আগামী বাইশে জানুয়ারী ভোট। সরকারি ঘোষনার পরে শোরগোল পড়ে গেল শিলিগুড়িতে। কোন ওয়ার্ড থেকে কে দাড়াচ্ছেন এ নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে একটা অনিশ্চয়তা চলছিলো আজ তা ছোয়াচে রোগের মতন ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে। শিলিগুড়িবাসীর জন্য কি নতুন কোনও চমক অপেক্ষা করছে। সূত্রের খবর জয়ী মহিলা কাউন্সিলারদের কাউকেই হতাশ করতে চাইছে না তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব বা বলা যেতে পারে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় নিজে। তৃণমূলের মহিলা কাউন্সিলারদের মধ্যে এবারে প্রথম নাম উঠে আসছে শ্রাবনী দত্ত। যার টিকিট পাওয়া প্রায় একশো শতাংশই পাকা শুধু সময়ের অপেক্ষা। আরও খবর আছে জিততে পারলে শ্রাবনী দত্তকে সন্মানজনক উচ্চ পদ দেবার কথাও ভাবছে তৃণমূল কংগ্রেস। এছারা দুলাল দত্ত এবং মানিক দের টিকিটও প্রায় পাকা। এছারাও আরো দু-তিনজন অবাঙ্গালী কাউন্সিলারকেও টিকিট দিচ্ছে তৃণমূল।
শিলিগুড়িতে কংগ্রেস কতটা লড়াই করতে পারবে সেটা কংগ্রেস নিজেও জানে তাই বামেদের সাথে মিলে শিলিগুড়িতে লড়াই করবে না একলা চলবে এটা নিয়েও সমস্যায় কংগ্রেস। শঙ্কর মালাকারকে এই কথা জিঞ্জাসা করলে তিনি জানান আমি কিছুই বলব না এই বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই শেষ কথা। সূত্রের খবর কংগ্রেস শিলিগুড়িতে দশটা আসন ছেড়ে বাকিটা ছেড়ে দেবে সিপিআইএম-এর জন্য। তবে কংগ্রেসের একাংশের মতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। অর্ধেক অর্ধেক করে সিট ভাগাভাগি হোক। তবে সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে কিছু বলা না হলেও তারাও ধীরে চলো নীতি নিয়ে চলতে চাইছে। সিপিআইএম ভালোভাবেই জানে তারা জিততে পারবে না। তাই যেভাবেই হোক তারা ডিসটার্ব করতে চাইছে তৃণমূলকে।এই সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সদস্য সংগ্রহ করছে সিপিআইএম।
কে হবেন মেয়র এ নিয়েই আপাতত জোর আলোচনা শিলিগুড়িতে কেউ বলছেন প্রতুল চক্রবর্তী, কেউ বলছেন অলোক চক্রবর্তী আবার কারো পছন্দ পাপিয়া ঘোষ। তৃণমুল কংগ্রেসের কাছে এখন আরেক সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে এই মেয়র পদও। আর গৌতম দেব এবং রঞ্জন সরকার তো আছেনই। প্রার্থী ঘোষনা এক সমস্যা, মেয়র পদ আরোএক সমস্যা। সবমিলিয়ে একটা চাপা অসন্তোষ রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে। একেক জনের সাপোর্টে একেকটি গোষ্ঠী, এবারে আরো সমস্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। কবে দেওয়াল লিখন হবে, কবে বুথ কমিটি তৈরী হবে, আর কবে ঘোষনা হবে সেই কাঙ্ক্ষিত নামগুলি যাদের সামনে রেখে আসল লড়াই শুরু করবেন শিলিগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য এবং সমর্থকেরা। বিরোধী শিবির এটাই হাতিয়ার করছে আর প্রচার করছে তৃণমূল কংগ্রেসের আভ্যন্তরীণ সমস্যা আছে তাই তাদের পক্ষে মুষ্কিল শিলিগুড়ি চালানো। তৃণমূল অবশ্য এই কথা উড়িয়ে দিয়েছে তারা জানিয়েছে তারা প্রচারে না নামলেও অসুবিধা হবে না, কারন মানুষ রোজ দেখছে কারা কারা কাজ করছে, তাই ভোট কাদের দিতে হবে বা দেওয়া উচিত। তাই নির্বাচনের দিনক্ষন ঘোষনার পর থেকেই শুরু হয়ে গেছে তৎপরতা টিকিট নিয়ে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে টিকিট ঘোষনার পরে। কারন যে টিকিট পাবেন না তিনি বা তার দল কতখানি কাজে নামবে সেটাও এক চিন্তার বিষয়।
নির্বাচনের দিন ঘোষনা হবার পর থেকেই শিলিগুড়িতে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। তৃনমুলের প্রার্থী ঘোষনা কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা, আর এখানেই উঠছে কথা, কিভাবে শিলিগুড়ি পুরসভা দখল করতে পারবে তৃণমূল কংগ্রেস, গৌতম দেব এবং পাপিয়া ঘোষ যতই মুখে একসাথে কাজ করবার কথা বলুন না কেন, ভীতরে ভীতরে কেউ যে কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না এটাও জেনে গেছেন সবাই, তৃণমুলের কর্মীরাও দ্বিধাগ্রস্ত কি করবেন, সন্ধ্যায় তৃণমূলের অফিসগুলিতে একই আলোচনা কে দাড়াচ্ছেন তাদের ওয়ার্ড থেকে, এক তৃণমূল কর্মীর অভিযোগ এটা হতই না যদি বিজয়ীদের আগের থেকেই নিশ্চিত করে দেওয়া হত যে তাদের টিকিট নিশ্চিত। তবে এতটা অনিশ্চয়তা আসত না, তবে তৃণমূলের অন্দরে একটাই আলোচনা এত রেসারেসি নিয়ে কিভাবে দখল করা যাবে শিলিগুড়ি পুরসভা, তৃণমুলের জেলা নেতৃত্ব এবিষয়ে কোন কথা না বললেও তাদের হাতে যে কিছুই নেই তা বোঝা গেছে আকারে ইঙ্গিতে। পিকে দুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন শিলিগুড়িতে কেউ নিশ্চিত নন টিকিট পাওয়ার ব্যাপারে, আর এখানেই কথা উঠেছে চেয়ারম্যান এর টিকিট পাওয়া নিয়েও। যেখানে চেয়ারম্যান নিশ্চিত নন সেখানে অন্য কেউ কিভাবে নিশ্চিত হবেন। এখন এতকিছু সামলিয়ে তৃণমূল কিভাবে শিলিগুড়ি পুরসভা দখল করতে পারে কি না এখন সময়ই বলে দেবে।