আমাদের সৌভাগ্য যে ভারতবর্ষ কেন পৃথিবীর সাম্প্রতিক বা অতীত ইতিহাসেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো এইরকম এক সাহসিনী, সহজাত নেত্রী কখনও কোথাও কেউ দেখেননি। যখন আমরা, বিশেষ করে তথাকথিত যাঁরা ভদ্রলোক বলে নিজেদের পরিচয় দিয়ে থাকি, যাঁরা রাজনীতি, সমাজ নিয়ে অনেক মাথা ঘামাই, গণতন্ত্র, ধনতন্ত্র যাঁদের পান্ডিত্যে ছয়লাপ হয়ে যায়, সেখানে তিনি এমন একজন যিনি রাজনীতির বা সমাজনীতির যে মূল নির্যাস তা স্বাভাবিকভাবেই রপ্ত করেছেন। এ এক অনন্য প্রতিভার প্রকাশ। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তা দেখতে পাই। হয়তো মহাত্মা গান্ধীর কথা মনে আসে। আমরা মহাত্মা গান্ধীর জীবন জানি, তাঁর আত্মজীবনী জানি, তাঁর সমসাময়িক ইতিহাস আমরা জানি, কিন্তু এ ক্ষেত্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যতিক্রম। মহাত্মা গান্ধীর পরিবার গুজরাটের একটি বণিক পরিবার, যে পরিবার থেকে তিনি ব্যারিস্টারি পড়তে লন্ডনে যেতে পেরেছিলেন, ওইভাবেই তাঁর জীবনের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আইন জেনেছেন, যে মানুষের নেত্রী হতে পেরেছেন, সবটাই যুদ্ধ করে, ত্যাগ স্বীকার করে বিরোধী শক্তির কাছে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে। তাঁকে প্রমাণ দিতে হয়েছে। মুখের হাসি তবু তাঁর মলিন হয়নি।

আজ বহু ঘাত-প্রতিঘাতে মানুষের কাছে কোনও অন্য শক্তি নেই তাঁকে অস্বীকার করার। পৃথিবীব্যাপী যে করোনার গ্রাস যা মাত্র দু-এক মাস আগেও এই ভারতবর্ষের মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার এর প্রচণ্ড ঘাতক আইন, সেই আইনকে রদ করার লক্ষ্যে ভারতবর্ষের সকলকে নিয়ে তিনি একজোট হয়ে রুখে দাঁড়ান। প্রত্যেক রাজ্যের মানুষ ও নেতারা আবারও দেখতে পেরেছেন তাঁর দৃঢ়তা। তাঁর সেই দুর্বার আন্দোলন লক্ষ লক্ষ মানুষকে সামিল করেছিল। তারপরই এক ভয়ঙ্কর আঘাত। সে আঘাত পৃথিবীব্যাপী ১০০ বছর আগে ঘটে যাওয়া স্প্যানিশ ফিভারের থেকেও মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে গেছে আমেরিকা, ইতালি, স্পেন থেকে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ভারতবর্ষ- সর্বত্র। হয়তো বিজ্ঞানীরা, গবেষকরা তাঁর উৎস নিয়ে চিন্তিত, প্রতিকার নিয়ে বিজ্ঞানীরা হয়তো গবেষণা করছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে মানুষকে কি করতে হবে, কীভাবে মানুষ নিরাময়ের পথ দেখবে, কীভাবে সংক্রমণ থেকে মানুষকে আলাদা করা যাবে, কীভাবে দরিদ্রতম মানুষ থেকে নিপীড়িত মানুষ, অসহায় মানুষ-সহ কোটি কোটি দেশবাসীকে স্বস্তি দেওয়া যাবে তার জন্য শুধু নেতৃত্ব নয়, শুধু সঠিক পথ দেখানো নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন মমতা। মনুষ্যত্বের ছোঁয়া-মাখা কখনও জননী, কখনও ভগিনী, এই নেত্রীকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আজ সেখানেই আমাদের সৌভাগ্য বিপদের মাঝে তিনি দূরদর্শী, বিপত্তারিণী রূপ নিয়ে মানুষকে সঠিক দিশায় পরিচালনার মধ্যে দিয়ে, মানুষের কাছে আলোকবর্তিকা হয়েছেন।
I am agree with you.Ofcourse she is a Iron Lady.