দক্ষিণে আওরঙ্গজেবের আর্থিক সঙ্কট
বিভিন্ন সুবার প্রশাসনিক বিভাগ সামলে মুঘল সুবাগুলোর রাজস্ব আদায় তাঁর নখদর্পণে থাকত। দক্ষিণে বদলি হওয়ার সংবাদ পাওয়ার মুহূর্তে জানতেন ভর্তুকির রাজস্বে চলা দক্ষিণে সুবাদার হিসেবে তাঁর আর তাঁর পরিবারের রোজগার কমবে অন্তত ১৭ লক্ষ টাকা।
১৬৫৪-এর মে মাসে দক্ষিণে পৌঁছে তিনি দেখলেন মুঘল প্রশাসনের অব্যবস্থা চূড়ান্তরূপ নিয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাঁর প্রথম কাজ হল প্রশাসন সংস্কার। দক্ষিণে আওরঙ্গজেবের প্রশাসনিক সংস্কার আলোচনা করার আগে তাঁর আর্থিক সংকট আলোচনা করা দরকার। তাঁর আগের সুবাদারেরা প্রায় প্রত্যেকেই চাকরির দায় পূরণ করেছেন। তাঁরা খুব একটা স্থানীয় অঞ্চলের বিকাশের কাজে মাথা লাগান নি। উদ্যমহীন মুঘল সুবাদারেরা দক্ষিণের বিপুল ভৌগোলিক এলাক থেকে ধার্য রাজস্বের একাংশই উদ্ধার করতে পারতেন। চারটে সুবা অঞ্চল থেকে মুঘলদের রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা ছিল বছরে ৩ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা। কিন্তু ১৯৫২-র হিসেবে বাস্তবিক আদায় হত ৩০%, এক কোটির কাছাকাছি। ফলে দক্ষিণের গোটা সুবাই ভর্তুকিতে চালাতে হত। জায়গিরদাররাও তাদের জায়গির থেকে প্রয়োজনীয় বেতন জোগাড় করতে পারত না। এর মধ্যে শুধুই আওরঙ্গজেব আর তার পুত্রদের জন্যে বরাদ্দ জায়গিরের পরিমান ছিল ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। বাকি টাকা প্রশাসন চালানো সহ বিভিন্ন আমলার জন্যে বরাদ্দ হত। মনসবদারেরা সুবাদারের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলত, তাদের যদি রোজগেরে জায়গির দেওয়া না হয়, তাহলে তাদের পক্ষে প্রয়োজনীয় সেনা বজায় রাখা সম্ভব হবে না। দৌলতাবাদের রিজার্ভ ফান্ড থেকে তাদের খরচাপত্র ভর্তুকি দিয়ে চালানো হয়েছে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে ক্রমাগত রিজার্ভ ফান্ডের পরিমান কমছে।
আওরঙ্গজেব দক্ষিণে পৌঁছে সমস্যার গুরুত্ব এবং স্পর্শকাতরতার বিষয়টা বুঝতে চেষ্টা করলেন। মুঘল সুবার সীমান্ত এলাকায় যে সব রাজত্ব আছে সেগুলি মুঘল সাম্রাজ্যের বন্ধু ছিল না। ফলে যুদ্ধের আশংকা মাথায় রেখেই খাজাঞ্চিখানার সঞ্চয়ে বেশ কিছু পরিমান অর্থ জমিয়ে রাখা জরুরি ছিল — যাতে যুদ্ধের আপদ হঠাৎ উপস্থিত হলে সেই রিজার্ভ ফান্ড থেকে খরচ করা যায়। যেসব জায়গিরদার ভর্তুকিতে জায়গির চালাচ্ছিলেন, আওরঙ্গজেব তাঁদের জায়গির কেড়ে খালিসা শরিফা, কেন্দ্রীয় রাজস্ব দপ্তরের অন্তর্ভূক্ত করলেন। তাঁর এই উদ্যমে আরও একটা সমস্যা তৈরি করল। বহু মনসবদারকে জায়গির বিহীন হয়ে কাটাতে হচ্ছিল। সুবাদার বুঝলেন অধিকাংশ সেনাপতি স্বাভাবিকভাবে জায়গিরবিহীন হয়ে দক্ষিণে থাকতে চাইবেন না, ফলে শাহী সেনাবাহিনীর ক্ষমতা কমবে। আওরঙ্গজেবের পক্ষে সে অবস্থাও মেনে নেওয়া সমস্যার। তাই সুবাদার দরবারকে পরামর্শ দিলেন, দক্ষিণে যাদের জায়গিরের জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাদের যে ক্ষতি হল, সেই ক্ষতি পুরিয়ে দেওয়া হোক তাদের অন্যান্য এলাকায় জমি দিয়ে। একই সঙ্গে তাঁরও যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছিল সেই ক্ষতি পূরণের জন্যে সুরাট বা মালওয়া অঞ্চলে আলাদা করে তাঁকেও কিছু জমি বরাদ্দ করার প্রস্তাব দিলেন। তিনি শাহজাহানকে জানালেন, এর আগে মুলতানের সুবাদারিতে তিনি নিজের জায়গির থেকে যে রাজস্ব আদায় করতেন, সে তুলনায় দক্ষিণে ১৭ লক্ষ টাকা কম রাজস্ব আদায় হচ্ছে। এমতাবস্থায় তার পক্ষে খরচ সামলানো মুশকিল। সম্রাট, আওরঙ্গজেবের জায়গিরের জমি, অন্যান্য জায়গিরদারদের সঙ্গে বদল করতে বললেন। আওরঙ্গজেব উদ্যমী মনসবদারদের জমি বাদ দিয়ে অকেজো, অকম্মা মনসবদারের ভাল জমি নিজের খারাপ জমির সঙ্গে বদল করলেন। জমি বদল হওয়া জায়গিরদারেরা সম্রাটকে তাদের ক্ষোভের বিষয় নিয়ে অভিযোগ করলে তিনি তাদের অভিযোগে কান দিলেন না।
মালওয়া বা সুরাটের তহবিল থেকে তার নগদ মাইনের অংশ দেওয়ার আওরঙ্গজেবের দ্বিতীয় অনুরোধ সম্রাট রাখলেন না। আওরঙ্গজেব প্রথমে মালওয়া আর সুরাটের জায়গিরিদারি আলাদা করে চেয়েছিলেন। সম্রাট রাজি হলেন না। তাকে এলিচপুর আর আঙ্কোট দুটো এলাকা নেওয়ার প্রস্তাব দিলেন। আওরঙ্গজেব ভর্তুকিতে চলা মহাল নিতে অস্বীকার করে, খাজাঞ্চি থেকে নগদ অর্থ চাইলেন। ততদিনে সম্রাট দারার প্রভাবে আওরঙ্গজেবের প্রায় প্রতিটি প্রস্তাবে কঠিন শর্ত আরোপ করতে শুরু করেছেন। আওরঙ্গজেবের পাঠানো হিসেবপত্রে শাহজাহান অনাবশ্যক ফ্যাকড়া তুলতেন, খোলা দরবারে আওরঙ্গজেবের নামে বিদ্রুপ ছুঁড়ে দিতেন। পাল্টা আওরঙ্গজেব নান্দুরবার পরগণা চেয়ে নান্দুরবারের জমা হাসিলের হিসেব সম্রাটকে জমা দিলেন। সম্রাট না পড়েই বললেন এই হিসেবে ভুল, তিনি মানেন না। আওরঙ্গজেব সম্রাটকে বিনীতভাবে জানালেন ‘হিসেবটা সম্রাটের দেওয়ানি দপ্তরের [দেওয়ানিয়ান] থেকে নেওয়া, আমি ইচ্ছে করে ভুল তথ্য জমা দিই নি। এতে যদি কোনও ভুল থেকে থাকে, তাহলে সেওই ভুলটা আপনার রাজস্ব দপ্তরের’। চিঠির শেষে তিনি লিখলেন ‘এর আগে পরগনাটা ভাই মুরাদ বখশকে দেওয়া হয়েছিল ৬ লাখ দামের বিনিময়ে। এই দাসকে যদি সেই মূল্যে পরগণাটা বরাদ্দ করেন, তাহলে সে আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবে’।
দৌলতাবাদ থেকে সম্রাটকে পাঠানো আওরঙ্গজেবের চিঠিগুলোতে জায়গির, বেতন আর দক্ষিণ সুবার রাজস্ব সংস্কার নিয়ে তার উদ্যোগের প্রায় প্রত্যেকটা প্রস্তাব দিল্লির দরবারে পাঠিয়েছে। প্রায় প্রতিটা তুচ্ছ থেকে তুচ্ছতম ইস্যুতে সম্রাট সে সবের বিরোধিতা করেছেন। কখনও কখনও তাকে অযৌক্তিকভাবে তিরষ্কারও করেছেন। সম্রাট আসির পরগণা নিয়ে একটি সমীক্ষা হাতে পান। কোনও তদন্ত না করেই তিনি আওরঙ্গজেবকে কদর্য ভাষায় চিঠি লিখলেন, ‘মুলতাফিত খান দরবারে যে বক্তব্য পাঠিয়েছে… তার থেকে পরিষ্কার তুমি এই পরগণা থেকে ৪০ লক্ষ দাম উসুল করেছ… সব থেকে উর্বর পরগণা নিজের তাঁবেতে রেখে কম আয়ের জায়গিরগুলো অন্যান্য মনসবদারদের দেওয়া স্রেফ অবিচার এবং ভাল মুসলমানের লক্ষ্মণ নয়। তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি, নগদ অর্থের বদলে তুমি ২০ লক্ষ দামের কম উর্বর জমি নেবে… যাতে তোমার বার্ষিক আয় ৬০ লক্ষ হয়’। আওরঙ্গজেব উষ্মার স্বরে জানালেন, ‘মহামহিমের উদ্ভাসিত মননের জানতে নিশ্চই বাকি নেই, তাঁর এই দাস যেদিন থেকে দক্ষিণের সুবায় নিযুক্ত হয়েছেন, সেদিন থেকে সচেতনভাবে সে কোনও দিন নিজেকে অমুসলমানি চরিত্রের কোনও কাজে নিযুক্ত করে নি। মুসলমানি চরিত্র যে কোনও মানুষের পথপ্রদর্শকের কাজ করে… ৪০ লক্ষ দামের মধ্যে ৩২ লক্ষ দাম আসে বাহাদুরপুরার জমি থেকে… যে জন্য আমায় আপনি খুব কঠিনভাবে তিরষ্কার করেছেন… কিন্তু আমার এই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে আপনার দরবারের প্রধান রাজস্ব আমলা সেই জমিটি শায়েস্তা খানের থেকে (সেই পরিমান রাজস্বে) আমায় হস্তান্তর করেন। অবাক কথা, রাজস্ব দপ্তরের আমলারা বিশেষ করে অটুট স্মৃতিশক্তির অধিকারী প্রধানমন্ত্রী (দস্তুর-ই-আজম) স্বয়ং এবং তার নিজের দপ্তর এই জমিটি আমার নামে হস্তান্তর করেছেন, সেই বিষয়টি তিনি, আপনাকে সমীক্ষা জমা দেওয়ার সময় কেন জানান নি, সেটি আমার বোধগম্য হল না… হয়ত তাদের পক্ষে আপনার সামনে এই সব কর্মকাণ্ডের সত্য তথ্য উপস্থাপন করার সাহস নেই… না হলে এই ধরণের সাধারণ তথ্য ভুলে যাওয়ার কোনও কারন নেই বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি মনে করি অতীতে যে ধরণের মহান পরম্পরা তৈরি হয়েছিল, তার থেকে সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে, ঠিকঠাক তদন্ত না করেই নানান ধরণের অনৃত তথ্য আপনার দরবারের কাউন্সিলের সামনে উপস্থিত করা হচ্ছে। আপনি আমার মুসলমানিত্বর অভাব নিয়ে যে অভিযোগ করেছেন, সেই মুসলমানিত্বই আমার সর্ব সুখের আধার, সেটাই আপনার সত্যকথক জিহ্বায় আশ্রয় নেওয়া জরুরি ছিল, অথচ এইসব ছোটখাটো জাগতিক ব্যাপারে আপনি যেভাবে আমায় আঘাত করেছেন, তাতে আমি অসহায় হয়ে পড়ছি’।
আওরঙ্গজেবের সঙ্গে শাহজাহানের সম্পর্ক কোন অবিশ্বাসের পর্যায়ে নেমেছিল, ওপরের চিঠিটি তার প্রকাশ্য প্রমান। আওরঙ্গজেব নিজে খাটিয়ে যুবা, আমলাদের ওপর নির্ভর না করে নানান প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান নিজেই করতেন। আশ্চর্যের কথা, সাম্রাজ্যের স্বার্থ রক্ষার কাজগুলোয় সম্রাট যেভাবে তাকে তীব্র তিরষ্কার করেছেন, সেসব তিনি বিনা প্রতিবাদে মেনে নেন নি, যুক্তি দিয়ে, নম্র ভাষায় প্রতিটা অবিচারের উত্তর দিয়েছেন, চোখে আঙুল দিয়ে সমস্যার শেকড় দেখিয়েছেন। ফলে প্রতিটা ইস্যুতে সম্রাট এবং শাহজাদা ভিন্নমত হয়েছেন। তাঁর প্রতিটা কাজে বাধা সৃষ্টি করা সত্ত্বেও তিনি চূড়ান্ত পেশাদারিত্বে প্রশাসনিক সংস্কারের নানান বিষয় নিজের দায় হিসেবে গণ্য করে নিজেই সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন।
দক্ষিণের সুবাদারির শুরুর সময় থেকেই আওরঙ্গজেব চিঠিপত্রে অনেক বেশি এগ্রেসিভ হচ্ছেন, মুঘল সাম্রাজ্যের ক্ষমতা কেন্দ্রে কোণঠাসা হয়েও অনেক বেশি নিজেকে আবিষ্কার করার পথে এগোচ্ছেন। তিনি থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার থেকে মাঝে মাঝেই ফার্স্ট পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বারে নিজেকে সম্বোধিত করছেন। মুলতান বা কান্দাহার থেকে লেখা চিঠিতে আওরঙ্গজেবকে পাল্টা যুক্তি প্রয়োগ করে নিজের যুক্তির অবস্থানকে জোরদার করার প্রয়াস প্রায় দেখি না, যে অবস্থানটা ক্রমশ দেখব দক্ষিণের সুবাদারিত্বের দায়িত্ব পাওয়ার পর। যথেষ্ট পারম্পরিক সাম্মানিক ভাষা প্রয়োগ করেও তিনি মনের ইচ্ছে প্রকাশ করতে বিন্দুমমাত্র পিছু পা হচ্ছেন না। আদাব-ই-আলমগিরির অনুবাদক সম্পাদক ৪৭ নম্বর চিঠিকে বলবেন, this important letter is breathtaking in its brevity যেখানে তিনি সম্রাটকে মুরাদের সঙ্গে বৈঠকের সংবাদ দেবেন আর মনসবদারদের বদলির প্রস্তাব দেবেন, যা এর আগে অভাবনীয় ছিল — শুধু আওরঙ্গজেবের ক্ষেত্রেই নয় সামগ্রিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্য থাকবন্দীতেও।
দক্ষিণে আওরঙ্গজেবের রাজস্ব সংস্কার
দক্ষিণের প্রশাসনে ডামাডোলের পরিবেশ নিয়ে শাহেনশাহ শাহজাহান বহুকাল ধরেই উদ্বিগ্ন ছিলেন। আওরঙ্গজেবেকে সুবায় সুবাদার নিযুক্ত করে তিনি দক্ষিণ সমস্যার স্বরূপটি এবং জরুরি মনোযোগ দিয়ে সেটি সমাধান করার উদ্যোগ নিতে তাঁকে নিয়োজিত করেন। বিশেষ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজস্ব আদায় নিয়ে চাষীদের ওপরে যে চাপ তৈরি করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি তাঁকে মনোযোগ দিতে বললেন। আওরঙ্গজেব জানান তিনি সেই কাজ নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন, কিন্তু তার বদলে তিনি সম্রাটকে বেশ কিছু সুযোগ সুবিধে দেওয়ারও আর্জি জানান। তিনি দক্ষিণের সমস্যা সমাধানে দীর্ঘকাল থাকতে চাইলেন, আর নিজের অর্থ কষ্টের সমাধান প্রার্থনা করা ছাড়াও দক্ষিণের সমস্যা সমাধানে গুণমানে অটুট চরিত্রের উৎকৃষ্ট আমলাও চাইলেন — যারা সংস্কার বিষয়ে নেওয়া তাঁর সিদ্ধান্তগুলো দক্ষিণের মাটিতে প্রয়োগ করতে পারবেন। দক্ষিণে প্রশাসনিক সংস্কারের কাজ শুরু করতে সম্রাট এতই উদ্বিগ্ন ছিলেন যে আওরঙ্গজেব বুরহানপুরে পৌঁছবার তিন মাসের মধ্যেই, তাকে পনঘটের কাজ সমাধান করে অবিলম্বে দৌলতাবাদে যাওয়ার নির্দেশ পাঠালেন। আওরঙ্গজেব বুরহানপুরে পৌঁছে বাবাকে চিঠি লিখে বলেছিলেন দশ বছরে প্রশাসনে যে ক্লেদ জন্মেছে, সেটি এক তুড়িতে সমাধান সম্ভব নয়। এই কাজ তাড়াহুড়োর নয়। নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। চিঠিগুলোর ভাষা আর যুক্তিজাল থেকে পরিষ্কার হয় যে, দক্ষিণের ভূমি রাজস্ব সংস্কারের কাজে আওরঙ্গজেবের উদ্যম সম্রাটকে খুশি করে নি। শাহজাহানকে একটি চিঠিতে আওরঙ্গজেব জানালেন ‘পরগণাগুলোর প্রশাসনিক কাজকর্ম দেখাশোনা করা রাজস্ব দফতরের আমলাদের দায়িত্ব। তাদের ক্ষমতা অনুযায়ী তাদের কাজকর্মে গাফিলতি আমি দেখি নি। তাহলে এই কম সময়ে আপনার চেলা কী করল? এই দক্ষিণের উপত্যকায় এসে কী কী কাজ করছি, সেই উচ্চাশামূলক অহংকারী বক্তব্য পেশ করার মানুষ আমি নই। একই সঙ্গে আপনাকে জানাই দক্ষিণ সুবায় অতীতে আমলারা যে ধরণের কাজের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন সেটাও আমি পছন্দ করি নি। আমি মনে করি সম্রাটের প্রতিটা নির্দেশ তৃণমূলস্তরে প্রতিটা মানুষের ভালর জন্যে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা আমার বাধ্যতামূলক কাজগুলির মধ্যে পড়ে, আমার পূর্বসূরীরা কী করে সম্রাটের সেই সব নির্দেশ উল্লঙ্ঘন করতে পারল? দুর্ভাগ্যক্রমে এই অঞ্চলে সংস্কার এবং পুনর্বাসনের কাজ যেভাবে প্রযুক্ত হওয়ার দরকার ছিল, সেটি এই দশ বছরে নানান কারনে প্রযুক্ত হয় নি, এবং এই কাজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে তীব্র অবহেলিত হয়ে এসেছে… সেই সংস্কারের কাজে যদি আমি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োগ করতে পারি… ইনশাল্লা নির্দিষ্ট সময়ে এই অঞ্চলের সমৃদ্ধি আবার নতুন করে ফিরে আসবে’। (চলবে)