| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

স্মৃতি থেকে

Reporter Default
রিপোর্টার / ৩৩১ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০

জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

মন ভালো নয়।

কাল কাজে গাফিলতির জন্য ওপর ওয়ালার কাছে বেশ নরম গরম কথা শুনতে হয়েছে। সারাটা রাত ঘুম হয় নি। অফিসের চেয়ার জোড়া দিয়ে ঘন্টা খানেক শুয়েছিলাম। ঘুম হয় নাকি টেলিপ্রিন্টারের ক্যাঁকর কঁ আওয়াজ মাথা খারাপ করে দেয়।

বেরিয়ে এলাম।

তখন কটা হবে। সাড়ে তিনটে।

হাঁটতে হাঁটতে সোজা আউটরাম ঘাট। গঙ্গার ধারে এসে যখন পৌঁছলাম তখন ফার্স্ট লঞ্চটা ভেঁপু বাজিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের দিকে চলেছে। আমি এসে একটা বেঞ্চিতে বসলাম।

ইসলামভাইকে এই সময় পাওয়া যাবে না। অগত্যা একাই বসে রইলাম। গঙ্গার বুক আলো করে সূর্য উঠলো।

নিজের মনকে বোঝালাম এত ইমোসন্যাল হলে তোর দ্বারা চাকরি করা হবে না। কেউ কিছু বললে গায়ে মাখবি না। তোর কাজ করে যা।

সকাল বেলা আনন্দদার (আনন্দগোপাল সেনগুপ্ত, সমকালীন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, গতো হয়েছেন) বাড়িতে যাওয়ার কথা। বেশি দেরি করলে বুড়ো খেপে যাবে, বার বার বলে দিয়েছে, আমি মর্নিং ওয়াক সেরে বাড়ি ফিরে তোর সঙ্গে এক সঙ্গে চা খাব।

অগত্যা উঠে পরলাম।

সোজা হাঁটা লাগালাম। বাবুঘাট হয়ে পোর্ট থানাকে ডাইনে রেখে মায়দানে পা দিলাম।

এরই মধ্যে সব মর্নিং ওয়াকাররা হাঁটতে হাঁটতে ঘেমে-ঘুমে একসা। মোহনবাগান মাঠের কাছে আসতে দেখলাম একটা জটলা। কেউ দাঁড়িয়ে পরছে কেউ আবার মুখ ঘুরিয়ে চলে যাচ্ছে। আমিও এসে দাঁড়ালাম। দেখলাম একটা বছর তেইশ চব্বিশ বছরের মেয়ের বিবস্ত্র শরীর চিৎ হয়ে পড়ে আছে।

পা আর নড়াতে পারলাম না। কাছে এগিয়ে ভাল করে দেখলাম। তখনও বুকের কাছটা ওঠা নামা করছে বলে মনে হল। তলপেট থেকে রক্তের ধারা বয়ে চলেছে। ভাল করে দেখার পর নিশ্চত হলাম ধর্যণ করে খুন করা হয়েছে। আমি প্রথমে যে দেখেছিলাম বুকটা ওঠানামা করছে সেটা ভুল দেখেছি।

অফিসে একটা ফোন লাগালাম। কোনও ফটোগ্রাফারকে পাওয়া যায় কিনা। দেখলাম যে ছিল সে কিছুক্ষণ আগে বেরিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে সায়ন্তনকে ফোনে ধরলাম। ও বললো তুমি অপেক্ষা করো আমি যাচ্ছি।

ভিড়টা দেখলাম এবার একটু বেরেগেছে। বেলাও হয়েছে। নিজের কেমন যেন লাগলো। আমি আমার পরনের পাঞ্জাবীটা খুলে পকেটে থেকে নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্যান্টের পকেটে রেখে মেয়েটার শরীরে চাপা দিলাম।

নানা মুনির নানা মত। নানা টোন টিটকিরি। সব হজম করে চললাম।

এবার হেয়ার স্ট্রীট থানায় ফোন লাগালাম। ডিউটি অফিসারকে নিজের পরিচয় দিলাম। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মুখগুলো কেমন পরিবর্তন হলো।

