টানা দশ বারের জন্য স্বল্প সঞ্চয়ের সুদ অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্র। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সুদ বাড়ার আশায় জল ঢেলে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রকের ঘোষণা — আগের মতোই সুদ মিলবে পিপিএফ, এমআইএস-এর মতো সব স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে। প্রবল মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও কেন্দ্রের এহেন সিদ্ধান্তে হতাশা ছড়িয়েছে সুদ নির্ভর মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত কোটি কোটি মানুষের মনে।
স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হার তলানিতে এসে ঠেকেছে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির ফলে। কেভিপি, মাসিক আয় প্রকল্প বা টাইম ডিপোজিট, জনপ্রিয় সব সঞ্চয় প্রকল্পেরই সুদের হার বিগত বছরগুলিতে কমানো হয়েছে নির্মম ভাবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সেই হার কিছুটা বাড়ার আশা জেগেছিল। কিন্তু ৩০ জুন সন্ধ্যায় এক ঘোষণায় কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিল, বাড়ানো হচ্ছে না স্বল্প সঞ্চয়ের সুদ।

তলানিতে সুদের হার – বাড়ল না বয়স্কদের সঞ্চয় প্রকল্পের সুদও
পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদের হার থাকছে ৭.১ শতাংশ। কিষান বিকাশ পত্রে সুদের হার হয়েছে মাত্র ৬.৯ শতাংশ বা ১২৪ মাসে ম্যাচিওরিটি। পাঁচ বছরের মাসিক আয় প্রকল্পে সুদ মিলবে ৬.৬ শতাংশ।
সুদ একই থাকছে ১, ২, ৩ ও ৫ বছরের টাইম ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানতে, রেকারিং ডিপোজিট, ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বা এনএসসি, সিনিয়র সিটিজেনস্ সেভিংস ও সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনাতে। বিপুল হারে সুদ কমানো হয়েছিল ২০২০-র এপ্রিলে, যখন করোনা লকডাউনে মানুষের দুর্দশা চরমে। পরবর্তীতে জিনিসপত্রের চড়া দাম সত্ত্বেও সুদ বাড়ানো হয়নি।

বয়স্কদের সঞ্চয় প্রকল্পে ৭.৪ ও সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় সুদ মিলবে ৭.৬ শতাংশ। ১, ২ ও ৩ বছরের টাইম ডিপোজিটে সুদ থাকছে মাত্র ৫.৫ শতাংশ। ৫ বছরের টাইম ডিপোজিটে সুদ মিলবে ৬.৭ শতাংশ।
৫ বছরের রেকারিং ডিপোজিটে ৫.৮ ও ৫ বর্ষীয় এনএসসি-তে ৬.৮ শতাংশ সুদই পাওয়া যাবে। পোস্ট অফিসের সেভিংস অ্যাকাউন্টে পাওয়া যাবে ৪ শতাংশ সুদ।
মূল্যবৃদ্ধি লাগাম-ছাড়া
ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ভাবে কমানো হয়েছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদ। সাড়ে ৮ শতাংশ থেকে অনেকটা ছেঁটে তা করা হয়েছে ৮.১ শতাংশ। অথচ মাথা চাড়া দিয়েছে দারুণ মূল্যবৃদ্ধি। এপ্রিলে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ১৫.০৮ শতাংশ। মে মাসে বেড়ে হয়েছে রেকর্ড ১৫.৮৮ শতাংশ। এপ্রিলে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৭৯ শতাংশ, মে-তে হয়েছে ৭.০৪ শতাংশ।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতি অনুযায়ী ৪ শতাংশ খুচরো মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় বলে ধরা হয়। এর থেকে ২ শতাংশ কম-বেশি হলে চরম সহনসীমা বলে মনে করা হয়। চলতি বছরে দীর্ঘ সময় জুড়ে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি ৬ শতাংশের অনেকটা ওপরে। বাধ্য হয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দু’দফায় রেপো রেট ৯০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। কিন্তু কোনো অদ্ভুত কারণে ব্যাঙ্কগুলো ফিক্সড ডিপোজিটে সুদ তেমন বাড়াচ্ছে না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে টাকা জমা রাখলে তা আসলে কমে যাচ্ছে। কারণ, যে হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে, দাম বাড়ছে তার থেকে বেশি গতিতে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হারে বৃদ্ধির আশা জেগেছিল তাই। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদ কমা, ব্যাঙ্কে সুদ না বাড়ায় কেন্দ্রের মৎলবটা আঁচ করা গিয়েছিল। আশঙ্কা সত্যি প্রমাণ করে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হার না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে আরও বিপদের দিকে ঠেলে দিল কেন্দ্র।