১৬৪৮-৫২-য় মুলতান আর সিন্ধের সুবাদারি, মুঘল আমলে মুনসি
শাহজাদা আওরঙ্গজেবের মুলতানের সুবাদারিত্বের সময় শুরু হয় ১৬৪৮-এর মার্চের মাঝামাঝি। দুবছরের মাথায় ১৬৫০-এ জনৈক শেখ আবুল ফাতাহ, মুঘল প্রশাসনের মুলতান সুবায় আওরঙ্গজেবের প্রশাসনে মুনসি পদে যোগ দেবেন। পরের দিকে তিনি আওরঙ্গজেবের ব্যক্তিগত মুনসি হিসবে নিযুক্ত হয়ে, শাহজাদার বিশ্বস্ততা অর্জন করবেন অমেয় পরিশ্রমে। শেখ আবুল ফাতাহকে আওরঙ্গজেব কাবিল খান উপাধিতে ভূষত করে সম্মান জানাবেন, তাঁর কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা অর্পণ করবেন। শেখ আবুল ফাতাহ পরবর্তীকালের ইতিহাসে আওরঙ্গজেবের দেওয়া উপাধি, কাবিল খান নামেই বিখ্যাত হয়েছেন। পরবর্তী কালের আলোচকদের কাছে কাবিল খানের গুরুত্ব হল, শাহজাদা আওরঙ্গজেবের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে যে সব চিঠিপত্র, ফরমান ইত্যাদি তার হাত দিয়ে পাঠানো হয়েছিল বা যে সব চিঠি বা ফরমান বা নথি তিনি গ্রহণ করেছিলেন সে সবের মধ্যে তিনি শাহজাদা আওরঙ্গজেবের নিজের হাতে লেখা চিঠিপত্রের একটি অমূল্য সংকলন ভবিষ্যতের গবেষকদের কাজের জন্যে তৈরি করে যান।
মাথায় রাখতে হবে, মুঘল আমলের প্রশাসনে মুনসি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদ হিসেবে গণ্য হত। রাজীব কিনরা রাইটিং সেলফ রাইটিং এম্পায়ার গ্রন্থে শাহেনশাহ শাহজাহানের ব্যক্তিগত সচিব, মুনসি চন্দর ভান ব্রাহ্মণ এবং তার কৃতি এবং সময় নিয়ে বিশদে আলোচনা করেছেন। আমরা যে সময়টা নিয়ে আলোচনা করছি, সেখানে শুধু চন্দর ভান ব্রাহ্মণই সে সময়ের ইতিহাস আর সাহিত্যের প্রতিনিধি করেন না, তাঁর মাত্র কয়েক দশক পরের সময়ে আওরঙ্গজেবের ব্যক্তিগত মুন্সি কাবিল খান, সে সময়ের অনপনেয় কিছু ছাপের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস চুম্বক আওরঙ্গজেবের চিঠিপত্র সংকলন করার মাধ্যমে বয়ান করবেঙ। তাছাড়া মুঘল প্রশাসনে এই ধরণের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করা মুনসিদের প্রথম জীবনের শিক্ষা পদ্ধতি আলোচনাও সে সময়ের আরেকটি বন্ধ দ্বার, কৃষ্টি আর বিদ্যাচর্চার ওপরে আলো ফেলতে সাহায্য করে। রাজীব কিনরা, সঞ্জয় সুব্রহ্মণ্যম বা সুনীল শর্মা সে সময়ে একজন সাধারণ শিক্ষিত মানুষের মুঘল প্রশাসনে মুনসি পদে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পদ্ধতি চুম্বকে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনায় আমরা শাহজাহান আর আওরঙ্গজেবের যুগের কৃষ্টিচর্চা, জ্ঞানচর্চার বিস্তৃত উদাহরণ উদ্ধার করেছি। আওরঙ্গজেবের প্রশাসনে কাবিল খানের যোগ দেওয়ার সুবাদে তাঁর নামোল্লেখের সুযোগে মুঘল প্রশাসনে মুনসিদের গড়ে ওঠা, শিক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি বিষয়ে ছোট্ট একটা আলোচনা সেরে আমরা আবার আওরঙ্গজেবের জীবন কৃতি আলোচনায় ফিরব।
পলাশী পরবর্তী সময়ে উপনিবেশিক সময়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সামনেছিলেন ফারসি জানা মুনসিরা। তারাই নবাবি আমলের প্রশাসনের জ্ঞানচর্চাকে উপনিবেশিক প্রশাসনিক জ্ঞানচর্চায় ঢেলে সাজিয়ে ব্রিটিশ কোম্পানির রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করেন। মুঘল আমলে এবং ব্রিটিশ আমলের শুরু সময়ে প্রশাসনিক যোগাযোগ রাখার ভাষা পুরনো নবাবি/মুঘল সময় অনুকরণে ছিল ফারসি ভাষা। তাই মুনশিরা শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেই সক্রিয় ছিলেন না, রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন উকিল বা মুখপাত্র হিসেবে। ওয়ারেন হেস্টিংস, এন্টোনি পলিয়ে (Antoine Polier) বা ক্লদ মার্টিনের (Claude Martin) মত রাজনীতিকদের অন্ধের যষ্ঠি ছিলেন মুনসিরাই। উপনিবেশিক ইতিহাস চর্চায় মুনসি পদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ওয়ারেন হেস্টিংসের বেশ কয়েক দশক পরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলাতন্ত্রে মুনসিদের শিক্ষা দেওয়ার প্রশ্ন উঠল। কপিল রাজ ‘রিলোকেটিং মডার্ন সায়েন্সঃ সার্কুলেশন এন্ড কন্সট্রাকশন অব নলেজ ইন সাউথ এশিয়া এন্ড ইওরোপ ১৬৫০-১৯০০’ বই এর বেশ কিছু প্রবন্ধে বলছেন কীভাবে মুঘল আমলের পণ্ডিত এবং মুনসিরা উপনিবেশের প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি এবং জ্ঞানচর্চা বিকাশে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকে জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমায় মুনসিদের জমিদারদের কুকর্মের সাথী হিসেবে জনগণের কাছে পরিচয় করিয়ে দিলেও উপনিবেশপূর্ব সময়ে তাঁদের অন্য ধরণের, বৌদ্ধিক কাজকর্মের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। সাহিত্যিক মুনসিদের লেখাপত্র যেমন আওরঙ্গজেবের আমলে মুনসি মির্জা খানের তুহফাতুলহিন্দ (হিন্দুস্তানের উপহার) গুরুত্বপূর্ণ মুন্সি সাহিত্য হিসেবে আজও গণ্য হয়। শাহী পরিবারের সন্তানদের বেড়ে ওঠার সময়, তাদের আতলিকদের (শিক্ষাগুরু, পথপ্রদর্শক) মাধ্যমে পাঠ নেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক ছিল তুহফাতুলহিন্দ। প্রায় একই সময়ের নিগারনামা-ই-মুনসিও (মুনসিদের চিঠিপত্র সংকলন) আমাদের উপনিবেশপূর্ব সময়ের প্রশাসনে মুনসিদের কাজকর্ম বুঝতে সাহায্য করে। এই বইতে মুনসি তৈরি করার যোগ্যতার নানান দিক এবং মুনসি হয়ে ওঠার জন্যে জ্ঞানচর্চার আঙ্গিকগুলোও বিশদে বর্ণনা করা হয়েছে। শাহজাহানের ব্যক্তিগত সচিব, চন্দর ভানের বিখ্যাত সাহিত্য পুস্তক চাহার চমন (চার বাগান) লেখার আগে জাহাঙ্গিরের আমলে লেখা হয়েছে মুলতানের হরকরণ দাস কম্বুর ইনশা-ই-হরকরণ (হরকরণের লেখার আঙ্গিক)। তিনি চন্দর ভানের মতই মুঘল আমলাতন্ত্রের উচ্চপদে কাজ করেছেন তাঁর মত সাহিত্য জগতে প্রখ্যাতও হয়েছেন।
বলা দরকার মুনসিদের লেখাপত্র অধিকাংশই ছিল অধার্মিক, অধর্মতাত্ত্বিক বিষয়ে। ফলে মুঘল আমলে ক্ষত্রি, কায়স্থ এবং ব্রাহ্মণ পরিবার থেকে আসা বিপুল অমুসলমান মুনসির উল্লেখ পাচ্ছি, যারা মুঘল আমলে নিজেদের পদে কাজে যোগ্যতা প্রদর্শন ছাড়াও সাহিত্য রচনা করেও প্রখ্যাত হয়েছেন। মুঘল আমলে হিন্দুস্তানজুড়ে ফারসি ভাষার পৃষ্ঠপোষণার ফলে, ফারসি ভাষা চর্চা শাহী পরিবার, এবং অন্যান্য অভিজাত পরিবারের গণ্ডী ছাড়িয়ে নেমে আসে সমাজের আরও বৃহত্তর মধ্যবিত্তদের সামাজিক পরিসরে। সম্রাট আকবরের উদ্যোগে প্রশাসনের সর্বস্তরে ফারসি ভাষা কাজের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আফগান সময় পর্যন্ত ফারসি কিন্তু সরকারি ভাষা ছিল না, বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ভাষায় কাজ সম্পাদন করা হত। আকবরের আমলে নতুন ভাষা হিন্দুস্তানজোড়া বিস্তৃত প্রশাসনিকস্তরে আত্মীকরণের নির্দেশ দেন মুঘল রাজস্বমন্ত্রী দেওয়ান, টোডরমল্ল। পরবর্তী কালের উচ্চপদের আমলা যেমন ইরানজাত প্রযুক্তিবিদ, জ্ঞানী মীর ফাতাউল্লা শিরাজি টোডোরমল্লের এই নির্দেশ প্রশাসনিকস্তরে কার্যকারী করেন। অষ্টাদশ শতকের ঐতিহাসিক গুলাম হুসেন তাবাতাবাই লিখছেন, ‘এর আগে ভারতবর্ষে সরকারি খাতাপত্র এবং হিসেব নিকেশ হিন্দিতেই লেখা হত মূলত হিন্দু আমলের পরম্পরা অনুসরণ। রাজা টোডরমলের আমল থেকে ইরাণী (বিলায়ত) অক্ষরজীবিদের (নভিসিংদাগন, যেখান থেকে নবিস শব্দটা এসেছে) সুবিধের জন্যে যে সেই দেশের ভাষাকে কাজকর্মের বাহন হিসেবে গণ্য করার জন্যে নীতিমালা (জাওয়াবিত) জারি করা হয়’ (Earlier in India the government accounts were written in Hindavi according to the Hindu rule. Raja Todar Mal acquired new regulations [zavabit] from the scribes [navisindagan] of Iran, and the government offices then were reorganized as they were there in vilayat [Iran]) (সূত্রঃ গুলাম হুসেন, সিয়েরউলমুতক্ষরিণ)।
সরকারি পৃষ্ঠপোষণায় ফারসি ভাষা ব্যবহার বাড়তে শুরু করল। ইরাণ থেকে ভারতে অভিবাসিত অভিজাতরা মুঘল আমলে প্রশাসনিকস্তরে প্রবেশ করতে থাকলেও প্রশাসনিক স্তরের পকড় কোনও দিন শুধুই ইরাণী, তুরানীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। মুঘল প্রশাসনের আগের সময়ের সুলতানি প্রশাসনের দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন অমুসলমান দেশিয় আমলারা, হিন্দৌভি ভাষা মার্ফত। মুঘল আমলে নতুন ভাষাচর্চার পরিবেশে তারা ফারসি শিখলেন এবং মানিয়েও নিলেন খুব তাড়াতাড়ি। দ্রুত ফারসি শিখে ইরাণী করণিক, মসিজীবি এবং সচিবদের(মুহুরি এবং মুনসি) সমকক্ষ হয়ে উঠলেন তাঁরা। আকবর যে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজলেন, সে কাজে অসামান্য ইরাণী আমলা, প্রযুক্তিবিদ, মীর ফাতাউল্লা শিরাজীর(মাত্র সাত বছর ফাতাউল্লা আকবরের সভাসদ ছিলেন। ফাতাউল্লা একাধারে ধর্মতাত্ত্বিক, সাহিত্যিক, বৈয়াকরণিক, চিকিৎসক, অঙ্কবিদ, জ্যোতির্বিদ, জ্যোতিষবিদ, প্রযুক্তিবিদ, এবং জাদুকরও ছিলেন। তাঁর সম্বন্ধে আবুল ফজল লিখছেন, আমাদের প্রাচীন জ্ঞানচর্চার পুথিগুলি ধ্বংস হয়ে গেলেও তিনি নতুন জ্ঞানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করিয়ে দিতে পারবেন। তাঁর মৃত্যুতে আকবর শোক প্রকাশ করেন। ফাতাউল্লা, সিরাজ শহরে জন্মান। যুবা বয়সেই তিনি মীর শাহ মীরের শিষ্য হয়ে জ্ঞানচর্চায় বৃত হন। দার্শনিক জালালুদ্দিন জাওয়ানির শিষ্য খ্বাজা জামালুদ্দিন মহম্মদ তাঁকে যুক্তিবিদ্যা, দর্শন পাঠ দেন। গিয়াসুদ্দিন মনসুরের থেকে তিনি চিকিৎসা, অঙ্ক আর বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞানী হন। জোরাথ্রুষ্ট্রিয় তাত্ত্বিক আজার খাইওয়ানের থেকেও দার্শনিক পাঠ নেন। শিরাজ শহরে পড়ানো শুরু করেন। তাঁর শিষ্যদের মধ্যে প্রখ্যাত হলেন, মীর তাকিউদ্দিন মহম্মদ, আফজল খান, বিজাপুরের প্রথম আলি আদিল শাহের প্রধান উজির রফিউদ্দিন শিরাজি, সুলতানের ঐতিহাসিক শেখ হাসান মাউসালি এবং ফরিদুদ্দিন মাসুদ বিন ইব্রাহিম দেহলিভি, জিজি-ই-শাহজাহানির লেখক আবদুর রহিম খানখানান প্রভৃতি।
আকবর তাঁর থেকে কবিতা এবং অঙ্কশাস্ত্রে পাঠ নেন। বিজাপুরের সুলতান আদিলশাহ বিপুল ব্যয় করে দাক্ষিণাত্যে নিয়ে আসেন। তারিখ জানান না গেলেও দীর্ঘকাল ধরে, সুলতানের মৃত্যু ১৫৮০ পর্যন্ত তিনি বিজাপুরে বাস করেন। ১৫৮৩-তে আকবরের ডাকে আগ্রায় মুঘল দরবারে আসেন। আবুল ফজল এবং বাদাউনি তাঁর সম্বন্ধে বিশদে লিখে গিয়েছেন। তিনি ধর্মীয় দানের জন্য উদ্দিষ্ট সদর দপ্তরে কাজ শুরু করেন। ১৮৫৪ সালের নওরোজের দিন ফ্যান্সি বাজারে তাঁর উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন করেন। সেই বছরেই তাঁর তত্ত্ব নির্ভর করে ইলাহি বর্ষের সূচনা হয়। পরের বছর তাঁকে রাষ্ট্রের অছি, আমিনুল মুলক পদে বৃত করা হয়। তাঁর পরামর্শেই টোডরমল্ল নতুন রাজস্ব সংস্কারে হাত দেন। তিনি কুড়িটা পরামর্শ দেন, এবং সবক’টি আকবর গ্রহণ করেন। মুদ্রা সংস্কারও করেন। ১৫৮৫, ১৫৮৭ দুবার তিনি দাক্ষিণাত্য দৌত্যে গেলেও বিফল হন। এই কাজে যাওয়ার জন্য তাঁকে ৫,০০০ টাকা, খেলাত, আজিজুদ্দৌল্লা উপাধি, ঘোড়া এবং সমগ্র হিন্দুস্তানের সদর পদ দেওয়া হয়। ১৫৮৮তে তাঁকে কাশ্মীরের রাজা করে দেওয়া হয়। সেখানেই তিনি অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। আধুনিক পশ্চিমি ঐতিহাসিকদের কাছে ফাতাউল্লার প্রখ্যাতি যন্ত্র বানানোর জন্যে। তিনি কামানের নল পরিষ্কারের যন্ত্র, কামান টানার গাড়ি, এবং ইলাহি নামক সৌর পঞ্জিকার জনক। তিনি অনেক নিচ থেকে অনেকগুলি চাকা নির্ভর করে বহু উঁচুতে জল তোলার প্রযুক্তির আবিষ্কারক। বলা হয় আজও ফতেপুর সিক্রিতে এই প্রযুক্তির উদাহরণ পাওয়া যাবে। এছাড়াও দুটি বড় পাথর ঘুরিয়ে শস্য ভাঙার যন্ত্রেরও তিনি উদ্ভাবক। ইলাহি পঞ্জিকার বিশদ বিবরণ পাওয়া গেলেও তাঁর কোনও লেখাই পাওয়া যায় নি। সমস্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে আইন-ই-আকবরি আর আকবরনামা সূত্রে। আইন-ই-আকবরিতে তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্রের কিছু হাতে আঁকা ছবি পাওয়া গিয়েছে — তার বেশি কিছু নয়। এখানে এর বেশি বর্ণনা করার সুযোগ নেই। (সূত্র এম এ আলভি, এ রহমান ‘ফাতাউল্লা সিরাজিঃ আ সিক্সটিন্থ সেঞ্চুরি ইন্ডিয়ান সায়েন্টিস্ট’, ১৯৬৮) এর প্রভাবটা সমধিক হয়ে রইল। সিকন্দর লোদির সময় থেকেই আমলাতন্ত্রে টিকে থাকার জন্যে হিন্দুরা ফারসি শেখা শুরু করেন। এমন কী মুন্তাখাবুলতাওয়ারিখ-এর তৃতীয় খণ্ডে আবদুল কাদির বাদাউনি ফারসি আরবি জানা ব্রাহ্মণ শিক্ষকের নামও উল্লেখ করছেন। আকবরের সময় ফারসি ভাষা শেখার জন্যে অমুসলমান বংশপরম্পরার আমলা যেমন কায়স্থ, বিশেষ করে ক্ষত্রি এবং অন্যান্য সমাজের মানুষেরাও মাদ্রাসায় ফারসি ভাষা এবং সাহিত্যে নিয়মিত পাঠ নেওয়া শুরু করেন। এই ভাষা হাতিয়ার অবলম্বন করে বিপুল অমুসলমান মসিজীবী স্বচ্ছলতার হাতিছানি উপেক্ষা না করে মুঘল আমলাতন্ত্রে প্রবেশ করবেন এবং উন্নতি লাভ করবেন। (চলবে)