সায়ন্তন এলো। ফটো তুললো। নিজেই গায়ের থেকে পাঞ্জাবীটা সরিয়ে বিভিন্নদিক থেকে ফটো তুললো। পুলিশ এলো। আমার মুখ থেকে সব গল্পটা শুনলো। আসে পাশের ঝোপ থেকে ঘাঁটা ঘাঁটি করে মেয়েটার জামাকাপর একটা ব্যাগ উদ্ধার করলো। তারপর দুটো ডোমকে বললো, বডিটা তোল।

ওরা দেখলাম বেশ সুন্দর প্যাকিং করে বডিটা গাড়িতে তুলে নিলো।

ডিউটি অফিসার বললো, আপনাকে একবার আমাদের সঙ্গে যেতে হবে।

অগত্যা আমি গাড়িতে উঠলাম। সঙ্গে সায়ন্তন। ডিউটি অফিসার চা খাওয়ালো। আমাকে একটা গেঞ্জি আনিয়ে দিলো। আমি পরলাম। মেয়েটার ব্যাগ ঘেঁটে একটা ঠিকানা বার করলাম। কাজ শেষে বেরোবার সময় সায়ন্তনকে বললাম, আমার সঙ্গে একবার যাবি।

কোথায়?

চল এই ঠিকানা ধরে কিছু পাওয়া যায় কিনা।

একটু ভেবে নিয়ে বললো, চলো।

অনেক ঘোরাঘুরির পর নিউজটা ভালো দাঁড়করালাম। অফিসে এসে লিখে ফেললাম। চিফ রিপোর্টারের হাতে জমা দিয়ে যখন বেরলাম তখন চারটে বেজে গেছে।

পায়ে পায়ে আনন্দদার বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। একচ্যুয়েলি নাইটের পরের দিন আমার ছুটি। আজ আর ছুটি উপভোগ করা হলো না। মেয়েটার কথা শুধু মনে পড়ে যাচ্ছে।

ভদ্রঘরের মেয়ে, সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম। বাবা নেই, বিধবা মা। একভাই এবার বিএ ফাইন্যাল ইয়ার আর একভাই উচ্চমাধ্যমিক দেবে। মেয়েটির বাড়ির সকলে জানতো সে একটি টেলিকলার অফিসে কাজ করে। প্রায়ই রাতে তাকে অফিসে থেকে যেতে হয়। ফলে বাড়ি থেকে সেরকম খোঁজ খবর নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না। একটু ঘাঁটা ঘাঁটি করে যা বুঝলাম মেয়েটির সঙ্গে তার পরিবারের একমাত্র সম্পর্ক ছিল টাকা।

ভাবতে ভাবতে চলে এলাম আনন্দদার বাড়ি আস্তাবলের সামনে।

‘আস্তাবল’ আনন্দার বাড়ির নাম।

দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম।

দাদা সামনেই সেই ভাঙা খাটে বসে।

আমাকে দেখেই চেঁচিয়ে উঠলো, বাঁদর সময়ের জ্ঞান নেই। সকালে কতোক্ষণ বসে রইলাম।

চুপ করে সামনে বসলাম।

দাদা অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো।

ওরকম ঝোড়ো কাকের মতো দেখাচ্ছে কেনো—কোথায় ছিলি? কাল মাঝ রাতে বেরিয়েছিস শুনলাম—

চুপ করে আছি।

কথা বলতে জানিস না। বোবা হয়েগেছিস।

দাঁড়াও আগে মুখে চোখে একটু জল দিয়ে আসি।

যা।

খাওয়া জুটেছে।

হ্যাঁ।

না বলতে জানিস না।

হাসলাম।

মুখে হাতে জল দিয়ে দাদার সামনে এসে বসলাম।

কি হয়েছে বলতো তোকে খুব অন্যমনস্ক দেখাচ্ছে।

বৌদি চায়ের সঙ্গে ডিমের অমলেট আর পাঁউরুটি দিয়ে গেল।

চুপ করে আছিস, কোন কথার জবাব দিচ্ছিস না।

গো গ্রাসে গিলতে গিলতে আনন্দদাকে কাল রাত থেকে সমস্ত ঘটনা বললাম। হয়তো চোখটা ছল ছল করে উঠেছিল।

দূর, এত সেন্টিমেন্টাল হলে চলে। তুই রাইজিং সান তোর মধ্যে এতো সম্ভাবনা। শুধু ছেড়ে দেব ছেড়ে দেব করলে চলে। ঠিক আছে আমি বলে দেব।

দাঁড়া তোকে একটা গল্প বলি তোর মনটা এখুনি ভালো হয়ে যাবে।

মন ভালো করতেই তো তোমার কাছে ছুটে এলাম। তুমি আমার অক্সিজেন।

আনন্দদা হো হো করে হসে উঠলো।

বুঝলি তখন বাবা মারাগেছেন। সিউরিতে বাবার মতো আর কবরেজ নেই। লোকে কিছু হলেই কলকাতায় ছুটে আসে। ঠিকানা আনন্দ।

তখন আমি চুটিয়ে পার্টি করছি। নামডাক হয়েছে। কে আসে নি আমার এই বাড়িতে জয়প্রকাশ থেকে সরজিনী নাইডু। এমনকি বাপুজী পর্যন্ত পায়ের ধুলো দিয়েছেন। সত্যেনদা (বিজ্ঞানী সত্যেন বোস) তো প্রায়ই আসতেন।

ছোটবোনের চিঠিতে মায়ের শরীর খারাপ শুনে বাড়িতে গেলাম।

গিয়ে দেখলাম মা বেশ সুস্থ শরীরেই বিদ্যমান। তাহলে!

মায়ের নাকি আমাকে দেখতে ইচ্ছে হয়েছে। এমনি বললে যাবো না, তাই শরীর খারাপের অছিলা।

কয়েকটা দিন বেশ ভালো কাটল।

একদিন মা বললো, তুই তো অনেক বড়ো হয়েছিস পলাটার মেয়ের জন্য একটা ব্যবস্থা কর না।

মায়ের দিকে তাকালাম। আমি অবিবাহিত মা কি তাহলে….।

ধানাই পানাই শুরু করে দিলাম। তখন বললো, মেয়েটা অনেক দিন থেকে ভুগছে।

তখন বুঝলাম শারীরিক কোন অসুস্থতা আছে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারলাম, মেয়েটা হাঁটতে পারে না। সব সময় চেয়ারে বসে থাকে। এমনি সুস্থ। পায়ের ব্যামো। তুই একটু বিধান রায়কে দেখিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা কর।

ভারি মুস্কিল। যে সে লোক নয় একবারে বিধান রায়।

মা বলছেন, ফেলতে পারলাম না। বললাম ঠিক আছে। আমি যেদিন বলবো সেদিন যেতে পারবে তো।

পারবে।

তখন প্রণবদা হচ্ছেন বিধানবাবুর পিএ।

কলকাতায় এসে প্রণবদাকে পাকরাও করলাম।

ভালনাম।

জানি না। ভুলে গেছি।

তা উনি বিধানবাবুর সঙ্গে কথা বলে একটা ডেট দিলেন। তাও সকালে, উনি যখন রাইটার্সে যাবেন তার পনেরো মিনিট আগে উনি দেখবেন।

সেই মতো খবর পাঠালাম। ওরা এলো। মেয়েটা দেখতে খারাপ নয়। আমার বুকেও দোলা দিল। কিন্তু কি করবো, তখন তোর বৌদিকে নিয়ে মোটামুটি ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করে ফেলেছি।

যাক, যথা সময়ে বিধানবাবুর বাড়িতে ওয়েলিংটনে পৌঁছলাম। পাক্কাটাইমে নিচে নামলেন। ওকে দেখলেন। ওর বাড়ির লোকজনও ছিল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললো, আনন্দ তুমি একবার আমার সঙ্গে এসো।

আমি পেছন পেছন গেলাম।

দেখো ওর কিছু হয় নি। এটা ওর মনের একটা রোগ। আমাকে বিশ্বাস করো?

আমি আকাশ থেকে পরলাম, আপনি এতোবড়ো ডাক্তার, আপনাকে বিশ্বাস করবো না তো কাকে করবো।

তাহলে আজ রাত এগারটার পর ওকে নিয়ে আসবে। আর কেউ নয় শুধু তুমি আসবে আর ওর পরিচিত কেউ।

মনটায় একটু খটকা লাগলো। তবু বিধানবাবু বলেছেন। তার ওপর সমত্ত বয়সের মেয়ে। মুখের ওপর না বলতে পারলাম না।

ঠিক পৌনে এগারটার সময় এলাম। চারদিক শুনসান। দারোয়ান দরজা খুলে ভেতরে বসতে বললো।

বুঝলাম তাহলে দারোয়ানকে বলাই আছে।

মেয়েটির এক পিসী আমি আর মেয়েটি।

ঠিক এগারোটার সময় দেখলাম বিধানবাবু নিচে নেমে এলেন। নাইট গাউন পরা।

খুব গম্ভীর।

দারোয়ানকে বললেন চেম্বারটা খুলে দাও।

দারোয়ন চেম্বার খুললো।

আমি চেয়ার ঠেলে মেয়েটিকে চেম্বারের মধ্যে নিয়ে গেলাম।

ওর পিসী থাকতে চেয়েছিলেন। উনি আমাদের দুজনকেই বাইরে বসতে বললেন। দারজা বন্ধ করলেন।

আধ ঘন্টা পার হয়ে গেলো দরজা খোলে না। এই রকম করে একঘন্টা দেড়ঘন্টা প্রায় পৌনে দুঘন্টা পর দেখলাম দরাম করে দরজাটা খুলে গলে মেয়েটার বুকে কোনও কাপর নেই ব্লাউজের বোতাম ছেঁড়া। ছুটতে ছুটতে ওর পিসীকে জড়িয়ে ধরে হাউ হাউ করে কাঁদতে আরম্ভ করলো।

রাগে তখন আমার গা রি রি করছে। মনে হচ্ছে এখুনি গিয়ে ঠাস ঠাস করে বিধানবাবুর গালে একটা থাপ্পর মারি।

দেখলাম উনি নাইট গাউনটা পড়তে পড়তে বাইরে বেরিয়ে এলেন। মুখটা গম্ভীর।

আনন্দ, কাল সকাল নটায় আসবে।

ওপরে উঠে গেলেন।

তখনও মেয়েটা হাউ হাউ করে কেঁদে চলেছে।

মনে মনে ভাবছি বাড়িতে মুখ দেখাবো কি করে। আমার গ্রামের লোকই বা কি বলবে। এ কথা কাকে বলবো, কে বিশ্বাস করবে।

অগত্যা দুজনকে নিয়ে বাড়িতে এলাম। সারা রাস্তা স্পিকটি নট। কি কথা বলবো।

বাড়িতে ফিরলাম রাত দেড়টা দুটো নাগাদ।

বাড়িতে একটা হৈ হৈ পরে গেছে। মেয়ের পা ভাল হয়ে গেছে। নিজের পায়ে হাঁটতে পারছে।

আমি কাকে কি বলবো। এ কথা কাউকে বলা যায় নাকি।

সকালে উঠে কাউকে মুখ দেখাতে পারি না। তখন অনেকটাই সবাই জেনে গেছে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। ভবঘুরের মতো কলকাতার রাস্তায় খানিক ঘুরলাম। বাড়ির ভেতরে কি হচ্ছে তার কোনও খবরা খবর নেওয়ার প্রয়োজনটাও বোধ করলাম না। নটায় যেতে বলেছেন। ভাবলাম যাবো কিনা। তারপর ঠিক করলাম আমাকে যেতেই হবে। এর একটা হেস্ত নেস্ত করতে হবে।

পৌনে নটা নাগাদ ওঁর বাড়ির সামনে চলে এলাম।

বাড়িতে না ঢুকে নিচে একটু পায়চারি করলাম। তারপর ভেতরে ঢুকলাম। দেখলাম চেম্বার খোলা। প্রণবদা আছেন দু-একজন আমচা চামচা বসে আছে।

আমাকে দেখে গম্ভীর হয়ে বললেন, বসো।

বসলাম।

স্বাভাবিক মনটা ভালো নয়। মুখে তার ছাপ থাকবে। উনি নিজের কাজ করছেন। তারপর আমচা চামচাগুলোকে বিদায় করলেন।

ঘরে তখন আমি প্রণবদা আর ডঃ রায়।

আমার দিকে তাকালেন।

মেয়েটি ভালো আছে আনন্দ?

তখন আমি বাক রহিত। কি বলবো। ধরে জুতো মারতে ইচ্ছে করছে।

খুব রেগে আছো মনে হচ্ছে?

আমাদের দিকে ঘুরে বসলেন।

এছাড়া আমার কোনও উপায় ছিল না বুঝলে আনন্দ। এটুকু না করলে, আমি কেন, কোনও ডাক্তার ওকে কোনও দিন ভালো করতে পারতো না। একটা সুস্থ সবল ফুলের মতো মেয়ে সারাটা জীবন চেয়ারে বসে বসেই নষ্ট হয়ে যেত।

তা বলে!

আমার গলার স্বরে উত্তজনা।

উনি হো হো করে হেসে উঠলেন।

এবার প্রণবদা আমার দিকে একবার তাকায় আর একবার ডা. রায়ের দিকে।

দাঁড়াও দাঁড়াও তাহলে সত্যি সত্যি আমি প্রমথেশ বড়ুয়ার মতো এ্যাক্ট করতে পেরেছি। আমি তো ভাবলাম তুমি ধরতে পেরেছো।

তখন আমি মনে মনে গালি দিচ্ছি। বুড়ো ভাম তুমি এ্যাক্টো দেখাচ্ছ।

তারপর উনি উঠে গেলেন। সামনের টেবিল থেকে একটা রামের বোতল নিয়ে এলেন।

খাবে নাকি একটু।

তখন আমার রাগে গা রি রি করছে।

প্রণবদাও কেমন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। ওনার এরকম বিহেভে। আফটার অল পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

জানিস আনন্দ আমার জীবনের সেকেন্ড পেসেন্ট যাকে নেগেটিভ থেকে পজিটিভ করলাম।

ওই রকম একটা বিশাল মানুষ, যার ব্যপ্তি সার ভারতময় বললে ভুল হবে। সারা পৃথিবীব্যাপী।

বুঝেছি, তুই আমার ওপর বেজায় চটে আছিস।

প্রণবদার দিকে তাকালো।

প্রণব আমার ফার্স্ট মিটিংটা ক্যানসেল করো।

তারপর আমার দিকে আবার ঘুরে বসলো।

জানিস আনন্দ সকালে মেয়েটাকে দেখেই বুঝেছিলাম। ওর কিছু হয় নি। স্রেফ একটা ভয় পেয়ে ও হাঁটতে পারছে না। ওকে যদি হাঁটাতে হয় তাহলে আমাকে ভয় দেখাতে হবে। তাই তোকে বললাম রাতে নিয়ে আসতে।

সারাদিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে চিন্তা করলাম, ওকে কি ভাবে ভয় দেখাবো।

একজনকে (এখানে পড়তে হবে গাপালপাঁঠা, ভাল নাম গোপাল চক্রবর্তী এখনও বৌবাজারে বাঙালী পাঁঠার দোকানটা আছে) দিয়ে একটা রামের বোতল জোগাড় করলুম। বাড়িতে এসে দারোয়ানটাকে দিয়ে দুটো কোকাকলা নিয়ে আসতে বললুম। রামের বোতল থেকে মদটা ফেলে দিলাম কোকাকলা ভোরলাম।

তোরা আসার আগে, চেম্বারে সব রেডি করে রাখলাম।

মনে মনে নিজেকে প্রিপেয়ার্ড করলাম তোমাকে আজ মাতাল আর চরিত্রহীনের অভিনয় করতে হবে।

তোরা এলি। মেয়েটাকে চেম্বারে ঢুকিয়ে দিলি। আমি দরজা বন্ধ করলাম। ছিটকানিটা ওকে দেখিয়ে আটকালাম। কিন্তু দিলাম না। দরজাটা খোলা রাখলাম।

এবার ঘরের সব আলো নিভিয়ে ছোট আলোটা জালালাম।

তখন দেখলাম মেয়েটার মুখটা কেমন শুকিয়ে গেলো।

আমি মদের বোতল খুললাম। ওর সামনেই ঢাললাম। ওকে বললাম একটু খাবে। না বললো।

আমি মদ খাচ্ছি ওর সঙ্গে গল্প করছি, তুমি কি করো, কেন তুমি হাঁটতে পারছো না। কবে থেকে হাঁটতে পারছো না। এর জন্য কোন কোন ডাক্তারের কাছে গেছো। সব একটু একটু করে জানছি। আর ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে চুক চুক করে মদ খাচ্ছি। মেয়েটার চোখ মুখ লক্ষ্য করছি। একটু একটু ভয় পাচ্ছে দেখছি মেয়েটা।

পায়ের দিকে বার বার লক্ষ্য রাখছি, দেখছি সামান্য মুভ মেন্ট শুরু হয়ে গেছে।

উঠতে চেষ্টা করছে কিছুতেই উঠতে পারছে না। সময় নিতে শুরু করলাম। আর ভাবছি কি করবো। মেয়েদের আত্মসম্মানের সবচেয়ে বড়ো জায়গা তার শরীর।

তখন মনে দ্বিধা। একাধারে আমি ডাক্তার, আর একাধারে সমাজের সম্মানীয় ব্যক্তি। কি করবো। মেয়েটিরও আমার সম্বন্ধে একটা ধারণা তৈরি হয়ে আছে।

নিজের নাইট গাউনটা খুললাম। ভেতরে আন্ডার প্যান্ট পরা।

আবার মদ খেতে শুরু করলাম। চোরা চোখে দেখি তখন ও প্রবল চেষ্টা শুরু করেছে উঠে দাঁড়াবার জন্য।

আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারলাম না। এই হচ্ছে সঠিক মওকা, ওকে আঘাত করতে হবে।

টলতে টলতে উঠে গেলাম। কাছে যেতেই আমার হাতটা চেপে ধরলো।

না না করছে।

প্রথমে ওর বুকের কাপরটা সরিয়ে দিলাম। দেখলাম পা-টা প্রবল কাঁপছে। মুখ ভয়ে পাংশু হয়ে গেছে।

সুযোগটা হাত ছাড়া করলে ও আর সারাজীবন হাঁটতে পারবে না। ওর ব্লাউজটা ধরে দিলাম একটান। ফর ফর করে ছিঁড়ে গেলো। মুহূর্তের মধ্যে উঠে ছুটে বাইরে বেরিয়ে গেলো।

কি বলবো আনন্দ বুকের ভেতরটা এতো প্রচন্ড দুরু দুরু করে উঠলো। কিছুক্ষণ কিংকর্তব্য বিমূঢ়ের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। খারপ ভাবুক, তবুতো ও সুস্থ ভাবে এই পৃথিবীতে হাঁটার অধিকার পেলো।

আমি ছুটে গিয়ে বিধানদার পায়ে লুটিয়ে পরলাম।

খালি পা ছুঁলে হবে। ছোট্ট করে একটা থ্যাঙ্কস দে।

সেদিন চোখে জল ধরে রাখতে পারি নি। আস্তাবল থেকে বেরিয়ে এলাম।

আনন্দদা আমার জীবনের ধ্রুবতারা। আমাকে সঠিকভাবে বেঁচে থাকার পথ দেখিয়েছেন। আনন্দদাকে দেখে কি ভাবে আনন্দ করে বেঁচে থাকতে হয় তা শিখেছি। আনন্দদার সৃষ্টি ‘সমকালীন’ একটা প্রবন্ধের পত্রিকা। যার সম্পাদক আনন্দদা ছিলেন। আনন্দদা বলতেন আমি এই কাগজের বেয়ারা টু মালিক সব। আনন্দদার দুটি বিখ্যাত বই ‘এই আমি ঘোঁড়া’ আর ‘আমায় ঘোঁড়া করো ভগবান’। ‘সমকালীন’ প্রবন্ধ সংকলন চার খন্ডে প্রকাশ পেয়েছিল। তারপর আনন্দদা চলে গেলেন আর কোনও খন্ড প্রকাশ পায় নি। অনন্দদা প্রণাম নিও। তোমার বলা গল্পটা আজ লিখে ফেললাম।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev