সিংহাসন যুদ্ধে পা দিলেন আওরঙ্গজেব
আওরঙ্গজেব-মীর জুমলা যুগলবন্দী
১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোরের ২৫ দিনে দিল্লির সব খবরই দক্ষিণের সুবায় আসছিল না। দক্ষিণের মুঘল সুবাদার আওরঙ্গজেবের ধারণা হল সম্রাটের এন্তেকাল ঘটেছে। বুঝলেন অবিলম্বে সিংহাসনের লড়াইএর প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। দেরি না করে অবিলম্বে সম্পদ সংগ্রহে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। মীর জুমলাকে (অক্টোবরের মাঝামাঝি দক্ষিণের লড়াতে নিযুক্ত) ‘যে কোন উপায়ে’ কিলাদারকে হাত করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পারেনদা ছেড়ে চলে আসতে লিখলেন। ১৫ অক্টোবর বিশ্বস্ত নিশানইখাস মার্ফৎ পাওয়া সংবাদে আওরঙ্গজেব বুঝলেন যে দিল্লির দরবারের নিয়ন্ত্রণ দারার হাতে, শাহজাহান যদি বেঁচেও থাকেন, তাঁর পক্ষে নতুন করে রাজকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণের সব ক্ষমতা এখন দারার হাতে এসে জমেছে।
আওরঙ্গজেব তাঁর পাশে মীর জুমলাকে চান — তিনি তার ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করতে পারেন ‘তুমি যে পরিকল্পনাটি ঠিক বলে মনে করবে সেটাই আমি সর্বান্তকরণে মেনে নেব’। তাঁর দরবারে এখন এমন কেউ নেই যে তাঁকে এই পরিস্থিতিতে যথাযথ পরামর্শ দিতে পারে। তিনি মীর জুমলাকে দু’চারদিনের মধ্যেই চলে আসতে লিখলেন। ঘটমান বর্তমানের প্রভাবে উত্তেজিত হয়ে থাকা আওরঙ্গজেবের অবস্থা বুঝে সুবাদারের মুনসি কাবিল খান দিল্লি থেকে সদ্য দক্ষিণে আসা উজিরকে রাজধানীর ঘটনাবলী সম্বন্ধে বীজাপুরীদের সামনে মুখ না খুলতে অনুরোধ করলেন। তিনি বললেন হয়ত আওরঙ্গজেব মীর জুমলার অবস্থা উদ্ধারে খুব তাড়াতাড়ি সেনাবাহিনী পাঠাবেন। মুনসি কাবিল খান মীর জুমলাকে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক উল্লেখ করে লিখলেন, ‘আপনি যদি মনে করেন আওরঙ্গজেবের বিচ্ছেদ আপনার ক্ষেত্রে অসহনীয়, তাহলে ভেবে দেখুন স্বয়ং আওরঙ্গজেব কতটা মনঃপীড়াতে ভুগছেন; তিনি জানেন, তাঁর জীবনে আপনার গুরুত্ব কতটা…। আপনার সহৃদয় উপস্থিতি তাঁকে চাঙ্গা করার জন্য যথেষ্ট মনোবল যোগাবে। এই মুহূর্তে আপনি ছাড়া তাঁর অন্য শুভচিন্তক নেই’।
৮ অক্টোবর শাহজাহানের স্বাস্থ্য আরও খারাপ হওয়ার সংবাদ পৌঁছল দক্ষিণে। হতিবুদ্ধি আওরঙ্গজেব মীর জুমলার পরামর্শে স্ত্রীকে ছেড়ে ১৮ই বিদর ত্যাগ করলেন। আওরঙ্গজেব সেই মুহূর্তে তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ঠাণ্ডা স্নায়ুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না। মীর জুমলাকে লিখলেন, বুদ্ধিশুদ্ধি সব গুলিয়ে যাচ্ছে, ঘটনার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকছে না, ‘আমার মন এতই বিক্ষিপ্ত হয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে যে আমি নিজে নিজে একটাও সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারছি না, পরিকল্পনা কষে উঠতে পারছি না। এই মুহূর্তে তুমি ছাড়া কোন বিশ্বাসী বন্ধু পরামর্শদাতা আমার পাশে নেই। সর্বশক্তিমানের ইচ্ছেয় তোমার শুভচিন্তা আমায় যথাযথ পথে থাকতে সাহায্য করুক। প্রত্যেক বিষয়ে আমার পদক্ষেপ কি হওয়া দরকার সে বিষয়ে তুমি আমাকে পরামর্শ দেবে, যাতে আমি নির্দিষ্ট দিশায় এগোতে পারি’। ২১ অক্টোবর সম্রাটের স্বাস্থ্য উন্নতির সংবাদে নিজেকে সামলে মীর জুমলাকে জানালেন, তিনি একটু দেরি হলেও, পারেনদা উদ্ধার করে সুবাদারের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন।
অক্টোবরে আগরার রাজস্ব আধিকারিকের থেকে খবর পেয়ে তার মনে হল, হয় ‘শাহজাহান মারা গিয়েছেন, না হয় ঘটনাবলীর ওপরে সম্রাটের আর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই, তিনি অথর্ব হয়েছেন’। দুটো পরিস্থিতিতেই অবস্থা আরও খারাপ হয়ে হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই তাঁর মনে হল, ঘটনাবলী নিয়ন্ত্রণে ‘বড় পরিকল্পনা’ ভাবা এবং রূপায়নের সময় চলে এসেছে। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে দেরি করলে ভুল হয়ে যাবে। মীর জুমলাকে লিখলেন পারেনদায় আর দেরি না করে অবিলম্বে পরামর্শ দিতে তার কাছে চলে আসতে, ‘আর দেরি করলে ঘটনাবলীর প্রবাহটি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে’। তিনি মীর জুমলাকে আশ্বাস দিয়ে বললেন যদি শাহজাহান সেরে উঠে (পারেনদার বিষয়ে) তার কাছে কৈফিয়ত দাবি করেন, কেন উজির পারেনদা উদ্ধার করতে পারলেন না, সে বিষয়ে উপযুক্ত উত্তর দেওয়ার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন সুবাদার স্বয়ং।
২২ অক্টোবর দিল্লি থেকে দারার ক্ষমতায় আরোহণের সংবাদ এল। তিনি বুঝলেন শাহজাহান বেঁচে থাকলেও বাস্তবিক জীবন্মৃত — তাঁর আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। আওরঙ্গজেব ঠিক করলেন পুত্র মুহম্মদ সুলতানকে বুরহানপুরে সেনাবাহিনী দিয়ে পাঠাবেন যাতে নাসিরি খানের মত সেনানায়কেরা দিল্লির ফরমান এলে স্থানীয় জমিদারদের থেকে সেনা জোগাড় করে তুরন্ত উত্তরের দিকে রওনা হয়ে যেতে না পারেন। কিন্তু পদক্ষেপটি সেহেতু সরাসরি সম্রাটের নির্দেশ উল্লঙ্ঘন এবং বিরুদ্ধাচরণ করা আর বিদ্রোহমূলক, তাই সুস্থ হলে সম্রাট শাহজাহানকে এই বিষয়টা বোঝানো যাবে কি না সে বিষয়ে আওরঙ্গজেব যথেষ্ট সন্দিহান ছিলেন। সিংহাসনের লড়াইতে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ঘটমান বর্তমানের দিকে তাকিয়ে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
মীর জুমলার গ্রেফতারি
এই প্রথম সম্রাট নিরপেক্ষ হয়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করে দক্ষিণ থেকে একের পর এক অভিজাতকে দিল্লিতে ডেকে নিচ্ছেন দারা। দিল্লি এবং সাম্রাজ্য জুড়ে ঘটে চলা প্রতিটা তুচ্ছ এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বিষয়ে সম্রাট নিষ্ক্রিয়। সাম্রাজ্য বিষয়ে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে দারা ক্ষমতায় আরোহণ করেছেন। এই কটা বিষয় আওরঙ্গজেবের কাছে পরিষ্কার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এতদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করে নিশ্চিত হলেন পারেন্দায় বলপ্রয়োগ করলেও মীর জুমলার কাছে মূল সমস্যার সমাধান অধরা থেকে যাবে। আওরঙ্গজেবের সেই মুহূর্তে সব থেকে বড় মাথা ব্যথা দিল্লির রাজসিংহাসন দখল। তিনি জানেন সিংহাসন দখলের মত গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা তৈরি এবং বাস্তবে প্রয়োগ করার কাজে মীর জুমলাকে সঙ্গে না পেলে, আওরঙ্গজেবের একার পক্ষে সে কাজ রূপায়ন যথেষ্ট কঠিন হয়ে পড়বে।
৬ নভেম্বর, পুত্র মহম্মদ আমীন খানের পাঠানো চিঠির সূত্রে মীর জুমলা ইঙ্গিত পেয়েছিলেন, দারা তার বিরুদ্ধে দরবারে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন। সেই সংবাদে ৯ নভেম্বরের মীর জুমলাকে আওরঙ্গজেব লিখলেন, ‘অজ্ঞকে প্রজ্ঞা শেখানো কী যায়? তাকে কীভাবে আঘাত করবে সেটা তোমার প্রজ্ঞার ওপর নির্ভর করবে। বড় শাহজাদার (দারাকে তিনি বড় ভাই নামে সম্বোধন করতেন) নির্দেশের প্রেক্ষিতে তোমার দীর্ঘকালের সঞ্চিত প্রজ্ঞার ওপর নির্ভর করে একটি সুদীর্ঘ ভূমিকা লিখে তার সাজানো মিথ্যাকে খণ্ডন কর। তুমি যা মনে করছি, সেটা স্পষ্টভাবে দরবারকে জানাও’।
দক্ষিণে থাকা মীর জুমলা দারার চাল নিষ্ফল করতে পারলেন না। ডিসেম্বর ১৬৫৭-র শুরুতেই মুরাদ এবং সুজার সঙ্গে আওরঙ্গজেবের হাত মেলানোর খবর দারার কাছে ছিল। বিন্দুমাত্র অপেক্ষা না করে শাহজাহানের নামে ফরমান জারি করে দারা দক্ষিণ থেকে মীর জুমলা এবং সেনাপতিদের দিল্লিতে ডেকে পাঠালেন। তিনি জানেন সেনাপতিদের বেশি দিন দক্ষিণে থাকা আওরঙ্গজেবের সরাসরি স্বার্থসিদ্ধি করবে এবং তার ভবিষ্যতের সিংহাসন দখলের পরিকল্পনায় হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠতে পারে। ১৯-এ নভেম্বর মীর জুমলাকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানোর ফরমান হাতে পেয়ে আওরঙ্গজেব যেন হতাশার অতল গহ্বরে তলিয়ে গেলেন। মীর জুমলার দক্ষিণ থেকে দিল্লি যাওয়া তার কাছে পরম অমঙ্গলের ইঙ্গিত। তিনি একই সঙ্গে খবর পাচ্ছেন দিল্লি অভিযান করা সুজার বিরুদ্ধে দারার বাহিনী যুদ্ধে বিজয়ী হচ্ছে। আওরঙ্গজেব মনে করলেন তার ঘনিষ্ঠতম সাথী মীর জুমলার দক্ষিণে থাকাটা খুব জরুরি। ২২ তারিখ হতাশ সুবাদার মীর জুমলা নিজের হাতে কে চিঠি লিখলেন বন্ধু সম্বোধন করে, ‘সর্বশক্তিমান তোমায় সাহায্য করুন! আমার নিজের অশান্তি নিয়ে কি আর তোমায় বলব! আমি জানি দিন কী ভাবে কাটছে! আমার হাতে ধৈর্য ধরা ছাড়া অন্য কোন নিদান নেই’!
অবশেষে হতবুদ্ধি অবস্থা কাটিয়ে আওরঙ্গজেব যেন নিজেকে ফিরে পেলেন। তিনি জানেন যুদ্ধ-অভিজ্ঞ, প্রশাসন-দক্ষ, বুদ্ধিমান, কুশলী, কূটনীতি-দক্ষ এবং বিপুল ঐশ্বর্যের অধিকারী মীর জুমলা ক্ষমতায় আরোহণ করা দারার সঙ্গে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে, সেটা তার পক্ষে বড় দুর্ভাগ্য আর অভিশাপের কারণ হবে। দক্ষিণের সুবাদার সক্রিয় হয়ে দিল্লির বড় শাহজাদার শেষতম অভিসন্ধি বিফল করতে মাঠে নামলেন। আওরঙ্গজেব ২৭ ডিসেম্বর জুমলাতউলমুলক মীর জুমলাকে মহম্মদ মুয়াজ্জমকে সঙ্গে নিয়ে বীর অঞ্চল ছাড়তে নির্দেশ দিয়ে বললেন দক্ষিণের সুবাদারের সঙ্গে দেখা না করে যেন কেউই দিল্লির পথ না ধরেন। ১৬৫৮-র ১ জানুয়ারি মীর জুমলা আহমদনগরে পৌঁছলেন। মীর জুমলাকে গ্রেফতার করে দৌলতাবাদ কারাগারে বন্দী করলেন আওরঙ্গজেব। তার সব সম্পত্তি, ইওরোপিয়দের ব্যবস্থাপনায় রাখা গোলাবারুদ এখন আওরঙ্গজেবের দখলে এল। যে সময় তার প্রচুর সম্পদ দরকার, সেসময় মীর জুমলার সম্পত্তি তার হাতে এসে পড়ায়, তার সিংহাসন দখলের লক্ষ্য পূরণ সহজ হয়ে গেল।
রাজদরবারে ডেকে পাঠানোর পর্ব সামলানো মীর জুমলার কূটনীতিকের জীবনে সব থেকে বড় পরীক্ষা ছিল — এক দিকে তার বন্ধু দক্ষিণের সুবাদারের স্বার্থ দেখা, অন্যদিকে তার চাকরি দাতা সম্রাটের নির্দেশ মানার কর্তব্য পালন। তিনি জানেন দুনৌকায় পা দিয়ে চলা আর যাবে না — তাঁকে যে কোনও একটা রাস্তা বেছে নিতেই হবে। তিনি এটাও জানেন তাঁর জোটসঙ্গী সুবাদার বন্ধুর প্রতিদ্বন্দ্বী (দারা) দিল্লিতে সম্রাটকে ‘বন্দী’ করে রেখেছে। মাথায় রাখতে হবে মীর জুমলা প্রত্যেকের প্রতি সমান অনুগত ছিলেন — একদিকে যেমন চাকুরিদাতা, তাঁকে সম্মান দিয়ে উজির পদে বরণ করা সম্রাটের প্রতি, তেমনি তাঁকে মুঘল তাঁবেতে এনে দিল্লিতে তার নামে সুপারিশ করে পাঠানো দক্ষিণের সুবাদারের প্রতি, সর্বোপরি তার পরিবারের নিরাপত্তার প্রতিও। প্রত্যেকের প্রতি তিনি সমানভাবে দায়বদ্ধ। প্রত্যেকটা আনুগত্য-বন্ধন তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি এই বিষ গোলকধাঁধা থেকে বেরোনো দরকার।
সহজাত কূটনৈতিক দক্ষতা মীর জুমলাকে মানসিক-রাজনৈতিক আনুগত্যের দ্বন্দ্ব থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দিল। মীর জুমলা ছাড়া জটিলতম সমস্যার সমাধান করা অন্য কারোর পক্ষে করা প্রায় অসম্ভব ছিল। ১৬৫৮-র ১ জানুয়ারি মীর জুমলা প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন, সম্রাটের নির্দেশনামা অনুযায়ী তিনি দিল্লি দরবারে যাচ্ছেন। যেন আওরঙ্গজেবের আগ্রাসী পরিকল্পনায় ভীত হয়ে তিনি দিল্লিকে জানালেন, ‘আমার পক্ষে সুবাদারের সঙ্গে দেখা করা অনুচিত। সম্রাট আমায় আদেশ দিয়েছেন দরবারে উপস্থিত হওয়ার। তাঁর সেই নির্দেশ মান্য করা ছাড়া আমার সামনে অন্য কোন উপায় খোলা নেই’। আওরঙ্গজেব মহম্মদ সুলতানকে নির্দেশ দিলেন, আকাশে ওড়া সম্পদশালী বাজকে আমার কাছে ধরে নিয়ে এস। তিনি শাহজাদা মার্ফত মীর জুমলাকে বন্ধুত্বের নিশান পাঠিয়ে বললেন, তার প্রতি কোন রকম অবিশ্বাস পোষণ না করতে, তিনি তাকে আজও তাঁর শুভচিন্তক ভাবেন। আগ্রা যাওয়ার আগে তিনি যেন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান করতে সুবাদারের সঙ্গে দেখা করে যান। আওরঙ্গজেব বার্তা দিলেন দিল্লিগামী মীর জুমলা মার্ফত সম্রাটকে কিছু মৌখিক বার্তা পাঠাতে চান। শাহজাদা সুলতান মহম্মদ তথাকথিত শান্তিবার্তাটি মীর জুমলার কাছে পৌঁছে দিয়ে তাকে প্ররোচিত করলেন সুবাদারের সঙ্গে দেখা করতে। মীর জুমলা আলোচনার জন্য আওরঙ্গজেবের গুলালবরের খাস কামরায়(খিলাতগা) প্রবেশ করলেন। তাকে অবশেষে গ্রেফতার করা হল।
আলমগীরনামা জানাচ্ছে আওরঙ্গজেব রাজনৈতিক কারণে মীর জুমলাকে গ্রেফতার করেন। সুবাদারের বিশ্বাস ছিল, মীর জুমলা যদি দরবারে দারার সঙ্গে যোগ দেন তা হলে তার সিংহাসন দখলের যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। অন্যদিকে আওরঙ্গনামা বলছে আওরঙ্গজেব মীর জুমলাকে দারার বিরুদ্ধ-দলের [দক্ষিণের সুবাদার] সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন। প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মীর জুমলা বলেন আওরঙ্গজেবের দলে প্রকাশ্যে যোগ দিলে দিল্লিতে তার পরিবারের অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে। প্রয়োজনে আওরঙ্গজেব প্রকাশ্যে তাকে গ্রেফতার করে তার সমস্ত সম্পত্তি, গোলাবারুদ সেনা বাহিনী যা কিছু রয়েছে সব দখল নিয়ে মুরাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে দারার বিরুদ্ধে অগ্রসর হ’ন। এই রাস্তায় আওরঙ্গজেবের সিংহাসন দখলের আগ্রাসী মনোভাব এবং মীর জুমলার পরিবার রক্ষার দুকুলই বজায় থাকবে। আওরঙ্গজেব একজন সঈদকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্তে কিছুটা ইতস্তত করছিলেন, কিন্তু মীর জুমলা তাঁকে আশ্বস্ত করলেন তিনি স্বইচ্ছেয় গ্রেফতার হচ্ছেন, তাঁকে গ্রেফতার করতে আওরঙ্গজেবের পাপ হবে না। এর পরে মীর জুমলাকে প্রকাশ্যে আওরঙ্গজেবের বাহিনী গ্রেফতার করে। (চলবে)