| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ইফতিতাইসুলতানিওয়াশুল-ই-কুল : আকবর এবং আওরঙ্গজেব (১১১ নং কিস্তি) : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৩৭১ জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০২২

শাহ সুজা সিংহাসনের দাবিতে দিল্লিমুখী

শাহজাহানের অসুস্থতার সময় শাহ সুজা সিংহাসনের দাবি জানিয়ে উপাধি নিয়েছিলেন আবুল ফিরোজ নাসিরুদ্দিন মহম্মদ তৃতীয় তৈমুর, দ্বিতীয় আলেকজান্ডার, শাহ সুজা বাহাদুর গাজি। রাজমহলের মসজিদে খুতবা পড়িয়েছেন, মুদ্রা জারি করেছেন। সম্রাটত্বের পথে শুধু বাকি ছিল তিন ভাইকে পরাজিত করে জ্যান্ত শূলে চড়ানো। বাংলার রাজধানী রাজমহলে কাটিয়েছেন টানা ১৭ বছর। বাংলার অভ্যেস আনুকরণে রাতে মশারি টাঙ্গিয়ে শুয়েছেন। ভাইদের মধ্যে যথেষ্ট যোগ্য, কিন্তু আওরঙ্গজেবের সমকক্ষ কী?

শাহজাহানের অসুস্থতার সংবাদে শাহ সুজা সব ভায়ের আগেই সক্রিয় হলেন। রাজমহল থেকে রওনা হলেন বড়সড় বাহিনী নিয়ে। সঙ্গে নাওয়ারা আর গোলান্দাজ বাহিনীর সহায়তা। বিহার পেরিয়ে ২৪ জানুয়ারি ১৬৫৮-য় বেনারস পৌঁছলেন। সুজার অগ্রগমনের সংবাদে দরার ছেলে শাহজাদা সুলেইমান শুকো ২০,০০০ ঘোড়সওয়ার, ২,০০০ পদাতিক-বন্দুকচি, বর্ম ঢাকা ২০০ বরকন্দাজ সেনা, হাতি বাহিনী নিয়ে শাহ সুজার মুখোমুখি হতে এগোলেন। অভিজ্ঞ সেনাপতি হিসেবে ছিলেন মির্জা রাজা জয় সিংহ, যুদ্ধাভিজ্ঞ আফগান রুহেলা সেনাপতি দিলির খান রুহেলা। ২৫ জানুয়ারি সুজা আর শাহী বাহিনী মুখোমুখি হল বেনারসের ৫ মাইল দূরে বাহাদুরপুরে।

গঙ্গায় সুজা নৌকো বহর সাজালেন। সুলেইমানের শাহী বাহিনীর তিন মাইল দূরে শিবির ফেলেছে বিদ্রোহী দল। বেশকয়েকদিন ধরে দু’পক্ষের মধ্যে হাল্কা গোলান্দাজি চলছে, ছোটখাটো হাতাহাতি লড়াইও চলছে – বোঝা যাচ্ছে শাহী বাহিনী বাংলা সুবাদারের বাহিনীকে টেনে এনে যুদ্ধক্ষেত্রে নামাতে চাইছে; কিন্তু বাংলা সেনা কেন জানা যায় না শাহী বাহিনীকে প্রথমে আক্রমন করতে চাইছে না। শাহী বাহিনীর জোর এতটা ছিল না যে তারা সরাসরি সুজার বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পারে। সুলেইমান বিপক্ষকে কয়েক দিন দেখ বুঝল তাদের রক্ষণ খুবই ঢিলেঢালা। একদিন টহল দিয়ে বোঝা গেল মাঝরাতে তাদের সুরক্ষা বহর থাকেই না বললেই চলে। সেই অনুযায়ী বিপক্ষকে আক্রমণের রণনীতি সাজালেন সুলেইমান।

১৪ ফেব্রুয়ারি রাত থাকতেই সুলেইমান শাহী শিবির তুলে নিয়ে যাওয়ার ভান করে সুজার শিবিরে সম্পূর্ণ বাহিনীর শক্তি সংহত করে ঝাঁপিয়ে পড়ল। বাংলার সিপাহিরা ঘুম ভেঙে চোখ কচলে দেখল, তারা আক্রান্ত। ধড়াচূড়া পরার সুযোগ নেই। বিপুল পরিমাণ সেনা তাঁবুর কাপড় তুলে শিবিরের পিছন দিয়ে পালিয়ে গেল। সুজার মশারির মধ্যে ঘুমোনো অভ্যেস। গোলযোগ শুনে মশারি থেকে বেরিয়ে দৌড়ে হাতির ওপর উঠে দেখে আক্রান্ত হয়েই সেনানায়কেরা পিট্টান দিয়েছেন। একমাত্র মীর ইসফান্দার মামুরি আর সৈয়দ ইসমাইল বুঝারির অনুগামীরা বিপক্ষের সেনার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তার হাতি ঘিরে কয়েক হাজার বিপক্ষ সেনা জড়ো হয়েছে আক্রমণের উদ্দেশ্যে। একজন হাতির পায়ে তরোয়ালের — কিছুই হল না — কিন্তু সুজা বুঝলেন তার বেশিক্ষণ অঞ্চলে থাকা নিরাপদ নয়। পালাবার একটাই রাস্তা খোলা নদীতীর ধরে সাজিয়ে রাখা কামান। বাংলার লড়ুয়ে সেনারা দেওয়াল তৈরি করে সুজাকে পালাবার সুযোগ করে দিল। নদীর তীরে হাতি নিয়ে পৌঁছে ঘাটে বাঁধা নৌকোতে উঠে পালালেন। বাংলা নবাবের বাহিনীর খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হল না ঠিকই কিন্তু রসদ কিছুই নিতে পারল না তারা। সুজার নিজের খাজাঞ্চি থেকে লুঠ হল ৫০ লক্ষ টাকা আর মালপত্র; সুজার প্রধানমন্ত্রী মির্জা হান বেগের খাজাঞ্চিতে ছিল ৬ লক্ষ টাকা। হাতি ঘোড়া যে কত দখল হল তার লেখাজোখা নেই। ঐতিহাসিকেরা বলছেন মোট লুঠ ২ কোটি টাকার কম নয়।

তো সুজা যে দিন দিয়ে এসেছিলেন, সে দিকেই পালালেন। সাসারাম, পাটনা হয়ে রাজমহলের দিকে বাংলার নবাবের পলাতক সেনবাবাহিনী খুব দুর্দশায় পড়ল। লুঠ শুরু হল। সাধারণত যুদ্ধ জয়ের পরে বিজয়ী সৈন্য এলাকায় লুঠতরাজ চালায়। এখানে হারা সৈন্যদের পেয়ে জনগণ যে যেখানে পারল মনের সুখে সেনাদের সঙ্গে যা ছিল সব লুঠল। বাহিনীর ফেলে আসা শস্তা থেকে নামিদামি জিনিসে ছেয়েগেল বেনারস পাটনা রাস্তা — ছেঁড়া খোঁড়া জামাকপড় থেকে মাল বওয়া গাধা থেকে হাতি থেকে অস্ত্র থেকে কী নয়।

সুজা পাটনা পৌঁছলেন ১৯ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সুলেইমান বাংলার নবাবের শিবির লুঠ করেও তৃষ্ণা মেটে নি, সে চাচাকে ধাওয়া করল বিহারপানে। সুজা খবর পেয়ে মার্চ অবধি সুরজগড়ে থাকলেন সেখান থেকে মুঙ্গের গেলেন — পরিখা কেটে, দেওয়াল তুলে, গোলান্দাজ বসিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করলেন। সুজার নতুন রণনীতি সুলেইমানকে দাঁড় করিয়ে দিল। তিনি স্থানীয় জমিদারদের সহায়তায় মুঙ্গের আর সুরজগড়ের মাঝে শাহী শিবির সাজালেন।

৪ মে দরবার থেকে সুলেইমানের কাছে উদ্বেগজনক খবর এল। বাবা তাঁকে সুজার সঙ্গে সমঝোতা করে দিল্লি তুরন্ত আসতে নির্দেশ দিয়েছেন। দক্ষিণ আর পশ্চিম থেকে বিপদের সংকেত আসছে — পশ্চিম রণাঙ্গনে অন্য দুই ভাই মুরাদ আর আওরঙ্গজেব সক্রিয় হয়েছেন।। দুই ভাই আগরার দিকে বিশাল বাহিনী নিয়ে তেড়ে আসছেন। তাকে যত তাড়াতাড়ি হিন্দুস্তানে এসে শাহী বাহিনীকে জোরদার করতে হবে। ১৫ এপ্রিল ধারমতের যুদ্ধে শাহী বাহিনী হেরেগেছে। সুজার উজির মির্জা জান বেগ আর শাহী বাহিনীর রাজা জয় সিংহের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হল। ঠিক হল বাংলা বিহার ওডিসার মুঙ্গের পর্যন্ত সুজা নিয়ন্ত্রণ করবেন। এটি হবে তার পশ্চিম সীমান্ত। রাজধানী থাকবে রাজমহলেই। ৭ মে চুক্তি স্বাক্ষর করে সুলেইমান তড়িঘড়ি দিল্লি রওনা হল। ততদিনে আওরঙ্গজেব দারাকে সমুগড়েও হারিয়েছেন, আগরা দখল নিয়েছেন, বাবাকে আর ভাই মুরাদ বখশকে বন্দী করেছেন এবং নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করেছেন। নতুন সম্রাট ফরমান জারি করে সুজার অঞ্চলকে স্বাধীন ভৌগোলিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে, তাঁর হাতে বিহারের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিলেন।

১৬৫৮-র মে মাস থেকে সুজার ভাগ্যে গ্রহণ লেগেছিল। আওরঙ্গজেবের চিঠি আসায় সেই চাপ মুহূর্তের মধ্যে কেটে শুধু নিঃশ্বাস ফেলার সময় পেলেন না, তিনি ভাঙা সেনাদল গুছিয়ে নেওয়ারও সময় পেলেন, শাসন এলাকাও বেশ কিছুটা বাড়ল। আওরঙ্গজেবের চিঠি তাকে আপাতত স্বস্তি দিল। তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিউত্তর দিয়ে, যুদ্ধ-প্রস্তুতিতে কোমর বেঁধে লেগে পড়লেন।

পাঞ্জাব-সিন্ধু অঞ্চলে দাদা দারার পলায়ন আর পিছনে আওরঙ্গজেবের ধাওয়া করার সংবাদ সুজার ভিতরের সিংহাসনে আরোহণের খোয়াবটা নতুন করে উস্কে দিল। দিল্লিতে সিংহাসন ফাঁকা। এই সুবর্ণ সুযোগ কোন বিদ্রোহীই বা হাত ছাড়া করতে চায়। তিনি উজিরকে বললেন ‘আওরঙ্গজেব দিল্লি ছাড়া; সেখানে আমার বিরোধিতা করার মত অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ সেনানায়কও নেই। সুলতান মহম্মদকে আটকানোর তরিকা জানা আছে। আমি তাকে মাত করে পুরোনো সরকার আবার চালু করব আর বাবার অনুগত সেবক হিসেবে কাজ করব। আপনি বাহিনী তৈরি করার নির্দেশ জারি করুন’। সুলেইমান শুকোর হাতে গ্রেফতার হয়ে আগরায় চালান হয়ে, দারার পলায়নের ঝামেলায় মুক্তিলাভ করে পাটনায় পালিয়ে আসা সুজার সেনানায়ক মীর ইসফান্দার মামুরি সুজার সঙ্গে দেখা করলেন। মামুরি আর বাংলার জমিদারেরা সুজার সম্রাট হওয়ার অহং জাগিয়ে দিল্লি আক্রমণের পরিকল্পনা সাজিয়ে দিলেন। ১৬৫৮-র অক্টোবরে ২৫,০০০ অশ্বারোহী, বিশাল নাওয়ারা বাহিনী, পদাতিক সেনা সহযোগে পাটনা ছাড়ল সুজা বাহিনী। পূর্বাঞ্চলে দারার যত কেল্লা ছিল, সেগুলো সুজার হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আওরঙ্গজেব। সে সব অবলীলায় সুজার হাতে এল। সেই মুহূর্তে রোহতাস, চুনার আর বেনারসের কেল্লা আর তার সম্পদ সুজার প্রতিনিধিরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। এলাহাবাদের কেল্লাদার আত্মসমর্পণনামা দিলেন। বেনারসের যুদ্ধ ভাণ্ডারে রাখা ৩ লক্ষ টাকা সুজা নিলেন। সব ধরণের ব্যবসায়ীর থেকে টাকা তোলা হল। ২৩ ডিসেম্বর এলাহাবাদে পৌঁছলেন তিনি। খান-ই-দৌরানের বাহিনী দারার মুখ দেখে কদমবুসি করল।

এলাহাবাদ ছাড়িয়ে ৩০ ডিসেম্বর খাজওয়া পৌঁছে আওরঙ্গজেবের বড় ছেলে মহম্মদ সুলতানের মুখোমুখি হলেন সুজা। তিন দিন পরে পাঞ্জাব থেকে দৌড়ে বাহিনী নিয়ে খাজওয়া পৌঁছলেন আওরঙ্গজেব, দক্ষিণ থেকে সেই মুহূর্তে এসে পৌঁছলেন মীর জুমলা। জীবনের সব থেকে বড় এবং গুরুত্বের যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হাতে বাহিনী পরিচালনার রাশ নিজের হাতে তুলে নিলেন সদ্য সম্রাট আওরঙ্গজেব।

পাঞ্জাব থেকে সুজার মুখোমুখি হতে আওরঙ্গজেব রওনা হলেন

এই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝতে আমদের আগের বছরের জুলাইয়ের শেষের দিকে আওরঙ্গজেবের সিংহাসনের আরোহণের সময়ে ফিরে যেতে হবে। দারা দিল্লি থেকে আওরঙ্গজেবের তাড়ায় পালাচ্ছেন। আওরঙ্গজেব নিজেকে সম্রাট মনোনীত করেই দাদা দারাকে তাড়া করে লাহোরে পৌঁছলেন। কিন্তু মাথা থেকে সুজার সম্ভাব্য দিল্লি অভিযানের ভাবনা তাড়াতে পারছিলেন না। পূর্বদেশ থেকে প্রতিনিধিরা নিয়মিত ঘটনাপ্রবাহের সংবাদ পাঠাচ্ছিলেন তাঁকে। সুজার প্রত্যেকটি পদক্ষেপ নজরে রেখেছেন। দাদা সুজার রাজমহল থেকে পাটনা এবং সব শেষে এলাহাবাদের লড়াই তাঁকে চিন্তায় রেখেছে। তিনি সুজার রণনৈপুণ্যর দৌড় জানেন। দীর্ঘকালের বাংলার নবাবকালে তিনি যতদূর সম্ভব একটিও সামরিক অভিযান করেন নি। আওরঙ্গজেব সুজার রণনৈতিক দক্ষতাকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না তিনি জানেন সুজার থেকেও আরও খারাপ রণনেতা, কিন্তু তাঁর সঙ্গে বন্দী হয়েও সম্রাটের ক্ষমতা আর জাহানারার ক্ষুরধার বুদ্ধি যোগ হলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বহু নজরদারি রাস্তায় থানা বসানো সত্ত্বেও দাদার সঙ্গে সম্রাট আর জাহানারা সঙ্গে মাঝেমধ্যে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন। আগরা থেকে সম্পদ না পৌঁছলেও দারার কাছে দিদির স্থানীয় গোষ্ঠীর যোগাযোগ করার টিপস পৌঁছচ্ছে। পালিয়ে থাকা মুহূর্তে সেটাও তাঁকে পথ দেখাচ্ছে। তাই তিনি দারাকে তাড়া করে এসেছেন সিন্ধু পর্যন্ত। তাঁকে ধরতে না পারলেও, তার রণনীতি দারাকে আরও, আরও দূরে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া যাতে তিনি সম্রাট আর জাহানারার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান।। মুলতানে পৌঁছে আওরঙ্গজেব বুঝতে পারছিলেন, তিনি দারাকে বহু দূর তাড়া করে এসেছেন। দারা এখন দিল্লি আগরা থেকে বহু দূরে। এবার এখান থেকে কাজটা তাঁর সেনানায়কেরাও করতে পারেন। নতুন সম্রাট, রাজধানী শূন্য করে এসেছেন বিদ্রোহীকে তাড়া করে এসেছেন। তাছাড়া পূর্ব দিকের রণাঙ্গনের ঘটনাবলী থেকে তিনি আপাতত বিছিন্ন। দারার পিছনে আরও বেশি সময় দেওয়ার করার অর্থ হল সুজাকে অপ্রতিহত গতিতে দিল্লি আসার সুযোগ করে দেওয়া। ৩০ সেপ্টেম্বর দাদার পিছু নেওয়ার দায়িত্ব কয়েকজন সেনাপতির হাতে ছেড়ে মুলতান থেকে পূর্ব দিকে মুখ ঘোরালেন। লক্ষ্য যত তাড়াতাড়ি দিল্লি পৌঁছনো। সম্রাট দ্বিগুণ গতিতে দিল্লি ফিরছেন। লক্ষ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুজার মুখোমুখি হওয়া। দিল্লি পৌঁছলেন ২০ নভেম্বর। তিনদিনের মধ্যে তিনি সুলতান মহম্মদকে, বড় গোলান্দাজ বাহিনী দিয়ে এলাহাবাদে খনাইদৌরানের বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়ে সুজার মুখোমুখি হতে পাঠালেন। ঘটনার পরম্পরা তাকে নিয়মিত জানিয়ে যেতে বললেন। পাঞ্জাব থেকে ফিরে আসা অভিজ্ঞ সেনাপতিদের শাহজাদার সঙ্গে জুড়ে দিলেন। আগরা কেল্লা থেকে ১ কোটি টাকা আর বড় গোলান্দাজ বাহিনী, রাজপুত বাহিনী নিয়ে এলাহাবাদে শাহী সেনার সঙ্গে যোগ দিলেন জুলফিকার খান। সুজা তখনও বেনারসে। বিনা বাধায় এলাহাবাদ পেরিয়ে দিল্লি আগরা দখলের পরিকল্পনা মাঠেই মারা গেল।

আওরঙ্গজেব এক বিশাল বাহিনী নিয়ে ছেলেকে সুজার মুখোমুখি হতে পাঠিয়েছিলেন। তার ধারণা ছিল বাহিনীর বহর দেখে ভয় পেয়ে সুজা বাংলায় ফিরে যাবে। আওরঙ্গজেব দিল্লিতে কিছুটা সময় কাটালেন। সরণে (soron) শিকারে মন দিলেন। পরিকল্পনা সুজা চলেগেলে সুলতান মহম্মদকে দিল্লিতে ডেকে নেবেন। কিন্তু তাঁর কাছে খবর আসছে সুজা অপ্রতিহত গতিতে খাজওয়া অবদি চলে এসেছেন। সুজার এগিয়ে আসার সংবাদ পেলেন তিনি ১২ ডিসেম্বর। সরণ শিকার এলাকা ছাড়ার আগে শাহজাদাকে বললেন তাঁর আসার জন্যে অপেক্ষা করতে। হুট করে যুদ্ধে জড়িয়েপ পড়ার প্রয়োজন নেই। ১৬৫৯-এ ২ জানুয়ারি বাবা-ছেলের বাহিনী মিলল কোরা-গৌতমপুরে। দক্ষিণ থেকে মীর জুমলা তড়িতগতিতে আওরঙ্গজেবের বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিলেন। তিনি এখন আওরঙ্গজেবের মুখ্য পরামর্শদাতা, তাঁর ডান হাত। মীর জুমলার উপস্থিতি শুধু আওরঙ্গজেবের মত পোড়খাওয়া সেনানীকেই আশ্বস্ত করল না, সেনাও মনে জোর পেল। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev