আলিমর্দান খান
আকচার দিকে অভিযান চালানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে আর সেখান থেকে সেনাপতির নির্দেশে তুরন্ত বলখে ফিরে আসার মধ্যে মুঘল বাহিনীর কেটেছে ১০টা উদ্বিগ্ন দিন। এই ক’দিন যেন ছিল দুঃস্বপ্নের সময় — ক্ষয়-ক্ষতি খুব একটা হয় নি, কিন্তু উজবেগীদের ক্রমাগত গেরিলা আক্রমনে মুঘল বাহিনী ভীষণ উত্যক্ত হয়েছে। দিনের পর দিন শত্রুপক্ষের নির্বিষ আক্রমণও সামলাতে ব্যতিব্যস্ত থাকতে হয়েছে মুঘল বাহিনীকে। প্রতি মিনিট চোরাগোপ্তা আক্রমণের আশঙ্কায় হাঁটতে হয়েছে তাদের। একটুকুও বিশ্রাম নেওয়ার উপায় ছিল না। হাতির পিছনে আড়াল নিয়ে চলতে চলতে বাহিনীকে খাওয়ার রাঁধতে হয়েছে। রাস্তায় খাওয়ার পাওয়া সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। রুটির দাম পৌঁছল ১টাকা ছাড়িয়ে ২টাকা। জলও একই রকম আক্রান্ত হল। মাঝেমধ্যে বাহিনীর টিকে থাকার মানসিকতাকে ধরে রাখাই সমস্যা। রাস্তায় অন্যান্য রসদও প্রায় কিছুই পাওয়া যাচ্ছিল না, প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ভুখাপেটে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছিল। শাহী বাহিনী প্রায় ছন্নছাড়া অবস্থায় পৌঁছে গেল। কিন্তু এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে বাহিনীকে উত্তরণ ঘটালেন প্রধান সেনাপতি শাহজাদা আওরঙ্গজেব। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্ব, বাহিনীতে শ্লথতা বিরোধী কঠোর মনোভাব চারিয়ে দেওয়ার দক্ষতা, চরম বিপদের সময় সাধারণতম সেনাটির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার মানসিকতা, যুদ্ধক্ষেত্রে যে কোনও আহত সেনাকে নিজের হাতে সারিয়ে তুলতে প্রধান সেনাপতির নিজের বিপদ তুচ্ছ করার মনোভাব সাধারণ সেনাদের উজ্জীবিত করে সমস্ত রকম বিপদকে হেলায় ঠেলে সরিয়ে, অসম্ভবকে সম্ভব করে নিরাপদে বলখ শিবিরে ফিরে আসতে সাহায্য করল।
আবদুল আজিজ বুঝেছিলেন একা আওরঙ্গজেব যুদ্ধক্ষেত্রের যে কোনও দুর্বিষহ পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা দুই বাহিনীর মধ্যে জয়-পরাজয়ের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে দিচ্ছিল। মাত্র তিন দশক পৃথিবীর আলো দেখা আওরঙ্গজেবের অসামান্য বরফ-ঠাণ্ডা মাথা, যুদ্ধক্ষেত্রে চরম বিপদের মধ্যে বিপক্ষের আঘাত সামলে নিয়ে পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করার যোগ্যতা আবদুল আজিজের মত দুরন্ত সেনানায়ককে হতোদ্যম করেদেয়। আবদুল আজিজ বাধ্য হলেন মুঘলদের শান্তিবার্তা পাঠাতে।
ফায়াবাদ শহরের একটু দূরে তীব্র যুদ্ধের মধ্যেই একটা অভূতপূর্ব ঘটনায় আওরঙ্গজেবের নাম সমগ্র ইসলাম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে প্রায় রাতারাতি বিখ্যাত হয়েগেলেন। আমরা উদ্ধৃতিটা তুলেছি হামিদুদ্দিন খান বাহাদুরের আহকম-ই-আলমগিরি থেকে —
“আবদুল আজিজ খানের নেতৃত্বে মধ্য এশিয়ার বিশ্বজয়ী উজবেগী ঘোড়সওয়ার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুঘল বাহিনী তখন রক্তক্ষয়ী লড়াইতে রত। সন্ধ্যের প্রার্থনার সময় ক্রমশ আসছে। হঠাত তিনি [আওরঙ্গজেব] একটি চরম প্রায় হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলেন [যা তাকে আগামী দিনে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেবে]। যুদ্ধের মধ্যেই মুঘল সর্বাধিনায়ক, বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সেনানায়কদের নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে, নিজের সমস্ত অস্ত্র, বর্ম, শিরস্ত্রাণ খুলে রেখে, ঘোড়া থেকে নেমে, যুদ্ধক্ষেত্রে নামাজের কার্পেট পেতে চারিদিকে বীভৎস গোলোযোগ থেকে কয়েক মিনিট নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় প্রথা মেনে নামাজ আদায় করলেন। আবশ্যিক ফারাইদ ছাড়াও তিনি অতিরিক্ত সুন্নাস এবং নাওয়াফিলও আদায় করেন। অকুতোভয় আওরঙ্গজেবের ইসলামের প্রতি এই আত্মনিবেদনের প্রকাশভঙ্গী দেখে শত্রুপক্ষের নেতা আবদুল আজিজ চমৎকৃত হয়ে চিতকার করে বলে ওঠেন টু ফাইট উইথ সাচ আ ম্যান ইজ টু কোর্ট ওয়ানস ওন রুইন — এই অদম্য মানুষটার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাওয়ার অর্থ নিজের ধ্বংস ডেকে আনা। যুদ্ধ থামিয়ে শান্তিবার্তা পাঠাবার নির্দেশ দিলেন”।
সমসাময়িক ঐতিহাসিকেরা বলছেন মুঘল কর্তৃপক্ষকে শান্তিবার্তা পাঠিয়ে যুদ্ধ শেষ ঘোষণা করে দেওয়ার পরেও উজবেগীদের হয়ত মনে হয়ে ছিল তাদের পাঠানো শান্তিবার্তার সুযোগে মুঘলেরা প্রতিপক্ষের শিবির লুঠ করার ইচ্ছে দমন করতে পারবে না। সেই লুঠে উন্মত্ত মুঘল বাহিনীকে উজবেগীরা পাল্টা আঘাত হেনে শেষ করে দেবে। কিন্তু ব্যতিক্রমী সামরিক নেতা আওরঙ্গজেব আর তাঁর পরামর্শদাতা আলিমর্দান খান, হয়ত বিপক্ষের পাতা ফাঁদ আন্দাজ করেছিলেন, অথবা হয়ত দীর্ঘকাল পথ চলা আর যুদ্ধ-ক্লান্তি শাহী বাহিনীকে বিপক্ষের শিবির লুঠতে প্রণোদনা দেয় নি। একই সঙ্গে এটাও সত্য শাহী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে আবদুল আজিজের সমস্ত রসদ, অর্থ শেষ হয়ে যায়। এটাই কী উজবেগীদের শিবিরে মুঘলদের আক্রমণ না করার আসল কারণ? উজবেগীরা সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছে, এই তথ্যটা কী মুঘল বাহিনীর কাছে ছিল, যে জন্যে তারা বিপক্ষের শিবির আক্রমন করে নি? কিন্তু সে সময়ের লিখিত ইতিহাসে সে রকম ইঙ্গিত নেই। আক্রমণ না করার যুক্তি যাই হোক না কেন, বাস্তবে আবদুল হামিদ লাহোরি লিখছেন যুদ্ধ শেষে উজবেগী সেনাদের হাতে একটা ফুটো পয়সাও ছিল না। শেষ পর্যন্ত তুর্কোমানেরা দেশে ফিরে যাওয়ার অর্থ পেল মুঘল বাহিনীকে নিজেদের প্রথম শ্রেণীর ঘোড়া চড়া দামে বিক্রি করে। মুঘলেরাও একই সঙ্গে আমু দরিয়ার তীর থেকে শিবির তুলল।
আবদুল আজিজ বুঝেগিয়েছেন, আওরঙ্গজেবের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিরর্থক। আমরা জানিয়েছি আবদুল আজিজ আওরঙ্গজেবের কাছে শান্তি ভিক্ষা করে সমঝোতা বার্তা পাঠিয়েছিলেন। প্রধান প্রস্তাব ছিল বলখের নিয়ন্ত্রণ সুভান কুলি খানের হাতে থাকার। আওরঙ্গজেব সম্রাটের কাছে চুক্তিপত্রের বয়ান পাঠালেন।পালটা বার্তা আসার জন্যে আর বেশি দিন অপেক্ষা না করে, আবদুল আজিজ বলখে ভাইকে একা ফেলে, যুদ্ধজয়ী বহু মুঘল সেনাকে নিজেদের বাহিনীর যুদ্ধ ঘোড়া বিক্রি করে, নিজের রাজত্বে ফিরে গেলেন। আমু দরিয়ায় ফোলানো চামড়ার বল ভাসিয়ে বাহিনীকে নিয়ে নদী পেরোলেন। বলখের পাশের শহর বেলছেগড়ের শিবিরে বসে বেসাহারা নজর মহম্মদ খান বুঝলেন তাঁকে শেষ অবদি মুঘলদের অনুগামীই হতে হবে। আওরঙ্গজেবের মার্ফত তিনি শাহজাহানকে শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়ে, শাহজাহান যে তাঁর বাবাকে রাজত্ব ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি আক্ষরিক অর্থে রক্ষা করার কাতর আবেদন জানালেন।
আবদুল হামিদ লাহোরী আওরঙ্গজেবকে অভিযুক্ত করেছেন, আবদুল আজিজের দলের পিছু না নিয়ে তাকে হয় হত্যা করে বা গ্রেফতার না করে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যে। যদুনাথ সরকার এই অভিযোগের উত্তরে বলছেন, মুঘল বিরোধী উজবেগিদের যুদ্ধ ছিল তাদের জাতীয়স্তরের উত্থান, যেটা কোনও ব্যক্তি নেতার সাফল্য ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করে না, সে নেতা আবদুল আজিজের মত যতই ক্ষমতাশালী দক্ষ সেনানায়ক হোন না কেন। হতাশ নজর মহম্মদ খান সেপ্টেম্বরে কাশফ কালমাকানকে দূত হিসেবে আওরঙ্গজেবের কাছে পাঠালেন। দশ দিন পরে তাঁর নাতি কাশিমকেও পাঠালেন।
আবদুল আজিজের পিছু হঠার পর মোটামুটি দুপক্ষই বুঝতে পেরেছিল যুদ্ধ শেষ। মুঘল সেনারা সেনাপতিরা দেশে ফিরতে উদগ্রীব। বাহাদুর খানের মত উঁচু মনসবের সেনাপতি গোপনে আশা করছিলেন পলাতক আবদুল আজিজের পিছনে নিশ্চয়ই আওরঙ্গজেব ধাওয়া করতে নির্দেশ দেবেন না। শাহী সেনাপতি যদি আবদুল আজিজকে গ্রেফতার করে বা নিহত করে তাঁর সাম্রাজ্য দখলে নেন, তাহলে বুখারায় হয়ত একটা স্থায়ী শাহী সেনা ছাউনি তৈরি করে তাদের সেখানে রেখে দেওয়া হবে। আবদুল আজিজকে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যে তাঁর মত বহু উচ্চপদস্থ সামরিক নেতা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।
আওরঙ্গজেব বুঝলেন প্রাকৃতিক কারণেই তাঁর বলখে থাকার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। তাঁকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত, দ্রুত নিতে হবে। দুরন্ত বলখি শীতকাল এগিয়ে আসছে। এমন কী সম্রাটের অনুমতি না এলেও, বাহিনী নিয়ে কাবুল সেনা ছাউনিতে ফিরে যাওয়ার স্থির সিদ্ধান্তে অটল আওরঙ্গজেব। ১ অক্টোবর বলখ নজর মহম্মদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে, তার প্রতিনিধি কাশিম এবং কাশফ কালমাককে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হস্তান্তর করে, বিজয়ী বাহিনীকে মুঘল হিন্দুস্তানে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ৩ অক্টোবর বলখের শিবির তুললেন। আলিমর্দান খান ডানে, রাজা জয় সিংহ বামে আর বাহাদুর খান পিছনে রইলেন। গিরিপথে ছুটকো ছাটকা আক্রমণের মধ্যে দিয়েই ১৪ অক্টোবর তিনি ঘোরি পৌঁছলেন। উজবেগীরা পিছনে আততায়ীর মত লেগে রইল। শাহজাহান কাহমাদ কেল্লা দখলে রাখতে চাইলেও তার সেনাপতিরা দায়িত্ব নিতে রাজি হল না।
কাবুলে পৌঁছতে আওরঙ্গজেবের ৩ সপ্তাহের বেশি সময় লাগল। ২৭ তারিখ কাবুলে শিবির ফেললেন। যদুনাথ সরকার বাঁকাভাবে মন্তব্য করছেন— মধ্য এশিয়ার যে দেশের রাজস্ব আদায় হয় সাড়ে বাইশ লাখ, সেই যুদ্ধে শাহজাহানের খাজাঞ্চির খরচ হল ৪ কোটি টাকা। আওরঙ্গজেবের অসামান্য বিজয় সত্ত্বেও মুঘলেরা এই অঞ্চলে দাঁত বসাতে পারল না। কিন্তু বলখ, আর কিছু বছর পরে কান্দাহার আক্রমন এবং সেই শহর দখল নেওয়া কেন মুঘলদের কাছে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ছিল সেটা আমরা আগে এম আতহার আলির যুক্তি অবলম্বনে বিশদে আলোচনা করেছি।
তবে বলখের যুদ্ধ আওরঙ্গজেবকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত হওয়ার সমস্ত রসদ থরে থরে সাজিয়ে দিয়েছিল। যুবা শাহজাদা সেই সুযোগ চরম কৃতজ্ঞচিত্তে গ্রহণ করলেন এবং খ্যাতিটা কড়ায় গণ্ডায় উসুল করে নিজের দিকে টেনে নিলেন। আওরঙ্গজেবকে বলখ অভিযান মুঘল হিন্দুস্তানের যোগ্যতম সেনাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিল। বিশ্বজুড়ে আওরঙ্গজেবকে অসামান্য নেতা হিসেবে পরিচিত করাল। কয়েক বছর পরেই কবি ড্রাইডেন আওরঙ্গজেবের নামে কাব্য লিখবেন, লন্ডনে সেটা অভিনীতও হবে। বলখের যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুঘল সেনাপতিদের অভিজ্ঞতা মার্ফত শাহী বাহিনীর অন্যান্য বড় নামী সেনাপতি বুঝলেন আওরঙ্গজেবের অসামান্য রণনীতি তৈরি করার দক্ষতার চিহ্নগুলো। বলখের সফল অভিযান ঠিক করে দিল আগামী দিনে শাহী ভাইদের মধ্যে যে সিংহাসন দখলের যে যুদ্ধ আর্যাবর্তের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে সেই যুদ্ধে তারা চোখ বুজে সিংহাসনের যোগ্য অধিকারী হিসেবে আওরঙ্গজেবকে বেছে নেবেন। বলখের অভিযান ঠিক করে দিল, ১০ বছর পরে দিল্লির সিংহাসনের যুদ্ধে এডভান্টেজ আওরঙ্গজেব।
যদিও উজবেগীরা শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে আমু দরিয়া পার করে নিজেদের রাজত্বে ফিরে গিয়েছিল, তবুও আওরঙ্গজেব আশংকা ছিল তারা, নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে যে কোনও সময় কাবুলে ঝটিকা আক্রমন শানাতে পারে। বলখ ফেরার পথে কাবুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিন্ধু পার না করে, নদীর কাছাকাছি মার্চ অবদি অপেক্ষা করার জন্যে শিবির ফেললেন। তিনি কাবুলের কাছাকাছি থাকছিলেন। ভাবনা ছিল, মধ্য এশিয় উজবেগী বাহিনীর আক্রমণের সংবাদ পেলেই তিনি তুরন্ত পাল্টা আক্রমনে যাবেন।
যতদিন না আওরঙ্গজেবের হিন্দুকুশ পেরোনোর সংবাদ আসে ততদিন সুজাকে কাবুলে রেখেগেলেন উদ্বিগ্ন সম্রাট। ১৬৪৮-এর মার্চের মাঝামাঝি আওরঙ্গজেবকে মুলতানের সুবাদার নিযুক্ত করা হল। পরের বছর সিন্ধু অঞ্চলটাও তাঁর নিয়ন্ত্রণে এল। ১৬৫২ পর্যন্ত চার বছর এই পদে থাকাকালীন তাঁকে অন্তত দুবার কান্দাহার অবরোধ ওঠাতে অভিযান করতে হয়। প্রথমবার তিনি যাত্রা শুরু করলেন ২২ জানুয়ারি ফিরলেন ডিসেম্বর ১৬৪৯। দ্বিতীয়বার তিনি ২০ মার্চ ১৬৫২ চেনাব নদী পেরোলেন কান্দাহার থেকে তাঁকে সরাসরি নির্দেশনামা পাঠিয়ে সেখান থেকে দক্ষিণে পাঠানো হল — সে অন্য গল্পও, অন্য পরিস্থতি, অন্য যুদ্ধ। ইতিমধ্যে ১৬৪৯-এর ১৬ জানুয়ারি তাঁর মনসব বেরার খবর এল ১৫,০০০, ১২,০০০ জাট আর ৮,০০০ দো আসপা আর সেহ আসপা। (চলবে)