“আরে করছেন কী? প্রণাম করুন,— পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করুন। বসুন, মা, বসুন। যা হচ্ছে তাই হতে দিন। সোমশঙ্কর বাবু প্রণাম করুন পায়ে হাত দিয়ে। উনি এখন ‘লোক’ নন, নিখিল মানুষের প্রতীক”— কুড়ি-পঁচিশ বছর কম বয়সী মহিলার পা ছুঁয়ে তাঁর জীবনকৃতিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানোর জন্য যে জীবনের শিক্ষা সেদিন পেয়েছিলেন মালদার বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক সোমশঙ্কর সিংহ (পেশায় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) তা অকপটে স্বীকার করেছেন। যেকোনো প্রান্তের মানুষকে তাঁর নিষ্ঠাময় সমাজসেবামূলক মনোভাবের জন্য ‘নর-নারায়ন’ রূপে (মানুষ পুজো) পুজো করার রীতি’র যিনি প্রবর্তক তিনি এই শিক্ষা যেন শিখিয়ে গেলেন একুশ শতকের গোটা প্রজন্মকে, যে প্রজন্মের শ্রদ্ধাশীল মনোভাব ‘ডিজিটাল মানবিকতা’র জালে জর্জরিত। তিনি স্বপনকুমার মণ্ডল, জীবনের শিক্ষক স্বপনকুমার মণ্ডল। যিনি ‘জামা-কাপড় পড়া ‘দ্য থিঙ্কার’, রঁদ্যার সেই ভাস্কর্যের মতো’ সোমশঙ্কর বাবুর চোখে। একুশ শতকের বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক এবং স্বনামধন্য প্রফেসর স্বপন কুমার মণ্ডলের সাতচল্লিশ’তম জন্মদিনে তাঁর অনুরাগীদের যে শব্দের মিছিল, তারই জীবন্ত দলিল ‘শ্রী স্বপন কুমার মণ্ডল : জীবনের পরম পরশ ৫’ গ্রন্থটি। যেখানে এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্বীকার করেছেন তাঁর অগণিত পাঠক, ছাত্র-ছাত্রী এবং পরম পরশ পাওয়া ব্যক্তিবর্গ। গ্রন্থের সম্পাদক ড. কার্তিক কুমার মণ্ডল এই নিয়ে পঞ্চম বারের মতো (২০১৭ সাল থেকে) সম্পাদনা করলেন স্বপনকুমার মণ্ডলের জন্মদিনে প্রকাশিত হওয়া এই মূল্যবান গ্রন্থটি। এক কথায় বহুগুণীজনের কলম সমাবেশে এই স্মারক গ্রন্থ একটি জীবনচর্চার ফসল হয়ে উঠেছে। যেখানে আদর্শ, ব্রত, সুপথ-যাত্রার শিক্ষার পাশাপাশি সেই সমস্ত আলোর পথযাত্রীদের কথাই ফুটে উঠেছে। যাঁরা প্রতি মুহূর্তে হাঁটতে গিয়ে আলো পেয়েছিল অন্ধকারময় পথ দূর করার নিমিত্তে।
জীবনব্যাপী শিখন প্রক্রিয়া চলতে থাকে আমাদের। কিন্তু সেই শিক্ষার সংস্পর্শ যদি প্রফেসর স্বপনকুমার মণ্ডলের থেকে হয় তা সৌভাগ্যের শরীক হয়ে ওঠে। যেমনটা হয়েছে মাঝিহিড়া আশ্রম পিটিটিআই-এর অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার চক্রবর্তীর। যাঁর কথায় ফুটে উঠেছে ‘আদর্শ- আচরণ- সুশিক্ষায় মোড়া সৃজনশীল সংগঠক’ স্বপনকুমার মণ্ডলের প্রতিচ্ছবি, যিনি গোটা দেশে স্বতন্ত্র আলোকে শিক্ষা- সংস্কৃতি- সভ্যতার আঙিনা তৈরি করে চলেছেন; যা তাঁকে যেমন আলোকিত করে তেমনই আশ্রয় দেয় আগামী প্রজন্মকেও। আসলে তিনি যে ব্যতিক্রমী, আর এই ব্যতিক্রমী মানবাত্মার অন্তরে যে বলিষ্ঠ-ঋজু ব্যক্তিত্বের বাবুই-বাসা সেই কথা জানা যায় ‘উত্তরবঙ্গ সংবাদ’-এর বার্তা সম্পাদক শুভদীপ ব্যনার্জির লেখায়। তাঁর মতে, ‘স্বপনবাবু চাটুকার নন বলেই তাঁর ‘বঙ্গরত্ন’ হয়ে ওঠা হয়নি’। তিনি আরও জানান ”লেখালেখি, অধ্যাপনার পাশাপাশি সামাজিক কাজেও সাবলীল স্বপনদা পুরস্কারের আশায় কাজ করেন না। তাই মৌলিকতা থাকে তাঁর কাজে।” পাশাপাশি স্বপনবাবুর সান্নিধ্যেই তিনি পুনরায় ‘গৌড় ভূমিতে শিকড়ের অস্তিত্ব’ খুঁজে পান সে কথাও অকপটে জানিয়েছেন। তবে গদ্যের মাঝে এই গ্রন্থের অভিনবত্ব বৃদ্ধি করেছে মালদার প্রবীন কবি-লেখক (অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) তরুনকুমার গোস্বামীর কবিতার মাধ্যমে স্বপনকুমার মণ্ডলকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর অংশটি। যেখানে তিনি জানান— “হে পণ্ডিত, জ্ঞানতপস্বী, জন্মদিনে জানাই শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা / উজার করে বিলিয়ে দাও তব অমৃত সুধা/… অমর হয়ে রবে এ ধরিনীর মাঝে সেবা, ত্যাগ ও তিতিক্ষায়।” লিভিং লেজেন্টের প্রতি প্রবীন লেখকের এমন শ্রদ্ধা নিবেদন আকৃষ্ট করে পাঠক প্রজন্মকে। তেমনই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে যখন দিনহাটা বয়েজ রিক্রিয়েশন ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি অনির্বান নাগ স্বপনবাবুর কথা লিখতে বসে স্মরণে আনেন শ্যামল মিত্র’র গাওয়া স্মরণীয় হয়ে থাকা ‘কে জানে কোথায় হবে শেষ…” গানটি। জ্ঞানসাগরের প্রজ্ঞা-স্রোতের সামনে বিস্মিত হয়ে এমন কথা বলা যায় বৈকি! এই স্রোতের সামনে কয়েক ফোঁটা জলে নিজেকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন গবেষক সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি শিখেছেন ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে, শিখেছেন ক্ষুধা পেটে বসন্ত আনতে, শিখেছেন দুর্বিষহ জটিল দুর্দশা থেকে আপনাকে মুক্ত করতে। তাইই তো গবেষক-অধ্যাপক সিদ্ধার্থ দত্ত জানিয়েছেন ”শিষ্য মিলে লাখ লাখ / গুরু মিলে এক।” যিনি স্যার প্রফেসর স্বপনকুমার মণ্ডলের পায়ের কাছে বসার সুযোগ পেয়ে যে জীবনের নবদিশা পেয়েছেন তার কথন তুলে ধরেছেন।
গ্রন্থে দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বপনকুমার মণ্ডলের (স্নাতকোত্তর পাঠকালীন) সহপাঠী গৌরী রায়’কে কলম ধরতে দেখে, যিনি বর্তমানে শিক্ষকা হয়ে উপলব্ধি করেন স্বপনবাবুর আদর্শকে। স্বপনবাবুর ‘মহীরূহ’তে পরিণত হওয়ার বয়ানের পাশাপাশি পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে বেরিয়ে কীভাবে তিনি আদর্শের শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের আলোকিত করে চলেছেন তা প্রজ্জ্বলিত হয় গৌরী দেবীর লেখায়। সেই প্রজ্জ্বলন আবার দেখা যায় গবেষক শুক্লা গাঙ্গুলির লেখাতেও। যিনি জানান ‘স্যার, শুধুমাত্র আমাদের মানসিক জোরকেই নয়, আমাদের মননের প্রখরতাকেও আপন কথায়, কাহিনীতে, মাধুর্য এবং মিষ্টতার সুরে যেভাবে তীক্ষ্ণ করে তোলেন তাতে আমাদের সত্তা হয়ে ওঠে অপরাজয়ী। পাশাপাশি মধুমিতা কর্মকারের লেখায় বাড়িতে ডেকে শরীরে টাইফায়েড নিয়ে (দুটো বালিশ দিয়ে মাথাটা তুলে) প্রফেসর স্বপনকুমার মণ্ডলের ‘কথাসাহিত্য’ ক্লাস করানোর ইতিবৃত্ত শিহরণ জাগায়। বিস্মিত করে। এমন মহানুভবের সান্নিধ্য পাওয়া মানে যে সত্যিই পরমকে পাওয়া! যাঁরা তাঁকে পথনির্দেশক হিসাবে পেয়েছেন তাঁরা সত্যিই ভাগ্যবান; এমন কথা জানান গবেষক রাখী গরাঁই। উজ্বল কুমার নন্দী, ধনঞ্জয় চ্যাটার্জীর চোখে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণির পাঠে ব্যতিক্রমী অধ্যাপক, স্বতন্ত্র জীবনের শিক্ষক রূপে এস.কে.এম. স্যারকে পাওয়ার ছবি দেখা যায়; যেখানে পাঠ্যক্রমের অভিনব পাঠগ্রহণ থেকে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল কিংবা শৃঙ্খলা- সময়ানুবর্তীতা সবই ফুটে ওঠে যা সহস্র সহস্র পাঠকের অবশ্য-শিক্ষনীয়। তেমনই গবেষক সুখেন দাসের ‘শীতের উপাখ্যান’ গদ্যে স্বপনবাবুর সান্নিধ্যপ্রাপ্তিতে তাঁর যে সমৃদ্ধির সবুজকলি এবং এস.কে.এম. বাণীবিতানের আলোকে তাঁর চলার পথকে পাথেয় করে তোলার যে বয়ান তা ভিন্নমাত্রিক একটি দিক উন্মোচন করে। প্রসঙ্গত, ‘শ্রী স্বপনকুমার মণ্ডল : জীবনের পরম পরশ ৩’ এর আলোচনায় (১৬ এপ্রিল, ২০১৯) গ্রন্থটিরর মূল্যায়নে দেখা যায় প্রাবন্ধিক প্রফেসর স্বপন কুমার মণ্ডলের জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তীদের কাছে “জীবন বোধের বটবৃক্ষ” হয়ে ওঠার কথা, “যাঁর বিস্তীর্ণ ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়া স্বপ্নাভিসারী আত্মজনেরা এবং ডাল স্পর্শ করে থাকা এক ঝাঁক সুপথযাত্রীর শঙ্খধ্বনি হয়ে উঠেছে গ্রন্থের প্রতিটি লেখার স্বর।” পঞ্চম বর্ষে এসে স্বপনকুমার মণ্ডলের শ্রদ্ধার্ঘ্যে জানানো সমস্ত স্মৃতিকথনে সম্মিলিত এই গ্রন্থ এমন কথনই শোনায়। গবেষক বিকাশ কালিন্দী জানান “স্যারের জ্ঞানরূপ বটবৃক্ষের বিস্তীর্ণ ছায়াতলে আমার মতো শত শত অজ্ঞ ব্যক্তীর আশ্রয়স্থল হয়ে উঠুক যেখানে দুদণ্ড বিশ্রাম নিয়ে জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তি জ্ঞানামৃত অন্বেষন করতে পারবে।” এইকথা শুধুমাত্র স্যারের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলিই নয়, বরং ‘শ্রী স্বপন কুমার মণ্ডল : জীবনের পরশ ৫’ গ্রন্থের শিরোনামস্বরূপ। কারন, এই গ্রন্থের স্মৃতিকথনে যে জীবন-অন্বেষণের ছবি মেলে তার জন্য এই গ্রন্থ পাঠগ্রহণ আবশ্যক।
আর একটি কারনে এই গ্রন্থ ‘জীবন বোধের বটবৃক্ষ’ কারণ, এই গ্রন্থের মূল আকর— প্রাবন্ধিক স্বপনকুমার মণ্ডলের নিজের লেখা টুকরো টুকরো স্মৃতির সংকলন গ্রন্থে গ্রন্থিত হওয়া। যেগুলি ২০১৯ এর ৮ এপ্রিল থেকে ২৯ অক্টোবর অবধি ফেসবুকে করা তাঁর নিজস্ব পোস্ট। সেখানে যেমন রয়েছে ‘জীবন সংগ্রামের কথা, তেমনই রয়েছে উত্তরণের নবদিশা।’ রয়েছে ২০১৪ সালে তাঁর হিতেন নাগ স্মৃতিসাহিত্য পুরস্কার প্রসঙ্গে মৌলিক রম্য-কথন, রয়েছে পিতৃদিবসে স্বর্গীয় পিতা ডা. হীরেন্দ্রনাথ মণ্ডলের প্রতি বিনম্র প্রণতি-আখ্যান, রয়েছে স্কুলের হোস্টেল জীবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চরবৈতি জীবন— যেখানে গতির আলোকে নবযৌবনের দূত হয়ে ওঠার মন্ত্রের চিরন্তনী আস্বাদ পেয়ে সমৃদ্ধ হতে পারা যায়। আবার আছে তাঁর শিক্ষকতা বা অধ্যাপনা জীবন কিংবা টুসু মেলা বা অযোধ্যার বুকে ভ্রমণের স্মৃতি-আবর্তে রচিত জীবনবোধের বেদগান। বাদ যায়নি পারিবারিক স্মৃতিচিত্র কিংবা অগ্রজ আত্মজা প্রতিভা মণ্ডল থেকে দিদিমার কাছে নিজের শৈশবকে আনন্দ-নিকেতন করে তোলার আখ্যান। এছাড়াও রয়েছে মা’এর স্নেহসুধায় প্রণের পরশের প্রকাশ, এমনকি ”ঘরনীর পাশে আমি নিতান্তই ঘরামি। কার্তিক কুমার মণ্ডলের পিএইচডির বিষয়ে তাঁরও তাড়া ছিল।” — এমন স্মৃতিকথার আস্বাদ সচিত্রে এই গ্রন্থে পেয়ে যায় আমরা। যেগুলি প্রাবন্ধিক কিংবা জীবন শিক্ষক সত্ত্বা অন্তরে প্রজ্বলিত আর এক ব্যতিক্রমী সত্ত্বা হদিশ দেয়। লেখালিখির সময়ানুবর্তী (১ বছরে) তালিকা কিংবা ঘটনাপঞ্জির ধারার পুঙ্খানুপুঙ্খ সজ্জা সম্পাদকের নিপুণতা প্রমাণ করে। পাশাপাশি সম্পাদকীয়তে তাঁর মূল্যবান অভিমত গ্রন্থটির মানকেই শুধু উন্নত করেনি, গ্রন্থের আকরকথা, উল্লেখযোগ্যতাকে চিহ্নিত করে কৌতূহলী করে তোলে। গ্রন্থের সম্পাদক ড. কার্তিক কুমার মণ্ডলের কথায় ‘২৬ ফেব্রুয়ারি। আমরা যারা প্রফেসর স্বপন কুমার মণ্ডলের ছাত্রছাত্রী ও অনুরাগী তাঁদের কাছে এই দিনটি আর পাঁচটা দিনের মতো নয়। এদিন আমাদের শিক্ষক দিবস।’ এটি যে শুধু কথামাত্র নয়, এ যে প্রামাণ্য সত্য তা সমগ্র গ্রন্থ অবলম্বনে প্রফেসর স্বপনকুমার মণ্ডল সম্পর্কে সকল অনুরাগীদের স্মৃতিকথায় প্রতীয়মান। এই ‘শিক্ষক দিবস’ শুধুমাত্র জীবনের পরম পরশ কমিটির (কমিটি এই বইটির প্রকাশকও) সদস্যদের মধ্যেই নয়, সারা পশ্চিমবঙ্গের (বাংলার বাইরেও) বিভিন্ন বয়সের, ভিন্ন ধারার মানুষের লিখন বয়ানেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
সমগ্র গ্রন্থটিতে সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর তথা বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক স্বপন কুমার মণ্ডলের দৃষ্টিভঙ্গি, তাঁর যাপনের তাপে সিদ্ধ পরমান্নরূপ জীবনবোধ মানুষের মূলধন হয়ে ওঠে। হেঁটে যাওয়া এক জীবন-শিক্ষকের আপন দৃষ্টিকোনে গড়ে তোলা এক সেতুপথের দলিলরূপ এই গ্রন্থ। একশো ষোল পৃষ্ঠাসহ, অমর গোস্বামীর করা ঝকঝকে ডিটিটাল প্রচ্ছদ সম্বলিত গ্রন্থে ‘জীবনের পরম পরশ’ কমিটি ও ড.কার্তিক কুমার মণ্ডল সম্পাদিত এমন ব্যতিক্রমী গ্রন্থ বছরের পর বছর জনপ্রিয়তা ও বনেদিয়ানার সাথে প্রকাশিত হয়ে চলেছে তা বাংলায় নয়, গোটা ভারতবর্ষেই বিস্ময় ও বিরল বলে মনে হয়।
শ্রী স্বপন কুমার মণ্ডল : জীবনের পরম পরশ-৫, সম্পাদক : ড. কার্তিক কুমার মণ্ডল, প্রকাশক : জীবনের পরম পরশ কমিটি, পুরুলিয়া, বিনিময় : ১৫০ টাকা।
ভালো লাগলো। ধন্যবাদ সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়।