খড়িবাড়ির ছাত্রী স্বপ্না মুন্ডা এবার ডাক্তারী পড়ার সুযোগ পেল উওরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে। খড়িবাড়ি ব্লকে স্বপ্নাই প্রথম আদিবাসী মেয়ে, যে ডাক্তারি পড়তে সুযোগ পেল। রানিগঞ্জ পানিশালি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে বাতাসির ফুলবাড়ি চা বাগানের খাললাইনে শ্রমিক আবাসনে একটা টিনের চালার ঘরে স্বপ্নাদের থাকা-খাওয়া। স্বপ্না প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে শাস্ত্রীজি হাইস্কুলে যাতায়াত করতো। ২০১৬ সালে বাতাসি শাস্ত্রীজি হাইস্কুল থেকে ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে স্বপ্না মাধ্যমিক পাশ করে। বাড়িতে বাবা-মা, ক্লাস টেনের পড়ুয়া বোন ও দিদাও থাকেন। বাবা রতনলাল মুন্ডা এই বাগানেরই শ্রমিক। মা শান্তিদেবী বাগানের স্বাস্থ্যকর্মী। পরিবারে অভাব নিত্যসঙ্গী। তবুও রতন-শান্তি দুই মেয়ের পড়াশোনায় কোনও খামতি রাখতে নারাজ।

দারিদ্রকে খুব কাছ থেকে দেখেছে স্বপ্না। দেখেছে বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম। জেদী মেয়ে স্বপ্নার হাসির আড়ালে তাই লুকিয়ে আছে হার না মানা মনোভাব। মাধ্যমিকের পর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আশেপাশের মানুষ তো আছেই বেশ কিছু পাড়াপড়শি বলেছিল তার দ্বারা আর এগোনো সম্ভব নয়। স্বপ্নার কথায়, আমার দ্বারা বিজ্ঞান পড়া হবে না বলে চেনাশোনা অনেকেই সেই সময় আমাকে মুখের ওপর বলে দিয়েছিলেন। সেই সময় স্কুলের শিক্ষকরাই আমাকে সাহস জোগান। বাড়ির আশপাশে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। তাই শিলিগুড়ির মার্গারেট সিস্টার নিবেদিতা স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হই। সেখানে হস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে ২০১৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ। গতবার নিটে বসলেও সাফল্য অধরাই ছিল স্বপ্নার। কিন্তু হাল ছাড়েনি, এবারে অবশ্য স্বপ্নাকে বিফল করেনি। খড়িবাড়ি ব্লকের ফুলবাড়ি চা বাগানের বাসিন্দা স্বপ্না সর্বভারতীয় নিট পাশ করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছে। ওর এই নজরকারা সাফল্য এলাকার ছাত্র/ছাএীদেরকে যেমন বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে উত্সাহিত করবে, তেমনি আদিবাসী ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণেও উৎসাহিত করবে। আজ ডাক্তারি পড়ার রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্বপ্না বলছেন, স্বাস্থ্যকর্মী হিসাবে মাকে দিনরাত পরিষেবা দিতে দেখেছি। এই সুবাদেই মনে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নটার জন্ম। কথায় বলে, কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে। স্বপ্নারও মিলেছে।