| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

একরাতে শ্যামলদার সঙ্গে কিছুক্ষণ : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

Reporter
জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় / ৪৭৪ জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ঘুম থেকে উঠে, হাত মুখ ধুয়ে, এক কাপ চা হাতে দৈনিক সংবাদপত্র নিয়ে বসলাম। প্রথম পাতাতেই একটা নিউজ দেখলাম। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এই বছর তার “শাহজাদা দারাশুকো” উপন্যাসের জন্য একাডেমী পুরস্কার পেয়েছেন। দারুণ ভালো লাগলো খবরটা পড়ে। একবার ভাবলাম শ্যামলদাকে একটা ফোন করে বলি, দাদা এই নিউজটা আমাকে কাগজে পড়ে জানতে হলো। তারপর নিজের মধ্যে একটা অভিমান কাজ করলো। না আমি কিছুতেই শ্যামলদাকে ফোন করবো না। দেখি শ্যামলদা নিজে থেকে ফোন করে কিনা।

যথারীতি সময় মতো কাগজের অফিসে এলাম। টেবিলে বসতেই চিফ ডেস্ক মল্লিকদা বললো, তোকে দাদা (দাদা মানে এই পত্রিকার সম্পাদক) ডাকছেন।

কেনো!

আমি কি করে বলবো। কালকে আসিসনি কেনো।

ভালো লাগছিলো না।

অগত্যা উঠে দাদার ঘরে এলাম। ঢুকতেই বললো।

কখন এলি?

এই তো এখুনি।

চেয়ারে বসলাম।

হাতে কোনো কাজ আছে?

না। তুমি দিলে আছে।

একবার শ্যামলের বাড়ি যা।

কেনো!

সকাল থেকে অনেকবার ফোন করেছে। অনি এলে যেনো পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মনে মনে ভীষণ আনন্দ হলো, যাক শ্যামলদা অনিকে ভোলেনি তাহলে।

তোর তো কোনো ফোন নম্বর নেই। যেখানে থাকিস পাশাপাশি কোনো ফোন নম্বর নেই?

আমি ব্যবহার করি না।

যা চলে যা।

আচ্ছা।

বেরিয়ে এলাম। নিউজ রুমে এসে মল্লিকদাকে বলে বেরিয়ে গেলাম।

সোজা চলে এলাম গড়িয়া ব্রহ্মপুর বটতলা। ঘরে ঢুকতেই শ্যামলদা হাসলেন। তুই আসছিস তোর দাদা ফোন করে বলে দিয়েছে। দেখতো একটু খেয়ে তোর বৌদি বেতো শাকটা কেমন বানিয়েছে। নিজের প্লেট থেকে একটু তুলে দিলেন মুখে। খেলাম।

কেমন?

বউদি যেমন করে তেমনই।

সকালে বাজার থেকে শির ওঠা কচি ঝিঙে নিয়ে এসেছি, ঝিঙে-পোস্ত হয়েছে একবার টেস্ট করে আয়। চলে গেলাম রান্নাঘরে।

সেদিন সারাটা দিন শ্যামলদার বাড়িতে ছিলাম। অনেকে এসেছিলেন অভিনন্দন জানাতে। শ্যামলদার ভাই আর এক দিকপাল সাংবাদিক তরুণ গঙ্গোপাধ্যায়ও এসেছিলেন। আরও অনেকে। নাম বলে শেষ করা যাবে না। এর নাম করলে তার গোঁসা হবে, তার নাম করলে এর গোঁসা হবে। থাক।

একটু বিকেল বিকেল হতেই সকলে চলে গেল। আমরা একটুক্ষণ বসে কথা বললাম। তারপরেই শ্যামলদা বললেন, চল অনি ওই ঝিলের ধারে বসে দুজনে একটু সুরা সেবন করি।

আজ না করলেই নয়।

তোর বৌদির কাছ থেকে পার্মিশন নিয়ে নিয়েছি। কাল কোলেস্টরেল, ব্লাড, প্রেসার সব চেক করেছি। এখন নর্মাল।

তাই আজ সুরাপান করে কোলেস্টরেলটা বাড়াবে।

দুর বোকা সুরাপান করলে কোলেস্টরেল বাড়ে না। বরং হার্ট বিট ঠিক থাকে। তুই তো মতিকে (মতি নন্দী) দু-বোতল কিনে দিয়ে এসেছিস।

মতিদার পেস মেকার বসানো আছে। ডাক্তার প্রেসকিপসন করেছে, রেগুলার দু-পেগ করে খেতে।

আমারটাও বসিয়ে নেবো অসুবিধে হবে না।

হাসলাম।

চল চল এখুনি সব আবার এসে পরবে। তার আগে পালিয়ে যাই। তোর বৌদিকে বলেদেবো, কেউ এলে বলে দেবে আমি বেরিয়ে গেছি।

সতরঞ্চিটা নে।

বৌদির কাছ থেকে সতরঞ্চিটা নিলাম।

আনুষাঙ্গিক যা প্রয়োজনে লাগে তা সঙ্গে নিয়ে নিলাম।

দু-জনে পায়ে পায়ে চলে এলাম সামনের বড়ো ঝিলটার ধারে। ঝিলের ধারটা নিঝুম। আধা অন্ধকার। বেশ বুঝতে পারছি, মাছ গুলো ঝিলের জলের ওপরে এসে ভুঁট মারছে। শ্যামলদা নিজে হাতে বোতল খুলে গেলাসে ঢাললেন। নানা রঙের গল্প চলছে। শ্যামলদা গল্পের ভাণ্ডার। হঠাৎ আমি বললাম, দাদা তুমি একবার কথায় কথায় বলেছিলে তুমি জীবনে একবার মাত্র গণিকা পল্লীতে গেছিলে, কিন্তু কেনো গেছিলে তা বলো নি।

তুই আমার লেখা ওই গল্পটা পড়িসনি! বেশ বড়ো গল্প।

কোন গল্পটা বলোতো।

মনে খুব ব্যাথা পেলাম, আমার লেখা বিখ্যাত গল্পের মধ্যে ওটা একটা, তুই পরিস নি!

শ্যামলদা চোঁ-চো করে জল খাবার মতো করে গেলাসটা নিঃশেষ করে আবার ঢেলে নিলেন।

কিরে তোর তো একটাই শেষ হলো না। আমার দুটো হয়ে গেলো।

তুমি খাও না।

আউট হলে এই ভাড়ি শরীরটা তুলে নিয়ে যেতে পারবি তো?

তুমি আউট হবে না, আর হলে তুলে নিয়ে যেতে পারবো।

জানিস অনি, সে বছর জোর কদমে পূজোসংখ্যার কাজ চলছে, তুষারদা (তুষারকান্তি ঘোষ, যুগান্তরের সম্পাদক) বললেন শ্যামল তোমার উপন্যাসটা কবে দেবে?

আমি তখন এক লাইনও লিখি নি। কি বলবো। এতো বড়ো একজন মান্যিগন্যি মানুষ। বললাম দাদা এবার যদি উপন্যাস লিখতে না পারি ক্ষমা করবেন।

তার মানে। বিজ্ঞাপনে তোমার নাম যাচ্ছে।

এখনো একলাইনও লিখতে পারিনি।

তাহলে!

দেখি যদি একটা গল্প লিখতে পারি।

এখনো বলছো লিখতে পারি! মাসটা কি যাচ্ছে মনে আছে? আগস্ট। তাও শেষের দিকে চলছে। সেপ্টেম্বরের বাইশ তারিখ মহালয়া। কবে তুমি লেখা দেবে, কবে ছাপবো, কবে হকারদের কাছে বই পৌঁছে দেবো।

মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো বুঝলি। তুষারদার ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। যতোই হোক আমাকে মাসে মাসে পয়সা দেন। সংসার চলে। কি করবো ভেবে উঠতে পারছি না। ভাবলাম কামশাস্ত্রটা পরে একটা ভালো সেক্সের ওপর লেখা লিখে দেবো।

তারপর ভাবলাম। আমার নিজের একটা পাঠক কুল আছে, তারা কি ভাববে। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে মনস্থির করলাম। একবার গণিকা পল্লীতে গেলে কেমন হয়। লোকের কাছে গল্প শুনেছি। যাওয়া হয় নি। সমরেশদাকে (সমরেশ বসু, ছদ্মনাম কালকূট) একটা ফোন করলাম। ওর যাওয়া আসা আছে, কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারলাম না, আমি যাবো। এ কথা সে কথা বলে ফোনটা ছেড়ে দিলাম।

পরদিন গিলে করা আদ্দির পাঞ্জাবী, কাঁচি পার ফিনফিনে ধুতি, পায়ে মোজা পাম্প-শ্যু লাগালাম। তোর বৌদি তো আমার ওই পোষাক দেখে হেসে লুটোপুটি। তুমি কোথায় যাবে! এই কালোয়ার মার্কা ড্রেস লাগিয়ে?

বলতে কি পারি, তোমায় ছেড়ে আমি গণিকা পল্লীতে যাচ্ছি। দেবে মুড়ো ঝাঁটার বাড়ি।

বেরিয়ে এলাম। একটা ট্যাক্সি ধরে গ্রে স্ট্রীট। সন্ধ্যে হয়েছে। ও পাড়ায় যেনো মেলা বসে গেছে। সেদিনটা আবার ছিলো রবিবার। বেশ ভিড়। আমি একটা জুঁই ফুলের মালা কিনলাম। কালোয়ার, লোহার ব্যবসায়ী বলে কথা। ও প্রথমে গেছিলাম বারদুয়ারিতে, একটু বাংলা কারণ সুধা টানবো। দেখি শক্তি, সন্দীপন রয়েছে। যাক তিনজনে বাংলা খেলাম। আমার একটু তাড়া আছে বলে বেড়িয়ে এলাম। পায়ে পায়ে গলিতে ঢুকলাম। আমাকে দেখে অনেকে হাসা হাসি করছে। দেখতে শুনতে ভালো মেয়েও চোখে পড়লো। দাঁড়িয়ে গেলাম। একটা বছর আঠারোর মেয়েকে মোটামুটি মনে ধরলো। সে আমাকে তার ঘরে নিয়ে গেলো। সেই মান্ধাতা আমলের সিঁড়ি। তিনতলায় উঠতে হাঁপিয়ে গেলাম।

ঘরে ঢুকলাম। দশ বাই দশ ঘর, তাতে একটা খাট পাতা তায় একটা স্টিলের আলমারি। আমাকে খাটে বসিয়ে মেয়েটা পাখা খুলে দিলো। আমি ঘামছি। মেয়েটা কাপর খুলে ফেললো। ব্লাউজ আর সায়া পড়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো।

ব্লাউজের বোতাম গুলো খুলে দাও তো।

আমি মনে মনে হাসছি।

ব্লাউজের বোতাম খুলছি।

আমার রেট কতো জানো তো?

না।

ঘণ্টায় পঞ্চাশ টাকা। তুমি ইচ্ছে করলে একঘণ্টা দু’ঘণ্টা তিনঘণ্টা যত খুশি থাকতে পারো।

তখনকার দিনে পঞ্চাশ!

হ্যাঁ। তবে মেয়েটা দেখতে শুনতে বেশ ভালো।

মেয়েটা ঘরে একটু আতর ছড়িয়ে দিলো।

এবার মেয়েটা ব্রে-সিয়ার আর সায়াটা হাঁটু পর্যন্ত তুলে আমার পাশে বসলো।

আমি মনে মনে হাসছি। কি লেখক শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, অনেক লেখাই তো জীবনে লিখেছো। এই মেয়েটাকে তুমি জিজ্ঞাসা করো, তোমার নামও জানে না, তোমার একটা লেখাও সে পরে নি।

তুমি পাঞ্জাবীটা খোলো।

খুলছি, তাড়াহুড়ো করো না। তুমি যা চাইবে তাই দেবো খোন।

মেয়েটা খিল খিল করে হেসে উঠলো।

ওর সঙ্গে গল্প করি, একটু মস্করা করি। মাঝে মাঝেই মেয়েটা বলে তুমি কিছু করবে না।

করবো খোন, একটু রোসো না।

ওর সঙ্গে গল্প করছি।

ও আমার রকমসকম দেখে মিষ্টি আনালো। মিষ্টি খেলাম। একবারও গায়ে হাত দিই নি। ঘণ্টা খানেকর ওপর গল্প করেছি বুঝলি। দেখি দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে কে। মেয়েটি দরজা খুললো। দেখি দুটো ষণ্ডামার্কা লোক গেটের সামনে দাঁড়িয়ে, সে তো আমাকে দেখে যা নয় তাই বললো। তারপর বললো, চল থানায় চল। কচি মাল নিয়ে শোয়া বার করছি।

অগত্যা মেয়েটির হাতে তিনটে একশো টাকার নোট দিয়ে ওই ষণ্ডামার্কা লোক গুলোর হাতে জমা পরে গেলাম। ওরা বেশ মজা করে আমার কোমরে দড়ি পরালো। ভেবেছিলো আমি কিছু বলবো, ওরা টাকা চাইবে, দেখলো আমি কিছু বললাম না। যাক নিচে এসে প্রিজন ভ্যানে বসলাম। দেখলাম আরো চার পাঁচজন আছে। সব ওই তল্লাটের। তবে আমার মতো রাইস আদমি কেউ নেই। ভ্যানেই প্রায় ঘণ্টা খানেক বসে রইলাম। ওদের সঙ্গে গল্পগুজব করলাম। সেদিন প্রথম গাঁজা খেলাম বুঝলি। আগে কখনো গাঁজাটা খাইনি। বেশ লাগলো গাঁজার বিড়ি। প্রিজন ভ্যান ভর্তি হতে গাড়ি ছাড়লো।

প্রায় ন’টার সময় বটতলা থানায় নিয়ে এলো আমাদের। প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে লম্বা করে দাঁড় করিয়ে দিলো। তারপর নাম ধরে ধরে পেটি কেশ। আমাকে বললো আপনি লকাবে ঢুকবেন না এখান থেকে বেরিয়ে যাবেন। তারও হিসাব দিলো। কতো টাকা লাগবে। তারপর তো অকথ্য ভাষায় গালাগাল। যা হয় আর কি।

হঠাৎ একটা খাকি পোশাক পরা বছর পঁয়ত্রিশের ছেলে এসে আমার সামনে দাঁড়ালো। আমায় যে সাব-ইনস্পেকটরটা এতক্ষণ জিজ্ঞাসা করছিলো, সে তো স্যার বলে দাঁড়িয়ে পরে স্যালুট-ফ্যালুট করতে শুরু করে দিয়েছে।

শ্যামলদা আপনি এখানে! কোনো কাজ আছে নাকি ?

সেই সাব-ইনস্পেকটর পুঙ্খানুপুঙ্খ সব বললো। ছেলেটি মুচকি হেসে বললো। দাদাকে ভেতরে পাঠান। তখনও আমি ছেলেটিকে চিনতে পারছি না।

এইবার তো সেই ইনস্পেক্টরের প্যান্ট হলুদ হবার জোগাড়। আমার হাতে পায়ে ধরে আরকি, সাহেব কি আপনার ভাই, কে হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।

ভেতরে এলাম, চা এলো, মিষ্টি এলো। খালি হুকুম করতে যতক্ষণ। আমি কিছু বাদ দিই নি। গো-গ্রাসে সব খেলাম। ছেলেটিকে বললাম, ভাই তোমাকে তো চিনলাম না।

আপনি আমাকে চিনবেন না। আমি আপনাকে ভালো করে চিনি। আপনি শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়। সেই অমৃত থেকে আপনার লেখা পরছি।

বুঝলাম পুলিশ হলেও সাহিত্যের খোঁজ খবর রাখে। যখন অমৃতের কথা বললো।

আপনি ওই নোংরা জায়গায় গেছিলেন কেনো?

ওকে আমার গর্ভযন্ত্রণার কথা কি করে বলি। এ কথা সে কথা বলে এড়িয়ে গেলাম।

যাক একটু রাতের দিকে নিজের গাড়ি করে আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে গেলো। তোর বৌদি দেখলো আমি পুলিশের গাড়ি থেকে নামছি। মুখে বাংলার গন্ধ। বোঝার আর কি বাকি রইলো। দেড়ে মূষে গালাগাল। সাতদিন কথা বন্ধ। লিখে ফেললাম “একটি নষ্ট মেয়ের আত্মকাহিনী”। মাত্র তিনদিন সময় নিয়েছলাম। বলতে পারিস নাওয়া খাওয়া বন্ধ করেই লেখাটা লিখে ফেললাম। বলতে পারিস বড়ো গল্পের একটু বেশি শব্দ। তা তুষারদা উপন্যাস হিসেবে চালিয়ে দিল।

লেখাটা পূজো সংখ্যায় বেরোবার পর প্রথম ফোন পেয়েছিলাম সেই পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে, আমার উপন্যাসের ও ছিলো একটা চরিত্র। নাম কি জানিস, নজরুল ইসলাম, তারপর নজরুল অবশ্য আনন্দ পুরস্কার পেয়েছে, ওর উপন্যাসের জন্য। আর একবার ওই মেয়েটির কাছে গেছিলাম, সেবারের পূজা সংখ্যা নিয়ে। নজরুল সঙ্গে ছিলো। সেদিন সেই মেয়েটি আমার পরিচয় পাবার পর আমাকে বাবা বলে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না।

মনটা খারাপ হয়ে গেলো।

গেলাসটা এক নিমেষে শূন্য করে দিয়ে। শ্যামলদা আমার মুখের দিকে তাকাল।

জানিস অনি, গণিকা পল্লী থেকে বেড়িয়ে আসার সময় আমার মনকে বোঝালাম, আমার মনের হদিস আমার পাশে যে তিরিশ বছর ধরে শুচ্ছে, যার শরীরটা নিয়ে আমি কতো নাড়া চাড়া করেছি, আমার দুটো সন্তান তার গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছে, সেইই পাই নি, তো ওই কচি মেয়েটা।

শ্যামলদার চোখ চিক চিক করে উঠলো।

আপনার মতামত লিখুন :

2 responses to “একরাতে শ্যামলদার সঙ্গে কিছুক্ষণ : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়”

  1. কালিদাস says:

    অসাধারণ এক অন্য আংগিক এর হদিস পেলাম।

  2. biddut roy says:

    অফ! কাজলদিঘীর অনি ভাবাই যায় না। এক অন্য সাদের লেখা।
    দাদা কাজলদিঘী ২৪১ নং কিস্তি কবে পাবো? দয়া করে জানাবেন প্লিজ দাদা।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev