আওরঙ্গজেবের প্রকাশ্য বিদ্রোহ
মীর জুমলাকে আওরঙ্গজেবের গ্রেফতারের খবর দরবারে পৌঁছল জানুয়ারি ১৬৫৮-য়। দারা জানতেন আসল কারন — কারণ তিনি আওরঙ্গজেবের বিরোধিতা করতে গিয়ে তাঁর অন্দর বাহির খুব ভাল চিনতেন। সম্রাটকে তৃতীয় পুত্র আওরঙ্গজেব আর উজির মীর জুমলার মধ্যে সাঁটের চক্রান্ত বিশ্বাস করান যায় নি। মুরাদ সুরাট কেল্লা দখল নিলেন। আওরঙ্গজেব আর মুরাদের মুঘল হিন্দুস্তান অভিযানের সংবাদ লুকিয়ে রাখা গেল না। ২৫ জানুয়ারি আওরঙ্গজেবের অগ্রগামী বাহিনী আওরঙ্গাবাদ থেকে রওনা হল। দাদার বিরুদ্ধে তিন ভাই নিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে বিদ্রোহ শানালেন। পারসিক ইতিহাসবিদ লিখলেন ঘটনার মুখচ্ছবি থেকে ঘোমটা সরে গেল। আওরঙ্গজেবের দরবারি প্রতিনিধি ঈশা বেগ কারাবন্দী হলেন দারার সুপারিশে। সম্পত্তি দখল নেওয়া হল। কিছু দিন পর সম্রাটের নির্দেশে মহম্মদ আমিনের মতই ঈশাকে ছেড়ে দিতে হল। ঈশা বুরহানপুরে আওরঙ্গজেবের সঙ্গে যোগ দিলেন।
সম্রাটের অসুস্থতায় সাম্রাজ্য জুড়ে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হল, মানুষ বিভ্রান্ত এবং শঙ্কিত
সম্রাট শাহজাহানের অসুস্থতার প্রথম পর্বে মানুষের মনে তিলে তিলে আশংকা তৈরি হচ্ছিল, তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কী না। সম্রাট ঘনিষ্ঠ আমীর, অভিজাতদের সম্রাটের আরামগাহ আর গোসলখানায় ঢোকার নিষেধাজ্ঞায় সম্রাটের জীবন-মরণ বিষয়ে অসুস্থতার প্রথম পর্বেই বিভ্রান্তি চরমে পৌঁছেছিল এবং এর সব দায় দারার। দিল্লির মানুষজন ধরে নিল সম্রাট বেঁচে নেই। দারা দরবারি অভিজাত আমীর সেনাপতিদের সঙ্গে বিন্দুমাত্র ভাল ব্যবহার করেন নি — কাউকে তিনি নাচনে-গানেওয়ালি গালি দিয়েছেন, কাউকে দাস লাগিয়ে অপমান করিয়েছেন, কাউকে প্রকাশ্য দরবারে জুতোপেটা করেছেন। সম্রাট ঘনিষ্ঠ দরবারি অভিজাতরা সে সব অপমানের কথা ভোলেন নি। অসুস্থ সম্রাটের আরামগাহ আর গোসলখানায় উচ্চপদের আমীর অভিজাতদের ঢোকা নিষিদ্ধ হয়েগেলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে অসহায়তা আর দারার প্রতি অবিশ্বাস চরমে পৌঁছল। প্রাসাদের অন্তর পর্যন্ত পৌঁছওয়ালা আমীর, অভিজাতদের অসহায়তা আর বাজারে গঞ্জের সাধারণ মানুষের সম্রাটের জীবন নিয়ে বিভ্রান্তি মিলেমিশে শাহেনশাহের সম্ভাব্য মৃত্যুর সংবাদ মুঘল হিন্দুস্তানের দূরতম দিগন্তে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে গেল দাবানলের মত। দেশে উথালপাথাল ঘটে গেল।
সমস্যা আরও গভীর হল দারা নিজের সিংহাসনে শান্তিতে ওঠা নিশ্চিত করতে, সম্রাটের অসুস্থতার সংবাদ সাম্রাজ্যের তিন প্রান্ত-বাংলা, গুজরাট আর দক্ষিণে পৌঁছনো বন্ধ করে দিলেন। দিল্লি থেকে ডাক নিয়ে বেরোনো সব রকম বাহন, হরকরা, ঘোড়া, নৌকো এবং কবুতর ওড়ানো নিষিদ্ধ করলেন। প্রত্যেক সুবাদারের দরবারি উকিলের ওপর নজরদারির ব্যবস্থা করলেন যাতে তারা সুবায় খবর পাঠাতে না পারে।
তথ্য গোপনের অবিমৃষ্যকারিতা দারার শান্তিতে সিংহাসনে আরোহণের পরিকল্পনা তছনছ করে দিল। দরবার থেকে সুবায় পাঠানো নিয়মিত আখবারাত পাওয়ার প্রক্রিয়া হঠাতই বন্ধ হয়ে গেলে কয়েক হাজার কিমি দূরত্বে থাকা সরকারি আমলা এমন কী সাধারণ মানুষের মনে হল দিল্লিতে একন কিছু খারাপ ঘটনা ঘটেছে, যার জন্যে দিল্লি থেকে সংবাদ আসা বন্ধ করে দেওয়া হল। দরবারে দারার গোয়েন্দাদের ২৪ ঘন্টা নজরবন্দী থেকে নিজেদের সুযোগ মত মুক্ত করে সুবার সুবাদারদের আখবার লেখকেরা চোলাই করে দিল্লির গুজব সুবার প্রভুদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। আওরঙ্গজেবের উকিল ঈশা বেগ বন্দী হওয়ায় বোন রোশেনারার স্বকীয় গোপন উদ্যমে জেনানা থেকে দারার সমস্ত গোপন চলনের সংবাদ দক্ষিণে গেল।
শাহজাহানকে মৃত ধরে নিয়ে দিল্লি, আগরার দরবারে ক্ষমতার সঙ্গে থাকা সমস্ত পক্ষ রাজনৈতিক ঘুঁটি সাজাচ্ছিল চরম গোপনীয়টায়। বাজারে বাজারে অরাজকতা ছেয়েগেল ভীতিপ্রদভাবে। দেশজোড়া দোকানপাট কয়েক দিনের জন্যে বন্ধ হয়ে গেল, লুঠতরাজ বাড়ল, সামন্ত রাজ্যগুলো শাহী প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থাকা জমি দখল নিতে সেনা পাঠাল। দেশকে অরাজক অবস্থায় ঠেলে দেওয়ার জন্যে আওরঙ্গজেব দারার বিবেচনাহীন ক্যুকে দায়ি করলেন (চিঠির সংকলন আদাব-ই-আলমগিরি)। ভায়েরা, বড় দাদার বিরুদ্ধে লড়ায়ের কোমর বাঁধল। সুজা, মুরাদ নিজেদের সম্রাট ঘোষণা করলেন। ভাইদের মধ্যে বুদ্ধিমান আওরঙ্গজেব, নিজের রণনীতি প্রকাশ না করে চুপ থেকে উপযুক্ত সময়ের জন্যে অপেক্ষা করতে করতে সম্পদ সংগ্রহে মন দিলেন।
দারার কাজকর্মের ওপর সাধারণ মানুষের অবিশ্বাস কোন চূড়ান্ত আকারে পৌঁছেছিল, সেটা এই উদাহরণে বোঝা যাবে। সম্রাট একটু সুস্থ হয়ে ঝরোখায় তাঁর প্রিয় দিল্লির প্রজাদের রুগ্ন মুখ দেখালেন। দারা ভাবলেন এতদিনকার সমস্ত গুজব, সমস্ত সমস্যা সম্রাটকে দেখে জাদুর মত হঠাতই হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। কিন্তু জনগন সম্রাটকেই বিশ্বাস করল না। তারা বলল দারা সিংহাসন দখলের স্বার্থ রক্ষায় শাহজাহানের মত দেখতে কোনও দাসকে নকল পোষাক পরিয়ে ঝরোখায় দাঁড় করিয়ে জনগণের সালাম নেওয়াচ্ছেন। তখনও যে সম্রাট শাহজাহান বেঁচে আছেন, এই সত্যটা দারা কাউকেই বিশ্বাস করাতে পারছিলেন না। শাহজাহানের পাঞ্জা আর সিলমোহরের ছাপেও অবিশ্বাস দেখা দিল। জনগণের মনের ভাব আঁচ করে মুরাদ প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন এগুলো সব দারার কারসাজি, শাহেনশার পাঞ্জা নকল করা দারার কাছে তুড়ির ব্যাপার। মুরাদের ভাষ্য, দারা সম্রাটের সিল দখল নিয়ে নিজেকে সম্রাটের উত্তরাধিকার দাবি করছেন (ফৈয়াজুলকাওয়ানিন সূত্রে যদুনাথ সরকার বলছেন শাহজাহান আর দারা শুকোর হাতের লেখা প্রায় একই রকম ছিল, খুব সহজে আলাদা করা যেত না, ফলে স্বাক্ষরও কাছাকাছি হত। সকলেই মনে করল দারা সম্রাটের স্বাক্ষর নকল করছেন। যদুনাথ খুদাবক্স লাইব্রেরিতে দুজনের হাতের লেখার নমুনা দেখে এই মন্তব্য করেছেন)। আওরঙ্গজেব প্রকাশ্যে দাদার চরিত্র হনন না করলেও, তিনিও মনে করছিলেন হয় বাবা মৃত না হয় তিনি এতই অসুস্থ অশক্ত অক্ষম যে সাম্রাজ্য সম্বন্ধীয় সিদ্ধান্ত নিতে অপরাগ হয়ে দারাকে বাধ্য হয়ে সিংহাসনের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়েছেন। দারা বাবাকে জেলে বন্দী করেছেন। তাছাড়া আওরঙ্গজেবের দক্ষিণে দ্বিতীয় পর্বের সুবাদারিতে সম্রাট নিজে তাঁর সঙ্গে দারা আর জাহানারার প্রভাবে এতই খারাপ ব্যবহার করেছেন, নিজের নেওয়া সিদ্ধান্ত দুই দরবারি সন্তানের প্রভাবে বার বার পাল্টে সাম্রাজ্যের সুবাদারকে শুধু নয়, মুঘল সাম্রাজ্যকেই বিপদে ফেলেছেন, সর্বোপরি ৬৭ বছরের বাদশাহ নিজেকে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সামনে এমন হাসির খোরাক বানিয়েছেন যে, আওরঙ্গজেবের জীবনে সম্রাটের জীবিত থাকা আর না থাকা খুব একটা প্রভাব ফেলে না। তিনি বীতরাগ।
তিন পুত্রই আলাদাভাবে দরবারে চিঠি লিখে জানালেন দেশজুড়ে সম্রাটকে নিয়ে যে সব ভয়ঙ্কর, অপমানজনক গুজব ছড়াচ্ছে, যেভাবে সাম্রাজ্যের বদনাম ছড়াচ্ছে তাতে তারা উদ্বিগ্ন, ব্যথিত, শঙ্কিত। তাদের তিন জনেরই সিদ্ধান্ত সম্রাটের অবস্থা বুঝতে, প্রত্যেকে আগরা এসে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিজের চোখে দেখে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের সুবায় ফেরত যাবে। তাঁদের যুক্তি জাহানারা যখন দেড় দশক আগে ভীতিপ্রদপভাবে পুড়ে গিয়েছিলেন তারা কী সুবা ছাড়ার জন্যে সম্রাটের অনুমতির অপেক্ষা করেছিলেন? তারা তো নিজে থেকেই দিল্লি এসেছেন, পুড়ে যাওয়া দিদির পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের যতটুকু সাধ্য তারা করেছেন। তাহলে আজকে যখন সম্রাটের অবস্থা আরও খারাপ, সম্রাটের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়েছে, তখন কেন তাদের সম্রাটের প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতির জন্যে অপেক্ষা করতে হবে?
কিন্তু একই সঙ্গে একতা আশ্চর্যজনক কথা বলা দরকার সম্রাটের অসুস্থতা নিয়ে মানুষের যত উৎসাহ ছিল, ঠিক ততটা অনুৎসাহ ছিল ভাইদের মধ্যে সিংহাসনের লড়াই নিয়ে। ঠিক যেমন ক্রুসেডের হাজার বছর পরেও ইওরোপ পক্ষ এখনও হাজার হাজার নথি বিশ্লেষণ প্রকাশ করছে আর এশিয় পক্ষ প্রায় চুপ, ঠিক যেমন বাংলা-পাঞ্জাব ভাগের পরে পাঞ্জাব পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত ভাগ নিয়ে অজস্র কবিতা, গান, ছবি হয়েছে, বাংলাদেশে অত কিছু হয় নি, ঠিক তেমনি মুঘল সিংহাসনের লড়াই নিয়ে সে সময়ের পারসিক ইতিহাসকারদের খুব বেশি কলম পেশার উদাহরণ পাই না। তারা বিষয়টাকে খুব একটা গুরুত্ব দেন নি — যেন স্বাভাবিক একটা বিষয় — সাম্রাজ্যের অন্যান্য ঘটনার মত সিংহাসনের লড়াইও সাধারণভাবে বিবৃত করা হয়েছে — বরং আজ জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাস চর্চায় সিংহাসনের লড়াই বহু গুরুত্ব পেয়েছে।
বেশ কয়েক মাস চুপ করে থেকে সিংহাসনের যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের মত দক্ষ, বুদ্ধিমান, ঠাণ্ডামাথার সেনাপতি, রণনেতার প্রকাশ্যে যোগ দেওয়ায় সামগ্রিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্যের ক্ষমতার সঙ্গে জুড়ে থাকা মানুষদের অবস্থা যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েগেল। এবারে হয় এসপার নয় ওসপার হবেই। ১৬৫৮-র ২০ মার্চ বিদ্রোহের ঝাণ্ডা তুলে বুরহানপুর থেকে আওরঙ্গজেব রওনা হলেন, নর্মদা পেরোলেন ৩ এপ্রিল। ১৪ তে মুরাদের সঙ্গে যোগ দিলেন, পরের দিন শাহী বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হল।
সিংহাসনের দখলের প্রক্রিয়া সফল করতে দৌত্য, রাজনীতি, পর্দার পিছনে সামনে ষড়যন্ত্রের মহড়ার যুগ শেষ হয়ে তরোয়ালের কথা বলার যুগ আরম্ভ হল।
মুরাদ বখশ
শাহজাহান আরজুমন্দের ছোটটি শাহী পরিবারের কলঙ্ক। সম্রাট তাঁকে বলখ, দক্ষিণ, গুজরাট সুবায় প্রশাসনিক দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রত্যেক জায়গায় তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। বোকা, আমুদে, হাল্কা প্ররোচনাতেই প্রভাবিত হয়ে পড়ার চরিত্র বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পালটায় নি। যৌবনে অনিভিজ্ঞতার সুবাদে নানান ভুলভাল কাজকর্মে কিছুটা বেনিফিট অব ডাউট পেলেও পরিণত বয়সে তিনি কাজও শেখেন নি, নিজের আবেগকেও লাগাম পরাতে চান কীনা বোঝা যায় না। আরও খারাপ হল তিনি যোগ্য প্রতিনিধি বাছতে ভুল করেন আর ঠিকঠাক মানুষ পেলেও তাঁদের সম্মান দিতে, প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস যোগানোর সামর্থ হয় না, দুর্বৃত্তদের চাটুকারিতায় পরম মুগ্ধ হন, ফলে তার দরবারে আত্মসম্মানওয়ালা মানুষজনের ঠাঁই হয় না। অধিকাংশ সময়ে হিংসার ওপরে নির্ভর করতে ভাল বাসেন। তবে যুদ্ধ ক্ষেত্রে মুরাদ বখশ অন্য এক মানুষ। তার মত বেপরোয়া বীর সৈনিক সেযুগে কম ছিল। বিশাল বড় সেনাবাহিনীর সামনে দাঁড়ালে আদ্যপান্ত আমুদে মানুষটির চরিত্র ছুমন্তরে বদলে যেত। তৈমুরের সামরিক স্পিরিট তার রক্তে খেলা করত, শত্রুপক্ষের টুঁটি চিপে ধরতে তার মত দক্ষ খুবই কম মানুষ ছিল। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে তার বড় সমস্যা ছিল দুর্দম স্পিরিট নিয়েও তিনি দূরদৃষ্টি অবলম্বনে সেনাদের মাথা ঠাণ্ডা করে গাইড করতে পারতেন না, এবং সব থেকে বড় সেনাপতির সব থেকে বড় গুণ ঠিক সময়ে সেনাদের কার্যকর নির্দেশাবলী দিয়ে পথ নির্দেশ করা, সেটাই তার ছিল না।
শাহজাহান মুরাদের চরিত্র বুঝে তাঁর প্রশাসনে আলি নাকির মত একজন দক্ষ রাজস্ব আধিকারিক পাঠিয়েছিলেন। আলি নাকি সৎ, আত্মস্থ, দক্ষ। সব থেকে বড় কথা সম্রাটের বিশ্বাসভাজন। তাঁর সততায় দরবারে প্রচুর শত্রু তৈরি হল। সামগ্রিক রাজস্ব দপ্তর আলি নাকি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরগণা আর সরকারের নানান স্তরে তাঁর নিজের মানুষ বসিয়েছেন।
সেপ্টেম্বরের শেষে মুরাদ সম্রাটের অসুস্থতার সংবাদ পেলেন। পাটনের ফৌজদার, আলি নাকির চরম বিরোধী কুতুবুদ্দিন খান খেসগির মত সেনাপতিদের মুরাদ জড়ো করলেন। খোজাদের দিয়ে তিনি চক্রান্তের জাল তৈরি করে আলি নাকিকে খুন করালেন। কাফি খান এক জনশ্রুতি নির্ভর করে বলছেন আলি নাকির এক ফকিরকে ভুল করে পেট কেটে মৃত্যু দণ্ড দেওয়ায়, ফকির আলি নাকিকে একই রকম মৃত্যুর অভিশাপ দিয়েছিলেন। মুরাদ খোজা শাহবাজ খানকে ৬০০০ সেনা, কামান ইত্যাদি দিয়ে সুরাট লুঠ করতে পাঠালেন নভেম্বরের শুরুতে। প্রজাদের লুঠ করলেও সুরাট বন্দরের বিপুল রাজস্ব একটি সুরক্ষিত কেল্লায় রাখা ছিল। দুর্ঘটনায় কেল্লার বারুদের স্তুপে আগুণ লাগলে কেল্লার একাংশ উড়ে যায়। কেল্লাদার সৈয়দ তায়িব দিল্লি চিলে যাওয়ার শর্তে কেল্লার খাজাঞ্চির চাবি মুরাদকে তুলে দেন। খোজা শাহবাজ খান শহরের বিখ্যাত ব্যবসায়ী যেমন শহরের সওদাগরদের পক্ষে বিরজি ভোরা, আর ব্যবসায়িদের প্রধান হাজি মহম্মদ জায়িদের সঙ্গে দরকষাকষি করে তাদের থেকে বিপুল অর্থ উদ্ধার করে। মুরাদের সিলে আর শাহবাজ খানের প্রত্যায়িত স্বাক্ষরে আদায় করা ৭ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার চুক্তি করা হল। সমস্ত অর্থ আহমেদাবাদের মুরাদের হাতে তুলে দেওয়া হল। তিনি নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করলেন আর ঘনিষ্ঠ আমলাদের শাহী খেতাব বিলোলেন। (চলবে)