| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

হাতি মানুষকে তাড়া করার আগে কান সোজা করে নেয় শুঁড় মাটিতে ঠেকিয়ে আছাড় মারে : অশোক মজুমদার

Reporter
অশোক মজুমদার / ১০০৮ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২

চিত্র সাংবাদিকতা করতে করতে কিভাবে যে হাতির প্রেমে পড়লাম জানিনা। আমি যখন ফুল টাইম সাদা বাড়ির কালো গ্রিল (আনন্দবাজার পত্রিকায়) সাংবাদিকতা করছি ঠিক সেই সময়ই আমি হাতির ওপর ছবি তোলা শুরু করি। বিশিষ্ট ফটোগ্রাফার তারাপদ ব্যানার্জীর সুন্দরবনের বাঘের ছবি কাগজে দেখতাম। এ নিয়ে অনেক গল্প আছে। আমিও কিন্তু হাতির ওপর বহু ছবি কাগজে প্রকাশ করেছিলাম।

জঙ্গলে বুনো হাতি আসার খবর পেলেই আমি ছবি তুলতে চলে যেতাম। এর প্রধান কারণ ফরেস্টের কর্মী আমার পারিবারিক বন্ধু সুব্রত পাল চৌধুরী। সুব্রতকে চেনেনা পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতবর্ষে এমন কেউ নেই। বাঘ, হাতি গন্ডার, হরিণ, হনুমান জঙ্গলে থাকে এমন কোনো জীবজন্তু মানুষের অসুবিধা করলেই ফরেস্ট অফিসারেরা সুব্রতকে তলব করতেন।

বাংলায় গোপাল তাঁতীর পর একমাত্র সুব্রতই ট্র্যানকুলাইজড এক্সপার্ট। সুব্রত বহুবার নিজের জীবন বিপন্ন করেও কাজ করে গেছে অবসরের শেষ দিন পর্যন্ত। এখনো বিভিন্ন রাজ্য ছাড়াও বিদেশে সুব্রতর ডাক পড়ে। ওর কাজ নিয়ে বলতে গেলে একটা বই লিখতে হয়। আমি গর্বিত যে এদের দুজনের সাথেই আমি কাজ করেছি।

আজকে ছবিওয়ালার গল্পে এই হাতির সঙ্গেই আমার একটা ঘটনার কথা বলবো যা আপনাদের কথায় ভগবান আমাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আমি তো আবার ভগবান ঈশ্বর উচ্চারণ করতে পারিনা। পাথর মাটিতে আমার গা গোলায়। একমাত্র রক্ত মাংসের মানুষ যাকে দেখতে পাই। কথা বললে উত্তর দেয়। ঝগড়া করতে পারি। সেই আমার সব। আমায় ২৯ দিন নার্সিংহোমে থাকতে হয়েছিল হাতির কল্যাণে।

আমার বাঁ হাতের কনুই টুকরো টুকরো হয়ে গেছিলো। সেই সময় আনন্দবাজারের এক্সিকিউটিভ এডিটর সুমন চট্টোপাধ্যায়ের চেষ্টায় আমার পুরো চিকিৎসার ভার আনন্দবাজার পত্রিকা নিয়েছিলো। অপারেশন করেছিলেন বিখ্যাত শল্য চিকিৎসক ডা. কল্যাণ মুখার্জী। সেই সময়ের খেলাধুলার জগতে ডা. কল্যাণ মুখার্জীকে চেনেনা ভারতবর্ষে এমন কেউ ছিলোনা।

অপারেশনের পর কনুইয়ের হারের এগারোটা ছোট ছোট ভেঙ্গে যাওয়া টুকরোর ছবি ডা. মুখার্জী অফিসের অনেককে দেখিয়ে ছিলেন। সুমনদা ছাড়াও হীরক (এখন এই সময়ের এডিটর ) ও অন্যান্য অনেক বন্ধুই জানে। ডা. মুখার্জীর জন্য আজও কাটা দাগ ছাড়া আমি নিজেও বুঝতে পারিনা আমার কনুইটা নাট বল্টু দিয়ে জোড়া। তবে উনি কিন্তু বলেছিলেন, “বয়স হলেই তোর ব্যাথা হবে।”….. সত্যি তাই এখন ভোরে উঠে হাত সোজা করতে সময় লাগে….খুব ব্যাথা হয়।

সেই সময় বনদফতরের কিছু অফিসার আমায় খুব ভালোবাসতেন। ওনাদের সাহায্য ছাড়া আমি হাতির ছবি তোলার নেশায় ফরেস্টে দাপিয়ে কাজ করতে পারতাম না। এর কারণ একটাই আমি ওনাদের কথা শুনতাম। ডিপ ফরেস্টে ঢুকেও কোনোদিন নেগেটিভ ছবি দিয়ে ওনাদের বিপদে ফেলিনি। কাঠ চুরি থেকে বন্য জন্তুর পোচিং সব দেখেছি কিন্তু বাইরে কাউকে বলতাম না। একটা বিশ্বাস আন্ডারস্ট্যান্ডিং আমাদের উভয়ের ভিতরেই তৈরি হয়ে গিয়েছিলো।

মনোজ কুমার নন্দী, অতনু রাহা, কল্যাণ দাস, ভি কে যাদব….এরা প্রত্যেকেই পিসিসিএফ ছিলেন। রেঞ্জার দিলীপ, চাকি, সুব্রত ছাড়াও এশিয়ান এলিফ্যান্ট বিশেষজ্ঞ মি: বিস্ত, বিখ্যাত হস্তী পরিবারের পার্বতী বড়ুয়া-সহ অনেকের স্নেহ পেয়েছি। বন্ধু সুব্রতর কথা তো আগেই বলেছি।

সুব্রতর বাঁ হাত কোমর হাঁটু মাথা….ওর চলাফেরা দেখলেই বুঝতে পারবেন যে কত দুর্ঘটনা ওর শরীরের উপর দিয়ে গেছে। অন্তত বারোবার ও মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে। একবার তো হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে প্রায় মরেই গিয়েছিল আমরা বীরভূম থেকে নিয়ে আসি। তিন মাস সিএমআরআইতে ভর্তি ছিলো। আমরা সবাই ওর আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। প্রতিদিন হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতাম। সুব্রতর বউ ছন্দা আর মাসিমার কান্নায় আমি কিছু বলতে পারতাম না।

এদিকে আমি তো একবার সামান্য ঘটনাতেই আপনাদের বাতেলা দিচ্ছি। অনেকটা মুখেই মারিতং জগৎ। যদিও নিউজ ছবির ত্রিশ বছরে আমারও মাথা ফাটা হাত, হাঁটু, পায়ে চোট একাধিকবার হয়েছে। এ ছাড়াও গুম করে রাখার (নেপাল ও বৌবাজার) ঘটনাও আছে। আসলে চিত্র সাংবাদিকদের ফ্রন্ট লাইনে কাজ করতে হয় বলে সবারই এই অভিজ্ঞতা আছে। আমার ক্ষেত্রে হয়তো একটু বেশি। এটা আমার অফিস, পরিবার, নিকট বন্ধুরা সবাই জানে।

দলমা থেকে নেমে পশ্চিমবঙ্গের কোথায় হাতির পাল কোন জেলায় ঢুকছে …. ফসল নষ্ট করছে …. মানুষ মারছে …. কোন হাতিকে ট্র্যানকুলাইজড করে ধরা হবে বা কোথায় শিকারী দিয়ে রোগ (গুন্ডা) হাতিকে মেরে ফেলা হবে এরকম নানান খবরের চর্চায় থাকতাম। এটা কিছুই না ফরেস্টের সাথে নিয়মিত আমার যোগাযোগ। আর জঙ্গলের প্রতি ভালোবাসা। ফলে রিস্ক নিতাম জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও। অন্যেরা যেখানে ধীরেসুস্থে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতো আমি বিপদ মাথায় রেখেই দুদ্দাড় ছুটতাম। স্বাভাবিকভাবেই দুর্ঘটনা, চোট তো পাবোই।

আমি জানি, সেই সময়ের চিত্র সাংবাদিকরা মুখে না বললেও মনে মনে তারা মানতে বাধ্য যে হাতির কোন ছবি এক্সক্লুসিভ হলেই সেই অশোক মজুমদারের তোলা। অনেক সময় পিটিআইয়ের বিশিষ্ট চিত্র সাংবাদিক প্রয়াত কে কে রায় আমার সঙ্গী হতো। অনেক সময় এমনিই বেড়াতে আমরা বিভিন্ন ফরেস্ট বাংলোয় উঠতাম। ফটোগ্রাফি করা ছাড়াও শুধু আড্ডা নেশা গান।

দিলীপ, জয়ন্ত, বিকাশ, কাজল, মৌ (কে কে) থাকতো। হয়তো আরো কেউ কেউ থাকতো এই মুহূর্তে মনে পরছে না। প্রথম প্রথম আমি নিজেই হাতি নিয়ে রিপোর্ট ছবি করলেও পরে বার্তা সম্পাদক সুমন চট্টোপাধ্যায় সঙ্গে রিপোর্টার দিয়ে দিতেন। আর সত্যি বলতে এটা সুবিধার চেয়ে আমার অসুবিধাই হতো। আমার নিজের জানা বোঝা চেনা এটা আমি রিপোর্টারদের দেখাবো কেন? তাছাড়া আমি রিপোর্টারদের সাথে কাজ করা পছন্দ করতাম না।

আমি যখন একা কোনো কাজে বা বেড়াতে ফরেস্টে যেতাম। তখন মাহুতের সাথে হাতির পিঠে উঠে দু-পা ছড়িয়ে ওদের মতো করে বসে মাইলের পর মাইল টহলদারিদের সাথে ঘুরতাম। টুরিস্টদের হাতির পিঠে গদি দিয়ে লোহার রেলিং করে ঘোরানো হয়। তাই আপনারা বুঝতে পারবেন না ফরেস্টের রেঞ্জার বিটবাবুরা টহল দেবার সময় শুধু হাতির পিঠে একটা বস্তা পেতে বসে টহল দেন। আমি ওদের সাথে ঐ রকমভাবে বসেই যাবার চেষ্টা করতাম।

একবার এক জংলী হাতি ধরার ছবি রিপোর্ট করার জন্য অফিসার অতনু রাহা (পিসিসিএফ) কে আমাদের (আনন্দবাজারের) রিপোর্টার অনুরাধা ঘোষ-সহ কিছু কাগজের সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফার জঙ্গলের পাশে ঘিরে বলেন, “আপনারা শুধু অশোক মজুমদারকে হাতির পিঠে উঠিয়ে জঙ্গলে ঢোকালেন আমরা কি কাজ করতে আসিনি? আমরাও যাবো।”

মিস্টার রাহা বলেছিলেন, “অশোক যেভাবে হাতির পিঠে জঙ্গলে ঢুকেছে আপনাদের নিতে পারবো না। কারণ আপনারা জানেন না। ওটা খুব কষ্টকর জার্নি। খুব রিস্ক। তাছাড়া অশোকের কাছে এই জঙ্গল খুব চেনা।”

এ কথা আমি রাত্রে অনুরাধার কাছেই শুনেছিলাম। যদিও পরে ধীরে ধীরে সবাই এসেছিল। আসলে হাতির দুলকি চলনে মিনিট দশেক পর এতো কোমরে ব্যথা হতো যে নামার পর বহুক্ষণ পা কোমর নড়তেই চাইতো না। চুপ করে বসে থাকতে হতো। কুঁচকি কোমরের হার প্রায় খুলে যাবার মতো। আনন্দবাজারে সাংবাদিক অনুরাধা ঘোষ ছাড়াও জেলার যেসব সাংবাদিক ছিলেন তারা কিন্তু জানতেন যে আমি কিভাবে জঙ্গলে হাতির কভারেজ করতাম। এমনও হয়েছে আমি ভোরে গিয়ে জেলার সংবাদিক কে ঘুম থেকে উঠিয়ে বলেছি, “তাড়াতাড়ি রেডী হয়ে যা, বেরোতে হবে।”

একবার বাঁকুড়ায় গুন্ডা হাতি মারার জন্য বিখ্যাত শিকারি চঞ্চল সরকারকে আনা হয়েছিল। সেই খবরে আমি দিন তিনেক আগেই বাঁকুড়ায় পৌঁছে যাই। তখন ডিএফও আমার বন্ধু কল্যাণ দাস ছিলেন। সেই সময় অন্য কাগজেরও বেশ কিছু চিত্র সাংবাদিক হাতির ছবি রিপোর্ট করতে যায়। যে হাতিকে মেরে ফেলা হবে আমি দু-দিন আগেই তার ছবি সাদা বাড়ির কালো গ্রিলে পাবলিশড করি।

এক বিকেলে ডিএফও কল্যাণ দাসের অফিসে গল্প করার সময় কল্যাণ বলেন, “অশোক এক্ষুনি পাশের ঘরে ঢুকে যাও আমি দেখতে পাচ্ছি কিছু ফটোগ্রাফার আসছে আমার অফিসের দিকে, তোমায় আমার সাথে দেখলে …? বুঝতেই পারছো।”

আমি আজ আর তাদের নাম বলছিনা সবাই আমার জানাশোনা। বিভিন্ন কাগজ ও এজেন্সিতে কাজ করে। তাদের অভিযোগ কল্যানের কাছে যে, “জঙ্গলে হাতির খবর কি শুধু আনন্দবাজারের অশোক মজুমদারকেই দেবেন। আমরাও তো ছবি তুলতে এসেছি। আমরা জানতে পারি না কেন?”

সে অনেক কথা। আমি পাশের ঘরে বসে সব শুনছি। আর মিটি মিটি হাসছি।

কল্যানের উত্তর ছিল, “দেখুন জঙ্গলের হাতির কেউ যদি ছবি তুলে থাকে আমরা কি করবো। অশোক গ্রামের লোকদের সাথে ঘোরে। ও তিনদিন ধরে আছে। জঙ্গলের ভিতরের রাস্তাঘাট ওর চেনা জানা। আপনারাও তুলুন না। অফিসিয়ালি অনুমতি আপনাদের দিতে পারবো না। তবে সাবধানে ঢুকবেন কারণ ওটা গুণ্ডা হাতি। শিকারি কাল থেকে অপারেশনে নামবে। আপনাদের ওই অপারেশনে নিয়ে যেতে পারবো না। মেরে ফেলার পর আপনাদের নিয়ে যাবো। ছবি তুলবেন। অশোকের কথা বলতে পারবো না। ও আমাদের চেয়েও বেশি খবর রাখে।”

আমি ঘরের ভেতর থেকে ভাবছিলাম আমার বন্ধুদের ভাবনা এটা যেন রাজনৈতিক প্রেস কনফারেন্স যে নেতা চেয়ারে বসলেন আমরা ছবি তুললাম …চলে এলাম।

বন্য জন্তুর ছবি তুলতে অনেক ধৈর্য লাগে। যোগাযোগ রাখতে হয়। আর এটা একদিন হয়না। সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এলাম দেখলাম জয় করলাম মোটেও নয়। তাই বন্ধুদের অভিযোগ অনুযোগ শুনেও চুপ থাকলাম। যদিও এরা সবাই কাগজ বা এজেন্সির দিকপাল চিত্র সাংবাদিক।

এমনিই আমাকে নিয়ে বন্ধুদের অনেক নেগেটিভ গল্প আছে। থাকবেই তো!! কারণ আমি একা কাজ করতে ভালবাসতাম। আমার মনে হতো ফটোগ্রাফির এই কাজটা একাই করতে হয় যদি তুমি ছবি এক্সক্লুসিভ ও অন্যরকম করতে চাও। ফটোগ্রাফিতে একটা ঘটনাকে দেখার এঙ্গেল মিলিত ভাবনার হতে পারে না। বেশি করে নিউজ ছবি তোলায়।

যাইহোক পরে ওই গুন্ডা হাতি মারার পর সবাই ছবিটা তুলেছিলো। কিন্তু ওকে মারার সময় উপস্থিত ছিলাম একমাত্র আমি, শিকারী চঞ্চল দা, রণজিৎ দা এবং ডিএফও কল্যাণ দাস-সহ কয়েকজন বনকর্মী।

উফফফফ একটা ঘটনা বলতে গিয়ে কত কথা চোখে ভেসে আসছে। অনেক জ্ঞান ও হামবড়া আমিত্ব দেখিয়েও ফেললাম এটাই ভাবছেন তো? প্লীজ কিছু মনে করলে করুন। কারণ আমি প্রাণের পরোয়া না করে, পরিবারের কথা না ভেবে এসব করেছি। যা দেখেছি তাই বলছি। এর বাইরে আর কোনো সত্য নেই। তাই নিজের কথা বলতে দ্বিধা করার প্রশ্নই ওঠে না। তাছাড়া জীবনের গল্পগুলো যদি এরকম অদ্ভুত হয় তবে কার না বলতে ভালো লাগে?

যাইহোক, এবার মূল গল্পে আসি….

ফরেস্টের আগে নিয়ম ছিল শিকারি গুন্ডা হাতি মেরে ফেলার পর সেই শিকার করা হাতির দাঁত শিকারীই পাবে। সাথে অন্যান্য অনেক সুবিধা তো আছেই। এদিকে শিকারীও সময় মতো পাওয়া খুব মুশকিল। তখন বিখ্যাত শিকারি প্রয়াত চঞ্চল সরকার ছাড়াও ছিলেন রণজিৎ মুখার্জী। তাছাড়াও বেশিরভাগ হাতি মারা যাবার পর দেখা গেছে ওনারা ভুল হাতি মেরে ফেলেছে। কিন্তু তখন তো কিছু করার নেই।

বনদপ্তর তাই ঠিক করলেন যে নিজেরাই গুন্ডা হাতি মানে রোগ এলিফ্যান্টকে গুলি করে না মেরে প্রথমে ট্রানকুলাইজ করে পায়ের মাপ নিয়ে দেখা হবে যে এটাই সেই রোগ এলিফ্যান্ট কি না। যদি পায়ের ছাপ মিলে যায় তাহলে ইম্মবিলন (immobilon) কড়া ডোজের নার্কোটিক ড্রাগ দিয়ে তাকে মেরে ফেলা হবে। সে ঘুমের ভিতরেই মারা যাবে। তারপর দাঁত কেটে গর্ত খুঁড়ে অনেক নুন দিয়ে তাকে পুঁতে ফেলা হবে। কখনো কখনো কাঠ দিয়ে পুড়িয়ে ফেলাও হয়।

কোন সাল ঠিক মনে নেই…. খবর পাওয়া গেল জলদাপাড়ায় এক বছরেই একটি হাতি সাত আট জন মানুষকে মেরে ফেলেছে। রোগ (গুন্ডা) হাতি মানুষ মারলে তাকে ডলে পিষে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। মানুষের প্রতি এত রাগ তার। মানুষ দেখলেই অযথা তেড়ে গিয়ে শুঁড় দিয়ে আছড়ে পা দিয়ে পিষে দেয়। এর কারণ অনেক…. প্রথমত জমির ফসল খাবার সময় তাকে বল্লম তীর আগুন দিয়ে আঘাত করা। হুলা পার্টির আগুন জ্বালিয়ে সারাদিন তাড়ানো। তারপর হাতির হাট থেকে হাতিরই মেটিং এর সময় মদ্দা হাতির সাথে যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে একা হয়ে যাওয়া। এরকম নানান কারণে হাতি গুণ্ডা হয়ে যায়। ফরেস্টের ভাষায় যাদের বলা হয় রোগ এলিফেন্ট।

জলদাপাড়ার সেই হাতিকে বনদপ্তর রোগ ডিক্লেয়ার করলেন। তার আগে তার পায়ের ছাপ ভালো করে নিয়ে নেওয়া হলো। যেখানে যেখানে মানুষ মেরেছে সেখানকার পায়ের ছাপ, কারণ সেটাই জরুরি। কারণ একই হাতি মারছে কিনা। পিসিসিএফ অতনু রাহার নেতৃত্বে ট্রানকুলাইজড এক্সপার্ট সুব্রত পাল চৌধুরীকে নিয়ে একটা টিম করা হলো। আমি সেই টিমে ভিড়ে গেলাম।

দুদিন ধরে জঙ্গলে খোঁজার পর সেই হাতির দেখা মিললো। আপন মনে গাছের পাতা খাচ্ছে। আমরা চারখানা কুনকি (পোষা) হাতির ওপর টিম ভাগ করে পজিশন নিয়ে আছি। আমি যে হাতির ওপর বসেছিলাম তার নাম চন্দ্রচূড়। সামনে বসে মাহুত। তারপর একজন রেঞ্জার। তারপর আমি। আমার পেছনে একজন বিটবাবু। রেঞ্জার ও বিটবাবু সবার হাতেই বন্দুক। আমি যথারীতি ক্যামেরা নিয়ে।

দেখলাম হাতিটাকে সুব্রত পাল চৌধুরী ঘুমপাড়ানি ওষুধ দিয়ে ট্রাঙ্কুলাইজ করে দিল। হাতিটা কিছুটা দৌড়ে ধপাস করে পরে গেলো। কিছুক্ষন পর সুব্রত-সহ কিছু কর্মী নেমে সেই হাতির কাছে গিয়ে পায়ের ছাপ মেলাতে লাগলো। আমার নামা বারণ ছিল। হাতির ওপর থেকেই ছবি তুলে যাচ্ছি। সুব্রত মিস্টার রাহাকে জানালেন, “স্যার পায়ের ছাপ মিলছে না। এটা গুন্ডা হাতি না।”

সুব্রত সেই হাতিটাকে অ্যান্টিডর্ট দিয়ে দ্রুত কুনকি হাতির ওপর উঠে বসলো। হাতিটা তখনও ঘুমাচ্ছে। মিনিট কুড়ি পর টলতে টলতে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আমি মাহুতকে বললাম,”একটু কাছে নেবে আমাদের হাতিকে। ঠিক ছবি পাচ্ছিনা।”

রেঞ্জার বললেন,”বেশি কাছে যাওয়া যাবে না।”

বারবার অনুরোধে মাহুত চন্দ্রচূড়কে একটু কাছে নিয়ে গেলো। আর ওটাই আমার কাল হলো।

আমি দু-হাতে টেলিলেন্স ধরে ব্যালেন্স করে ছবি তুলছি। হাতিটাও ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াচ্ছে। আমি ছবি তোলায় মগ্ন। হঠাৎ বুনো হাতিটা চার পাঁচ পা এগিয়ে বিকট চিৎকার করলো। ওই দেখে আমাদের কুনকি হাতি চন্দ্রচূড় আচমকা পেছন ঘুরে ছুটতে শুরু করল। আমি দু-হাতে ক্যামেরা নিয়ে নিজেকে ব্যালেন্স করতে গিয়ে পরে গেলাম। পরার সময়ও ক্যামেরা বাঁচাতে বাঁ হাত দিয়ে ক্যামেরাটা উঁচু করে ধরলাম। তাতে পুরো শরীরটা বাঁ কনুই এর ওপর পরলো। সেদিনই প্রথম কয়েক সেকেন্ড চোখে সর্ষেফুল দেখেছিলাম। জ্ঞান হারালাম।

তারপর আর কিছু মনে নেই। অনেক পর খুব যন্ত্রণার ভিতরে শুনলাম আমি মালবাজার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছি। সুব্রত-সহ কিছু ফরেস্টের কর্মীরা আমায় ঘিরে আছে। আমার হাতটা বেঁধে রাখা হয়েছে। প্রচন্ড যন্ত্রণা। সুব্রত, মিস্টার রাহা নানারকম কথা বলছে। বুঝতে পারলাম বাঁদিকের হাতের কনুইতে কিছু একটা হয়েছে। হাত নাড়াতে পারছি না। সবাই আমাকে নিয়ে ব্যস্ত।

সেই রাতেই আমায় গাড়ি করে সুকনা ফরেস্টে বাংলোয় নিয়ে আসা হয়। আনন্দবাজার অফিসকেও জানানো হয়। তখন তো মোবাইল ছিলনা। সুব্রত যা বলল, “তোমার সুমনদা দিল্লিতে। অফিস কে সব জানানো হয়েছে। হীরককে বলা হয়েছে যে কোন উপায় পারলে চার্টাড ফ্লাইট বা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কলকাতায় এনে নার্সিংহোমে ভর্তি করাতে।”

এদিকে আমি তো ব্যাথায় কাহিল। রাতে সুব্রতর কাছ থেকে জল না মিশিয়ে রাম খেলাম। যদি ব্যাথা কমে।

পরেরদিন ফরেস্টের একজন ও জেলার রিপোর্টার লোক দিয়ে বাগডোগরা থেকে কলকাতায় নিয়ে এসে মনোহরপুকুর রোডের এক নার্সিংহোমে ডা. কল্যাণ মুখার্জীর আন্ডারে ভর্তি হলাম। ভারতবর্ষের সব ধরনের খেলোয়াড়দের চোট-এর ধন্বন্তরী কল্যাণ মুখার্জী। আমার অপারেশন উনিই করেন।

আমার বাঁ হাতের কনুই ভিতরে এগারো টুকরো হয়ে যায়। নার্সিংহোমে থাকার ওই সময় আমার পরিবারের কাউকে আমি কিছু জানাই নি। কারণ সেই সময় আমার পরিবারের (মা-বাবা বউ ছেলে) নিবেদিতার (বউ) আর্মির চাকরির সূত্রে সবাই গোয়ায় ছিলেন। আর্মির চাকরি বললেই ছুটি হয় না। এসেই বা কি করবে। তাই আমি খবর দিইনি। দূরে থেকে ওদের চিন্তা হবে। তাছাড়া আনন্দবাজারে সকল বন্ধুরা তো আমার পাশে আছেই।

আমি নার্সিংহোম থেকেই ফোনে ভালো আছি কাজ করছি এইসব নানান বানানো মিথ্যা কথা বলতাম। ২৯ দিন নার্সিংহোমে ছিলাম। তখন আমি একলা থাকতাম হাওড়া বকুলতলায়। ফলে ছাড়া পাবার আগেই সুমনদার নির্দেশ হলো নার্সিংহোম থেকে ছুটি পাবার পর তেনার বাড়িতেই থাকতে হবে। আমি সতেরো দিন সুমনদার বাড়িতে ছিলাম। এবং খুবই যত্নে ছিলাম। সুমনদার বউ রিংকু আর আমি একই কলেজে পড়তাম। তাই সুমনদা আর রিংকু দুজনেই ওইসময় আমাকে খুব খুব যত্নে রেখেছিলেন। এই ঋণ আমি জীবনে কোনদিন ভুলবো না।

যদিও ওই সময় মনের অবস্থা নিয়ে যা বেশিটাই আমার পরিবারকে কিভাবে মিস করছি…. সব লিখে রাখতাম। একটা মোটা খাতাই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিলো। পরে অনেক কাকুতি মিনতি করে সুমনদা গোয়া যাবার অনুমতি দেয়। ট্রেনে না প্লেনের টিকিটও কেটে দেয়। আমার তখন মিনি বাস চড়ার ক্ষমতা নেই। আবার প্লেন!! এটাই সুমন দাদাজী।

গোয়া পৌঁছে বাড়ির লোকজন তো হাত দেখে অবাক। কেন বলিনি এতদিন এই অভিযোগে মা বাবার কাছে ওই বয়সেও বেশ বকুনিও খাই। নিবেদিতা তখন চুপ থাকলেও রাতে আমায় জড়িয়ে কান্নায় ডুবে গিয়েছিলো। তখন ওই খাতাটা দিয়ে বলেছিলাম, “এটা অফিসে রাখবে। পড়লেই বুঝবে ওই অবস্থায় আমি তোমাদের কি ভাবে মিস করতাম। কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না।”

ঘটনাটা এইটুকুই।

পরে শুনেছিলাম বুনো হাতির চিৎকারে সব কুনকি হাতি পিছু হটে। সেদিন আমার মাটিতে পড়ে যাওয়া অনেকেই বুঝতে পারে নি। চন্দ্রচূড়-এর ওপরে যারা ছিল তাদের চিৎকারে বাকিদের হুঁশ ফেরে। আমি বেশ কিছুক্ষন জ্ঞান হারিয়ে পরে থাকি। একটু পরে এসে সবাই হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু আসলে যেটা হতে পারতো সেটা আরো ভয়ঙ্কর যা শুনে আমার তখন তো বটেই আজও ভাবলে শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়।

সেদিন জঙ্গলের হাতিটা চিৎকার করে দু-এক পা এগিয়ে হটাৎ পিছনে ঘুরে জঙ্গলে ঢুকে যায়। আরও কয়েক পা যদি এগিয়ে আসতো তাহলেই আমি শেষ।

কুনকি হাতিতে আমার সাথে যারা ছিলো তারা সেদিন বারবার বলছিলো, “তোমার যে কিছু হয়নি তা তোমার ভাগ্য ভগবানের অশেষ করুনা তার সাথে আমাদেরও।”

আমি ঈশ্বর মানি না। ঈশ্বরই ভাগ্য আর ভাগ্য ঈশ্বর। কি জানি বাবা। বেচেঁ গেছি। বেঁচে আছি।

মরে যেতাম। যেতাম। আজ ঘুমিয়ে কাল নাও ঘুম ভাঙতে পারে। খুব সাধারণ একটা বিষয়।

মা সব গল্পটা শুনে বলেছিল, “ভগবান তোকে বাঁচিয়ে দিল।”

কি জানি সত্যি ভগবান না ওই হাতিটা!!

এখানে যে ছবিটা দিলাম এটা বাঁকুড়ার কোন একটি জঙ্গলে তোলা। ছবির পিছনে কিছু গ্রামবাসী হুলা পার্টি হাতি তাড়াচ্ছিলো। আমার ছবিটা খুব সম্ভবত প্রয়াত বন্ধু কেকে রায়ের তোলা।

আমার সামনে যে হাতিটা রয়েছে এটা কিন্তু কুনকি পোষা হাতি না। আমি জানতাম ও এগোবে না। কারণ জেনে রাখুন হাতি মানুষকে তাড়া করার আগে কান সোজা করে নেয় শুঁড় মাটিতে ঠেকিয়ে আছাড় মারে। চিৎকার করে। তারপর তাড়া করে। এগুলো আমার হুলা পার্টির লোকেদের থেকেই শোনা। তাছাড়া ফরেস্ট বন্ধুরা তো আছেই।

এভাবেই দিনগুলো কাটিয়েছি। সেসব আজ গল্প হয়ে গেছে। এখন পিছনে তাকিয়ে দেখি আসলে তো যুদ্ধ করেছি নেশায়, কিছুটা পেশায়। গ্রামের এক লেখাপড়া না করা মূর্খ ভবঘুরে ছেলেটার এভাবেই ধীরে ধীরে ছবিওয়ালা হয়ে ওঠাটা আজও তাকে অবাক করে। তবুও এটাই সত্যি। এটুকুই আমার একজীবনের এই সামান্য সময়ের অর্জিত কয়েকটি ছোটগল্প।

সকলে জীবনের গল্পগুলোর মতো ভালো মন্দয় বাঁচুন আনন্দের সাথে।।

২৬ নভেম্বর ২০২২

আপনার মতামত লিখুন :

2 responses to “হাতি মানুষকে তাড়া করার আগে কান সোজা করে নেয় শুঁড় মাটিতে ঠেকিয়ে আছাড় মারে : অশোক মজুমদার”

  1. দেবাশিস শেঠ says:

    অশোক বাবুকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনার লেখায় হাতি সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানা গেল। আপনার লেখাও ছবির মতোই জীবন্ত। এরকম আরো লেখা আমাদের উপহার দিন।

  2. Biswarup Das Adhikary says:

    আপনার আরো লেখা পড়তে চাই। ????????????

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev