এরকম ৫০টির বেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন তিনি এবং তার ফাউন্ডেশন। এখানেই শেষ নয়। ২০১৬ সালে ব্রেক থ্রু এনার্জি প্রকল্পে তিনি সামিল করেছেন বিশ্বের চব্বিশ জন ধনকুবের কে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আমাজনের জেফ বেজস, মাইক ব্লুমবার্গ এবং আমাদের দেশের অর্থনীতির অঘোষিত সম্রাট মুকেশ আম্বানি। [18] এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে এই তালিকাভুক্ত ধনুকবেরদের প্রায় সকলেই প্যান্ডেমিকের বাজারে বহু বিলিয়ন ডলার মুনাফা করে নিয়েছেন। [19] তাদের প্যান্ডেমিক বাণিজ্যে মূল সহায়ক ছিল কোভাক্স এবং সেপি র মত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যুক্ত-মঞ্চ এবং অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা’ ‘হু’। হু এর সর্বোচ্চ অর্থদাতা ছিল বিল গেটস। ঠিক একই কায়দায় সারা পৃথিবীতে জলবায়ুর ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক এবং প্রশাসনিকভাবে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী ইন্টার গভরমেন্টাল প্যানেল অন ক্ল্যাইমেট চেঞ্জ বা IPCC. এই সংস্থার সর্বোচ্চ অর্থদাতাও সেই বিল গেটস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকারকে প্রভাবিত করার জন্য রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কনসালটেটিভ গ্রুপ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ। [20] [21] এই সংস্থাটিও গেটস ফাউন্ডেশন এর বদান্যতায় পরিপুষ্ট। সেই সঙ্গে গেট ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে নানান ধরনের অলিখিত চুক্তি যার গাল ভরা নাম হচ্ছে মেমোরেন্ডাম অফ কো-অপারেশন ( MOC) সম্পন্ন করছেন। ঠিক যেমন কয়েকদিন আগেই শ্রীমতি মেলিনদা গেটস ভারতে এসে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রীর সঙ্গে এমনই একটি বোঝাপড়া এসেছেন এবং এগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট পোর্টাল চালু করেছেন। [22] গেট ফাউন্ডেশন ২০১৮ সালে আমাদের দেশের কৃষি বিষয়ক জাতীয় গবেষণা সংস্থা আই সি এ আর কে প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে। [23] সেই সঙ্গে তারা মোটা টাকার অর্থ সাহায্য দিয়েছে ভারতীয় জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা এবং আইআইটির বিভিন্ন শাখা কে। [24] তাহলে বুঝতেই পারছেন মানবসেবী পুঁজিবাদ বা ফিলানন্ত্রফিক ক্যাপিটালিজিমের অক্টোপাস সারা পৃথিবীকে আঁকড়ে ধরেছে এবং বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্যের নামে এক নতুন ধর্মমত প্রচার করছে। কখনো তার নাম প্যান্ডেমিক, আবার কখনো তার নাম বিশ্ব উষ্ণায়ন বা জলবায়ুর বিপর্যয়। অন্য মত পোষণ করলেই আপনাকে ধর্মদ্রোহী হিসেবে বা মানবজাতির শত্রু হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গুলো পাকা হচ্ছে নানান আইনি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে। অনেক পরিবেশবাদী সংগঠনের কেষ্ট-বিষ্টু রা এই নতুন ধর্মমতের মিশনারী হিসেবে তাদের বাণী প্রচার করছে। তাদের মূল বক্তব্য হচ্ছে বিল গেটস প্রধান বিষয় নয়, প্রথম এবং প্রধান বিষয় হচ্ছে পৃথিবীটা গরম হচ্ছে। পৃথিবী যদি সত্যিই গরম হয় তবে সেই পৃথিবী থেকে সৃষ্টি হওয়া মানুষ কোন্ অলৌকিক ক্ষমতায় তার অভিমুখ বদলে ঠান্ডা করে দিতে পারে, এই প্রশ্নটা যেকোনো কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন মানুষই করবেন।
সুস্থ মনন এবং সত্য-সন্ধানীদের কণ্ঠস্বর
তবু, ভুয়ো বিজ্ঞানের পূজারীরা নানান তথ্য ও যুক্তির ধুম্রজাল তৈরি করতেই থাকবেন।[25] [26] তাদের কুযুক্তি বা অপযুক্তি গুলোকে সরাসরি নাকচ করে জাতিসংঘকে চিঠি দিয়েছেন ৫০০ র বেশি আন্তর্জাতিক স্তরের গবেষক অভিজ্ঞানী যাদের মধ্যে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং ভূতত্ত্ববিদরা রয়েছেন। [27] [28]
তারা লিখেছিলেন, “জলবায়ু নিয়ে বর্তমানে কোন জরুরী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। যে কম্পিউটার মডেলের উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক জলবায়ু নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে তার ফলে শুধু বহু ট্রিলিয়ন ডলার অপচয় হচ্ছে তাই নয়, এই দিশাহীন এবং ধ্বংসাত্মক নীতি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটাকেই নড়বড়ে করে দিতে পারে। এই প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের জলবায়ু সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে বসার আগে আমাদের তরফের তথ্য এবং যুক্তিগুলি মনোযোগ দিয়ে শোনা হোক। যে কারণে আমরা বলছি জলবায়ু নিয়ে এখন কোন জরুরি অবস্থা নেই তার কারণগুলো এইরকম:
১। পৃথিবী সৃষ্টি হবার সময় থেকেই জলবায়ুর হেরফের একটি স্বাভাবিক ঘটনা। পৃথিবীর তাপমাত্রার ওঠা নামা এই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। সেই সূত্র ধরেই বলা যায় আমরা যদি তাপমাত্রা বৃদ্ধির কোন পর্যায়ে থাকি তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই।
২। বিকিরণ গত অসাম্য এবং মানুষের কার্যকলাপের ফলে যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছিল আসলে দেখা গেছে সেটা প্রত্যাশিত মাত্রার অর্ধেকের কম। সুতরাং জলবায়ুর পরিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ধারণা যে সত্য থেকে অনেক দূরে সেটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।
৩। যে জলবায়ু মডেলের উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক নীতি ঠিক করা হচ্ছে সেটা ভ্রান্ত এবং গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের প্রভাবকে অনেক বেশি অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছে। উপরন্তু বায়ুস্তরে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের যে ভালো এবং প্রয়োজনীয় ভূমিকা রয়েছে সেটাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হচ্ছে।
৪। কার্বন-ডাই-অক্সাইড হচ্ছে উদ্ভিদ জগতের খাদ্য এবং এক অর্থে পৃথিবীতে সমস্ত প্রাণের উৎস। এটা মোটেই দূষণীয় গ্যাস নয়। বরং জীবনের জন্য অপরিহার্য। বায়ুস্তরে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড ভূপৃষ্ঠের উদ্ভিদ জগতের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়। এটা কৃষির জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং শস্য উৎপাদনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
৫। সংখ্যাতত্ত্বের দিক থেকে এমন কোন প্রমাণ নেই যার ভিত্তিতে বলা যেতে পারে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে হারিকেন, বন্যা, খরা- এই রকম প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলি বেড়ে গেছে। অধিকন্তু, কার্বন-ডাই-অক্সাইড কমানোর যে সমস্ত প্রযুক্তি আমদানি হচ্ছে সেগুলি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে অনেক বেশি মাত্রায়।
৬। এই মুহূর্তে জলবায়ু নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর কোন কারণ নেই। ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড শূন্য করার যে অবাস্তব এবং বিপজ্জনক নীতির কথা বলা হচ্ছে আমরা জোরালো ভাবে তার বিরোধিতা করছি। বিশ্বব্যাপী যদি নির্ভরযোগ্য এবং সস্তার শক্তি পৌঁছে দিতে হয়, তার জন্য আমাদের ভাবার এবং সঠিক দিশা নির্ণয় করার যথেষ্ট সময় আছে। [28]
তবে বিশেষজ্ঞরা যাই বলুন, বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে যেভাবে আতঙ্ক বাজারের সওদাগররা হিস্টিরিয়া তৈরি করছে এবং কিছু স্বঘোষিত পরিবেশ-প্রেমী ও বিজ্ঞানের পূজারীরা মেলা, মোচ্ছব, সেমিনার ইত্যাদির মাধ্যমে আনপড় জনতা কে বিল গেটসের ভাষায় জলবায়ু বিষয়ে সচেতন এবং সুশিক্ষিত করতে নেমেছেন তাদের দেখে মনে হচ্ছে শিওরে সমন, সময় আর বেশি নেই। তাদের এই অতি সক্রিয়তা কতটা মানবতার স্বার্থে এবং কতটা মানবদরদী অক্টোপাসের স্বার্থে, সেটা বিচারের ভার অনাগত সময়ের জন্যই তোলা থাক।
তথ্যসুত্রঃ
সোশ্যাল মিডিয়ার সুবিধা হচ্ছে অনেক রেফারেন্স সহ কোনো লেখা খুবই মনোরম হয়। পৃথিবীর উস্নায়নের ওঠা পরা হাজার হাজার বছর ধরে হয়েছে। এখানকার উষ্ণতা যে হারে বাড়ছে তা হাজার হাজার বছরের সমস্ত উঠাপরার মান কে বহুগুন ছাড়িয়ে গেছে।
এই মুহূর্তে আমি সিমলা থেকে মানালি যাচ্ছি। সিমলা কলকাতার মতোই গরম, কুলুর কাছাকাছি এসে গেছি কিন্তু পাহাড়ে কোনো ঠান্ডাই পাচ্ছি না। বিয়াসের জল দেখতেই পাওয়া যাচ্ছেনা।
আমাদের লাদাখ যাবার প্রোগ্রাম।
এটা যদি স্বাভাবিক হয় আসুন আমরা আনন্দে নাচি।