৪। মুঙ্গের-গিরিডি
বিশ্বস্ত জমিদারের বিশ্বাঘাতকতা, পলাতক শাহজাদার বাহিনীকে হতবুদ্ধি করে দেওয়া সম্রাটের সেনাপতির রণনীতির ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে ৬ মার্চ সুজা আবার পালালেন। আলমগিরনামা থেকে আমরা জানতে পারছি, তিনি তেলিয়াগিড়ি পেরিয়ে রাঙ্গামাটি এলেন। রাঙ্গামাটিতে ১৫ দিন শিবির ফেলে (১০-২৪ মার্চ) নাওয়ারা (যুদ্ধ নৌকো বহর) সক্রিয় করে নদী পাহারায় বসালেন। গড়ি বা তেলিয়াগড়ির সুরাক্ষা কামান দিয়ে সাজালেন। বীরভূম আর ছোটনগরের জমিদার খোওয়াজা কমল আফগানকে গঙ্গা থেকে বীরভূম পর্যন্ত অঞ্চল রক্ষার দায়িতে দিলেন, যাতে পাহাড় থেকে নেমে আসা মীর জুমলার যে কোন ঝটতি আক্রমন প্রতিরোধ করতে পারেন।
মুঙ্গের থেকে ৪০ মাইল পূর্ব পিয়ালাপুরে অবস্থান করার সময়ে মীর জুমলা খবর পেলেন শাহ সুজা আরও পূর্বের দিকে পালাচ্ছেন। মহম্মদ সুলতানের কিছু সেনা নতুন দখল করা অঞ্চলে রেখে, প্রশাসনিক এবং বাকি সেনা না আসা পর্যন্ত দুর্গের সুরক্ষারভার অস্থায়ীভাবে মহম্মদ হুসেইন সালদুজের ওপর দিয়ে নিজে বাহিনী নিয়ে ছুটলেন সুজার পিছনে। পিয়ালপুরে শুনলেন সুজা গড়িতে তাঁবু ফেলেছেন। তিনি সম্রাটের মহম্মদ সুলতানের বিপুল বাহিনী নিয়ে গেলেন রাজমহলের কাছে যাতে সুজার পালিয়ে যাওয়ার রাস্তায় বাধা তৈরি করা যায়। গঙ্গা থেকে দক্ষিণের পাহাড় পর্যন্ত এলাকার সুজার সুরক্ষা ঢাল সাজানো ছিল বিপুল সাঁজোয়া বাহিনী সাজিয়ে আর গঙ্গার রাস্তা পাহারা দিচ্ছিল নাওয়ারা বহর। সেই সময়ে বাঙলার প্রবেশপথ বলে পরিচিত তেলিয়াগড়ি এবং সকরিগলিকেও এই সুক্ষা বহরের মধ্যে জুড়ে নেন শাহ সুজা।
সুজার জোরদার সুরক্ষার বহরের খবরে মহম্মদ সুলতান মীর জুমলাকে প্রশ্ন করলেন, তিনি কি সরাসরি গড়িতে সরাসরি গিরিসঙ্কট দিয়ে আক্রমণ করবেন? শোনা যায় মীর জুমলা তাকে কিছুটাই ব্যঙ্গভরে বলেছিলেন, ‘তোমার ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব নয় কেননা তুমি প্রখ্যাত তৈমুরের বংশধর, এই কাজে তোমার উপযুক্ত কেউ নেই, কিন্তু, এই ধরণের (গিরি) যুদ্ধে প্রচুর মানবসম্পদ ক্ষয় হয়, ফলে এই অঞ্চলে যুদ্ধ করা উচিত নয়। যে কাজ কূটনৈতিক এবং কৌশলী রণনীতিতে কাজে সম্পন্ন করা যায়, সে কাজে কেন লোকক্ষয় করব? ফলে আমার সামনের মূল কাজ, যুদ্ধ না করে প্রজ্ঞা এবং নীতিকৌশলে (তবদির) কাজ উদ্ধার।’
৫। গড়ির কাছে মীর জুমলার রণকৌশল পরিবর্তন
মুঙ্গেরে দেখেছি, বর্তমানে এখনও দেখছি, কৌশল আর কূটনীতিকে তাঁর শক্তি বানিয়ে ফেলে কাজ উদ্ধার করে চলছিলেন মীর জুমলা। আবারও তিনি সুজার বিরুদ্ধে রণনীতি হিসেবে পথ ধরলেন বিপুল অর্থ ছড়িয়ে। বীরভূমের জমিদারকে তিনি স্বপক্ষে নিয়ে এলেন যেভাবে তিনি খড়গপুরের জমিদারকে সাম্রাজ্যের পক্ষে নিয়ে এসেছিলেন। এই রণনীতিতেই আগামী দিনের পথের সুরক্ষা অর্জন করলেন। মুঙ্গেরের দক্ষিণ-পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চলটি মানুষখেকো হিংস্র শ্বাপদে পরিপূর্ণ। অঞ্চলের ফলাবনত গাছ এবং খাদ্য এবং পানীয় জল সরবরাহের জন্য চাষের জমিতে ক্ষতি না করে তিনি এগিয়ে চলার পরিকল্পনা করলেন। এই দুটি বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে রাজা বাহারোজের পণ্য সরবরাহের দক্ষতাকে শাহী বাহিনীর সঙ্গে জুড়ে নিয়ে ঝাড়খণ্ডের পথে পা বাড়ালেন মীর জুমলা।
মীর জুমলা এবং জুলফিকারের নেতৃত্বে হাতির যূথ আর ঘোড়সওয়ার বাহিনীর সাহায্যে কাঠুরে এবং বড় কুঠার নিয়ে পথ দেখানো শাহী বাহিনীর বেলদারেরা গাছ কেটে পথ তৈরি করল। বাহিনীকে তৈরি করা পথ বোঝাতে পথের দুপাশে পতাকা পুঁতে দেওয়া হল। সেনাবাহিনী নতুন তৈরি পথে শুধু দিনের বেলা চলল এবং রাতে বিশ্রাম নিল। ঝাড়খণ্ড বাংলায় ঢোকা পথটা সরু, ন্যাড়া পাহাড়ি গিরিসংকটে পরিপূর্ণ এবং অঞ্চলে গাছগাছালির বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই। বেহুদা পথটি ধরে মীর জুমলার নেতৃত্ব এবং শৃঙ্খলার জোরে শাহী বাহিনী তুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলল। বাহিনীর ডানদিকে ছিল রথ নিয়ে ২,০০০ সেনার সেনানায়ক জুলফিকার, বাঁদিকে ইসলাম খান এবং ফিদায়ি খান ৫,০০০ করে সেনা নিয়ে, ১৫টি ঘোড়সওয়ার বাহিনীর সুরক্ষায় শাহজাদাকে সামনে রেখে থাকলেন মীর জুমলা, কুঁয়র রাম সিং, ইখলাস খান খোয়েসগি, রাও ভাও সিং হাদা, সৈয়দ মুজফফর খান। বাঁদিকে অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে ২,০০০ সেনা নিয়ে দাউদ খান এবং ডনদিকের ২,০০০ সেনা নিয়ে রশিদ খান। পথে গভীর জঙ্গল পার হতে ১২ দিন লাগল। এর পরে খোয়াজার জমিদারি, উখলা (উখড়া) এবং সিউড়ি পেরিয়ে বীরভূমের সমতলে শাহী বাহিনী পৌঁছল ২৮ মার্চ।
৬। রাজপুতেরা ছেড়ে গেল
প্রকৃতির প্রতিবন্ধকতা মীর জুমলা জয় করতে পারেন। কিন্তু মানুষের অবিশ্বাস, স্বার্থবোধ এবং ভীরুতার দাওয়াই তাঁর কাছে ছিল না। অভিযানের শেষের দিকে কুঁয়র রাম সিং (মীর্জা রাজার পুত্র), রাও ভাও সিং (রাজা ছত্রশাল হাদার পুত্র), অমর সিং, চতুর্ভূজ চৌহানের মত রাজপুত সেনানায়কেরা মীর জুমলাকে ছেড়ে আগ্রার পথে ফিরে যান। অপ্রত্যাশিত এই বিশ্বাসঘাতকতায় মীর জুমলার সেনাবাহিনীর শক্তি অনেকটা কমে গেল। রাজপুতদের আগরা ফিরে যাওয়ার দুটি কারণ ঐতিহাসিকেরা দিয়েছেন। সুজাপন্থী ঐতিহাসিক মাসুমের বক্তব্য, রাজপুতেরা যে পরিমান অর্থ দাবি করেছিলেন মীর জুমলা সেটা পূরণ করেন নি। শোনা যায় তাদের দাবির উত্তরে মীর জুমলা বলেছিলেন, ‘আপনারা সাম্রাজ্যের জায়গিরদার এবং বিপুল পরিমান বেতন পান। (এখন অভিযানের সময়) বেশি সম্পদ খরচ করা উচিৎ হবে না। এই মুহূর্তে আপনাদের এত বড় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। যখন বাঙলা দেশ দখল হবে, দারোগা নির্বাচন হবে, তখন আপনাদের চাহিদা পূরণ করা যাবে।’
এই ঘটনাকে পরবর্তী কালের উপনিবেশিক আমলের ঐতিহাসিকেরা সাম্প্রদায়িক রঙে রাঙিয়ে উপস্থাপন করেছেন। রাজপুত সেনানী রাম সিং, ভায়োঁ সিং নাকী শুনেছিলেন আওরঙ্গজেব রাজস্থানে মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ বানাচ্ছেন, হিন্দুদেরও ধরে ধরে কতল করবার পরিকল্পনা করেছেন। রাজপুতেরা নিজেদের জীবনও মীর জুমলার সেনাপতিত্বে খুব একটা সুরক্ষিত বোধ করছিলেন না। ধর্মীয়ভাবে অসুরক্ষিত বোধ করায় তারা ধর্মান্ধ সম্রাটের সেনাবাহিনী ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু এই ব্যখ্যা কতদূর যৌক্তিক সেটা আজ ভেবে দেখার। মনে রাখা দরকার সব রাজপুত সেনানী কিন্তু মীর জুমলাকে ছেড়ে যান নি। রাজা ইন্দ্রদুম্ন শাহী বাহিনীর সঙ্গে থেকে যান। আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা ভুলে যাই, দুই রাজপুত পলাতকের সঙ্গে যোগ দিলেন দুই মুসলমান সেনাপতি শের বেগ এবং সৈয়দ সুজাত খান। এটা শুধু অমুসলমানেদের বাহিনী ছাড়ার ঘটনা ছিল না। আজ আমরা জানি রাজপুতদের বিশ্বাসঘাতকতা শুধুমাত্র আর্থিক দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়ার জন্যে হয় নি, এটা ছিল স্রেফ বাহানা। শাহী বাহিনী ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে জড়িয়েছিল মুঘল সাম্রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে চলতে থাকা সিংহাসন লড়াইএর একটা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক-সামরিক ঘটনার ভুল সংবাদ পাওয়া।
বাহিনী থেকে রাজপুত এবং অন্যান্য সেনাপতির ছেড়ে চলে যাওয়ার খবরে স্বয়ং সম্রাট আওরঙ্গজেব তদন্তের নির্দেশ দিলেন আলিকুলি খানকে। তিনি এটির মূল কারণ খুঁজে বার করেন। তদন্তের সমীক্ষাটি সরকারি ইতিহাস, আলমগীরনামাতে উল্লিখিত রয়েছে। আজমেড়ে (দেওরাই ১৪-১৪ মার্চ) শাহী বাহিনীর বিরুদ্ধে দারার জেতার মিথ্যা সংবাদ এবং আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্যে পালিয়ে যাওয়ার একটা উড়ো খবর আসে পিয়ালপুরে। এই দুটি খবর জুড়ে, একে সম্রাটের পরাজয় ভেবে সেনাবাহিনীর একটি অংশ হতোদ্যম হয়ে পড়ে। রাজপুতদের ধারণা হল যুদ্ধ জিতে রাজপুতানাজুড়ে দারা তাদের সমাজের প্রতি প্রতিহিংসার নামিয়ে আনতে পারেন। এছাড়াও সুজাকে তাড়া করতে গিয়ে যেভাবে মীর জুমলা ঘুরপথ ধরেছেন, তাতেও বাহিনীর সেনাপতিদের মীর জুমলার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে সন্দেহ জাগছিল। তাদের মনে হচ্ছিল দারার জয়ের সংবাদ মীর জুমলার কাছেও পৌঁছেছে। তিনি হয়ত পথ খুঁজছেন আওরঙ্গজেবের পালানোর পথ ধরে শাহজাদা সুলতান মহম্মদকে সঙ্গে নিয়ে গোপন দাক্ষিণাত্যে পালিয়েও যাওয়ার।
পলাতকেদের বোঝানোর বা শাস্তি দেওয়ার পথে না গিয়ে মীর জুমলার বাহিনী তখনও প্রায় ২৫,০০০ পদাতিক সমৃদ্ধ, দারার প্রায় দ্বিগুণ, আরও দুরন্ত গতিতে আঘাত করার পরিকল্পনাকে এগিয়ে চলল।
৭। মীর জুমলার রাজমহল দখল
বীরভূমের জমিদারের বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে সাম্রাজ্যের বাহিনীর অগ্রগতির সংবাদ পেয়ে সুজা রাঙ্গামাটি ছেড়ে রাজমহলের দিকে চললেন। এখানে তিনি কিছুদিন আগেই শিবির ফেলেছিলেন। মীর জুমলার নেতৃত্বে বাহিনী সুজার ঢাকা পালিয়ে যাওয়ার পথ রোধ করতে উখরা থেকে উত্তর-পূর্বের দিকে মুর্শিদাবাদের গঙ্গা ধরে সুজার বর্তমানের অবস্থানের ৩০ মাইল কাছে বেলঘাটায় পৌঁছনোয় সুজার দোদুল্যচিত্ত সন্দিহান সঙ্গীরা একে একে তাঁকে ছেড়ে যেতে শুরু করে। সুজার প্রতি বিশ্বস্ত থাকার দুটি অবশ্যম্ভাবী পরিণতি সুজার বন্ধুরা দেখলেন, বিপুল পরিমান সাম্রাজ্যের বাহিনীর হাতে কচুকাটা হওয়া এবং অথবা অসভ্য আরাকানের দিকে পালিয়ে যাওয়া।
গঙ্গার পর পাড়ে মীর জুমলার নেতৃত্বে সাম্রাজ্যের বাহিনী শিবির গড়ার খবরে সুজা তাঁর দিকের (পশ্চিম) তীরটিকেও নিরাপদ মনে করলেন না। আলিবর্দি খানের এবং তাঁর নিজের বাহিনী মিলিয়ে যেহেতু ৫-৬ হাজার থেকে খুব বেশি হলে ২০ হাজারের বেশি হবে না, ফলে শাহী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্তে যে বাহিনীতে বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। সেনাপতিদের দলের প্রধান মির্জা জান বেগ, যার পদবী খান জামানএর পরামর্শক্রমে সুজা তাঁর শিবির তুলে নিয়ে এলেন তাণ্ডায়, গৌড়ের চার মাইল পশ্চিমে (যেখানে তাঁর নিরাপত্তার জন্য একদিকে রয়েছে গঙ্গা আর অন্যদিকে প্রচুর নালার সমাহার) সাম্রাজ্যবাদী সেনাবাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে এবং নতুন করের নৌবাহিনী তৈরি করে নিজের কমতে থাকা ক্ষমতাকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজ শুরু করলেন। সুজা এই যুদ্ধটা নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী রূপ দিতে চাইছিলেন নৈবাহিনী এবং গোলান্দাজ বাহিনী সম্বল করে। ১৬৫৯-এর ৪ এপ্রিল সুজা রাজমহল ছেড়ে ১৩ মাইল দক্ষিণে দেওগাছিতে গঙ্গা পার হলেন, এবং তাণ্ডায় আসতে তাঁর পরিবার নিয়ে ফিরোজপুরে এলেন। গঙ্গাজুড়ে নৌবাহিনী এবং পরিখা তৈরি করতে আলাপালোচনা শুরু করলেন।
সুজার রাজমহল ত্যাগের সংবাদ পৌঁছল বেলঘাটায় মীর জুমলার শিবিরে। শাহজাদার ছেড়ে যাওয়া এলাকা দখল করতে তিনি সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের দিকে অভিযান করলেন। ১৩ এপ্রিল তিনি একটি রথে জুলফিকার খান, এবং শাহজাদাকে নিয়ে রাজমহল প্রবেশ করে সেখানকার প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করলেন ৫,০০০ বাহিনীর সেনাপতি জুলফিকার খানকে। তাঁর সঙ্গে সাহায্যকারী হিসেবে দিলেন সৈয়দ ফিরোজ খান, জবরদস্ত খান, রাজা ইন্দ্রদুম্ন এবং দেবী সিংহকে। সুজার সেনাবাহিনীর ৪,০০০ সেনা তাঁর সঙ্গে গঙ্গা পেরোতে পারে নি, তাঁরা রাজমহলে ফিরে এলে নতুন প্রশাসনে তাদের নিয়ে নেওয়া হয়। আলমগীরনামায় বলা হয়েছে, ছেড়ে যাওয়া এই শহরে তখনও সুজার আধিকারিক এবং তার বাহিনীর নানান ধরণের রসদে ভর্তি ছিল। এবং সুজার বাহিনীকে প্রতিশ্রুতি দিতে হয় যে তারা এই শহর লুঠের চেষ্টা করবে না। সম্রাটের নির্দেশে এতবর খানের তত্ত্বাবধানে এই শহরের নিরাপত্তাবিধান করা হল। রাজমহল থেকে হুগলী পর্যন্ত গঙ্গার ডানদিকের তীরের সমগ্র এলাকাটা মীর জুমলা দখল করে নিলেন। ব্রিটিশ কুঠিয়ালেরা তাকে বাঙলার নবাব বলেই মেনে নিল। (চলবে)