নদিয়া জেলার তেহট্ট মহকুমার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি ছোটো গ্রাম বেতাই। এখান থেকে প্রকাশিত একটি সৃজনশীল লিটল ম্যাগাজিন ‘স্বপ্নের ভেলা’। ২০১৭ র ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় এর পথ চলা। ছোট্ট এই ম্যাগাজিনটি প্রথম সম্পাদনা করেন সমীরণ পাল। দ্বিতীয় সংখ্যাটি যুগ্মভাবে সম্পাদনা করেন সমীরণ পাল ও বিশ্বজিৎ সরকার। এটি একটি বার্ষিক পত্রিকা। কবি ও লেখকদের সাম্মানিক হিসাবে একটি করে সৌজন্য সংখ্যা প্রদান করে পত্রিকাটি ও সেটি বিনামূল্যে ডাকযোগে কবি বা লেখকের ঠিকানায় প্রেরণ করা হয়। অণুকবিতা, দীর্ঘকবিতার পাশাপাশি অণুগল্প ও প্রবন্ধও প্রকাশিত হয়। তবে বিশেষ কোনো সংখ্যা এখনো পর্যন্ত হয়নি। করোনা মহামারির কারণে ২০১৯-এর পর আর কোনো সংখ্যা প্রকাশ হয়নি। তবে খুশির খবর তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশনার কাজ জোরকদমে চলছে।
প্রথম সংখ্যার সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিল — “শেষের কবিতার নায়কের মুখ দিয়ে কবিগুরু বলেছেন, ‘কমল হীরের পাথরটিকেই বলে বিদ্যে, আর ওর থেকে যে আলো ঠিকরে পড়ে তাকেই বলে কালচার।’ কালচার বা সংস্কৃতির মধ্যে বিচ্ছুরিত হয় মন ও মনন, বোধ ও বোধি, চেতনা ও চৈতন্যের আলো। জাগরিত হয় অফুরন্ত আনন্দ বেদনার রহস্য নিবিড় শিহরণ। আর এই সংস্কৃতি যখন বিপন্ন হয় তখন হারিয়ে যায় মূল্যবোধ, পঙ্কিল স্রোতে আবর্তিত হয় জীবন। ভোগবাদী সংস্কৃতি, অন্তর্জালের অশ্লীলতা, রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন, শিল্প সাহিত্যের নন্দন চত্বরে একদল উন্মাদের উল্লম্ফনে বিপর্যস্ত আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।
অপসংস্কৃতির অন্ধকারে নিমজ্জিত গ্রামীণ সংস্কৃতির দীপবর্তিকা। আট থেকে আশি, গৃহবধূ থেকে পরিচারিকা মুঠোফোন আর মেগা সিরিয়ালের জাদুতে পা রাখছে চোরাবালিতে। আত্ম সুখের আশায় বেছে নিচ্ছে আত্মহরনের পথ। সংস্কৃতির এই সংকটকালে “স্বপ্নের ভেলা” হয়ে উঠুক মুক্তির ঠিকানা, তারুণ্যের স্বপ্ন, মান-অভিমান, ভালবাসার এক অভিজ্ঞান।”

প্রথম সংখ্যার সম্পাদকীয়তেই এই লিটল ম্যাগাজিনটির প্রকাশ করার উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেছেন সম্পাদক।
বিপন্ন সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে শিল্প সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে চারিদিকে ছড়িয়ে দিতেই তাদের এই প্রয়াস। ম্যাগাজিনটির ট্যাগলাইনটি দেখলেই সকলে ঠাহর করতে পারবেন — “একটি সাংস্কৃতিক প্রয়াস”। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চা করছেন তাঁদের পাশাপাশি নতুনরাও যাতে উঠে আসতে পারে তার জন্য পত্রিকাটি বিশেষ নজর দিয়ে এসেছে। প্রবীর আচার্য্য, শ্যামাপ্রসাদ ঘোষ, সেলিম মণ্ডল, উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়, শক্তি প্রসাদ ঘোষ, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, চৈতন্য দাশ, দেবজ্যোতি কর্মকার, সুব্রত পাল, কুন্তল মণ্ডল, তুলসীদাস ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে অনেক তরুণ ব্রিগেড কলম ধরেছেন এই পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যায়। বেতাই এর লোক সংস্কৃতিকে নতুন করে জানতে রয়েছে বেতাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক তথা লোকতাত্ত্বিক ও পুরাতাত্ত্বিক গবেষক শ্রী লোকেশ চন্দ্র বিশ্বাস মহাশয়ের প্রবন্ধ ‘ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বেতাই’। অপসংস্কৃতির আঁধার ভেদ করে এই “স্বপ্নের ভেলা” হয়ে উঠুক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের কাছে মুক্তির নতুন মন্ত্র।
পত্রিকা দপ্তরের ঠিকানা :
“স্বপ্নের ভেলা” , সম্পাদক-সমীরণ পাল ও বিশ্বজিৎ সরকার, প্রযত্নে-প্রসেনজিৎ দাস, গ্রাম-বেতাই আখড়াপাড়া , ডাকঘর-বেতাই, থানা-তেহট্ট , জেলা-নদিয়া, পিন-৭৪১১৬৩, পশ্চিমবঙ্গ।, ই মেল-swapnervela@gmail.com, মোবাইল নং-৮৯২৬৭৩৬১৩৫
ধন্যবাদ