করোনাকালে লকডাউনের মধ্যেই নিউ জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ি এলাকার বহু জায়গায় রমরমিয়ে চলছিল বিভিন্ন মাদক দ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা। পাশাপাশি এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যেই শিলিগুড়ির একটি হোটেলে গোপনে শুরু হয়েছিল দেহব্যবসার কারবার। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ওই হোটেল এবং বিভিন্ন জায়গায় যে জাল পেতেছিল তাতেই ধরা পড়ে মাদক ব্যবসায় যুক্ত লোকেরা এবং হোটেল মালিক-সহ দেহব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার এনজেপি রেল হাসপাতালের সামনে ব্যাগ ভর্তি গাঁজা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল মাইকেল মধুসুদন কলোনীর রঞ্জিত পাল। সেই খবর পাওয়া মাত্র অভিযান চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই পুলিশ বামাল ধরে ফেলে রঞ্জিত পালকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ২৬ কেজি গাঁজা। যার বাজারমুল্য প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। ধৃত রঞ্জিত দীর্ঘদিন ধরেই এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত। সে জলপাইগুড়ি থেকে গাঁজা এনে শিলিগুড়িতে বিক্রি করতো বলে জানায় পুলিশ। ধৃতকে শনিবার জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওইদিন এনজেপি থানার অন্তর্গত মমতা পাড়া ও সিপাই পাড়া এলাকায় দুটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৯৩ বোতল দেশি মদ ছাড়াও বেশকিছু বিদেশি মদও উদ্ধার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই দুটি বাড়িতে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল অবৈধ মদের ব্যবসা। ওই ঘটনায় পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের শনিবার জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ওই দিন এনজেপি থানার সাদা পোশাকের পুলিশ পৃথক দুটি জায়গায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ অবৈধ দেশি বিদেশি মদ সহ ২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশের অভিযানে একই দিনে মৈলানিজোত এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে উদ্ধার হয় ৭০০ গ্রাম আফিম-সহ বিভিন্ন নেশার সামগ্রী। ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ আফিস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সন্দীপ কুমারকে পুলিশ বামাল গ্রেফতার করে।

এদিকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শিলিগুড়ির একটি হোটেলে অভিযান চালায় গোয়েন্দা দফতর। তাদের কাছে খবর ছিল ওই হোটেলে গোপনে চলছে দেহব্যবসা। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে গোয়েন্দারা ৮ জনকে গ্রেফতার করে। এরা হোটেল মালিক মনি পাল, হোটেল কর্মী সুহান রায়, সজল চক্রবর্তী, সুদীপ চক্রবর্তী, প্রশান্ত সরকার, শমিক চ্যাটার্জি, অনিল সিং, গজানন কোলাপুর। এছাড়াও হোটেল থেকে উদ্ধার হয়েছে ৬ যুবতি। জানা গিয়েছে উদ্ধার হওয়া যুবতিদের মধ্যে ২ জন দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ১ জন বিহার, ১ জন কোচবিহার, ১ জন উত্তর দিনাজপুর এবং আর একজন উত্তর ২৪ পরগণার বাসিন্দা। ধৃত ৮ জনের বিরুদ্ধে ইমোরাল ট্রাফিকিং অ্যাক্টের আওতায় মামলা দায়ের করে আদালতে তোলা হয়েছে।
শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় একটি বহুতলে অফিস ভাড়া নিয়ে চলছিল অবৈধ কলসেন্টার।গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় মাটিগাড়া থানার পুলিশ, স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ এবং গোয়েন্দা দফতর। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় ২৪ জন যুবতি এবং ২ যুবককে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বহুদিন ধরেই সেখানে এই অবৈধ কলসেন্টার চলছিল।এদিন ওই বহুতলের একতলায় কলসেন্টারের অফিসে যখন পুলিশ হানা দেয় সেইসময় দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।পরে দরজা ভেঙে পুলিশ ভেতরে ঢুকে ২৪ জন যুবতি এবং ২ যুবককে আটক করে। বেশকিছুদিন ধরেই ওই অবৈধ কলসেন্টার বন্ধ করতে অভিযান চালিয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ কাউকে ধরতে পারছিল না। কিন্তু এদিন তারা সফল হয়।