দেশের দুষ্প্রাপ্য প্রত্নসামগ্রী বহুদিন থেকে বিশ্বের নানা দেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। একশ্রেণীর শিল্পতস্কর এগুলি বিদেশে সংগ্রাহকদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেয়। একবার বিক্রি হওয়া জিনিস দেশে প্রায় ফেরেনা বললেই চলে। অনেক সময় সন্ধান পাওয়া গেলেও নানা আইনি জটিলতার কারণে কারও ব্যাক্তিগত সংগ্রহশালা থেকে ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্মগুলি পুনরুদ্ধারের কাজটি খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ইদানিং ছবিটা একটু বদলাচ্ছে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার পুরাতাত্ত্বিকদের তৎপরতায় বিশ্বের নানা দেশ থেকে উদ্ধার হচ্ছে খোয়া যাওয়া বহু ভারতীয় প্রত্নসম্পদ। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাচার হওয়া কিছু দুষ্প্রাপ্য শিল্পকর্মও রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও রাজস্থান, গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ-সহ দেশের কয়েকটি রাজ্য থেকে বিদেশে পাচার হয়েছিল দেশের কিছু অমূল্য প্রত্নসম্পদ। দুর্বৃত্তরা সেগুলিকে পাচার করেছিল অস্ট্রেলিয়ায়। গত সপ্তাহে সেগুলিকে দেশে ফেরৎ আনা গেছে। যে দেশে রবীন্দ্রনাথের নোবেল চুরির কিনারা হয়না সে দেশের মানুষদের কাছে এটা নিশ্চয় একটা আনন্দ সংবাদ। দুষ্প্রাপ্য শিল্পসামগ্রীগুলিকে উদ্ধার করা এবং ভারতে ফেরৎ পাঠানোর ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়া সরকারও সহযোগিতা করছেন বলে এএসআই সূত্রে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া শিল্পকর্মগুলি সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে।

এই প্রত্নসামগ্রীগুলিকে মোট ছয় ভাগে ভাগ করেছেন প্রত্নবিদেরা। এক, শিব ও তার শিষ্যরা; দুই, শক্তি বিগ্রহ; তিন, বিষ্ণু ও তাঁর নানা অবতার; চার, জৈন ঐতিহ্যের কিছু নিদর্শন; পাঁচ, ছবি; ছয়, নানা ধরণের শিল্পসামগ্রী। বিশেষজ্ঞদের দাবি এই শিল্পকর্মগুলি নবম শতকের। এএসআই জানিয়েছে এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নানা জায়গা থেকে চুরি যাওয়া মোট ২২৮টি প্রত্নসম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। খুব শীঘ্রই আরও তিনটি দুষ্প্রাপ্য শিল্পকর্ম যুক্তরাজ্য, ইতালি এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বহু ক্ষেত্রেই পাচার হওয়া প্রত্নসামগ্রীগুলি ফেরৎ পাঠানোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি খুব একটা উৎসাহ দেখায় না। কিন্তু তারা যদি চোরাই প্রত্নসম্পদ কেনা ও সংগ্রহশালায় রাখার ব্যাপারে আইনকানুন আরও কঠোর করে তাহলে প্রত্নসম্পদের চোরাচালান ধাক্কা খাবে। তা বিক্রি করার বাজারও সংকুচিত হবে। কারণ আইনি জটিলতা ও শাস্তির ভয়ে সাধারণ মানুষ দুষ্প্রাপ্য চোরাই শিল্পকর্ম কিনতে চাইবেন না।