হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা ক্ষেত্রে পাঁচরুল গ্রামপঞ্চায়েতের সঙ্গে ক্রিয়েটিভ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন-এর যৌথ সহায়তায় পাঁচরুল গ্রামে আয়োজিত হচ্ছে শান্তিনিকেতনের খোয়াই-এর সোনাঝুরির হাটের অনুসরণে সোনাঝুরির হাট। পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় গত কয়েক বছর ধরে ক্রিয়েটিভ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানীয় পঞ্চায়েতের সহায়তায় সোনাঝুরির হাট আয়োজন করে আসছে।

এই হাটটি হাটের মত করে, মাথায় ছাউনি ছাড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই হাটে তাদের পরম্পরার উৎপাদন নিয়ে যেমন বিভিন্ন জেলার বস্ত্র শিল্পী থাকছেন তেমনি থাকছেন বিভিন্ন জেলার কারিগরেরাও। মুর্শিদাবাদের রেশম শিল্পীদের পাশাপাশি থাকছেন বর্ধমানের অগ্রদীপের কাঠের পুতুল, বাঁশি, একতারা, পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের পটচিত্র, বাঁশ-বেতের নানান জিনিস, মেদিনীপুরের গয়না বড়ি, কোচবিহারের শীতলপাটি, বাংলার নানান জেলার গয়না, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, ঘরসজ্জার নানান সামগ্রী ইত্যাদিও এই সোনাঝুরি হাটে প্রদর্শিত হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কারিগরদের থাকা-খাওয়ার সমস্তভার তারা নিয়েছেন। যে ক’দিন মেলা চলবে, সে কদিন কারিগরদের থাকা-খাওয়ার জন্যে কোনও খরচ করার বহন করতে হবে না। তাছাড়া মেলায় যোগ দেওয়ার জন্যেও কোনও অংশগ্রহণ মূল্যও নেওয়া হচ্ছে না।

মেলা আয়োজনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা স্থানীয় বিধায়ক সমীর কুমার পাঁজা জানালেন, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার বুকে বিশাল বড় বিশ্ববাংলা হাট এবং বিশ্ববাংলা দোকান আয়োজন করে কারিগরদের জীবন পাল্টে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যম তাঁকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর বিধানসভা এলাকায় পাঁচরুল পঞ্চায়েতের সঙ্গে একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোক্তারা বাংলাজোড়া কারিগরদের নিয়ে যে সোনাঝুরি হাট আয়োজন করার আয়োজন করেছে, তিনি সেই উদ্যোগকে সক্রিয় সমর্থন করেছেন।

তিনি জানান উদয়নারায়ণপুরের যে তাঁতি ক্লাসটার আছে, সেটিও এই মেলায় অংশ নেবে। তাছাড়া প্রতি সন্ধ্যায়ও আগত মেলাপ্রেমী মানুষদের মনোরঞ্জনের জন্যে বিভিন্ন কৃষ্টিমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান মেলার আরেকটি উদ্দেশ্য হল বাংলার বিশাল কারিগরি পরম্পরার সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের মানুষদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াও।
উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মেলাটি বিকেল ৪টে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।