প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শ্রাবণের গুরু পূর্ণিমা থেকে শুরু হয়ে গেল বাবা তারকনাথের মাথায় ভক্তদের জল ঢালা পর্ব। ভক্তরা যাতে নির্বিঘ্নে জল ঢালতে পারেন এজন্য প্রশাসনিকভাবে সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একদিকে ভক্তদের জন্য আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা। অপরদিকে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে একঝাঁক মন্ত্রী প্রশাসনিক পর্যায়ে বৈঠক করেন।
উল্লেখ্য, শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে হাওড়া-তারকেশ্বর রুটে বিশেষ ট্রেন, কবে, কখন চালানো হবে তার নিয়ে কর্তারাও বৈঠক করে ফেলেছেন? চারজোড়া হাওড়া-তারকেশ্বর লোকাল ও শেওড়াফুলি- তারকেশ্বরের মাঝে পাঁচ জোড়া ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে ভিড় উপচে পড়ে সংলগ্ন রেল স্টেশনগুলিতে। শেওড়াফুলি ও তারকেশ্বর স্টেশনে অগণিত ভক্তদের ভিড় চেনা দৃশ্য। এবারেও শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন চালাবে পূর্ব রেল। হাওড়া থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত চারজোড়া হাওড়া-তারকেশ্বর লোকাল ও শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বরের মাঝে পাঁচজোড়া ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। কবে, কবে? কখন এই ট্রেনগুলি ছাড়বে?পূর্ব রেল জানিয়েছে, তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলার সময় অর্থাৎ জুলাই মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে। এছাড়াও ১৩,১৪, ২০, ২১, ২৭, ২৮ ও ২৯ তারিখ ও আগস্ট মাসের ৩, ৪, ৯, ১০,১১, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ তারিখে ট্রেনগুলি চালানো হবে। এই বিশেষ ট্রেনগুলি যাত্রাপথের সব স্টেশনে থামবে বলে জানিয়েছে রেল।

বাবা তারকনাথের জলাভিষেক অনুষ্ঠানের জন্য হাওড়া থেকে বিশেষ চারজোড়া ট্রেন চালানো হবে। হাওড়া-তারকেশ্বর ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনগুলি হাওড়া থেকে ছাড়বে রাত সাড়ে ১২টা, রাত ২টো ৪০ মিনিট। ভোর ৪টা ১৫মিনিটে একটি ট্রেন ছেড়ে যাবে। আরও একটি ট্রেন হাওড়া স্টেশন ছাড়বে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে। তারকেশ্বর থেকে বিশেষ ট্রেনগুলি কখন ছাড়বে সেই সময় সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। রাত ৯টা ১৭ মিনিটে ও রাত আড়াইটের সময় দুটি ট্রেন ছাড়বে। বাকি দুটি ছাড়বে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিট ও ১১টা ৩৫ মিনিটে। এছাড়াও, শেওড়াফুলিতে ভক্তরা গঙ্গার জল নিতে নামেন। সেই স্টেশনেও প্রচুর ভিড় হয়। সেই কথা মাথায় রেখে শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর বিশেষ ট্রেন চালাবে রেল শেওড়াফুলি-তারকেশ্বর ইএমইউ স্পেশাল শেওড়াফুলি থেকে ০৬টা ৫৫মিনিট, ০৯টা ২০ মিনিট, ১১টা ০৫ মিনিট ও বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে এবং রাত ৭টা ৩৫মিনিটে ছেড়ে যাবে। বিপরীত দিকে তারকেশ্বর-শেওড়াফুলি ইএমইউ স্পেশাল তারকেশ্বর থেকে ০৫টা ৫৫মিনিট, ০৮টা ২০ মিনিট, ১০টা ০৫মিনিট ও দুপুর ২টো ৪৬মিনিটে এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩৫মিনিটে ছাড়বে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই বৈদ্যবাটি, শেওড়াফুলি, নিমাইতীর্থ-সহ ১৬টি ঘাটে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ এই ঘাটগুলি থেকেই সবথেকে বেশি সংখ্যক পুণ্যার্থীরা জল নিয়ে হাঁটা দেন তারকেশ্বরের উদ্দেশ্যে। জোরদার করা হয়েছে বৈদ্যবাটি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ১০ জুলাই থেকে শুরু হয়ে গেছে শ্রাবণী মেলা। শেষ মুহূর্তে তারকেশ্বরে বড় বৈঠকে বসেছিল প্রশাসন। বৈঠকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু, পুলক রায়, ইন্দ্রনীল সেন, বেচরাম মান্না, স্নেহাশিস চক্রবর্তীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, এই ৭ মন্ত্রীর টিমের কাঁধেই ছিল দিঘার জগন্নাথ মেলার দায়িত্ব। এবার তাঁদেরই শ্রাবণী মেলার দায়িত্ব সঁপেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাত মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা শাসক, পুলিশ সুপার, জেলা সভাধিপতি, মহকুমা শাসক সহ একাধিক ব্লকের ব্লক আধিকারিক, এবং একাধিক ব্লকের বিধায়করা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, পূর্ত দফতর, বিদ্যুৎ, দমকল, স্বাস্থ্য এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকরা।