গতি এগিয়ে দেয় জীবনকে। কিন্তু আমাদের দেশে তা ডেকে আনছে মৃত্যু। ল্যানসেট এর এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতে বছরে ২০ হাজার ৫৫৪ জন মানুষ পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। এর মধ্যে রয়েছে মদ খেয়ে গাড়ি চালানো, হেলমেট না পরা, সিট বেল্ট না বাঁধা, খারাপ রাস্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের গাফিলতি ইত্যাদি নানাবিধ কারণ। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে গতির তীব্রতায় মৃত্যু। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেটাই চালক ও যাত্রীদের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছে। পথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মূল ঝুঁকিগুলি কি কি তা জানতে ল্যানসেট বিশ্বের ১৮৫টি দেশে এই সমীক্ষা চালিয়েছিল।

সমীক্ষায় দেখা গেছে গাড়ি চালানোর গতি কমলে বাঁচতো বহু মানুষের প্রাণ। হেলমেট পরলে রক্ষা পেত ৫৬৮৩টি জীবন। সিট বেল্ট পরলে বাঁচতেন ৩২০৪জন মানুষ। মদ খেয়ে গাড়ি চালানো আমাদের দেশে পথ দুর্ঘটনার একটা বড় কারণ। কিন্তু এব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়ায় সেই হিসেব দেওয়া যাচ্ছে না বলে সমীক্ষকরা জানিয়েছেন। ২০১৭ সালে এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছিল সে বছর দেশের ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭৬ জন পথ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে অবশ্য এই হিসেব মেলেনি। সেই হিসেব বলছে সে বছর পথ দুর্ঘটনায় মারা যান ১ লাখ ১৪ হাজার ৯১৩জন মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা কম করে দেখানোর একটা সাধারণ প্রবণতা থাকে।

দেশের সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের ২০২০ সালের রিপোর্টে বলা হয়েছে পথ দুর্ঘটনায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৭১৪জনের মৃত্যুর কথা। এর মধ্যে তীব্র গতির কারণে মৃত্যু হয়েছে ৯১ হাজার ২৩৯ জনের। অর্থাৎ ৬৯.৩ শতাংশ লোকের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যানটির লাগামছাড়া গতি। হিসেব কষে দেখা গিয়েছে গতির তীব্রতা কমালে বছরে প্রায় ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার ২৫৮ জনের মৃত্যু এড়ানো যেত। নেশা না করে গাড়ি চালালে রক্ষা পেত আরও ১৬ হাজার ৩০৪টি প্রাণ।

আমেরিকা ও চিনের অভিজ্ঞতা বলছে, সিট বেল্ট দুর্ঘটনা কমায়। তবে প্রতিটি দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে দুর্ঘটনা কমবে এবং এর কোন বিকল্প নেই। আমেরিকা, চিন, ব্রাজিলের মত দেশের অভিজ্ঞতায় এ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাফিক আইন না জানাটাও পথ দুর্ঘটনার একটা অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে। গোটা পৃথিবীতে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ১০ শতাংশই ঘটে ভারতে। ঘটনা থেকে শিক্ষা না নিলে তা রোখার নিয়ম বানানো যাবেনা। নির্দিষ্ট দেশের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তৈরি করতে হবে পথ নিরাপত্তা আইন। ২০৩০ এর মধ্যেই পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব। ভারতের লক্ষ্য ২০২৪ এর মধ্যে এই মৃত্যুকে অর্ধেক করে আনা।