| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

স্বামী বিবেকানন্দ ধর্ম-সংস্কৃতি ও আত্মচেতনার বিকাশ সাধনের প্রধান পথপ্রদর্শক : মনোজিৎকুমার দাস

Reporter
মনোজিৎকুমার দাস / ১০৪২ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২

আজ ৪ জুলাই, স্বামী বিবেকানন্দের প্রয়াণ দিবস (১৮৬৩-১৯০২) ভারতীয় নবজাগরেণ অন্যতম পথিকৃত। যে সমস্ত মনিষী ধর্মীয় ভাবাদর্শে ভারতকে আধুনিকতার আদর্শে উজ্জীবিত করেন তাদের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দ অন্যতম।

তাঁর আদর্শিক ভাবাদর্শ যুক্তিবোধের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যায় মানুষকে। আধ্যত্মকে এক অন্য পর্যায়ে উন্নিত করে স্বামীজী সকলের জীবনকে আরও বেশি করে আলোর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। নেতিবাচক ভাবনার অন্ধকার দিকটির পর্দা সরিয়ে তিনি বাঙালির জীবনবোধকে আরও বেশি করে উজ্জীবিত করেছেন।

সিমুলিয়ার বিশ্বনাথ দত্ত এবং মা ভুবনেশ্বরী দেবীর পুত্র নরেন দত্ত একদিন সাধনা মাধ্যমে হন স্বামী বিবেকানন্দ। তার চিন্তা চেতনা, মেধা মনন, জ্ঞান, আদর্শ পাশ্চাত্য দর্শন, হিন্দুধর্মে মূল বাণী এবং তার কর্মকান্ড এবং চিরন্তন বাণীর মঝে আধুনিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে হিন্দুধর্ম তথা ভারতীয় বেদান্ত ও যোগ দর্শনের প্রচারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।অনেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে বিভিন্ন ধর্মমতের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক স্থাপন এবং হিন্দুধর্মকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্ম হিসেবে প্রচার করার কৃতিত্ব বিবেকানন্দকে দিয়ে থাকেন। ভারতে হিন্দু পুনর্জাগরণের তিনি ছিলেন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। সেই সঙ্গে ব্রিটিশ ভারতে তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ধারণাটি প্রবর্তন করেন। বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। তার সবচেয়ে বিখ্যাত বক্তৃতাটি হল, “আমেরিকার ভাই ও বোনেরা …,”] ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় প্রদত্ত চিকাগো বক্তৃতা, যার মাধ্যমেই তিনি পাশ্চাত্য সমাজে প্রথম হিন্দুধর্ম প্রচার করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বধর্ম মহাসম্মেলনে বিবেকানন্দের চূড়ান্ত ভাষণ দেন। তার শেষ বক্তৃতায়, তিনি বলেছিলেন যে এই পার্লামেন্ট একটি বাস্তব সত্যে পরিণত হয়েছে। তিনি এই সংসদসভার আয়োজনের জন্য “মহৎ আত্মাদের” ধন্যবাদ জানান। তিনি তার বক্তৃতা শেষ করেন “যুদ্ধের বদলে সাহায্য,” “ধবংসের বদলে আত্মীকরণ,” “বিভেদের বদলে সম্প্রীতি এবং শান্তি” এই বার্তা দিয়ে।

সন্ন্যাস জীবনে স্বামী বিবেকানন্দ নামে পরিচিত নরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৬৩ খ্রীষ্টাব্দের ১২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মার কাছে শেখেন স্বধর্ম, বাবা পরিচয় করিয়ে দেন এক উদার সংস্কৃতির সঙ্গে। সাধারণ বিদ্যাশিক্ষার সঙ্গে তিনি সঙ্গীত ও ব্যায়ামেও পারদর্শী হন। যৌবনে তিনি ব্রাক্ষ্মসমাজ ও পাশ্চাত্য দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বি.এ. পাশ করে আইন পড়বার সময় পিতৃবিয়োগ হওয়ায় অর্থাভাবে তাঁকে অনাহারে পর্যন্ত দিন কাটাতে হয়েছিল।

উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হিন্দুধর্মীয় জীবনব্যবস্থা, আচরণ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অভ্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি হিন্দুধর্মের বহু আদর্শিক বিচ্যুতি ও কুসংস্কারের কড়া সমালোচক ছিলেন। তিনি তার ভাবাদর্শ প্রচার করতে সম্পূর্ণ নতুন কর্মসূচি প্রদান করেছিলেন। তাঁর সময়ের তুলনায় বহু দিক থেকে প্রাগ্রসর চিন্তার অধিকারী ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ।

অজ্ঞ, কাতর, পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি ছিলেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই তাঁর ধর্ম-দর্শন-অধ্যাত্মচিন্তার সবটাই জুড়ে আছে মানুষের কথা। তাঁর কাজ, চিঠি, প্রবন্ধ, বক্তৃতা নিজের হাতে গড়ে তোলা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের কেন্দ্রেও সেই মানুষের কল্যাণ ও উত্থানের প্রসঙ্গ এবং প্রাধান্য। গুরুভাই তূরীয়ানন্দকে তিনি বলেন, ‘জীবে জীবে, বিশেষত মানুষের মধ্যে তাঁর অবস্থান’। ‘তাঁর’ অর্থাৎ মানুষ যাঁকে বলে দেবতা। যোগীর ধারণায় পরমপুরুষ—ভগবান—ঈশ্বর! বৈদান্তিক অনুভবে তিনিই পরমব্রহ্ম। শ্রীরামকৃষ্ণের কথায় ‘পাকা আমি’।

বিবেকানন্দ বুঝেছিলেন যে, দেবতা আকাশ থেকে নামেন না বা মাটি ফুঁড়েও ওঠেন না। বিবেকানন্দ চান জীবন্ত মানুষের পুজো। শিষ্যবর্গ এবং সতীর্থদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, ‘মানুষের জন্য কাজ (যা পুজোরই শামিল) করে করে তোরা শেষ হয়ে যা, এটাই আমার আশীর্বাদ।’ বিষয়টি শ্রীরামকৃষ্ণ নির্দেশিত ‘শিবজ্ঞানে জীবসেবা’রই নামান্তর।

আজ এক দিকে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতি, দর্শন-মনন-প্রজ্ঞার অপরিসীম বিস্তৃতি, সমাজ-সভ্যতার দ্রুত সম্প্রসারণ, অন্য দিকে মানুষে মানুষে হিংসা, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, অভাবনীয় স্খলন-পতন-বিভেদ-বিদ্বেষ-বিপর্যয়-বীভৎস কার্যকলাপ ইত্যাদি তামসিক উল্লাসে প্রচণ্ড ভাবে ব্যাহত শুভচেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ। মানুষ দিশেহারা। কেন এমন অবস্থা? তার ব্যাখ্যা এবং নিদান আছে বিবেকানন্দের বীক্ষায়। তিনি মানুষ, যথার্থ মানুষ, ভাল মানুষ, সচেতন-শুভ্র-সুন্দর-বুদ্ধ-শুদ্ধসত্ত্ব-প্রমুক্ত মানুষ চান। জন্মালেই আমরা সবাই মানুষ হয়ে উঠি না। মানুষ হয়ে উঠতে হয়। চৈতন্যের সম্প্রসারণে মানুষের পশুত্ব থেকে দেবত্বে উত্তরণ। কী ভাবে? মানুষ অন্যান্য পশুর মতোই। এই অ্যানিম্যালিটি থেকে তার উত্তরণ পার্শনালিটি-তে— বুদ্ধি ও চিন্তার বিকাশে। যা অন্যান্য পশুর মধ্যে ঘটতে দেখা যায় না। পরবর্তী স্তর হল ইন্টেলেকচুয়ালিটি-র, অর্থাৎ মনন ও প্রজ্ঞায় উত্তরণ। তার পর নোবিলিটি— এই আভিজাত্য ধনসম্পদের দিক থেকে নয়, ভাবনার সমৃদ্ধিতে, চিন্তার ঐশ্বর্যে, উদ্দীপনার কৌলীন্যে। পরের স্তর হিউম্যানিটি— মানবতার আলোকিত ভুবন। জীবনে জীবন সংযুক্তির প্রত্যয়। সবশেষে ডিভিনিটি—দেবত্বের উত্তুঙ্গে উত্তরণ। এই দেবতা হয়ে ওঠার অর্থ স্বামীজির কথায়, ‘মান’ আর ‘হুঁশ’ সংবলিত প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠা। মানুষ হয়ে সর্বার্থে পিছিয়ে পড়া অজ্ঞ, কাতর, শোষিত, বঞ্চিত, অত্যাচারিত মানুষজনের পাশে থেকে জীবনের মূল স্রোতে শামিল করার বিষয়টিকে বিবেকানন্দ গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষ ভাবেই।

