| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ইফতিতাইসুলতানিওয়াশুল-ই-কুল : আকবর এবং আওরঙ্গজেব (শেষ কিস্তি) : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৫৮৮ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২

আজ শেষ হল আকবর আর আওরঙ্গজেব ধারাবাহিকের দ্বিতীয় পর্ব। কাল থেকে শুরু হবে মীর জুমলা।

বাংলার নিজামতে আসীন হলেন মীর জুমলা

সুজার আরাকানে পালানো এবং মীর জুমলার শাহী বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে ঢাকা প্রবেশের সংবাদে উদ্বেল হয়ে টানা দশ দিনের উতসবের নির্দেশ দিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেব (২৪মে)। খাজওয়া যুদ্ধের শেষ হওয়া থেকে শেষ ষোল মাস মীর জুমলা সমস্ত বিপুল বিপদ সামলে, অচেনা পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়ে যেভাবে সাম্রাজ্য সেবায় সাফল্য লাভ করেছেন, সেই কাজের পুরস্কার স্বরূপ, কৃতজ্ঞ সম্রাট তাঁকে বাঙলার সুবাদার পদে নিয়োগের ফরমান জারি করলেন।

ঢাকার দরবারে পাঠানো শাহী ফরমানে পাদশাহ স্পষ্টভাবে মীর জুমলার নবাব, সুবাদার পদপ্রাপ্তির কারণ উল্লেখ করে লিখছেন ‘…যে বিজয় মীর জুমলা অর্জন করেছেন, সেই বীর্যবত্তায় একজন মহান ক্ষমতাশালী চক্রবর্তী রাজাও পরম গর্বিত হতেন, এবং যে আনুগত্যে, যে সাহসিকতায়, যে দক্ষতায়, যে প্রজ্ঞায় তিনি যুদ্ধ পরিচালনা করে সাফল্য অর্জন করেছেন, তাঁর পদপ্রাপ্তি সেই সব গুণেরই প্রতিফলন মাত্র’। এই সময়ে মীর জুমলা তাঁর পুত্রকে লিখছেন, বাংলায় প্রশাসনিক ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। তাই এই প্রদেশে যোগ্য সুবাদারের পদপ্রাপ্তি মুঘল সাম্রাজ্যের পক্ষে খুব জরুরি পদক্ষেপ। মাথায় রাখতে হবে স্বয়ং আকবর বাঙলা বিজয় নিয়ে খুব ভুগেছিলেন। বাংলাকে দাগিয়ে দিয়েছিলেন বিদ্রোহের ঘর বা বুলগাখানা নামে। আওরঙ্গজেব বাংলার নতুন নবাবকে লিখলেন, ‘সামগ্রিকভাবে, বহু বছর ধরে, বাঙলার প্রশাসনে গাছাড়া মনোভাব, শৈথিল্য, আনুগত্যের অভাব, এবং বিদ্রোহ রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে রয়েছে। সে সব তথ্য তোমার অজানা নয়… প্রত্যেক জেলায় স্থানীয় ক্ষমতাশালীদের মদতে দাঙ্গা আর বিদ্রোহের আগুণ জ্বলছে।’ এর আগে মীর জুমলা বাঙলার সুবাদারির পদ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এই যুক্তিতে, যে এই স্বার্থপর পদক্ষেপে তাঁর অনুগামীরা তাকে ভুল বুঝে তাঁর থেকে দূরে সরে যাবে। কিন্তু পাদশাহের যুক্তি ছিল বাঙলার মত গুরুত্বপূর্ণ এবং দূরে থাকা সুবার দায়িত্ব তিনি মীর জুমলা ছাড়া সেই মুহূর্তে অন্য কারোর হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে বিন্দুমাত্র উতসাহী নন, কেননা মীর জুমলা বৃদ্ধ হলেও, বাঙলা শাসন করতে পারা নিয়ে তাঁর মত যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ তখন আর একজনও মুঘল সাম্রাজ্যে নেই – আর মীর জুমলার আনুগত্য, দক্ষতা সততা, বিচারের পদ্ধতি এবং নৈতিকতা সম্রাটকে বাধ্য করেছে তাঁকে এই পদে নিয়োগ করতে।

ফরমানে বলা হল, মীর জুমলার পূর্ব পদে থাকার সময় বরাদ্দ মনসব ছাড়াও হফত হাজার সওয়ারের মধ্যে ৩০০০ সওয়ার হবে শেহ আসপা দু আসপা বরাদ্দ হল। এক কোটি দাম(৪০ দামে ১ টাকা; দাম অর্থে তামার মুদ্রা) বেতন ছাড়াও তনখা হিসেবে আগের সুবাদারদের জন্য বরাদ্দ মহালগুলি থেকে বেছে বেছে সব থেকে ভাল জাগিরগুলি দেওয়া হল। উপহার হিসেবে অর্পণ করা হল একটি অপূর্ব খিলাত, কন্সটানটিনোপলের তুর্কি সম্রাটের আস্তাবলে থেকে শাহজাহানের ৩১তম জালুসে (বছরে)র উপলক্ষ্যে উপহার পাঠানো সব থেকে ভাল, দ্রুততম ইরাকি এবং আরবি ১০টি ঘোড়া; এর সঙ্গে সম্রাটের নিজের আস্তাবলের আরও ৪০টি তাতারি (তুর্কি, ইংরেজদের ভুলভাল উচ্চারণে টাট্টু ঘোড়া) ঘোড়া, একটি মদ্দা হাতি সহ কয়েকটি হাতি। এর পরেও তাকে চয়েসদ দিয়ে বলা হল, তাঁকে বরাদ করা কোনও মহালকে তিনি যদি অবাঞ্ছিত মনে করেন, এবং সেই অঞ্চল বদলে যদি অন্য কোন ভাল পরগণা মহাল হিসেবে চান, তাহলে তার ইচ্ছে পাদসাহকে জানিয়ে দিলে, সেটি বদল করে দেওয়া হবে। একটি রত্ন খচিত কোমর বন্ধনী তাঁর সঙ্গে রত্ন খচিত তরবারি, যেটির হাতল আকীক (agate) রত্নদ্বারা তৈরি উপহার দেওয়া হল।

আওরঙ্গজেব তাঁকে বিশেষভাবে নির্দেশ দিলেন প্রদেশের বিক্ষুব্ধদের শান্ত করতে, আইনভঙ্গকারীদের শাস্তি দিতে, গোলান্দাজ এবং বন্দুকবাজদের আয়ত্ত্বে আনতে — বিশেষ করে নোবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজগুলিকে ঠিক করতে, রাস্তা সারাই করতে, রাজপথের আবাধ গতায়াতের বন্দোবস্ত করতে। এই কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী বাংলার নিজামত থেকে বিধবদ্ধভাবে জারি করতেও নির্দেশ দেওয়া হল। সম্রাট তাকে লিখলেন, ‘অশক্তের ওপর ক্ষমতাশালীর হাত, শোষকের ওপর শোষিতের হাত বলপূর্বক সরিয়ে দেবে। জীবনের সব ক্ষেত্রে শারিয়তের আইন প্রযুক্ত এবং বিচার সুনিশ্চিত করবে। সর্বশক্তিমানের সৃষ্টি সব জীবের বিশেষ করে গৃহী এবং বিদেশি ভ্রমণকারীদের শান্তি দেওয়া এবং তাদের উন্নয়ন ঘটানো দরকার, আর সীমান্তের ওপর সদা সতর্ক নজরদারি থাকুক। অত্যাচারীদের অত্যাচার থেকে মুক্ত হয়ে যাতে কৃষকেরা যাতে চাষের কাজ অবাধে করতে পারে সেই দিকে তোমার মনযোগ ধাবিত হোক।’

পরগনার বিভিন্ন বিদ্রোহী জমিদার বিশেষ করে অসমীয়া এবং মগেদের শাস্তি দেওয়ার কাজে মীর জুমলাকে নির্দেশ দিলেন। কেননা এরা মুসলমানদের ওপর অত্যাচার এবং দুর্ব্যবহার করত। ইসলামের সৌভাতৃত্ব এবং ধর্মাচার অবাধ করার জন্য তিনি মীর জুমলাকে নির্দেশ দিলেন। আওরঙ্গজেব কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সেনানী, আমলাকে অন্তত এক বছর বাংলায় থাকার নির্দেশ দিয়ে কয়েকজনকে দিল্লিতে ডেকে নিয়েছিলেন। তিনি জানালেন যদি মীর জুমলা দিল্লিতে ডেকে নেওয়া আমলাদের মধ্যে থেকে কাউকে যোগ্য মনে করে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব সম্রাটকে দেন তাহলে তাঁর অনুরোধ পালন করা হবে।

আওরঙ্গজেবের ৪৪তম জন্মদিবসে (১৫ জুলাই, ১৬৬০) মীর জুমলার সুজার বিরুদ্ধে জয় স্মরণে রাখতে তাকে নতুন করে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাঙলা জয়ের জন্য তিনি খানইখানান এবং সিপাহসালার উপাধি অর্জন করলেন, ৭০০০ মনসবদার করা হল তাকে, পাশাপাশি তাঁর পদকে আরও ২০০০ দু আসপা শেহ আসপা বাড়ানো হয়। তাঁর ব্যক্তিগত অনুগামীর মধ্যে ২০০০কে দু আসপা শেহ আসপা করা হয়। এই উপলক্ষ্যে তাকে একটি বিশেষ খেলাত এবং একটি সোনার তরোয়ালও দেওয়া হয়।

বাংলায় শুরু হল ভারতের শ্রেষ্ঠ সম্রাট আওরঙ্গজেবের অধীনে মাত্র কয়েক বছরের নবাব মীর জুমলার রাজত্ব।

আওরঙ্গজেবের সিংহাসন সমারোহ

সব যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে একে একে হত্যা করে আওরঙ্গজেব নিষ্কণ্টক হলেন। এবারে তিনি দ্বিতীয় দফায় মহাসমারোহে সিংহাসন আরোহণের উৎসব আয়োজন করবেন।

প্রথম দফায় ১৬৫৮য় আগরায় ঢুকে আওরঙ্গজেব বর্ণহীনভাবে সিংহাসনে আরোহণ করেছেন। তখনও ভাইদের মধ্যে সিংহাসন দখলের লড়াই শেষ হয় নি। মুরাদ কারাগারে, সম্রাট শাহজাহান নামে বন্দী, তাদের সমর্থকেরা দিল্লিতে সক্রিয়ভাবে আওরঙ্গজেব বিরোধিতায় সদা ক্রিয়াশীল। দারা পালাচ্ছেন, কিন্তু সম্পদের অভাবে নয়, আওরঙ্গজেবের মত দক্ষ সেনানায়কের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে। লাহোরে বড় বাহিনী তৈরি করার উদ্যম নিয়ে ব্যর্থ হওয়ায়, শত চেষ্টা করে বাহিনী তৈরি না করতে পারার অযোগ্যতায়। খাজওয়া যুদ্ধের পর পলাতক শাহ সুজার পিছন নিয়েছেন কিংবদন্তী সেনাপতি মীর জুমলা। সম্রাট-দারা-জাহানারা অক্ষ আজ তুলনামূলকভাবে ক্ষমতাহীন হলেও, জাহানারা, আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে দারাকে বাহিনী গড়ে তুলতে বিপুল সম্পদ বিনিয়োগ করছেন এবং সাম্রাজ্যজোড়া রাজনৈতিক, ধর্মীয় যোগাযোগ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন সক্রিয়ভাবে। তিনি জানেন দারার রাজনৈতিক পুনর্বাসনের ওপরে নির্ভর করছে তাঁর আর বৃদ্ধ পিতার মুঘল হিন্দুস্তানজুড়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠার ভবিষ্যৎ। আওরঙ্গজেব যখন ক্ষমতা দখলের মুখে দাঁড়িয়ে, তাঁকে কেন্দ্রে রেখে চার ভায়ের মধ্যে সাম্রাজ্য ভাগ করার সম্রাটের প্রস্তাব পাদিশা বেগম জাহানারার মস্তিষ্কপ্রসূত। দারাকে বাঁচানোর ঘোমটা পরা এই প্রস্তাব আওরঙ্গজেব বাতিল করেন। দারার বিরুদ্ধে দুটো যুদ্ধ জিতে দখল করা ক্ষমতা আর আগামী দিনে ভাইদের বিপক্ষে আর্থিক এবং মানবিক সম্পদ জোগাড় করার জন্যে প্রথম দফায় আওরঙ্গজেবের দ্রুত সিংহাসনে আরোহণ করা জরুরি ছিল। কিন্তু সম্রাট আর পাদিশা বেগম জাহানারার অমিত সম্পদ নিয়েও পলাতক দারা সিংহাসনের যুদ্ধে দাঁত ফোটাতে পারলেন না। সিংহাসনে আরোহনের কোনও প্রথা পালন না করেই প্রথমে দারাকে পাঞ্জাবে তাড়া করেছেন পরে দিল্লি অভিযান করা সুজার বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করে দুজনকেই হারিয়েছেন। নতুন সময়ে নতুন কালপর্বে নতুন করে জাঁকজমকের সিংহাসন আরোহনের পরিকল্পনা করলেন নতুন সম্রাট আওরঙ্গজেব। দেশকে বার্তা দেওয়ারও প্রয়োজন ছিল।

১২ মে আওরঙ্গজেব খাজওয়া জিতে আর আজমেঢ়ের সফল অভিযান সেরে দিল্লিতে ঢুকে খিজিরাবাদে শিবির তৈরি করে সিংহাসন আরোহণ পর্ব শুরু করার নির্দেশ দিলেন। ঠিক হল জ্যোতিষীদের নির্দেশ মত ভোরে মিছিল শুরু হবে। সকালে উঠে দিল্লিবাসী বিশাল লম্বা মিছিল দেখল — প্রথমে শাহী নাকাড়া বাহিনী, তার সঙ্গে আকাশ বাতাস মুখরিত করা বাদ্যযন্ত্রীর সার। এরপরে সার দিয়ে আসবে বিশাল দেহে সোনা রূপোয় ঝালর, কাপড় আর শৃঙ্খলে মোড়া দামি ধাতুর ওপারে কাজ করা হাওদা পিঠে আর গলায় ঝোলানো নানান আকারের সোনা রূপোর ঘন্টা সহযোগে হাতির দল। সঙ্গে সোনা রূপো দামি রত্ন খচিত জিন রেকাব আর লাগামওয়ালা তুর্কি আর আরবি ঘোড়সওয়ার বাহিনী। পিছনে মাদি হাতি আর দুকুঁজওয়ালা উটের সারি। তার পিছনে ঘন করে বন্দুকচি, তীরান্দাজ, হাউই সেনা দল। অভিজাত মন্ত্রী আর আমিরদের দল রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের চোখ টানছে তাদের ঐশ্বর্য দেখিয়ে। সবার পিছনে এলেন সব থেকে উঁচু হাতি, পিঠে বাঁধা সোনালি সিংহাসনের ওপরে বসা আওরঙ্গজেব আলমগির গাজি পাদিশাইহিন্দ।

ডাইনে বাঁয়ে, পিছনে মনসবদারির, পারিবারিক সম্মানের নির্দিষ্ট শ্রেণীক্রম মেনে শাহী পরিবারের সদস্য সহ সম্রাটকে সেনাপতিদের বাহিনী ঘিরে রেখেছে। রাস্তার পাশে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে দিল্লির অবাক জনগণ বিজাপুর আর গোলকুণ্ডার সুলতানের বিরুদ্ধে কঠিন যুদ্ধ বিজয়ী, মুরাদকে গ্রেফতার করা, দারা, সুজাকে দুটো যুদ্ধে হারিয়ে শাহজাহানকে বন্দী বানিয়ে আওরঙ্গজেবকে সম্রাট পদে অভিষিক্ত করা একের পর এক অভিজ্ঞ সেনাপতিদের অবাক চোখে দেখছিল। হাতির হাওদার ওপর থেকে মুঠো মুঠো রূপো আর সোনার টাকা জনগণের মধ্যে ছুঁড়ে দিচ্ছিল রাজকর্মচারীরা। পুরনো দিল্লির বাজার হয়ে কেল্লায় লাহোর দরজা দিয়ে ঢুকে মিছিল শেষ হল। দেওয়ানিআমওখাস দরবারের সিংহাসনে সম্রাট কিছুক্ষণ বসলেন। অভিজাতরা তাঁর সামনে তাদের সাধ্যমত পেশকাশ দিলেন। শেষে তিনি জেনানায় ঢুকবেন।

চল্লিশ স্তম্ভের চেহেলসেতুন দৌলতখানাইখাসওআম, আম ইতিহাসের বয়ানে আম দরবার [সম্রাট শাহজাহানের তৈরি কাঠের দৌলতখানাইখাসওআম স্থাপত্য চেহেলসেতুন (৪০ স্তম্ভের কক্ষ)। হাইপোস্টাইল (স্তম্ভ আর খিলান যুক্ত বড় হল) মসজিদের আকারে তৈরি; মাথায় লাল রঙের শামিয়ানা; তৈরি হয় ১৬৩৭-এ; পাথরের হয় ১৬৪০-এ] সাজানো হয়েছে লাল রঙে পারসিক ভেলভেটের কাপড়ে আর গুজরাট থেকে আনা ফুলেল ব্রোকেডে। খিলানগুলো থেকে রত্ন খচিত সোনার শিকলিতে এক ঝাঁক অদ্ভুত সুন্দর সোনা রূপোর ঘন্টা ঝুলছে। চেহেলসেতুনের ঠিক মাঝখানে সোনার রেলিং ঘেরা অঞ্চলে হিরে, রুবি, টোপাজ খচিত ময়ূর সিংহাসন [রত্নখচিত সিংহাসন (তখতই মুরসসা), যাকে আমরা ঔপনিবেশিক ভাষ্যে ময়ূর সিংহাসন নাম দিয়েছি। সে সময়ে এর মূল্যমান কত? চন্দর ভান ব্রাহ্মণ চাহার চমনে জানাচ্ছেন শুধুই এই সিংহাসন বানানোর খরচ ইরাণ এবং মধ্য এশিয়ার মুঘল প্রতিযোগী সব কটা রাজত্বের সারা বছরের খরচের থেকে বেশি (খরজ-ই কিশওর-ই ইরাণ-ও-তুরাণ) ১ কোটি টাকা। আবদুল হামিদ লাহোরির পাদিশানামা থেকে ময়ুর সিংহাসনের বর্ণনা দিতে গিয়ে যদুনাথ সরকার লিখছেন ময়ূর সিংহাসনে মিনা করা হাজি মহম্মদ জান কুদসির ২০টি শ্লোক খোদিত ছিল যার শেষ তিনটে শব্দ আওরঙ্গইশাহেনশাহইআদিল]। বাঁ এবং ডান দিকে এনামেল মোড়ানো দুটো শাহী কাউচ। তার পিছনে এক সার সোনার খাটিয়া — তার ওপরে রত্ন খোদাই তরোয়াল, বর্ম, ঢাল আর বর্শা প্রদর্শন করা। প্রেক্ষাগৃহজুড়ে আর সামনের খোলা জায়গা রূপোর দণ্ডের ওপর দামি সুদৃশ্য কাপড়ের শামিয়ানায় ঘেরা; বাইরে উপস্থিত জনগণের জন্যে বিশাল আকারের একই ধরণের শামিয়ানা টাঙানো। পায়ের তলায় বহুমূল্য রংবেরঙের গালিচা। দরজা, দেওয়াল সুদৃশ্য কাপড়ে ঢাকা, চিনাংশুক, তুর্কি, ইয়োরোপীয় ছবি, সোনার টিস্যুতে ছয়লাপ। প্রেক্ষাগৃহ নয়ননাভিরাম রেলিং দিয়ে ঘেরা। ভেতরে প্রখ্যাত অভিজাতদের জন্যে রেলিং দেওয়া আরও একটি ঘেরাটোপ। সেখানে তাদের চোখ ধাঁধানো ষড়ৈশ্বর্য সহকারে প্রখ্যাত মন্ত্রী, আমলা, অভিজাত, শাহী পরিবারের সদস্যরা বিরাজমান।

জ্যোতিষীদের জল আর বালু ঘড়ি মতে স্থির করে দেওয়া সূর্যোদয়ের পর ৩ ঘন্টা ১৫ মিনিট বাদে সিংহাসনে আরোহণ করলেন নতুন সম্রাট। দর্শকাসন থেকে জয়ধ্বনি উঠল, শাহী নাকাড়া বেজে উঠল তারস্বরে — শব্দ শোনা গেল কয়েক মাইল দূর পর্যন্ত, গায়কেরা গান গাইলেন নর্তকেরা নাচলেন। পাশের উঁচু বেদি থেকে পরিষ্কার গলায় উঁচু স্বরে খুতবা পাঠ শুরু হল। খুতবা পাঠের সময় সম্রাটের উপাধি উচ্চারণ শুরু হতেই তাঁকে একটি সোনার সুতোয় বোনা বহুমূল্য খেলাত পরিয়ে দেওয়া হল, অর্থও উপহার দেওয়া হল। বিশাল পাত্রে চূড়ো করে দরবারে নিয়ে আসা নানান ধরণের দামি মণি মুক্তো অভ্যাগতদের সামনে ছড়িয়ে দেওয়া হলে ভাগ্যবানেরা সেগুলো জামার পকেটে ভরে রাখলেন সম্রাটের আশীর্বাদী আর ভাগ্য ফেরানোর রত্ন হিসেবে। অভিজাত দরবারিরা তসলিম করে সমস্বরে বলে উঠলেন, আমাদের সময়ের খলিফ দীর্ঘজীবি হোন। সম্রাট উপস্থিত কয়েকশ আমীর অভিজাতকে সুদৃশ্য খেলাত উপহার দিয়ে সম্মান জানালেন। প্রত্যেকের ওপরে সুগন্ধী জল ছড়িয়ে দেওয়া হল, হাতে হাতে রূপোর তবকওয়ালা, আতর অগুরু আর এম্বার্গিজের (তিমির পেটে দামি সুগন্ধ) স্বাদ আর সুমিষ্ট গন্ধওয়ালা পান দেওয়া হল। ঘর তখন ধুপবাতির সুমিষ্ট গন্ধের মাতোয়ারা।

ততদিনে নতুন সম্রাটের নামে নতুন মুদ্রা তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যের কথা তিনি, বাবার সময়ের মত মুদ্রায় কোরান থেকে কালিমা উতকীর্ণ করেন নি, মুদ্রায় একটি পারসিক বয়েত লেখা ছিল, King Aurangzib ‘Ālamgir Stamped coins, in the world, like the bright full moon। এর উলটো দিকে লেখা হল টাঁকশালের নাম, ছাপাবার বছর এবং তুঘ্রা লিপিতে সম্রাটের সম্পূর্ণ উপাধি আবুল মুজফফর মুইহুদ্দিন্মহম্মদ আওরঙ্গজেব বাহাদুর আলমগির পাদিশা গাজি।

দেওয়ানিআম ও খাস-এর অনুষ্ঠান শেষ হল সম্রাটের সিংহাসনে আরোহণের প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদ ফরমান, মুঘল প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত সুবা আর সমস্ত শহরের প্রশাসকদের পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে। এইভাবে দেওয়ানিআমওখাসে ২ ঘন্টা ৪৮ মিনিটের অভিষেক পর্ব শেষ হলে শেষে সম্রাট গৌরবময় জেনানায় প্রবেশ করে ফুলের জলসায় দরবার আয়োজন করলেন। প্রত্যেক শাহী জেনানা সম্রাটের সম্মানে, তাদের প্রত্যেকের সামর্থ মত সোনা রূপো মুক্তো গহনা ইত্যাদি পেশকাশ দিলেন। সম্রাটের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে পালটা উপহার দেওয়া হল। এতদিন শাহজাহানের হয়ে পাদিশা বেগমের যে দায়িত্বভার সামলানোর কাজ জাহানারা পালন করতেন, সেই কাজের ভার দেওয়া হল সিংহাসনের লড়াইয়ের সময় আওরঙ্গজেবের পাশে থাকা রৌশেনারাকে। আওরঙ্গজেবের চার কন্যা পেলেন যথাক্রমে ৪, ২, ১.৬, ১.৫ লক্ষ টাকা।

জেনানায় কাজকর্ম শেষ হলে সম্রাট গেলেন দেওয়ানি খাসে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন অভিজাত, আমলা, জ্ঞানী, কবি, সঙ্গীতকারকে সঙ্গে নিয়ে। সেখানে তিনি ৪৮ মিনিট সময় কাটালেন। ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। অনেকেই পক্ষ পরিবর্তন করে সিংহাসনে আরোহণ বিষয়ে স্তুতিমূলক কবিতা লিখলেন, উত্তম কবিকে উপহার আর সম্মান দেওয়া হল।

সিংহাসনে আরোহণ করেই সম্রাট আকবরের সময় থেকে চলে আসা চরম জাঁকজমকের পারসিক নওরোজ উৎসব বাতিল করলেন। তথ্য রাখা এবং রাজকীয় কাজকর্ম গণনা করা শুরু হল চান্দ্র হিজিরা বছর অনুযায়ী। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় স্তরে প্রজাদের নৈতিক স্থাস্থ্য ঠিক রাখার জন্যে মুহতসিব নিয়োগ করলেন। মদ্যপান নিষিদ্ধ হল। জনগণের ওপর চাপানো প্রায় ৬৫টা কর তিনি রদ করলেন।

সিংহাসনে আরোহণের পর দিন থেকে শুরু করে সারা সপ্তাহ জুড়ে উৎসব পর্ব চলল। প্রথমে দিল্লি, পরে আশে পাশের, তারপর দূরের অভিজাত, আমলা, সেনাপতি, জমিদারদের থেকে বিপুল পরিমাণ পেশকাশ আসতে থাকল। একই সঙ্গে সম্রাট তাদের পদ দিলেন, হাতি, ঘোড়া, গয়না, রত্নখচিত তরবারি, ছুরিকা, গলার হার, পাগড়ি, পাগড়ি সজ্জা, কোমরবন্দ এবং অন্যান্য উপহার পেলেন।

রাতে যমুনার দুই পাড়ই আলোদিয়ে ফুল ফোটার মত উজ্জ্বল করে সাজানো হল। অভিজাতরা বজরায় আলো সাজিয়ে নাচিয়ে গাইয়েদের নিয়ে সারা রাত যমুনাকে রাঙ্গিয়ে দিলেন। আমজনগন তীরে সন্ধ্যে থেকে সারা রাত সার দিয়ে নদী উৎসব দেখল। ২৪ জুন হল আতসবাজির খেলা। শাহী বাহিনীর গোলান্দাজেদের দক্ষতায় যমুনার তীরে টাল দেওয়া বারুদের নানান উপকরণ নিয়ে অন্ধকার রাত উজ্জ্বল হল। সম্রাট নিজে ঝরোখায় দাঁড়িয়ে থেকে সারা রাত আতসবাজির খেলা দেখলেন।

তিনি এখন চল্লিশ। একটা প্রশ্ন উঠতে পারে সিংহাসনে আরোহণ করার কালে আওরঙ্গজেব কেমন দেখতে ছিলেন – ইয়োরোপীয় মুসাফিরদের বয়ান মিলিয়ে মিশিয়ে তাঁর চেহারার একটা কাঠামো দাঁড় করানো গেল – কয়েক মাস হল তিনি চল্লিশ পেরিয়েছেন। রোগে ভোগা রোগা লম্বা চেহারা; পা থেকে মাথা পর্যন্ত বাঁশের মত একহারা; এক পলকে বোঝা যায় যে শিশু বাল্যকালে বাবার বিদ্রোহের সুযোগে বাংলায় ২৬ দিন কাটানোর সময় মির্জা নাথান শিতাব খানের জন্যে খুররমের বরাদ্দ করা কলাটি লুকিয়ে খেয়ে বাবার বকুনির মুখোমুখি হয়েছিল, সে এখন অন্য মানুষ, অন্য মানসিকতার জীবন যাপন করেন; মুঘল বিশ্বে চার দশক কাটিয়ে সাম্রাজ্যের প্রতিটি কোণা হাতের তালুর মত চিনে হিন্দুস্তানের অধীশ্বর হওয়ার মত ব্যক্তিত্ব, প্রভূত্ব অর্জন করেছেন বহু ঘসা-মাজায়; মুখটা যত না গোলাকার, তার থেকে বেশি লম্বাটে; চেহারা আর মুখমণ্ডলে অনপনেয় যৌনতা-নিয়ন্ত্রিত শান্ত যৌবনের ছাপ; কিন্তু নাক আর চিবুকে সেই জোরালো ধারালো ভাবটা আসতে তখনও বেশ দেরি; ঘন ভুরু, বাবার মত লম্বা তামাটে চাপ দাড়ি রাখছেন ৩০ তম জন্মদিন থেকে; চওড়া কপালের নিচে গভীর অন্তর্ভেদী চোখ, যার অতলতাকে কোনও ভয়, কোনও বিপদ টলাতে পারে না, সে দৃষ্টিতে বন্ধুরা শান্তি আর স্বস্তি অর্জন করে

তিনি এখন চল্লিশ। মুঘল হিন্দুস্তানের নতুন সম্রাট। নতুন ভূমিকায় মানিয়ে নিয়েছেন দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অসীম ক্ষমতা হাতে নিয়ে। বাবা-দিদিকে নজরবন্দী করেছেন। কিন্তু একটা অনারব্ধ কাজ পড়ে আছে সেটি হল পূর্ব সম্রাট এবং সিংহাসন দখলের যুদ্ধে প্রবল বেগ দেওয়া দারা শুকোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ [এটা নিয়ে আমরা আগেই আলোচনা করেছি]। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে দারা ধরা পড়লেন। উৎসবের সময় গড়াল দুমাসের বেশি — শেষ হল ১৯ আগস্ট। তিনি সসাগরাহিমালয় মুঘল হিন্দুস্তানের শাসক হলেন। মারা যাবেন ১৭০৭এ।

সরকারিভাবে আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালের সময় উল্লেখ করা আছে ২৩ মে ১৬৫৮।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev