নড়াইলে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের স্মরণে সুলতান মেলা প্রতি বছরের মত এবারও চলছে।
নড়াইলের জেলা প্রশাসন ও এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের যৌথ প্রয়াসে ১৪ দিনব্যাপী এই মেলা নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া সরকারি মঞ্চে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৭ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারী পর্যন্ত এই মেলা চলবে। বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে আছে শিল্পীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক চারুকলা প্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, গ্রামীণ খেলাধুলা, লাঠিখেলা, কাবাডি, কুস্তি, ভলিবল, আর্চারি, লড়াই, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্পীর জীবন, দর্শন, শিল্পীস্বত্তা ও কর্মময় জীবনের ওপর সেমিনার।

মেলাকে কেন্দ্র করে লোক ঐতিহ্য দোলনা, খেলনা ট্রেন-নৌকা, কারুশিল্প, মৃৎশিল্প, দারুশিল্প, কাপড়, চুড়ি-ফিতা, বিভিন্ন প্রকার পিঠা-পুলি সহ দেশীয় খাবারের পসরা সাজিয়ে শতাধিক স্টল মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে এবারও।

এবারের মত সারাদেশের সাংস্কৃতিক সংগঠন নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও নাটকের পাশাপাশি কুষ্টিয়ার লালন একাডেমি-সহ ঢাকা ও খুলনার শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করছে। ঢাকা থেকে বাসে পদ্মা সেতু হয়ে নড়াইলে পৌঁছানো যায়। আরিচা ঘাটেও যেতে পারেন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস.এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট তৎকালীন মহকুমা শহর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাশে সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা, পাখির কলকাকলীতে ভরা মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো: মেছের আলি মাতা মোছা: মাজু বিবি। চেহারার সঙ্গে মিলিয়ে পিতা মাতা আদর করে নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া। চিত্রশিল্পী এস, এম, সুলতানের ৭০ বছরের বোহেমিয়ান জীবনে তিনি তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতী মানুষের সাথে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেছেন “পাট কাটা”, “ধানকাটা”, “ধান ঝাড়া”, “জলকে চলা”, “চর দখল”, “গ্রামের খাল”, “মৎস্য শিকার”, “গ্রামের দুপুর”, “নদী পারা পার”, “ধান মাড়াই”, “জমি কর্ষনে যাত্রা”, “মাছ ধরা”, “নদীর ঘাটে”, “ধান ভানা”, “গুন টানা”, “ফসল কাটার ক্ষণে”, “শরতের গ্রামীণ জীবন”, “শাপলা তোলা” মত বিখ্যাত সব ছবি।

সুলতান মেলা দেখার ফাঁকে দেখে আসতে পারেন সুলতান কমপ্লেক্স। এটি নড়াইল শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে চিত্রা নদীর পাড়ে। প্রসঙ্গত বলতে হয়, ১৯৮২ সালে নড়াইল শহর থেকে ১২ কিমি দূরে চিত্রা নদীর পাড়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন এই শিল্পী। বাড়ির চারপাশে ছিল নানারকম ফুল-ফলের গাছ, আর ছোট একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা। পাশেই নদীতে থাকতো একটি বড় নৌকা, যেটিতে শিশুদের নিয়ে শিল্পী সুলতান নদীতে ভেসে ভেসে ছবি আঁকা শেখাতেন। আমৃত্যু সেখানেই ছিলেন।

এসএম সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সুলতান মেলা ও সুলতান কমপ্লেক্স গেলে আপনারা বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস.এম সুলতানের কর্মযজ্ঞকে জানতে পারবেন।
মনোজিৎ কুমার দাস, লেখক ও সাংবাদিক, লাঙ্গলবাঁধ, মাগুরা, বাংলাদেশ