১৬৪৮-৫২ তে আওরঙ্গজেবের কান্দাহার অভিযান
আফগানিস্তানের দক্ষিণতম জেলা কান্দাহার। পূর্বে সুলেইমান পাহাড়শ্রেণী এবং দক্ষিণে ভয়াবহ মরুভূমি প্রায় সমস্ত বিশ্ব থেকে কান্দাহারকে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে পরিণত করেছে। অঞ্চলের চাষবাস শুধুই হেলমন্দ নদীর কাটা খালের জলের ওপর নির্ভরশীল। বাণিজ্যের দিক দিয়ে কান্দাহার যেমন এশিয় বাণিজ্যপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, দক্ষিণ এশিয়া রক্ষায় এবং অভিযানে কান্দাহারের রণনৈতিক গুরুত্বও অসীম। মধ্য এশিয়া বা পারস্য থেকে হেরাট পার হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দিকে আসা সামরিক অভিযাত্রী দলের প্রত্যেকটিকেই কান্দাহার অঞ্চল পার হয়েই আসতে হয়। মুঘল রাজত্বের সীমান্ত শহর কাবুল রক্ষায় কান্দাহারের অসীম গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন মুঘল কর্তৃপক্ষ। মুঘল সাম্রাজ্যকে চাপে রাখতে, কান্দাহারের সামরিক গুরুত্ব বুঝেছিল পারসিক সাফাভি সাম্রাজ্য। কান্দাহারের সামরিক গুরুত্বের মতই বাণিজ্যিক গুরুত্বটিও জানত সে সময়ে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি, ২৭ জিডিপির মুঘল সাম্রাজ্য। তারা বাবরের আমল থেকে এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে। প্রত্যেক মুঘল সম্রাট কান্দাহার নিরাপদ রাখার জন্যে শহরে সেনা ছাউনির ব্যবস্থাপনা করেছেন। কান্দাহার নিয়ন্ত্রণ করার একটা বড় উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্য সুরক্ষা। বাণিজ্য সুরক্ষার জন্যে সামরিক সুরক্ষা জরুরি। দক্ষিণ এশিয়ার শাসকদের মাথা ব্যথা বাড়তে থাকে দক্ষিণ এশিয় সমুদ্র বাণিজ্য পথে ইয়োরোপীয়দের প্রাধান্য শুরু হওয়ায়। মাথায় রাখতে হবে দক্ষিণ এশিয়ায় মুঘলদের পদার্পণের আগেই পর্তুগিজেরা দক্ষিণ এশিয়ায় এসেছে। ততদিনে তারা দক্ষিণ এশিয়ার পশ্চিম আর পূর্ব উপকূলে জমিয়ে বসে বড় সমুদ্র শক্তি হয়ে উঠে দক্ষিণ এশিয়ার দুটি বড় সমুদ্র অঞ্চল বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের বাণিজ্য এবং সামরিক ট্রাফিক অনেকটাই কার্তেজের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছে [তবে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে পর্তুগিজ হার্মাদেরা সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ করত ঠিকই, কিন্তু তাদের দক্ষিণ এশিয়া সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণে পর্তুগিজদের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে বাড়িয়েই দেখানো হয়। পর্তুগিজ ঐতিহাসিকদের এই প্রবণতাকে প্রশ্ন করেছেন ঐতিহাসিক সুশীল চৌধুরী আর সঞ্জয় সুব্রহ্মণ্যম]। তাই বাণিজ্যের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা রাজপথ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে মুঘল সাম্রাজ্য কান্দাহারে সামরিক-বাণিজ্য ঘাঁটি বানিয়েছে। মুঘল সাম্রাজ্য জানত ব্রিটিশ পূর্ব সময়ে বিশ্বের কারখানা দক্ষিণ এশিয়ার নানান অঞ্চল আর পারস্যের কারিগর চাষীর উৎপাদিত পণ্য হিন্দ-পাকিস্তান-পারস্য হয়ে ইয়োরোপে প্রবেশ করার যে রাস্তা গাঙ্গেয় উপত্যকা রাজস্থান পেরিয়ে মুলতান পিসিন হয়ে এশিয়ার শেষতম অঞ্চল তুরস্কের বসফরাস প্রণালী পর্যন্ত গিয়েছে, সেই রাস্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক-বাণিজ্য ঘাঁটি কান্দাহার। একে হাতছাড়া করার অর্থ এশিয় বাণিজ্যের ওপর থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া। মুঘল সাম্রাজ্যের পক্ষে বলখের গুরুত্ব এবং নিয়ন্ত্রণের আলোচনায় আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির ঐতিহাসিক এম আতহার আলির যে যুক্তি আমরা আওরঙ্গজেবের বলখ অভিযান পর্বে উল্লেখ করেছিলাম, সেই একই যুক্তি কান্দাহার রক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতে পারি। সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার মুঘল ইতিহাস চর্চায় বলখ আর কান্দাহার দুটি নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হয়।
এশিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক-বাণিজ্য শক্তি মুঘল হিন্দুস্তান এবং সুলতানি পারস্য কান্দাহার দখল রাখতে মরিয়া। দুই শক্তিশালী সাম্রাজ্যের মধ্যে কান্দাহার বহুবার হাত বদল হয়েছে। ১৫২২-এ বাবর কান্দাহার দখল নেন, ১৫৪৫-এ ভাই আসকারির থেকে কান্দাহার উদ্ধার করেন হুমায়ুন। আকবরের রাজত্ব শুরুর মাত্র কয়েক বছরে মধ্যে ১৫৫৮-য় পারস্য রাজ কান্দাহার দখল করেন। ১৫৯৪-তে আকবর সেটি পুনর্দখল করেন। ৩০ বছর পর ১৬২৩-এ পারস্যের শাহ আব্বাস আবার কান্দাহার অঞ্চল দখলে নেন। পারস্যের নিয়ন্ত্রণ থেকে কান্দাহার উদ্ধারের অদম্য ইচ্ছে থাকলেও আভ্যন্তরীণ সমস্যার জন্যে জাহাঙ্গির অভিযান চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করে উঠতে পারেন নি। শাহজাহানের আমলে কান্দাহার প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করা পারসিক প্রশাসনের আমলা আলিমর্দান খান অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ ১৬৩৮-এ মুঘলদের হাতে তুলে দিয়ে মুঘল সামরিক প্রশাসনে প্রবেশ করেন। দশ বছর পরে পারসিক সুলতান শাহ আব্বাস কান্দাহারে আক্রমণের পরিকল্পনার সংবাদ সম্রাট শাহজাহানের কাছে আসে।
১৬৪৮-এর সেপ্টেম্বরে শাহজাহান জানতে পারেন, পারসিকেরা কান্দাহার আক্রমণের উদ্দেশ্যে হেরাটে বিশাল সৈন্য সমাবেশ ঘটাচ্ছে। দরবারিদের পরামর্শ ছিল সম্রাট স্বয়ং কাবুল গিয়ে ঘাঁটি গেড়ে সৈন্যদের মনোবল বাড়ান। সেখান থেকে বড় একটা সৈন্যদল কান্দাহারের অভিযানে গিয়ে পারসিকদের মহড়া নিক। এই মতের বিপরীতে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ দরবারি বললেন, মুঘল সাম্রাজ্যের এখুনি বড় খরচ করে অভিযান চালানোর বিষয়ে খুব তাড়াহুড়োর দরকার নেই। এখন শীতকাল। পারসিকেরা শীতে কান্দাহার ঢোকার চেষ্টা করবে না। শীত কেটেগেলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। শাহজাহান দ্বিতীয় শ্রেণীর পরামর্শদাতার পরামর্শ মেনে নিশ্চুপে বসে রইলেন। মুঘলদের ভাবনা ভুল প্রমান হল। শাহ আব্বাস ডিসেম্বরের চরম শীতে তড়িৎ গতিতে কান্দাহার অবরোধ করে শহরের সামনের দুটো ঘাঁটি বুরুজ দখল নিলেন। তিনি এখন শহর থেকে আধ মাইল দূরেও নন।
সে সময় কান্দাহারের মুঘল ফৌজদার ছিলেন পাঞ্জাবের ভাট্টি আদিবাসী গোষ্ঠী প্রধান দৌলত খান। জাহাঙ্গিরের রাজত্বকালে তিনি মুঘল প্রশাসনে মন দিয়ে সেবা করেছেন। দক্ষিণে শাহজাহানের বাহিনীতে ব্যক্তিগত শৌর্য দেখিয়ে ৫০০০ মনসবদার পদে উত্তীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু পারসিক সুলতান যখন কান্দাহার অবরোধ করেছেন তখন আর তিনি যুবক নন ৬০ বছরের প্রৌঢ়। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে। পারসিক বাহিনী দ্রুত এগিয়ে আসার সংবাদ সত্ত্বেও দৌলত খান কান্দাহার অঞ্চলের নিরাপত্তা বেড়া নিয়ে তখনও সচেতন নন, কান্দাহার শহরের নিরাপত্তা জোরদার করেন নি। ১৬৪৯-এর প্রথম দিকে পারসিক বাহিনী বিশাল তিনটে কামান শহরের বাইরে বসিয়ে মুহুর্মুহু গোলা বর্ষণ শুরু করে। কেল্লার সামনের ছুঁচোলো বাঁশের নিরাপত্তা বেড়া ভেঙে কাঠের সেতু দখল করে শির হাজি নামক দুর্গের দেওয়ালের সামনে চলে আসে। মুঘলেরা প্রবল প্রতিরোধ করলেও, কেল্লার সামনে শত্রু বাহিনীর মাইন পাতা বন্ধ করতে পারল না।
ইতিমধ্যে মুঘল বাহিনীতে গোলযোগ তৈরি হল। পারস্যের সেনানায়ক, মুঘল বাহিনীর একটা দলকে বিশ্বাসঘাতকতা করতে প্ররোচিত করলেন। দৌলত খান মুঘল বাহিনীকে এক রাখতে পারলেন না। মুঘল বাহিনীর তুর্কি সেনাপতি শাদি উজবেগ এবং কিপচাক খান পারসিক বাহিনীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে শহরের নিরাপত্তা মুঘলদের হাত থেকে পারসিকদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। দৌলত খান যখন চক্রান্তটা টের পেলেন, বুঝলেন তিনি হারা যুদ্ধ লড়ছেন। ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্বাসঘাতকেরা পারসিক দূতকে কেল্লায় নিয়ে আসে; ৬ দিন পরে মুঘল বাহিনী যুদ্ধ বন্ধ করে কান্দাহার শহর পারসিকদের হাতে তুলে দেয়।
কান্দাহারের পতনের সংবাদে শাহজাহান হতবাক হয়ে যান। শহর পতনের দায় তিনি ঝেড়ে ফেলতে পারেন না। পারসিকদের হাল্কাভাবে নিয়ে, বিপক্ষের চাল বুঝতে না পেরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক-সামরিক ঘাঁটি প্রতিবেশী শক্তির হাতে কার্যত উপহার দিলেন। দৌলত খানও সম্রাটের মত সমভাবে দায়ি। কেল্লায় ছিল ৭০০০ সেনা আর অন্তত দুবছর অবরোধ সামলানোর মত বিপুল রসদ। কাবুল থেকে নতুন বাহিনী আসা পর্যন্ত তিনি পারসিকদের স্বচ্ছন্দে ঠেকিয়ে রাখতে পারতেন। এই যুদ্ধে মাত্র ৪০০ সেনা হারিয়েছিলেন দৌলত খান। এর থেকে বোঝা যায় কী একপেশে ছিল যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি।
আওরঙ্গজেবের কান্দাহার অভিযান
১৬৪৯এর জানুয়ারির মাঝামাঝি কান্দাহার পতনের সংবাদ শাহজাহানের কানে পৌঁছল। তিনি তখন লাহোরে। অবলম্বে মুলতানের সুবাদার আওরঙ্গজেব এবং মুঘল আমলা শাদুল্লা খানকে কান্দাহারের দিকে সামরিক অভিযানের নির্দেশ পাঠালেন। আমরা আগেই আওরঙ্গজেবের মুলতানের সুবাদারিত্বের সময় দেখেছি সামরিকবিদ আওরঙ্গজেব কান্দাহারে গোলযোগের সংবাদ পেয়েছিলেন। তাঁর ধারণা হয়েছিল তাঁকেই সুলতান কান্দাহার অভিযানের নির্দেশ দেবেন। তাই হট আর নিয়ানি গোষ্ঠীর সঙ্গে তিনি সমঝোতা সেরে, তাদের এলাকার মধ্যে দিয়ে বিশাল মুঘল বাহিনীর যাওয়ার জন্যে নিরাপদ সড়ক তৈরি করে রেখেছিলেন। মুলতান এবং লাহোর থেকে বেরোনো দুটি বাহিনী ভীরাতে মিলল। জোড়া বাহিনী কাবুলে পৌঁছল মার্চে। বিন্দুমাত্র সময় হরণ না করে তিনি কান্দাহারের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।
মে মাসের মাঝামাঝি মুঘল বাহিনী কান্দাহার অবরোধ করল। পুরোনো কান্দাহার শহর হেরাট রাস্তার দুমাইল ভিতরে ছিল। সুবিশাল খাড়া দেওয়ালের ওপরে কেল্লাটা দাঁড়িয়ে। অটুট নিরাপত্তা দেওয়াল ভেদ করা অতীব শক্ত। বড় বুর্জগুলোর মধ্যে সব থেকে বড়টার নাম লাখ এবং সে দিক দিয়ে প্রবেশ করা অসম্ভব প্রায়। কেল্লায় মূল কেন্দ্রটির নাম দৌলতাবাদ। সেটি কেল্লার মূল অংশের থেকে অনেক নিচের ধাপে তৈরি করা হয়েছে। তারও তলায় মূল শহর। শহরটা তিনটে দশ গজ মোটা দেওয়ালে ঘেরা। ১৮৭৮-এর এক ব্রিটিশ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে দেওয়ালটা মাটি আর পাথরে তৈরি হলেও এতই শক্ত যে মাত্র দশ গজ দূর থেকে ছোঁড়া বুলেট দেওয়াল ভেদ করে না। সেটিকে দেওয়াল থেকে নখ দিয়ে খুঁটে তুলে নেওয়া যায়। মুঘলদের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময়, তাদের তৈরি আরও দুটো গার্ড টাওয়ার কেল্লাকে এই অঞ্চলের দুর্ভেদ্যতম কেল্লায় রূপান্তরিত করেছে। শহরে প্রবেশের ৩০ এবং ৫০ মাইল পশ্চিম এবং উত্তর পশ্চিমে বিস্ত এবং জমিনদারওয়ারে দুটো ছোট কেল্লা শহরের থানা হিসেবে কাজ করে।
১৬ মে মুঘল অবরোধ শুরু হল। পরের দিন রাজপুত বাহিনী দেওয়াল আক্রমন করলে দুর্গ থেকে ছোঁড়া অবিশ্রান্ত বুলেট বর্ষণে তাদের পিছিয়ে আসতে হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য আমলইসালেহর দাবি রাজপুত ঝটিকা আক্রমন বাহিনী আওরঙ্গজেব প্রথ্যম থেকেই তার বাহিনীতে নিতে চান নি; তার অজ্ঞাতসারে এই বাহিনীটিকে মুঘল সেনাবাহিনীর সঙ্গে জোড়া হয়েছে। দুর্গে ঢোকার পরিকল্পনায় বিপক্ষের বন্দুকের গুলি সামলে আওরঙ্গজেবের বাহিনী সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু করল। ৪ জুলাই তিনটে সুড়ঙ্গ তৈরি হল এবং সেসবে পাতা জড়ো করে জ্বালিয়ে শুকানোও করা হল। পরের রণনীতি হল দুর্গে নিয়মিত গোলা বর্ষণ কিন্তু সে কাজটা করার জন্যে যে ধরণের আক্রমনের সরঞ্জাম দরকার ছিল সেটা আওরঙ্গজেবের বাহিনীতে ছিল না। মুঘলদের একটাও বড় কামান ছিল না। উলটো দিকে পারসিকেরা তৈরি হয়েই বেশ কয়েকটা বড় কামান নিয়ে আসে। মুঘলদের তুলনায় পারসিক গোলান্দাজেরা অনেক দক্ষ। একদিন তারা ২৫ বার গোলাবর্ষণ করে মুঘলদের কাটা সুড়ঙ্গ বুজিয়ে দিল। ৫ সেপ্টেম্বর সম্রাটের নির্দেশে আওরঙ্গজেব অবরোধ তুলে নিলেন।
অন্যদিকে কিলিচ খানের নেতৃত্বে বিস্তে মোতায়েন করা আরেকটি মুঘল বাহিনী পাশের অঞ্চলগুলো দখল নিয়ে কান্দাহারে মুঘল বাহিনীর কাছে খাবার পাঠাতে শুরু করে। ইতিমধ্যে বিশাল পারসিক বাহিনী কিলিচ খানের ছোট বাহিনীকে আক্রমন করলে কিলিচ খান কান্দাহারের ২৪ মাইল পশ্চিমে সাঙ্গইহিসারে পিছিয়ে আসেন। আওরঙ্গজেব রুস্তম খান দখিনির বাহিনীকে সাঙ্গইহিসারে কিলিচ খানের সাহায্যে পাঠান। রাস্তায় রুস্তমের বাহিনী ছোট একটি পারসিক বাহিনীকে পরাজিত করে বহু সেনা বন্দী করে। রুস্তম খান, কিলিচ খানের বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিলেন। ২৫ আগস্ট শাহ মীরে মুঘল আর পারসিক বাহিনীর মধ্যে প্রথম মুখোমুখি যুদ্ধ যুদ্ধ শুরু হল। পারসিক বাহিনীর ৩০ হাজার সেনা কুশকিনাখুদের (কুস্ক নদীর তীর) তীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়াল। মুরতাদা কুলি সকালে এসে তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন। খুব সকালে যুদ্ধ শুরু হল। তিন ঘন্টা ধরে তীব্র যুদ্ধ চলল। বাহিনীর অপ্রতুলতা সত্ত্বেও মুঘলেরা জোর লড়াই দিল। পারসিক বাহিনীর চাপে মুঘল বাহিনীর ডান দিকের রক্ষণটা প্রায় ভাঙে ভাঙে অবস্থা। রুস্তম খান বিপদ বুঝে ঝড়ের বেগে অকুস্থলে পৌঁছে অবস্থা সামাল দিয়ে পাল্টা মার দেওয়ার ব্যবস্থা করে পারসিকদের তাড়িয়ে দিলেন। হারা যুদ্ধ জিতে নিল মুঘলেরা। পারসিকেরা সমস্ত রসদ ফেলে পালিয়ে যায়। পরের দিন মুঘল বাহিনী কুশকিনাখুদে গিয়ে দেখে যুদ্ধের মাঠ ফাঁকা, পারসিক বাহিনী পালিয়েছে। মুঘল সম্রাট কান্দাহারের যুদ্ধ জয়ের সংবাদে আনন্দ করলেন। দরবারিদের সম্মান এবং উপহার বন্টন করলেন। (চলবে)