গোলকুণ্ডা এবং বিজাপুরের সঙ্গে দ্বন্দ্ব
দক্ষিণের সুবাদারির দায়িত্ব নিয়ে ভূমি, রাজস্ব, অর্থ আর সেনা সংস্কারের মন দেওয়ার মাঝে দুই গুরুত্বপূর্ণ শক্তিশালী এবং সম্পদশালী রাজত্ব গোলকুণ্ডা এবং বিজাপুরের সঙ্গে মুঘলদের কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা দ্বন্দ্ব নিরসনে মন দিলেন আওরঙ্গজেরব। সেই কাজে আওরঙ্গজেব মুঘল দরবারের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর সঙ্গে আরও গভীর বিতর্কে জড়িয়ে পড়বেন এবং এই দ্বন্দ্বের ফলেৈউঠে আসবে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা। এবং মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে আওরঙ্গজেবের দ্বিতীয় দফার দক্ষিণের সুবাদারিত্বের সমইয়ে, মুঘল দরবারের পক্ষ থেকে এত খারাপ কূটনীতির নিদর্শন এর আগের আমলে দেখা যায় নি। কেন এত কঠিন মন্তব্য করলাম, সেটা ক্রমশঃ প্রকাশ্য।
গোলকুণ্ডা
গোলকুণ্ডা দক্ষিণের উর্বর এবং চাষ সমৃদ্ধ দেশ। এই অঞ্চলের জনগণ খাটিয়ে এবং উদ্যমী। রাজধানী হায়দারাবাদ। সে যুগে বিশ্ব হীরে ব্যবসার কেন্দ্রস্থল। বিশ্বজোড়া হিরে এবং রত্ন ব্যবসায়ী গোলকুণ্ডায় কুঠিও তৈরি করেছিল। বিশ্বজোড়া প্রতিটি বিখ্যাত হিরে জহরত ব্যবসায়ীরই গন্তব্য ছিল গোলকুণ্ডা রাজ্য। নির্মল এবং ইন্দুরে লোহা-ইস্পাত শিল্প বিশ্ব বিখ্যাত দামাস্কাস তরোয়ালের কাঁচামাল সরবরাহ করত। স্থানীয় কারিগরদের তৈরি ছুরি, তরোয়াল, বর্শা আর অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্রের দেশ জোড়া চাহিদা ছিল। মছলিপত্তনমের কাপড়ের সুনাম বুরহানপুর আর দিল্লি পর্যন্ত ছড়িয়েছিল। এই অঞ্চলের চিন্টজের তুলনা ছিল না। এল্লোরের গালিচার চাহিদাও কম ছিল না। ভুট্টা, তামাক, মাছ, বিশাল বৈচিত্রের কারিগরি, সোনা আর হীরের খনির সুনাম বিদেশের বণিকেরাও করত। মছলিপট্টনম থেকে ব্যবসায়ী জাহাজ শ্যাম দেশ, বাংলা, কোচিন চিন, ম্যানিলা, মাদাগাস্কার আর পেগু অবদি যেত। এই অঞ্চলের হাতির গুণমান বাংলার হাতির সঙ্গে টক্কর দিতে পারত। হাতির দাঁতের কাজের গুণমানেও কারিগরদের দক্ষতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়। নানান বৈচিত্রের ফল এবং ফলজাত মদ্য ছিল এই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন এবং রপ্তানি।
দক্ষিণজুড়ে মুঘল রাজত্ব বিস্তৃতির ইতিহাসে দুই রাজ্যের সামনে সমস্যা তৈরি করে। দুটি শক্তিশালী রাজ্য গোলকুণ্ডা এবং বিজাপুর দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস পেরিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের সঙ্গে ১৬৩৬-এ একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। কিছু কালের জন্যে দক্ষিণে শান্তি ফিরে আসে। কিন্তু দক্ষিণে ক্রমশ মুঘল নিয়ন্ত্রণ কমতে শুরু করলে, দক্ষিণী সুলতানেরা শান্তিচুক্তির ধারাগুলো অমান্য করতে শুরু করে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সমস্যা দেখা দেয়। সুযোগ পেলেই আক্রান্ত দুই রাষ্ট্র মুঘল বাহিনীর আগ্রাসন এবং অনুসৃত নীতির বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়। আওরঙ্গজেবের আগের সময়ে দক্ষিণে চাকরিতে আসা সুবাদারেরা সুলতানদের সঙ্গে টক্কর দেওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার প্রমান রেখেছে। রাজনৈতিক প্রশাসনিক চাপ ক্রমশঃ ঢিলে হতে থাকায় সুলতানেরা এক সময়ে মুঘল দরবারে, ১৬৩৬-এর চুক্তি অনুযায়ী পেশকাশের কিস্তি জমা দেওয়া বন্ধ করে দিলেন। অন্যান্য শর্তগুলোও যতটা পারা যায় অমান্য করতে থাকলেন। আওরঙ্গজেবের দক্ষিণে দ্বিতীয়বার আসার ঠিক আগে এমন একটা অবস্থা তৈরি হল, গোলকুণ্ডা এবং বিজাপুর যে কখনও মুঘল সাম্রাজ্যের রাজস্বদায়ী রাজত্ব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল, দক্ষিণের দুই রাজ্যের ক্ষমতাশালীরা সেটা ভুলতে বসলেন।
আওরঙ্গজেব সুবাদার হওয়ার পরে অবস্থা বুঝলেন। তার প্রথম কাজ হল সুলতানদের চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য করানো। বুরহানপুরে পৌঁছে তিনি জাফর খান এবং আবদুল লতিফকে মুঘল সাম্রাজ্যের মাননীয় দূত হিসেবে মনোনীত করে বিজাপুর আর গোলকুণ্ডায় পাঠালেন। এর পাশাপাশি তিনি বাদশাহের কাছেও দক্ষিণী দুই রাজ্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে আরও উদ্যমী হতে আর্জি পেশ করলেন। তিনি সম্রাটকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করলেন, অবিলম্বে দক্ষিণের দুই রাজ্যের প্রতি নির্দেশনামা জারি করে তাদের শান্তি চুক্তি পালন করতে নির্দেশ দেন। তাছাড়া ভবিষ্যতে সুলতানেরা দিল্লির দরবারের সঙ্গে যে কোনও বিষয়ে আলাপ করতে চাইলে একমাত্র দক্ষিণের সুবাদার শাহজাদা আওরঙ্গজেব মার্ফতই কথা বলতে হবে এই ধরণের নির্দেশনামা জারি করারও অনুরোধ করেন। শাহজাহান আওরঙ্গজেবের এই প্রস্তাব মানেন নি — কেন মানেন নি এ তথ্য আমাদের কাছে পরিষ্কার। দারার হয়ত মনে হয়েছিল, তিনি দক্ষিণের রাজত্বগুলোকে ছাড় দিয়ে, তাদের ওপরে যে কর্তৃত্ব স্থাপন করেছিলেন, সেটা ভেঙে পড়বে। অথচ মুঘল সাম্রাজ্যের স্বার্থেই এই পদ্ধতিতে দক্ষিণী রাজ্যগুলোর সঙ্গে উত্তরের মুঘল ক্ষমতার সম্পর্ক ঢেলে সাজানো জরুরি ছিল। আওরঙ্গজেব বার বার এ বিষয়ে সম্রাট শাহজাহানকে বোঝাতে চেষ্টা করলেও তিনি তাঁর দক্ষিণের সুবাদারের আর্জিতে কান দেন নি। ফলে দিল্লির দরবারে দুই সুলতানের উকিল, দারাকে প্রভাবিত করে দুই দক্ষিণ রাজত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে আওরঙ্গজেবের প্রায় প্রতিটা সংস্কার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
গোলকুণ্ডার বকেয়া
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গোলকুণ্ডার সুলতানের প্রতি বছর দিল্লিতে ২ লক্ষ হুন পেশকাশ হিসেবে পাঠাবার জন্যে প্রতিশ্রুত ছিল। ধণের প্রাচুর্য সত্ত্বেও, গোলকুণ্ডার সুলতান দিল্লিতে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ পেশকাশ পাঠান নি। ফলে বিপুল পরিমান অর্থ বকেয়া হয়ে রয়েছে। আওরঙ্গজেব, সুলতান কুতুব শাহকে জানালেন বকেয়া ৮ লক্ষ পেশকাশের মধ্যে সম্রাট সুলতানকে অর্ধেক অঙ্ক নগদ, অর্ধেক অঙ্ক হাতি মাধ্যমে শোধ করার অনুমতি দিয়েছেন। তাছাড়া ১৬৩৬এর চুক্তিতে হুনের মূল্যমান ছিল ৪ টাকা, সেটা ১৬৫৪য় বেড়ে হয়েছে ৫টাকা। ফলে এখন তাঁকে মোট ২০ লক্ষ টাকা শোধ করতে হবে। অথচ সুলতান পুরোনো মূল্যমানেই বকেয়া শোধ করছেন। সমস্যা হল বার বার তাগাদা সত্ত্বেও সুলতান আওরঙ্গজেবের দাবিতে কান দেন না।
সুলতানের বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগ ছিল কর্ণাটক আগ্রাসনের। কৃষ্ণা নদীর তীরের দক্ষিণ থেকে তাঞ্জোর পর্যন্ত এলাকা প্রাচীন বিজয়নগর রাজ্যর ধ্বংসাবশেষ থেকে সৃষ্ট বেশ কিছু হিন্দু রাজ্যের উত্থান হয়। দুই সুলতানই এই অঞ্চলে বার বার অভিযান চালিয়ে জমি দখল নিয়েছেন। সে সময় বিজাপুর আর গোলকুণ্ডার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল কারা আগে চন্দ্রাগিরি গ্রাস করতে পারে। চন্দ্রাগিরির প্রধান শ্রীরঙ্গা রয়াল দূত শ্রীনিবাসকে আওরঙ্গজেবের দরবারে পাঠিয়ে অনুরোধ করলেন, ‘সম্রাট আমায় মাটির ধুলোর অসম্মান থেকে তুলে নিন, আর আমার রাজ্যকে সংরক্ষিত রাজ্য হিসেবে মুঘল সাম্রাজ্যে অন্তর্ভূক্ত করার ব্যবস্থা করুন’। আওরঙ্গজেব দুই সুলতানকে চন্দ্রাগিরির সীমান্ত এলাকাগুলো আক্রমন করা থেকে বিরত থাকতে হুঁশিয়ারি দিলেন।
দক্ষিণের সুবাদারের মাধ্যমে শ্রীরঙ্গ রয়ালের পেশকাশ হিসেবে দিল্লির দরবারে ৫০ লক্ষ হুন, ২০টা হাতি, এছাড়াও বাৎসরিক পেশকাশ হিসেবে বিপুল পরিমাণ গয়নাপত্র, নানান বিচিত্র উপহার সম্রাটকে পাঠালেন। চিঠিতে তিনি লিখলেন এই অবিশ্বাসী ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রস্তাব পেশ করছে। শ্রীরঙ্গর চিঠি সম্রাটের দরবারে পাঠিয়ে তিনি চন্দ্রাগিরির বিষয় নিয়ে সক্রিয় হতে সম্রাটকে অনুরোধ করলেন। সম্রাট উত্তরে জানালেন, শ্রীরঙ্গ রয়াল যে সত্য বলছেন, সেটা পরীক্ষা করতে তার রাজ্যে দূত পাঠানো হোক। আওরঙ্গজেব নির্দেশ মান্য করে চন্দ্রাগিরিতে মহম্মদ মুনিমকে পাঠালেন। কিন্তু ইতিমধ্যে গোলকুণ্ডা এবং বিজাপুর চন্দ্রাগিরি আক্রমনের জন্যে সম্রাটের অনুমতি আনিয়ে নিয়েছে। সুলতানদের কাছে দামি উপহার পেয়ে শাহজাহান, নিজের আগের আদেশ ভুলে গিয়ে আওরঙ্গজেবে তিরষ্কার করলেন চন্দ্রাগিরিতে মুঘল দূত পাঠানোর জন্যে। সম্রাট লিখলেন, ‘কর্নাটকের রাজার কাছে দূর পাঠানো অবৈধ। তুমি সুলতানদের ভয় পাওয়ে দিও না। তুমি তাদের বাধ্য করে তোমার কাছে এবং দরবারে বড় অঙ্কের পেশকাশ পাঠানোর জন্যে’।
এর থেকে খারাপ কূটনীতি আর কিছুই হতে পারে না — বিশেষ করে সেই রাজত্বের কাছে, যারা তখন সারা পৃথিবীর কাছে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিকভাবে আদর্শ। কিন্তু দক্ষিণের সুবাদারের হাতপা বাঁধা। তিনি চাকুরিজীবি। তাকে সম্রাটের নির্দেশ মান্য করতেই হবে। তিনি সম্রাটকে বুঝিয়ে বললেন সুলতানদের উদ্দেশ্য খুব একটা সুবিধের নয়। তারা এর আগে কর্ণাটক আক্রমন করে বিপুল সম্পদ লুঠ করলেও, তার থেকে একটাকাও দরবারে পাঠায় নি। এই প্রেক্ষিতে রাজার পেশকাশ দেওয়ার প্রস্তাব এবং ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার ইচ্ছে কোনওটাই উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। শাহজাহান তাঁর নির্দেশকে জাস্টিফাই করতে বললেন বিজাপুরের আদিল খান তাঁকে একটা সুন্দর হাতি পাঠিয়েছেন। আওরঙ্গজেব লিখলেন বিপুল লুঠের বদলে তিনি একটা হাতি দরবারে পাঠিয়ে পার পেয়ে যাবেন? সুলতানের ভাগ্য ভাল এই রকম তুচ্ছ উপহার দিয়েও সম্রাটকে তুষ্ট করা যায় [সম্রাট আর সুবাদারের মধ্যে চিঠিপত্রে দক্ষিণের সুলতানকে বলা হচ্ছে দুনিয়া দারন ই দখিন]। যাই হোক আওরঙ্গজেব কুতুবুল মুলকে লিখলেন তিনি কোনও দরবারি শর্তই মান্য করছেন না।
এইসব গোলযোগে সুলতানের মনে হল তিনি যদি নিয়মিত দিল্লির দরবারে সম্রাটকে দারার মার্ফত তুচ্ছাতিতুচ্ছ উপহার পাঠিয়ে খুশি রাখতে পারেন, তাহলে দক্ষিণের সুবাদারের তৈরি করা চাপকে উপেক্ষাও করা যায়। তিনি মুঘলদের সঙ্গে স্বাক্ষর করা চুক্তি অমান্য করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ঠিক ছিল দুটো কিস্তি রাজস্ব দেওয়ার পরে নবীজীর সঙ্গী সাহাবাকে সম্মান দেওয়া আর সম্রাটের নাম খুতবা পড়া হবে। কিন্তু দরবারে দারাকে খুশ করে তিনি ঠিক করলেন সাহাবার নামে শাপশাপান্ত করা হবে, দরকারে পারস্যের শাহের নামে খুতবা পড়া হবে। এছাড়াও গোলকুণ্ডার সুলতান পারস্যের সুলতানের সাহায্য পেতে দৌত্য পাঠালেন (মুঘল বিরোধিতার লক্ষ্য পূরণে গোলকুণ্ডার সুলতানের একটা বড় রণনীতি ছিলর পারস্যের শিয়া সাম্রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলা। এটা তাদের বহুকালের রণনীতি। আর পাল্টা রাজনীতি হিসেবে, পারস্যের শাহ ভারতবর্ষে মুঘল বিরোধী কাজে দক্ষিণের শিয়া শাসকদের মুঘল বিরোধিতাকে অবলম্বন করতেন। বলখ আর কান্দাহার দখল রাখা নিয়ে সাফাভি আর মুঘল সাম্রাজ্যের মধ্যে তীব্র বিবাদ তৈরি হয়েছিল। শিয়াদের একাংশ নবীজীর (সাঃ) তিন সহকারী, প্রথম তিন খলিফার বিরুদ্ধে কুৎসা করত। এই প্রবণতা পারসিক সুলতানেরা উৎসাহ দিতেন। সাফাভি সুলতানদের এই ঘৃণ্য পরম্পরা দক্ষিণী শিয়া সুলতানেরাও অনুসরণ করত। শাহজাহানের নির্দেশে এবং বিশেষ করে আওরঙ্গজেবের উদ্যোগে এই প্রথাটি বন্ধ হয়। মুঘলদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পারসিক সুলতানেরা, দক্ষিণী সুলতানদের নির্দেশ দেন যাতে তারা মুঘলদের বিরুদ্ধে সব রকম প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে। আওরঙ্গজেব যখন সিংহাসনের যুদ্ধে রত তখন পারস্যের রাজা আদিল শাহ এবং কুতুবুলমুলককে প্ররোচিত করেন অবস্থার সুযোগ নেওয়ার জন্যে। তিনি দারাকে পারস্যে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে বাহিনী দিয়ে সাহায্য করারও ইচ্ছে প্রকাশ করেন। একই সময় তিনি আওরঙ্গজেবকে চিঠি লিখে তার শত্রু দমনে উৎসাহিত করেছেন)। এতদিন মুঘল আর দক্ষিণী সুলতানদের মধ্যে কূটনৈতিক নানান ঘটনা পর্দার আড়ালে অভিনীত হচ্ছিল। হঠাৎ এমন এক মানুষের হঠাৎ আবির্ভাব ঘটল যার জন্যে দুপক্ষ অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বাধ্য হয়। (চলবে)