অনুজকুমার ভৌমিক
সাতসকালে ঘরের দোরগোড়ায় মুরগির ডাক। ঘুম চোখে আড়মোড়া ভেঙে উঠে দরজা খুলতেই হাসি খেলে গেল গৃহকর্তার মুখে। রবিবারের জমাটি খাওয়াদাওয়া উধাও হয়ে গিয়েছিল কয়েক সপ্তাহ ধরে, লকডাউনের জন্য সব কিছুই যেন পানসে ঠেকছিল। তার উপর টিভি খুলে সেলেবদের রকমারি রান্না দেখে কার আর ভালো লাগে? কিন্তু উপায় নেই। যদিও অনেকটা হাতে চাঁদ, থুড়ি চিকেন পেয়ে সেই রবিবারের চেনা আমেজ আবার ফিরে পেলেন তমলুকের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। রবিবার ১৯ এপ্রিল সকাল থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে গিয়ে একটা করে জ্যান্ত মুরগি স্পেশ্যাল আইটেম হিসেবে উপহার দিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর চঞ্চলকুমার খাঁড়া। যা পেয়ে বেজায় খুশি সকলেই।

কাউন্সিলর চঞ্চলবাবু জানালেন, লকডাউন চলাকালীন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এর আগে দু’বার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি চাল, ডাল, তেল, মশলা, চা, চিনি, বিস্কুট, দুধ, মাস্ক, স্যানিটাইজার। আজ আবার চাল, ডাল, তেল, আলু পেঁয়াজ, হলুদ আর লঙ্কার গুঁড়ো, সোয়াবিন-সহ খাদ্যসামগ্রী দিলাম। সেই সঙ্গে একটা করে জ্যান্ত মুরগি দিলাম। অনেক দিন ধরে মানুষ ঘরে কাটাচ্ছেন, মাংস কিনতে যেতে পারছেন না। তাই আজ একটা করে মুরগি বাড়ি বাড়ি দিলাম। সঙ্গে অনুরোধ করলাম সরকারের নির্দেশ মেনে বাড়িতে থাকুন। লকডাউন মেনে চলুন। তাহলেই করোনাকে পরাস্ত করতে পারব। আরও কিছু জিনিস লাগলে বলবেন, আমরা পৌঁছে দেব।

জ্যান্ত মুরগি হাতে পেয়ে আট থেকে আশি খুব খুশি। জমিয়ে রান্না করে মুখে রুচি ফেরায় সকলেই বলছেন, ভাগ্য করে পেয়েছি বটে এই কাউন্সিলরকে। অনেক জায়গায় ত্রাণ দিচ্ছে, কিন্তু এই ওয়ার্ডের মতো আর কোথাও কেউ চিকেন তো পাননি। তাও আবার জ্যান্ত!


