তুমি অধম হলে আমি উত্তম হবো না কেন? জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, বাংলার মানুষ যেন অভুক্ত না থাকেন। তিনি সবাইকে বিনামূল্যে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছেন। তবু খাদ্য সচিব বদলেও রেশন নিয়ে অভিযোগ কমছে না। এমনকী টক টু মেয়রেও সিংহভাগ ফোন আসছে রেশন নিয়ে। টিভিতে দেখানো হচ্ছে। ধরে নিতেই পারি, তার বেশিরভাগ রাজনৈতিক মদতে। কিন্তু ২০০ শতাংশ নিশ্চিত হয়ে বলছি পুরোটা মিথ্যা নয়। কয়েকটা কারণে তৃণমূলস্তরের দুর্নীতিবাজ নেতাদের জন্য বদনাম হচ্ছে সরকারের।
না, এই সঙ্কটেও খাদ্য দফতরে ঘুঘুর বাসা ভাঙা যায়নি। অনেকেই আছেন, যাঁরা বামফ্রন্ট জমানায় চাকরি পেয়েছেন। রেশন ডিলারদের সঙ্গে তাঁদের লেনদেন রয়েছে, তাঁরা চাইছেন সরকারকে অপদস্থ করতে। দুর্নীতির শিরোমণি যে তৃণমূলে কেউ নেই তা হলফ করে বলা যাবে না। আমরা যেমন সরকারের উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরি, তেমন নতুন সেগমেন্টের মাধ্যমে যেখানে গণ্ডগোল সেদিকেও আলোকপাত করব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরলস প্রয়াস, পরিশ্রম কিছু অসাধু লোকের জন্য কলুষিত হতে দেব না!
রেশন ডিলার সংগঠনের বাবুরা শাসক দলের জেলা বা ব্লক স্তরের নেতাদের ম্যানেজ করেছে। ধরা যাক, পঞ্চায়েত সমিতির স্তরে দুর্নীতি ধরা পড়ল। ব্লক প্রেসিডেন্ট তা চেপে যেতে বললেন। বিনিময়ে উপঢৌকন পৌঁছে গেল নেতাদের বাড়িতে। তাই তো সরকার ভালো খাদ্যসামগ্রী পাঠালেও বাস্তবে কাঁকড় বা বালি কিচকিচে চালের ভাত খেয়ে বা আটার প্যাকেটে ভুসি দেখে খেতে বসার আগেই সেই লোকটা গালাগাল করছে সরকারকে। লোকাল যে নেতার বদান্যতায় এটা হলো তিনি তখন নিদ্রামগ্ন। বদনাম হচ্ছে কার? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের। এটা হতে দেওয়া যায় না।

দলনেত্রী বলছেন, কেউ খাদ্যসামগ্রী বিলি করতে হলে কিনে দিক। কোথায় কী? শাসক দলের নেতা এসে রেশন ডিলারদের থেকে চালের বস্তা নিয়ে যাচ্ছে, দশটা এমন ঘটনার মধ্যে দুটো হলেও তা সত্যি। ওই নেতাদের হিরো হতে কে বলেছে? বরং খিদে পেটে এমন দৃশ্য দেখে রাগ গিয়ে পড়ছে ওই সরকারের উপর!এটা বন্ধ না করলে বিজেপি-সহ বিরোধী দলের হাত শক্ত হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভালো প্রয়াসকে আমরা এভাবে নষ্ট হতে দেখতে পারি না।
কোথাও যেন কমিউনিকেশন গ্যাপ থাকছে! বাদুড়িয়ায় বিক্ষোভের দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার কারণ জানালেন। কিন্তু সেই বিষয়েই খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বয়ান ছিল অন্য। কেউ ইউটিউব বা চ্যানেল দেখে মিলিয়ে নিতে পারেন! এটাও তো কাম্য নয়। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে বলছেন, সেখানে কোনও চ্যানেলে ফোনো দেওয়ার দরকার কী? খাদ্যমন্ত্রীর জেলার কিছু ঘটনা তুলে ধরে তাঁকে অপদস্থ করে, আক্রমণ করে চাপে রাখতে চাইছে বিজেপি। তা ভোঁতা করতে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে শিখে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বরং সারপ্রাইজ ভিজিট বাড়িয়ে দিন। এটা করলেই সব রেশন ডিলার সাবধান হয়ে যাবে। আর রং না দেখে কড়া শাস্তি দেওয়া হোক যারা চাল চুরি করে দলের বদনাম করছে। বের করে দেওয়া হোক এদের। অন্য দলে গিয়ে তাদের বদনাম করুক। এদের ভোট টানার ক্ষমতা নেই, অথচ এই সময়ে এদের জন্য মানুষ আমাদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করছেন। সব থেকে খারাপ লাগছে এদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক, ভালো কাজগুলি ঢাকা পড়ে যাচ্ছে! তাই কেন্দ্র খারাপ চাল পাঠালেও রাজ্য যখন ভালো খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছে, সেই ভালো খাদ্যসামগ্রীই পৌঁছে দিতে হবে সাধারণ মানুষের কাছে। খারাপটা নয়।

আরেকটা কথা, রেশন নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে বিজেপি বা সিপিআইএমের ফাঁদে পা দেবেন না। ওরা সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। খাদ্য দফতরে ফোন করে অভিযোগ জানান। আর দিদিকে বলো তো আছেই।