| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ইফতিতাইসুলতানিওয়াশুল-ই-কুল : আকবর এবং আওরঙ্গজেব (১১৫ নং কিস্তি) : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৩৩৮ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০২২

সুলেইমান শুকো

শাহ সুজার সঙ্গে মির্জা রাজা জয় সিংহের উপস্থিতিতে সুলেইমান শুকো তড়িঘড়ি চুক্তি সম্পাদন করে বাহিনী নিয়ে ফিরে এলেন। ২ জুন এলাহাবাদের ১০৫ মাইল পশ্চিমে কোড়ায় পৌঁছে সংবাদ পেলেন তাঁর বাবা ৫ দিন আগে সমুগড়ে পরাজিত হয়েছেন। একই সময়ে সম্রাট শাহজাহানের স্বাক্ষর করা একটি চিঠিতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হল, দিল্লিতে শাহী বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিতে। দারাও অন্যান্য সেনাপতিকে তার পুত্রের বাহিনীতে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানালেন। এর মধ্যেই সুলেইমান শুকোর বাহিনী জেনেছে দারার পতন। বাহিনীতে তীব্র উত্তেজনা। তারা জানে দিল্লি বহু দূর আর রাস্তায় আওরঙ্গজেব বাহিনীর দিল্লি যাওয়া রুখতে জায়গায় জায়গায় থানা/চৌকি বসিয়েছেন। সুলেইমান কী করবে? জয় সিংহ বললেন কিছু দিন এলাহাবাদে থেকে দেখা যাক রাজনৈতিক ঘটনা কোন দিকে এগোয়। জয় সিং বললেন তাঁর পক্ষে বেশি দিন দারার বাহিনীর সঙ্গে জুড়ে থাকা সম্ভব নয়। পলাতক দারার সঙ্গে থাকা তাঁর পক্ষে রাজনৈতিক আত্মহত্যা হবে। মানুচি জানাচ্ছেন সুলেইমান গোপনে, জয় সিংহ আর দিলির খানকে নিজের দরবারে ডাকিয়ে এনে খুন করার চক্রান্ত করলেন। সেটা যতদূরসম্ভব পোড়খাওয়া যুদ্ধকূটনীতবিদ জয় সিংহ জানতেন, ফলে তারা নিজেদের নিরাপত্তার যথা বিহিত ব্যবস্থা নিয়ে বাহিনী ছাড়ার পরিকল্পনা পাকা করে ফেললেন।

আফগান দিলির খান জানালেন গঙ্গা পেরলেই শাহাজাহানাপুরে বিশাল আফগান বসতি। সেখানে সেনা জোগাড়ের চেষ্টা করা যেতে পারে। সুলেইমানের এই প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে উপায় নেই। তিনি ৪ জুন এলাহাবাদ ছাড়ার নির্দেশ দিলেন। ইতিমধ্যে জয় সিংহ দিলির খানকে বললেন এই ধরণের ব্যর্থ সামরিক উদ্যমে তিনি নেই। জয় সিংহ এবং দোয়াব অঞ্চলের সেনাপতিরা সুলেইমানের বাহিনী ছেড়ে গেলেন। ২০,০০০ থেকে বাহিনীর সংখ্যা নেমে এল ৬০০০এ। সুলেইমান বাবার সঙ্গে যোগ দিয়ে তাঁকে বাঁচাতে চান। কিন্তু বিপুল রসদ, জেনানা বাহিনী, আসবাব, সম্পদের ভার নিয়ে সুলেইমানের পক্ষে খুব তাড়াতাড়ি রাস্তা পাড়ি দেওয়ার সমস্যার হয়ে দাঁড়াল। কেউ কেউ বললেন পাটনা থেকে এলাহাবাদ পর্যন্ত ভূমিভাগ দখল করে এখানেই স্বাধীন রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা হোক। কেউ বললেন সুজার সঙ্গে যোগ দিলেই আপাতত সমস্যার সমাধান হয়। তবে বাহারার সৈয়দেরা তাঁকে বললেন দিল্লির বহু দূরে নাগিনা আর সাহারানপুরে গঙ্গা পেরোলে পাঞ্জাবে দারার বাহিনী সঙ্গে যোগ দেওয়া সহজ হবে। এই অঞ্চলটা আওরঙ্গজেবের প্রভাব মুক্ত। সুলেইমানের এই প্রস্তাবটা মনে ধরল।

এলাহাবাদ কেল্লায় বাবার বিশ্বাস্ত সেওনাপতি বারহার সৈয়দ কাশিমের কাছে সমস্ত রসদ, সম্পদ, ভারি জিনিসপত্র গচ্ছিত রেখে ১৪ জুন লখনৌ আর মোরাদাবাদের কাছে গঙ্গা পেরিয়ে দ্রুত নাগিনায় পৌঁছে সেখানকার দরকারি খাজাঞ্চিখানার ২ লক্ষ টাকা দখল করলেন আর কিছু স্থানীয় ব্যবসায়ীর গদি লুঠ করলেন। তখনও রোজ সেনাপতিদের সুলেইমানের বাহিনী ছেড়ে চলে যাওয়ার বিরাম নেই। এত কম সেনা নিয়েও নাগিনায় সুলেইমান এক সঙ্গে গঙ্গা পেরোতে পারলেন না। তাঁকে হরিদ্বারের কাছে গঙ্গা পেরোতে হবে। সেখানে তিনি শ্রীনগরের রাজা ভবানীদাসের কাছে সামরিক সাহায্য চাইলেন।

আওরঙ্গজেব শাহজাদার এগিয়ে যাওয়া রুখতে আর তার বাহিনীর গঙ্গা পার হওয়া বন্ধ করতে শায়েস্তা খানকে হরিদ্বার পাঠালেন। ২৪ জুলাই আরেকটা বাহিনী শেখ মীর আর দিলির খানের নেতৃত্বে পাঠালেন যাতে সুলেইমানের বাহিনীর যমুনা পার বন্ধ করা যায়। শাহজাদা সুলেইমানের সামনে পাঞ্জাবে বাবার কাছে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল। আরেক সেনাপতি ফিদায়ি খান শায়েস্তা খানকে টপকে অতি দ্রুত হাপুরের ফেরির কাছে পৌঁছে শ্রীনগরের শত্রু রাজা, কুমায়ুনের রাজার থেকে জানতে পারেন গঙ্গা পার হওয়ার জন্যে সুলেইমান হরিদ্বারের দিকে রওনা হয়েছেন। ফিদায়ি এক দিনে ১৬০ মাইল পার হয়ে বিকেল নাগাদ হরিদ্বারের তীরে পৌঁছে দেখেন সুলেইমান কয়েক হাজার সেনা নিয়ে উটোদিকের তীরে অপেক্ষা করছেন ফেরি পার হওয়ার জন্যে। ফিদায়ি খান দ্রুততার সঙ্গে তাল রাখতে পেরেছে সঙ্গে মাত্র ৫০ জন সেনা। সুলেইমানের কাছে ভুল খবর গেল উলটো দিকে বিশাল বাহিনী নিয়ে শায়েস্তা খানের অগ্রগামী বাহিনী অপেক্ষা করছে। সুলেইমান শুকো নিজের ওপর আর আস্থা রাখতে পারলেন না, তিনি শ্রীনগরের দিকে চললেন কিন্তু তার বারহার সেনাপতিরা সুলেইমানের সঙ্গে পাহাড়ে স্ত্রীপুত্র নিয়ে যেতে রাজি হলেন না। সুলেইমানের সঙ্গে এখন মাত্র ২,০০০ সেনা।

পাঞ্জাবের দিকে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি শ্রীনগরের রাজা পৃথ্বী সিংহের আশ্রয়ে এলেন। এক সপ্তাহ কাটিয়ে তিনি বুঝলেন হিন্দুস্তানে যাওয়ার প্রত্যেকটা রাস্তা বন্ধ। হরিদ্বার সম্ভল আর দোয়াব অঞ্চল শাহী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। আওরঙ্গজেব নিজে দারার পিছন নিয়ে পাঞ্জাবে এসেছেন। তিনি আবার নাগিনায় এলেন। সুলেইমানের সঙ্গে এখন মাত্র ২০০ সেনা। মোরাদাবাদের ফৌজদার তাঁকে ধরতে আসার ১৮ ঘন্টা আগেই তিনি মোরাদাবাদ ছেড়ে গাঢ়ওয়ালের রাজার আশ্রয়ে যখন পৌঁছলেন, তখন তার পরিবার ছাড়া সঙ্গে রয়েছে মাত্র ১৭ রক্ষী। আওরঙ্গজের রাজাকে হুঁশিয়ারি চিঠি পাঠিয়েছেন সুলেইমানকে আশ্রয় দেওয়ার দায়ে। কিন্তু আওরঙ্গজেব জানেন পাহাড়ি এলাকায় সেনা পাঠানোর সমস্যা। অনেক দরকষাকষি, টানাপড়েনের পর সুলেইমান শুকোকে মুঘলদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ২৭ ডিসেম্বর। ১৬৬১র ২ জানুয়ারি সুলেইমানকে সেলিমগড় কেল্লায় পোস্তর জল খাইয়ে হত্যা করা হল।

দুই ভাই দারা আর মুরাদকে হত্যা করলেন আওরঙ্গজেব। বাকি রইল তাঁর আগ্রজ শাহ সুজা। তাকে ধরতে মীর জুমলাকে নির্দেশ দিয়েছেন সম্রাট আওরঙ্গজেব।

সিংহাসনের যুদ্ধ মুঘল হিন্দুস্তানের পূর্বদেশের দিকে ঢলল

১। সুজাকে ধাওয়া করলেন মীর জুমলা

৫ জানুয়ারি যুদ্ধে হেরে রণক্লান্ত, বিধ্বস্ত, হতাশ, বিষণ্ণ সুজা বিহারের দিকে পালিয়ে গেলেন, যেন তার রেকাবে পা নেই, হৃদয়ে আর শক্তি অবশিষ্ট নেই। সুজাকে নিঃশ্বাস ফেলার সময় না দিয়ে, মীর মহম্মদকে তার পিছনে লাগিয়ে দিলেন আওরঙ্গজেব। সম্রাট খাজওয়ায় আরও এক সপ্তাহ থাকলেন।

মীর জুমলাও সম্রাটের সঙ্গে কিছু দিন রইলেন। ১১ জানুয়ারি সম্রাট তাকে ৭ হাজারি মনসবদারিত্বে (হফত হাজারি হফত হাজার সওয়ার) সম্মানিত করলেন। সাম্রাজ্য সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ আরও কিছু পছন্দের উপহারও দিলেন। খাজওয়া থেকে ফেরার পথে মীর জুমলা সম্রাটের সঙ্গে গঙ্গার দিকে ঘুরতে গেলেন। ১৪ জানুয়ারি দিল্লির পথে রওনা হওয়ার আগে, সম্রাট মীর জুমলাকে পলাতক ভাইয়ের খোঁজে এবং স্থানীয়দের হাত থেকে বিহার-বাঙলা উদ্ধারের দায়িত্ব দিলেন। সবথেকে বড় কথা, তার পুত্রের আতালিক (দিগদর্শক, শিক্ষক) হওয়ার অনুরোধ করলেন। তুর্কো-মোঙ্গল কৃষ্টিতে শাহজাদার আতলিক হওয়া খুব বড় সম্মানের বিষয় ছিল। বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানী এবং দক্ষ ব্যক্তিত্বই এই অভূতপূর্ব শাহী সম্মান পেয়েছেন। মুঘল সেনাবাহিনীর রীতি অনুযায়ী মীর জুমলা এবং শাহজাদাকে মিলিয়ে একটা যৌথ কামান তৈরি হল। মীর জুমলাই সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ, বহাল আর বরখাস্তর চূড়ান্ত ক্ষমতা পেলেন। ৭০ বছরের বৃদ্ধ মীর জুমলা নতমস্তকে ৪০ বছরের যুবা সম্রাটের দেওয়া এই গুরু দায়িত্ব নিজের মাথায় তুলে নিলেন। সম্রাটকে প্রতিশ্রুতি দিলেন, শত্রুর হাত থেকে বাংলার সিংহাসন এবং রাজমুকুট বাঁচিয়ে তাঁর ভাইকে সমুদ্রের জলে ছুঁড়ে ফেলবেন।

১৪ জানুয়ারির কিছু সময় পরে শাহজাদা মহম্মদ সুলতানের বাহিনীকে জোরদার করতে চললেন মীর জুমলা। শাহজাদার বাহিনীর সঙ্গে মীর জুমলার বাহিনী যোগ দেওয়ার পরে শাহী বাহিনীর আকার দাঁড়াল ৩০ হাজার সেনার। আলমগীরনামা সূত্রে মীর জুমলার সঙ্গে থাকা ২৭ জন সেনানায়কের নাম হল ১। জুলফিকার খান (তাবরেজি), ২। ইসলাম খান (বাদাকশি), ৩। কুঁয়র রাম সিংহ, ৪। দাউদ খান (কুরেশি), ৫। ফিদায়ি খান (বাখরাজি), ৬। রাজা ইন্দ্রদুম্ন ধামধেরা, ৭। রাও ভাও সিংহ হাদা (রাও ছত্রশালের পুত্র), ৮। ইশতিশাম খান, ৯। ফতে জঙ্গ খান (রুহেলা), ১০। রাও অমর সিংহ চন্দ্রাওয়াত, ১১। ইখলাস খান খোয়েসগি, ১২। খাওয়াস খান, ১৩। এক্কাতজ খান (আসল নাম আবদুল্লা), ১৪। রশিদ খান (আনসারি), ১৫। লোদি খান, ১৬। সৈয়দ ফিরোজ খান বারহা, ১৭। সৈয়দ শের খান বারহা, ১৮। সৈয়দ মুজাফফির খান বারহা (খানইজাহান), ১৯। জবরদস্ত খান (রুহেলা) ২০। আলি কুলি খান, ২১। কিজিলবাস খান, ২২। ইস্কন্দর রুহেলা, ২৩। কাকার খান, ২৪। দিলোয়ার খান, ২৫। নেকনাম খান, ২৬। নিয়াজি খান, ২৭। কাদিরদাদ আনসারি এবং আরও বহু ছোট বড় সেনানী। সম্রাট মীর জুমলাকে নির্দেশ দিলেন দুর্ধর্ষ রোজবিহানী সেনা — রাসুল, মহম্মদ এবং চিরাগকে সঙ্গে নিতে। তাদের প্রত্যেকেই যুদ্ধবিদ্যায় চরম অভিজ্ঞ, দৌড়বীর, এবং আত্মনিবেদনের মূর্ত প্রতীক। বাদশাহ বললেন আহমদ এবং মহম্মদ মুরাদও খুব সাহসী এবং দাঙ্গাকারী, তাদেও সঙ্গে নিতে হবে।

২। খাজওয়া-পাটনা

পলাতক শাহজাদা শাহ সুজা খাজওয়া থেকে ৩০ মাইল গেলেন চার দিনে। এলাহাবাদে গঙ্গা পেরিয়ে ঝুসিতে শিবির ফেললেন। সাম্রাজ্যের সৈন্য বাহিনী এগিয়ে আসছে খবর পেয়ে একদা এলাহাবাদের দারার সেনানায়ক, পরে সুজার দিল্লি অভিযানের সঙ্গী তাহাওয়ার খান উপাধি ওয়ালা বারহার সৈয়দ, সৈয়দ কাশিম, আওরঙ্গজেবের সেনানায়ক বাহাদুর খানের হাতে নিজের খানইদৌরানটি দুর্গ সঁপে দিলেন ১২ জানুয়ারি। বেনারসের পাঁচ মাইল পূর্বের গঙ্গার তীর বাহাদুরপুরে পৌঁছে বেনারসের তার পূর্ব-শিবিরের জন্য কাটা পরিখা এবং সুরক্ষা দেওয়াল সারালেন, ঢালু যায়গায় (র‍্যাম্পার্ট) চুনার থেকে আনা ৭টি কামান বসালেন, অন্যান্য দুর্গ থেকে আরও কামান আনার পরিকল্পনা করলেন। মনস্থির করলেন অনুসরণকারীদের এখানেই জবাব দেবেন। বিপদ ঘণ হয়ে এলে গঙ্গায় নোঙ্গর করা ছিপ নৌকোর বহর নিয়ে পালানোর ব্যবস্থা করে রাখলেন।

রাস্তায় বিন্দুমাত্র দেরি না করে মীর জুমলা এলাহাবাদে মহম্মদ সুলতানের বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিলেন। শাহজাদার কাছে খুড়োর বেনারসে উঁচু টিলায় রাখা ৭টি কামানের প্রস্তুতির খবর পৌঁছল, কিন্তু এটাও জানাগেল বাহাদুরপুরে কাকা ভরা গঙ্গা নদী পার হতে পারেন নি নৌকোর অভাবে। মীর জুমলা শাহজাদাকে পরামর্শ দিলেন চুনারের দিক থেকে এগোনোর। গঙ্গার ওপরের প্রবাহের দিকে এগিয়ে মীর জুমলার পরামর্শে শাহজাদা এলাহাবাদে হেঁটে নদী পার হয়ে ৪ দিনের মাথায় খেরি এবং কুন্তিত হয়ে চুনার পৌঁছলেন। সাম্রাজ্যের নির্দেশে অযোধ্যার সুবাদার ফিদায়ি খান গোরখপুর থেকে গঙ্গার উত্তর পাড় ধরে পাটনার দিকে এগোলেন। শাঁড়াশি আক্রমণের সম্ভাব্যতার আশংকায় সুজা হতাশ হয়ে বাহাদুরপুর থেকে পাটনার পানে রওনা হলেন; শহরে না ঢুকে শহরের বাইরে তিনি জাফর খানের বাগানে এলেন ১০ ফেব্রুয়ারি ১৬৫৯। শাহজাদা মহম্মদ সুলতান বেনারসের চাচার ছেড়ে যাওয়া পরিখা ঘুরে দেখলেন, দুদিন বিশ্রাম নিয়ে মীর জুমলার পরামর্শে এবং পথ নির্দেশনায় পাটনার দিকে চললেন।

৩। পাটনা-মুঙ্গের

পুত্রের বিয়ে উপলক্ষ্যে সুজা পাটনার পূর্ব দিকের অঞ্চলে বহুদিন নষ্ট করে পাটনার ২০ মাইল পশ্চিমে পৌঁছলেন। পিছনে ভীম বেগে, পরিকল্পনামাফিক তাড়া করছে মীর জুমলার নেতৃত্বে সাম্রাজ্যের বাহিনী। সামনে বিশাল চওড়া উপত্যাকার নিরাপত্তাহীনতা, সুরক্ষার অভাবে চিন্তিত এবং আশংকিত হয়ে সুজা আরও পূর্বের দিকে মুঙ্গেরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। পৌঁছলেন ১৯ ফেব্রুয়ারি। তাকে ধাওয়া করা অগ্রগামী সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ খাড়া করার জন্য তৈরি হলেন (১৮ ফেব্রুয়ারি-৬ মার্চ)। শহরের নিরাপত্তা খুঁটিয়ে দেখে সেটির সুরক্ষা আরও জোরদার করলেন। গঙ্গার তীর আর দক্ষিণের পাহাড়ের নিচের দুর্গের মাঝখানের পুরোনো নড়বড়ে দেওয়াল সারালেন। শহর জুড়ে যে সব উঁচু এলাকা ছিল সেখানে আক্রমণাত্মক হাতিয়ার যেমন, কামানের সারি, হাতি-উটের সুভেল, হাউইওয়ালা, বন্দুকচিদের সাজিয়ে বসালেন। বিভিন্ন রণনৈতিক কোণে বিদেশি সেনানায়ক গোলান্দাজদের বসিয়ে পাহাড়ের তলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাটি (দামিনিকোহ) খড়গপুরের রাজা, রাজা বাহারোজের হাতে তুলে দিলেন।

সুজা পাটনা ছেড়ে যাওয়ার ৮ দিনের মাথায় ২২ ফেব্রুয়ারি পাটনায় পৌঁছে অপেক্ষারত ফিদায়ি খানের সেনার সঙ্গে যোগ দিল শাহী বাহিনী। মীর জুমলা বিহারের সুবাদার নির্বাচন করলেন দাউদ খানকে। মুঙ্গেরের দিকে রওনা হয়ে যাওয়ার সময় খবর পেলেন জেকপুরায় বিরোধীপক্ষ জোরদার নিরাপত্তার চাদরে শহরকে মুড়ে ফেলেছে। মার্চের শুরুর দিকে মুঙ্গেরের পথে প্রচুর বাধা পেয়ে কী ধরণের রণনীতি অবলম্বন করা যায়, সে বিষয়ে শাহজাদা পরামর্শের জন্য মীর জুমলার দ্বারস্থ হলেন। সুজার ছিদ্রহীন নিরাপত্তায় আঘাত না করে মীর জুমলা ঠিক করলেন তার পিছনের সরবরাহের যে শিকলি সুজা তৈরি করেছেন সেটিকে কেটে দেওয়ার। সোনাদানার উপঢৌকন আর কার্যকরী শাহী হুমকি এবং ‘উপযুক্ত’ পরামর্শে মোড়া চিঠি দিয়ে তিনি রাজা বাহারোজকে হাত করে খড়গপুর পাহাড়জুড়ে রাজমহলের কঠিন পথ চড়াই-উতরাই ভরা ঘুরপথে পাহাড়ি হিংস্র জন্তু, পথ রোধ করা দ্রুম, পাহাড়ি সমাজভরা এলাকা সে সময় যার নাম ছিল ‘বাড় জঙ্গল’, নিশানা লাগিয়ে সহজ করে নিলেন। মীর জুমলা শুধু শুধু রক্তক্ষয়ী মুখোমুখি লড়াই এড়ালেন তাই নয় এবং অযথা শক্তি ক্ষয় না করে পরিকল্পিত রণনীতির মাধ্যমে শত্রুকে পিছনে ছেড়ে বহু পথ এগিয়ে গেলেন। জুলফিকার খানকে দিয়ে কাঠুরে আর নিজের বাহিনীর বেলদারদের কাজে লাগিয়ে তিনি পথের বাধা বিশাল বিশাল গাছ কাটলেন। গাছভরা পাহাড় পেরিয়ে শাহজাদাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুর পথে মীর জুমলা মুঙ্গেরের সমতলে পৌছলেন। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev