১৯৫১ সালের মাঝামাঝি সময় পন্ডিত নেহেরু বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধানচন্দ্র রায়কে একটি চিঠি পাঠালেন। চিঠির বিষয়বস্তু ছিল জনপ্রতিনিধিত্ব আইন রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সই পেয়ে গেছে, তাই আর দেরি নয়। এইবার নির্বাচনটা সেরে ফেলা যাক। তার জন্য নেহরু চান একজন উপযুক্ত মর্যাদাসম্পন্ন, সৎ ও নিরপেক্ষ অফিসার যিনি হবেন দেশের প্রথম নির্বাচন কমিশনার। আর সেই সুবাদে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ঠিক কী হওয়া উচিত তাও তাঁর কাজই বলে দেবে। অতএব আপনি সেই মানুষটার খোঁজ করে আমাকে শীঘ্রই জানাবেন।
তখন বাংলার মুখ্য সচিব সুকুমার সেন। ১৯২১ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৪৭ সালে বাংলার মুখ্যসচিব পদে নিযুক্ত হন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধান রায়ের থেকে বয়সে যথেষ্ট ছোট হলেও চেইন স্মোকার সুকুমার সেনের সঙ্গে ডাক্তারবাবুর সম্পর্ক যথেষ্ট মধুর। প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর চিঠিটা পড়েই তিনি সুকুমারকে তাঁর ঘরে ডেকে পাঠালেন। সুকুমারবাবু ডা. রায়ের সামনেই সিগারেট খেতেন। সেদিনও একটা জ্বলন্ত সিগারেট হাতে নিয়েই তিনি ডা. রায়ের চেম্বারে ঢুকলেন। ডা. রায় কিছুক্ষণ লক্ষ করে বললেন, ‘সুকু তুমি অত্যন্ত বেশি সিগারেট খাচ্ছো, একটু কমাও।’ সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন ছুটে এল, ‘এ কথা কি ডাক্তার হিসেবে বলছেন, না মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে?’ ডা. রায় হাসতে হাসতে বললেন, ‘ডাক্তার হিসেবে, তোমার শুভানুধ্যায়ী হিসেবে।’ সুকুমারবাবু যথেষ্ট শ্রদ্ধা করতেন ডা. রায়কে, তিনি এরপর থেকে সিগারেট খাওয়া কমিয়ে দেন। তারপরই ডা. রায় তাঁকে বললেন, তোমাকে ভারতের নির্বাচন কমিশন হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে পত্র লিখেছেন এই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আমি যেন একজনকে বেছে দিই, আমি তোমাকে রেকমেন্ড করছি। সুকুমার সেন মাথা নত করে ডা. রায়ের সেই কথা মেনে নিয়েছিলেন। ইতিহাস রচনা হলো সেদিন।
সুকুমার সেন নামটা নেহেরু আগেই শুনেছিলেন। ডা. রায়ের রেকমেন্ডেসন পেয়ে তিনি যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করতে চাইলেন। সুকুমার সেনকে স্বাধীন ভারতের প্রথম মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব দিলেন পণ্ডিত নেহরু। কিন্তু সুকুমারবাবু তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন নির্বাচন বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করাই ভাল। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি একটু ধৈর্য ধরতে বলেছিলেন। কারণ ভোটপত্র আর ব্যালট বাক্স যদিও বা তৈরি করা গেল, ভোটকেন্দ্র কোথায় কোথায় হবে সেটা নির্দিষ্ট করার কাজটা সময়সাপেক্ষ। এলাকার ভূগোল, পরিবহণের ব্যবস্থা সব দিক মাথায় রেখে ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করাটা এক বিপুল কাজ। শেষ পর্যন্ত ঠিক হল ১৯৫২-র প্রথম দিকে ভোট হবে। হলও তাই।
দায়িত্ব নিয়েই সুকুমারবাবু বুঝতে পারলেন, কত বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে রয়েছে তাঁর সামনে। সেই সময় ভারতে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষের সংখ্যা ১৭ কোটি ৬০ লক্ষ। যাঁদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ মানুষ পড়তে লিখতে জানেন না। যাঁরা জীবনে কোনওদিন ভোট দেননি, ব্যালট পেপার বা ব্যালট বক্স চোখেই দেখেননি, তাঁদের ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত আনতে হবে। সিংহভাগ জনগণ নিরক্ষর হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলির জন্য প্রতীকের ব্যবস্থা করতে হবে। যা দেখে একটি দল বা তার প্রার্থীদের চিনতে পারবেন মানুষ। প্রতিটি ভোটারকে শনাক্ত করতে হবে। তাঁদের নাম নথিভুক্ত করতে হবে। ভোটার তালিকা তৈরি করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি রাজ্যগুলিতে বিধানসভার ভোটও করাতে হবে। এজন্য সৎ, পরিশ্রমী ও দক্ষ অফিসারদের বাছাই করে নিয়োগ করার কাজ করতে হবে। দেশের কোণায় কোণায় ভোটগ্রহণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভোটের সরঞ্জাম সেইসব ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটগ্রহণ নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাতে হবে। স্বাধীন ভারত এক অভিনব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে চলেছে। কিন্তু এভাবে এত বিশাল দেশে কোটি কোটি মানুষের ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা বা পরিকাঠামো, অভাব ছিল সব ক্ষেত্রেই। ফলে সব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে এগিয়ে চললেন এক বাঙালি আইসিএস অফিসার। সবকিছু গুছিয়ে আনতে সুকুমার সেনের সময় লেগেছিল প্রায় ছ’মাস।
১৯৫১ সালের ১ জুলাই রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে দেশের প্রথম নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেন একটি সভা ডাকেন। নির্বাচনী প্রতীক ছিল এই সভায় আলোচনার মুখ্য বিষয়। সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সুকুমার সেনের কাছে ছিল যথেষ্ট কঠিন একটি কাজ। কারণ ১৯৫১ সালে ভারতের ১৭.৬ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ ছিলেন নিরক্ষর। এই নিরক্ষর মানুষদের ভোট প্রদানের সুবিধার্থে প্রার্থীর নামের পাশে প্রতীক চিহ্ন ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভাবতে শুরু করে যাতে তাঁদের পরিচিত প্রতীক দেখে তাঁরা কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায় সে বিষয়ে জ্ঞাত থাকে। তাই প্রতিটি দলকে বলা হয়েছিল তাদের নিজেদের পছন্দমতো প্রতীক নিয়ে সভায় আসতে। প্রস্তাবিত প্রতীক প্রথমে জমা নেওয়া হবে এবং তারপর স্থির করা হবে কাকে কোন প্রতীক দেওয়া যায়। কিন্তু সভা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দলগুলি প্রবল বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে কারণ প্রায় সিংহভাগ দলেরই পছন্দের প্রতীক ছিল লাঙল। যেহেতু সব দলের একই প্রতীক হতে পারেনা তাই সুকুমার সেন ঠিক করলেন কাউকেই লাঙল চিহ্ন দেওয়া হবে না। এই সমস্যা সমাধানে প্রত্যেক দলকে তাদের দ্বিতীয় পছন্দের প্রতীক জমা দিতে বলা হল। আর সেইমতোই অবশেষে কংগ্রেস পেল দু’টি বলদ, সোস্যালিস্ট পার্টি পেল গাছ, হিন্দু মহাসভাকে দেওয়া হল ঘোড়ায় চড়া এক সওয়ারি, বি আর আম্বেদকেরর শিডিউলড কাস্ট ফেডারেশন পার্টি প্রতীক পেল হাতি। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া নিয়েছিল কাস্তে ধানের শিষ। ভারতীয় জনসঙ্ঘ পরবর্তী সময়ে পায় প্রদীপ। ফরওয়ার্ড ব্লক (মার্কসিস্ট) পায় সিংহ। রাম রাজ্য পরিষদ পার্টির প্রতীক ছিল উদীয়মান সূর্য, রেভলিউশনারি কমিউনিস্ট পার্টি প্রতীক পেল মশাল, বলশেভিস্ট পার্টির পেল তারা।
ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচনী প্রতীকগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য প্রতীক ছিল একটি হাত। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক ‘হাত’ চিহ্নটি প্রথম লোকসভা নির্বাচনে ব্যবহার করেছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের ভেঙে যাওয়া পৃথক গোষ্ঠীর একটি পার্টি। প্রথম নির্বাচনে এই পার্টি উল্লেখযোগ্য ফলাফল করতে না পারায় নির্বাচনের পর সেই দল প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টির সাথে মিশে যায় এবং ‘হাত’ চিহ্নটিও ক্রমে লুপ্ত হয়ে যায়। অনেক পরে ইন্দিরা গান্ধীর হাত ধরে এই হাত চিহ্ন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে গন্য হয়।

দুই
ভোটার লিস্ট তৈরি করতে গিয়ে সুকুমারবাবু সবথেকে বিপদে পড়েছিলেন। সেসময় গ্রামের দিকে মহিলারা পরপুরুষকে নিজের নাম বলতে চাইতো না, ফলে ভোটার লিস্ট যখন সুকুমারবাবুর টেবিলে এলো দেখলেন তাতে লেখা রামের মা বা শ্যামের বউ! রেগে গিয়ে উনি সেবার ২৮ লাখ মহিলার নাম বাদ দিলেন। সমাজতত্ত্ববিদদের মতে এতে করে তিনি সমাজের উপকারই করেছিলেন। কেননা পরের নির্বাচনে এরা সবাই প্রকৃত নাম দিয়ে নিজেদের গণতন্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল।
ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ আফসোস করে বলেছেন—‘the man who had to make the election possible, a man who is an unsung hero of Indian democracy. It is a pity we know so little about him. He left no memoirs and, it appears, no papers either’. It is sad that a man of such distinct intelligence and integrity has slipped from public memory.”
সুকুমার সেনের নেতৃত্বে ভারতে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫১ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে পরের বছর ২৭ মার্চ পর্যন্ত। প্রথম সাধারণ নির্বাচনে মোট ৫৩টি দলের ৫৩৩ জন প্রার্থী ৪৮৯টি লোকসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। মোট ৪,৫০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। যার মধ্যে ৪৮৯টি লোকসভা আসন ছিল। বাকি বিধানসভার আসন। মোট ভোটারের ৪৫.৭% ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে গোটা দেশে ২,২৪,০০০ হাজার বুথে ৫৬,০০০ প্রিসাইডিং অফিসার, ১৬,৫০০ ক্লার্ককে নিযুক্ত করা হয়েছিল। ব্যালট পেপার রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল ২ লক্ষ বাক্স। গণনার কাজে যুক্ত হয়েছিলেন ২,৮০,০০০ হাজার মানুষ। ভোট পাহারায় মোতায়েন করা হয়েছিল ২,২৪,০০০ পুলিসকর্মী। প্রতিটি প্রদেশে ভোট পরিচালনার কাজে দু’জন করে আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার ও একজন করে মুখ্য নির্বাচনী অফিসার সুকুমার সেনকে সাহায্য করেছিলেন।
তবে হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীর বাদে সমস্ত রাজ্য ১৯৫১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৫২ সালের মার্চের মধ্যে ভোট দিয়েছিল। ১৯৬৭ সালের আগে কাশ্মীরে লোকসভা আসনের জন্য কোনও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রবল ঠাণ্ডা এবং যাতায়াতের দুর্গমতার কারণে সমস্ত রাজ্যের থেকে প্রায় পাঁচ মাস আগে অক্টোবরে হিমাচল প্রদেশের চিনি তহসিলে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়েছিল। স্বাধীন ভারতে প্রথম ভোটটি দিয়েছিলেন শ্যামশরন নেগি।
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের প্রশাসনিক ক্ষমতা ছিল গণ পরিষদের হাতে। ১৯৫০ সালে দেশের সংবিধান প্রবর্তনের পর ১৯৫১ সালে তৈরি হয় জন প্রতিনিধিত্ব আইন। মৃগাঙ্কমৌলি বোসের খসড়ার ওপর নির্ভর করে আইনসভায় গৃহীত জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ভিত্তিতে সুকুমার সেন প্রায় ৩ মাস ধরে প্রথম নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। ওই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ফ্র্যাঙ্কলিন ডেলানো রুজভেল্ট, যিনি পরপর ৪ বার ভোটে জিতে মার্কিনি তাত্ত্বিকদের হৃৎকম্প ধরান, তাঁর বিধবা পত্নী ইলিনর ভারত সফর করছিলেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি আকাশবাণীর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ভারত এক নিদারুণ পরীক্ষা দিয়েছে এবং সেই পরীক্ষায় সম্পূর্ণ সফল।’
সারা পৃথিবীতে ধন্য ধন্য পড়ে গেল। ঠিক সেই সময় সুদানের নির্বাচন আসন্ন। সুদান সরকার পণ্ডিত নেহরুর কাছে সুকুমার সেনকে কয়েক মাসের জন্য লোন হিসেবে চাইলেন। আজও খার্টুমের একটি রাজপথ সুকুমার সেনের নামে উজ্জ্বল।
পরবর্তী পর্যায়ে আরও দুটি দেশ ভারতীয় অফিসারদের দিয়ে তাদের দেশে নির্বাচন করান। নেপালে গিয়েছিলেন আইএএস রথীন সেনগুপ্ত, যিনি পরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব হন। আর কম্বোডিয়া বা কাম্পুচিয়ায় গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ডিজি পুলিশ দীপক সান্যাল। সবচেয়ে মজার কথা সেন, বসু, সেনগুপ্ত বা সান্যাল কারও নামে কলকাতায় কোনও রাজপথের নাম রাখার কথা কেউ ভাবেননি।
সুকুমার সেনের জন্ম ১৮৯৯-এ। বাবা অক্ষয়চন্দ্র সেন ছিলেন আইসিএস। সুকুমার সেনের অন্য দুই ভাইও নিজের নিজের ক্ষেত্রে বিখ্যাত। এক জন, অশোককুমার সেন ছিলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী। আর এক জন, অমিয়কুমার সেন ছিলেন চিকিৎসক, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুদিনে ছিলেন তাঁর সঙ্গে।
দুটি সাধারণ নির্বাচন পরিচালনা করেই ইস্তফা দিয়েছিলেন সুকুমার সেন। প্রথম নির্বাচনের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছিলেন প্রথম পদ্মভূষণ পুরস্কার। শেষ জীবনে ফিরে গিয়েছিলেন নিজের জন্মস্থান বর্ধমান শহরে। বর্ধমানের জমিদার রাজা উদয়চাঁদ আর মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে তখন তৈরি হয়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানকার প্রথম উপাচার্য হয়েছিলেন সুকুমার সেন। লন্ডন ইউনিভার্সিটির গণিতের গোল্ড মেডেলিস্ট ছাত্র সুকুমার সেন শেষ জীবনে আবারও ডুব দিয়েছিলেন অঙ্কের জটিল হিসাবে। ১৯৬৩ সালে মাত্র ৬৫ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন সুকুমার সেন।

১৯৫৭-র দ্বিতীয় নির্বাচনও পরিচালনা করেন সুকুমার সেন। পরে সুদানে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এমন বাঙালিকে মনে রাখিনি আমরা। বিস্মৃতি এতটাই যে কখনও কখনও ভাষাতাত্ত্বিক সুকুমার সেনের সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলা হয়। তবু বর্ধমানে একটি রাস্তার নাম তাঁর নামে হয়েছে। আর সম্প্রতি সাত দশকের ভারতের নির্বাচন নিয়ে বিবিধ ইংরেজি প্রবন্ধের একটি সংকলন (দ্য গ্রেট মার্চ অব ডেমোক্রেসি: সেভেন ডিকেডস অব ইন্ডিয়াজ ইলেকশন) উৎসর্গ করা হয়েছে সুকুমার সেন আর টিএন সেশনের নামে। প্রথম জন নির্বাচন কমিশনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, আর দ্বিতীয় জন তার মেরুদণ্ড শক্ত করেছিলেন।
ভারতের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে টি এন সেশন সম্ভবত প্রথম এবং এখনও পর্যন্ত একমাত্র বর্ণময় ব্যক্তিত্ব। দেশের প্রথম নির্বাচন কমিশনার বাঙালি আইসিএস সুকুমার সেনের স্মৃতি এখনকার প্রজন্মের মানুষের কাছে প্রায় ঝাপসা হয়ে এসেছে। সুকুমার সেনের পর বহু মানুষ দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁরা প্রত্যেকেই নিজের নিজের অঙ্গন থেকে যথেষ্ট দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। তা সত্বেও দেশের প্রতিটি মানুষের নির্বাচনী অধিকারকে সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে, নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে, বিশেষ করে জাল ভোট ও ছাপ্পা ভোটকে রোখার ভাবনাকে কেন্দ্র করে প্রথম নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেন যে ভাবনা চিন্তাগুলো করেছিলেন, সেই সমস্ত পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে প্রথম উদ্যোগী হয়েছিলেন সেশন।
Any update about ur uponnas kajoldhigi n pirbabar than… Plz say something about it….. Beg of you….