অনুজ কুমার ভৌমিক
তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। তাতেই নানা কথার ফাঁকে প্রস্তাব এসেছিল মানুষের মধ্যে মাস্ক বিলি করার। সাড়া দিতে থাকেন ‘অনুগামী’ গ্রুপে থাকা সদস্যরা। সেইমতো শুক্রবার ২০ মার্চ থেকে জেলায় জেলায় শুরু হলো মাস্ক বিলি কর্মসূচি। যাঁদের মাস্ক কেনার সামর্থ্য নেই এমন বেশিরভাগ সংখ্যক মানুষের হাতে মাস্ক তুলে দিয়ে করোনা সম্পর্কে তাঁদের সচেতন করা হয়। অন্যতম উদ্যোক্তা পুলক লাহিড়ী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের প্রত্যেকে তিনটি করে মাস্ক বিলি করবেন। অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। খুব দামি মাস্ক কেনা সম্ভব না হলেও সকলে সাধ্যমতো কিনেছেন। এমনকী চাকরি-বাকরি না পাওয়া দলীয় কর্মীরাও মাস্ক বিলি করে দৃষ্টান্ত রেখেছেন। তিনটের জায়গায় কেউ ৪০-৫০টাও বিলি করেছেন। কেউ হয়তো কটূক্তি শুনেছেন। তবে ভালো কাজে যুক্ত থাকলে ওসবে পাত্তা না দিতেই বলা হয়েছে। যাঁরা আজ অফিস থাকায় মাস্ক বিলি করতে পারেননি তাঁরা শনিবার থেকে নামবেন। এই কর্মসূচি চলবে, মান-অভিমান ভুলে সকলে এগিয়ে আসুন। বিল্বদল ভট্টাচার্য সকলকে সচেতন করতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়েছেন, পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রেখে মাস্ক বা স্যানিটাইজার বিলি করতে। যাতে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ না থাকে। সকলকে সুস্থ থাকতে হবে। মাস্ক বিলির কাজে এগিয়ে এসেছেন মহিলারাও। অনেকে সশরীরে থেকে না পারলেও মাস্ক কিনে রেখেছেন বিলির জন্য। মাস্ক পেয়ে প্রান্তিক মানুষদের মুখের হাসি এই কাজে আরও উদ্বুদ্ধ করছে তৃণমূল কর্মীদের। তাঁরা বলছেন, অনেকে মুখে ২৪ x ৭ দিন-রাত এক করে কাজের কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবে করেন না। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা করেন। তিনি করোনা মোকাবিলায় সারা দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পূর্ব মেদিনীপুরের এক তৃণমূল কর্মী বাসস্ট্যান্ডে মাস্ক বিলি করতে করতে বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীকে দেখেই রাজনীতি করি। তাঁরা যেভাবে মানুষের সেবা করেন তাঁর ছিঁটেফোঁটা করতে পারলেও নিজেকে ভাগ্যবান মনে করব। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থেকে একজোট হয়ে করোনাকে দূর করতে হবে। সত্যি, এই ‘অনুগামী’রা দেখিয়ে দিলেন সোশ্যাল মিডিয়াকে কীভাবে ভালো কাজে ব্যবহার করা যায়। অন্য তৃণমূল কর্মীরাও নিশ্চয়ই তা দেখে উদ্বুদ্ধ হবেন। ভোটপাখিরা ঘরে বসে, আর বিপদে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাই রাস্তায়, মানুষের পাশে। তাই মানুষ বিশ্বাস করেন, শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা তৃণমূলই ভরসা।



