সুপারবাগ কি? শরীরের অ্যান্টি বায়োটিক প্রতিরোধী শক্তি নিয়ে হানা দিচ্ছে যেসব ব্যাকটেরিয়া, ‘ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ অ্যান্ড কন্ট্রোল’ (ইসিডিসি)-এর গবেষকরা তাদের নাম দিয়েছেন ‘সুপারবাগ’। ইউরোপে সুপারবাগের আক্রমণে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
করোনাভাইরাস যেমন চরিত্র বদল করতে পারে তেমনি ব্যাকটেরিয়ারাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিবর্তিত হয়। অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ হল ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যায় বৃদ্ধি হওয়ার ক্ষমতাকে রোধ করা। কিন্তু মানুষের দেহের অভ্যন্তরে যদি মুঠো মুঠো অ্যান্টিবায়োটিক থাকে, তাহলে ব্যাকটেরিয়ারা ক্রমেই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে থাকে। জিনের গঠন এমনভাবে বদলে ফেলে যাতে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকে কোনও কাজ হয় না। ফলে ব্যাকটেরিয়ারা হয়ে ওঠে আরও দোর্দন্ড ও সংক্রামক। এক শরীর থেকে দ্রুত অন্য শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অর্জন করে ফেলে। তখনই তাদেরকে বলা হয় সুপারবাগ।
অবৈজ্ঞানিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে জীবাণুর সঙ্গে যুদ্ধ করার ক্ষমতা লোপ পাচ্ছে শরীরের। ফলে ইদানিং ভাইরাল ফিভার থেকে শুরু করে একটু অচেনা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণেই দুর্বল হয়ে পড়ছে শরীর। অজানা জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুও।
ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ছে, সচেতনতা জরুরি
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কথায়, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী (ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট) ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের হার ঊর্ধমুখী। এর মধ্যে শুধু ই-কোলাই প্রায় ৩০ শতাংশ। মূত্রনালির অন্যান্য সংক্রমণ—ডায়ারিয়া, নিউমোনিয়া, রক্ত বা স্যালাইনের চ্যানেল থেকে ছড়ানো সংক্রমণের সংখ্যাও কম নয়। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরাও বলছেন ভয়াবহ সংক্রমণ নিয়ে বহু শিশু তাঁদের কাছে আসছে। কোনও ওষুধে সুস্থ করা যাচ্ছে না। এর কারনও সেই অ্যান্টিবায়টিক রেজিস্ট্যান্স। কারণ হচ্ছে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দ্রুত সুস্থ হওয়ার তাগিদে অনেকরকমের অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে নিচ্ছেন বহু মানুষ। ফলে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অল্পেই যে রোগ সারার কথা তা হয়ে উঠছে দুরারোগ্য। আর একটি খারাপ দিকও রয়েছে। ভাল-মন্দ নির্বিশেষে শরীরের যেসব ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যাপারে স্পর্শকাতর সেগুলিকে অ্যান্টিবায়োটিক ধ্বংস করে দিতে পারে। এইভাবে শরীরের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরে পেট খারাপ, ডায়েরিয়া, মুখের স্বাদ কমে যাওয়া, দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে।
উপায় কী
১। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়টিক কখনও নেওয়া যাবে না।
২। প্রাকৃতিক উপায়ে খাওয়া দাওয়া করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
৩। পুষ্টিকর খাওয়ারে জোর দিতে হবে।