টানা নয় বারের জন্য স্বল্প সঞ্চয়ের সুদ অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্র। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে সুদ বাড়ার আশায় জল ঢেলে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রকের ঘোষণা — আগের মতোই সুদ মিলবে পিপিএফ, এমআইএস-এর মতো সব স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে। প্রবল মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও কেন্দ্রের এহেন সিদ্ধান্তে হতাশা ছড়িয়েছে সুদ নির্ভর মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত কোটি কোটি মানুষের মনে।
স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হার তলানিতে এসে ঠেকেছে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির ফলে। কেভিপি, মাসিক আয় প্রকল্প বা টাইম ডিপোজিট, জনপ্রিয় সব সঞ্চয় প্রকল্পেরই সুদের হার বিগত বছরগুলিতে কমানো হয়েছে নির্মম ভাবে। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে সেই হার কিছুটা বাড়ার আশা জেগেছিল। কিন্তু ৩১ মার্চ বিকেলের ঘোষণায় কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিল, বাড়ানো হচ্ছে না স্বল্প সঞ্চয়ের সুদ।

তলানিতে সুদের হার
পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদের হার থাকছে ৭.১ শতাংশই। কিষান বিকাশ পত্রে সুদের হার থাকছে মাত্র ৬.৯ শতাংশ বা ১২৪ মাসে ম্যাচিওরিটি। পাঁচ বছরের মাসিক আয় প্রকল্পে সুদ মিলবে ৬.৬ শতাংশ।
সুদ একই থাকছে ১, ২, ৩ ও ৫ বছরের টাইম ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানতে, রেকারিং ডিপোজিট, ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বা এনএসসি, সিনিয়র সিটিজেনস্ সেভিংস ও সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনাতে। বিপুল হারে সুদ কমানো হয়েছিল ২০২০-র এপ্রিলে, যখন করোনা লকডাউনে মানুষের দুর্দশা চরমে। পরবর্তীতে জিনিসপত্রের চড়া দাম সত্ত্বেও সুদ বাড়ানো হলো না।
বয়স্কদের সঞ্চয় প্রকল্পে ৭.৪ ও সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় সুদ মিলবে ৭.৬ শতাংশ। ১, ২ ও ৩ বছরের টাইম ডিপোজিটে সুদ থাকছে মাত্র ৫.৫ শতাংশ। ৫ বছরের টাইম ডিপোজিটে সুদ মিলবে ৬.৭ শতাংশ। ৫ বছরের রেকারিং ডিপোজিটে ৫.৮ ও ৫ বর্ষীয় এনএসসি-তে ৬.৮ শতাংশ সুদই পাওয়া যাবে। পোস্ট অফিসের সেভিংস অ্যাকাউন্টে পাওয়া যাবে ৪ শতাংশ সুদ।
ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ভাবে কমানো হয়েছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদ। সাড়ে ৮ শতাংশ থেকে অনেকটা ছেঁটে তা করা হয়েছে ৮.১ শতাংশ।

মূল্যবৃদ্ধি লাগাম-ছাড়া
অথচ মাথা চাড়া দিয়েছে দারুণ মূল্যবৃদ্ধি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ১২.৯৬ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে হয়েছে ১৩.১১ শতাংশ। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৫.০৩ শতাংশ, ২০২২-র ফেব্রুয়ারিতে এই হার ৬.০৭ শতাংশ। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতি অনুযায়ী ৪ শতাংশ খুচরো মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় বলে ধরা হয়। এর থেকে ২ শতাংশ কম-বেশি হলে সহনসীমার মধ্যে রয়েছে বলে মনে করা হয়। চলতি বছরের বেশির ভাগ সময় জুড়েই খুচরো মূল্যবৃদ্ধি ৪ শতাংশের অনেকটা ওপরে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে টাকা জমা রাখলে তা আসলে কমে যাচ্ছে। কারণ, যে হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে, দাম বাড়ছে তার থেকে বেশি গতিতে। কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়ছে সুদের হার বাড়ানোর। এই অবস্থায় চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হার না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে আরও বিপদের দিকে ঠেলে দিল কেন্দ্র।

এপ্রিলেই বসছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গুরুত্বপূর্ণ সভা
এদিকে এপ্রিল মাসের ৬ থেকে ৮ তারিখ বসবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটরি পলিসি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা। নয়া অর্থবর্ষে এটাই এই কমিটির প্রথম সভা। মনিটরি পলিসি কমিটির ফেব্রুয়ারি মাসের সভায় কয়েকটি বিষয়ে মতানৈক্য দেখা গিয়েছিল। এবারে রেপো রেট, রিভার্স রেপো রেট-এর মতো আর্থিক হারগুলি বাড়াবার চাপ রয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ওপর। শেষ পর্যন্ত রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার।