আত্মকথা তুজুক-ই-জাহাঙ্গিরিতে বাবরের দেখানো স্বপ্ন উল্লেখ করেছেন জাহাঙ্গীর এবং শাহজাহানের সময় একই কথা উল্লেখ করছেন, দরবারি ঐতিহাসিক আবদুল হামিদ লাহোরিও। (চলবে)