আমরা জানি, পৃথিবীতে যত বড় বড় কাজ হয়েছে, তার মূলে আছে আত্মচেতনা ও আত্মবিশ্বাসের জাগরণ। আর আত্মবিশ্বাস থেকেই আসে আস্তিকতা। স্বামীজির ভাষায়, ‘যে মানুষ নিজেকে বিশ্বাস করে না, সে নাস্তিক— আর যারা হাজারটা দেবদেবীতে বিশ্বাস না করেই শুধু নিজের উপর বিশ্বাস রাখে, আত্মচেতনায় ভর করে সচেতন হয় সে-ই আস্তিক।’

যখন কেউ আদর্শে পূর্ণ জীবন যাপন করে, তখন তা অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে ওঠে। স্বামী বিবেকানন্দও এভাবে জীবনযাপন করেছিলেন। বিশেষ করে তরুণদের জন্য তাঁর কথা ও শিক্ষা অমূল্য। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে শুধু সাফল্যই পাওয়া যায় না, বিবেকানন্দ দেশ ও বিশ্বের প্রতি তাঁর কর্তব্য পালনের অনুপ্রেরণাও দেন।

দান করলে আনন্দ আরও বেশি হয়—

তখন স্বামী বিবেকানন্দ আমেরিকায় এক মহিলার কাছে থাকতেন, যেখানে তিঁনি নিজের খাবার নিজেই রান্না করতেন। একদিন তিঁনি খাবার খেতে যাচ্ছিল এমন সময় কিছু ক্ষুধার্ত শিশু এসে কাছে দাঁড়াল। স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর সমস্ত রুটি সেই শিশুদের মধ্যে বিতরণ করেছিলেন। তা দেখে এক মহিলা স্বামীজিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি ওই শিশুদের সব রুটি দিয়ে দিয়েদিলেন। এখন আপনি নিজে কি খাবেন?’ তিনি হেসে এর উত্তর দিলেন, ‘রুটি হল পেটের আগুন নিভানোর জিনিস। এই পেটে না গিয়ে, ওদের পেটেই গেল। আসলে পাওয়ার আনন্দের চেয়ে দেওয়ার আনন্দ অনেক বেশি।’

ভয়ের মুখোমুখি হোন—

একবার, বেনারসের একটি মন্দির থেকে বের হওয়ার পথে, বিবেকানন্দকে অনেক বানর ঘিরে ধরেছিল। স্বামীজি এই পরিস্থিতে পড়ে ছুটতে লাগলেন, কিন্তু বানরগুলো তাঁদের হাল ছাড়ছে না। কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বৃদ্ধ সন্ন্যাসী তাঁকে বললেন, ‘থামুন এবং ওদের মুখোমুখি হোন!’ বিবেকানন্দ তৎক্ষণাৎ ঘুরে বানরের দিকে এগোতে লাগলেন। এই মনোভাবের কারণে সব বানর পালিয়ে গেল। এই ঘটনা থেকে তিঁনি শিখেছেন ভয়ে পালিয়ে না গিয়ে তার মুখোমুখি হতে হবে। বহু বছর পর তিনি এক সম্বোধনেও বলেছিলেন, ‘যদি কোনও কিছু তোমাকে ভয় দেখায়, তা থেকে পালিয়ে যেও না। ভয়ের মুখোমুখি ও আর ভয়কে জিতে নাও-

অন্যের পিছনে দৌড়াবেন না—

এক ব্যক্তি বিবেকানন্দকে বলেছিলেন, ‘আমি কঠোর পরিশ্রম করেও সফল হতে পারি না।’ এতে স্বামীজি তাকে তার কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে বেড়িয়ে আসতে বললেন। তিনি যখন ফিরে আসেন তখন কুকুরটি ক্লান্ত ছিল, কিন্তু তার মুখ উজ্জ্বল ছিল। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সোজা পথে হাঁটতে গিয়ে রাস্তার কুকুরের পেছনে দৌড়াচ্ছিল।’ স্বামী বললেন, এটা তোমার উত্তর। আপনি আপনার গন্তব্যে না গিয়ে অন্যের পিছনে দৌড়াতে থাকেন। নিজের গন্তব্য ঠিক করুন, সফলতা আসবেই।

সর্বোত্তম সহজ জীবনযাপন—

স্বামী বিবেকানন্দ সরল জীবনযাপনের পক্ষে ছিলেন। তিনি অন্যকে বস্তুগত উপায় থেকে দূরে থাকতে শিক্ষা দিতেন। তারা বিশ্বাস করতেন যে কিছু পেতে হলে প্রথমেই অপ্রয়োজনীয় জিনিস ত্যাগ করে সাধারণ জীবনযাপন করতে হবে। বস্তুবাদী চিন্তা লোভ বাড়িয়ে আমাদের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করে।

উপস্থিতি থেকে দূরে থাকুন—

বিদেশ যাওয়ার সময় স্বামী বিবেকানন্দকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘আপনার বাকি জিনিসগুলি কোথায়?’ ‘এটাই সব,’ তিনি উত্তর দিলেন। কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে বলল, ‘আরে! আপনার সংস্কৃতি কেমন? শরীরে শুধু জাফরানের চাদর জড়ানো। এ নিয়ে তিনি হেসে বললেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি তোমাদের সংস্কৃতি থেকে আলাদা। আপনার দর্জিরা আপনার সংস্কৃতি গড়ে তোলে, অন্যদিকে আমাদের সংস্কৃতি আমাদের চরিত্র দ্বারা তৈরি। সংস্কৃতি পোশাকে নয়, চরিত্রের বিকাশে।’ এটি আমাদের বাহ্যিক চেহারা থেকে দূরে থাকতে এবং আমাদের চরিত্রের বিকাশের দিকে মনোনিবেশ করতে শেখায়।

স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মচিন্তায় আধুনিক মনষ্কতা ব্যক্ত হয়েছে সার্বজনীন ধ্যান ধারণায়। তিনি ছিলেন বেদান্ত দর্শনের অনুগামী। তিনি ধর্মকে আত্ম-উপলব্ধি বলেছেন। অপরের হিতের জন্য করা হয়, তবে তার সমষ্টিকেই ধর্ম বলা চলে। বিবেকানন্দ বলেছেন, ধর্ম হল মানুষকে পশু থেকে মানুষে পরিণত করা। বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ পরমহংসের থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব শিখেছিলেন, “জীবই শিব”। তাই তিনি “শিবজ্ঞানে জীবসেবা”র উপর বেশি গুরুত্ব দেন। বিবেকানন্দ বলেছেন, মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর থাকেন। তাই মানুষের সেবা করাই ঈশ্বরের সেবা করা।

শ্রীরামকৃষ্ণের প্রয়াণের পর নরেন্দ্রনাথ সন্ন্যাসী ভ্রাতাদের নিয়ে বরানগরে একটি পোড়ো বাড়িতে ওঠেন এবং গৃহী শিষ্যদের অর্থসাহায্যে প্রথম মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরু হয় ‘রামকৃষ্ণ মিশনে’র যাত্রা। পোড়ো বাড়ি, অসম্ভব কষ্ট, একখানা কৌপিন, মেঝেতে চাটাই পেতে শোওয়া এবং হাত কিম্বা একটুকরো ইটকে বালিশের মত করে ব্যবহার করে কষ্টের জীবন। এই ছিল রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলন। আর বরানগর ছিল তার আঁতুড়ঘর। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনরূপী যে বটবৃক্ষ আগামীদিনে সহস্রাধিক শাখা প্রশাখা বিস্তার করবে এই ছিল তার সুচনা।

স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড়ে প্রতিষ্ঠা করেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রধান কার্যালয়। বেলুড় মঠের রামকৃষ্ণ মন্দির রামকৃষ্ণ ভাব-আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। পরিশেষে বলতে হয়, স্বামী বিবেকানন্দ আধুনিক কালের ধর্ম-সংস্কৃতি ও আত্মচেতনার বিকাশ সাধনের প্রধান পথপ্রদর্শক। তার চিন্তা চেতনা সর্বকালীন। হিন্দুধর্মের নবজাগরণের অগ্রদূত রূপে তিনি চিরকালের জন্য প্রণম্য হয়ে থাকবেন।

মনোজিৎকুমার দাস, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, গল্পকার ও কবি, লাঙ্গলবাধ, শ্রীপুর, মাগুরা, বাংলাদেশ।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev