বহুদিন পর টি এন সেশনের নামটা আবার সবার সামনে আনলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কর্যকলাপ নিয়েও বহু প্রশ্ন তুললেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। কেন টি এন সেশন? ভারতে কি তার আগে পরে আর কোনও নির্বাচন কমিশন ছিলেন না? অবশ্যই ছিলেন। কিন্তু তাদের মনে রাখার মতো এমন কোনও কাজ ছিল না। নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচন কমিশন সুকুমার সেন (পরে এঁকে নিয়ে লিখছি) এবং টি এন সেশন কেই সাধারণ মানুষ মনে রেখেছে। সে সময় শাসকদলের ইশারায় চলা এই সাংবিধানিক সংস্থাকে প্রকৃত অর্থে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন করে তোলার কাজ সেশনের হাত দিয়েই শুরু। বস্তুত দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দিয়েছিলেন সেশন। তাঁর একের পর এক সংস্কার দেশের গণতান্ত্রিক আরও শক্তিশালী করেছিল। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নিয়েছিলেন একের পর এক সাহসী পদক্ষেপ। বিশেষত দেশের ভোট করানোর ক্ষেত্রে কমিশনই যে শেষ কথা, সেশনের আমলেই প্রথম তা কার্যক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়। যে কারণে দেশের প্রশাসনিক মহলে তাঁর কার্যকাল মাইল ফলক হয়ে আছে।
নির্বাচন গ্রামে-গঞ্জে-মফঃস্বলে আগে উৎসব ছিল। বেশ মনে আছে খুব ছোট সময় আমাদের পাড়ায় কাউন্সিলর ভোটে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনিল সরকার। তিনি বাড়ি বাড়ি রিক্সা পাঠিয়েছিলেন। দুপুরের দিকে আমাদের বাড়িতেও রিক্সাএসেছিল। তাতে শওয়ারি হয়েছিলেন আমার মা-ঠাকুমা সঙ্গে আমি। আমি তখন ইনফেন্টের ছাত্র। তোরঙ্গ থেকে পাট ভাঙা শাড়ি বার করে পরলেন মা-ঠাকুমা। সেই সময় থেকেই প্রচারে চলে এল ক্যাপশান, ‘গণতন্ত্রের মহান উৎসব নির্বাচন’। এই প্রচারের উল্টোপিঠে ছিল আরও একটি প্রচার। ‘নির্বাচন কোনও উৎসব নয়, আপনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাবার পদ্ধতি’। নব্বইয়ের দশকে যিনি এই কথাটা প্রচার করেছিলেন তিনি টি এন সেশন। তিনি ছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত। ভোট প্রক্রিয়ায় নতুন নতুন পদ্ধতি যোগ করে নির্বাচন কমিশনকে এক উচ্চতর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সাধারণ মানুষকে ভরসা জুগিয়েছিলেন।
১৯৯০ সাল থেকে বলা যায় ভারতের নির্বাচন কমিশনের এক নতুন যাত্রা শুরু হয়েছিলো৷ তখন নির্বাচন কমিশনার ছিলেন আর ভি এস পেরি শাস্ত্রী। তাঁর পর নির্বাচন প্রক্রিয়ার দায়িত্ব পান ভারতের প্রথম ও এখনও পর্যন্ত একমাত্র মহিলা প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ভি এস রামাদেবী৷ কিন্তু খুব বেশিদিন তিনি সেই দায়িত্বে থাকেনি৷ রামাদেবীর পর নির্বাচন কমিশনের ভার নেন টি এন সেশন।
সাংবাদিক গোবিন্দন কুট্টি তাঁকে নিয়ে আস্ত একটা বইই লিখে ফিলেছিলেন। বইটির নাম ‘সেশন-অ্যান ইন্টিমেট স্টোরি’। সেই বইতে গল্পের ছলে তিনি বলেছিলেন কিভাবে সেশন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন।
১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাস। স্বাভাবিক ভাবেই এই সময় দিল্লির তাপমাত্র থাকে নিম্নমুখী সেদিনও দিল্লিতে বেশ কনকনে ঠান্ডা। এই হারকাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেই রাত প্রায় একটার সময়ে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী সুব্রহ্মনিয়াম স্বামীর সাদা অ্যাম্বাসেডর গাড়িটা দিল্লির পান্ডারা রোডের একটা সরকারি বাড়ির গাড়িবারান্দায় এসে দাঁড়াল। ওই বাড়িতে তখন বসবাস করতেন প্ল্যানিং কমিশনের সদস্য টি এন সেশন। হন্তদন্ত হয়ে মি. সেশনের বাড়িতে ঢুকলেন মন্ত্রী।
এইখানে বলে রাখা ভালো যে স্বামী কিন্তু সেশনের পূর্ব পরিচিত। মি. স্বামী যখন হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন, সেই সময়ে সেখানে ছাত্র ছিলেন মি. সেশন, যদিও শিক্ষকের বয়স ছাত্রের থেকে কিছুটা ছোটই ছিল। তাই মাঝে মাঝেই দক্ষিণ ভারতীয় খাবার খেতে শিক্ষক হাজির হতেন ছাত্রের ফ্ল্যাটে। সেই গভীর রাতে মন্ত্রী সুব্রহ্মনিয়াম স্বামী, টি এন সেশনের সরকারী আবাসে খেতে যান নি। গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখরের দূত হয়ে একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিতে। প্রাক্তন ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “পরবর্তী প্রধান নির্বাচন কমিশনার হতে রাজি আছেন আপনি?”
খুব একটা উৎসাহ দেখান নি মি. সেশন। আগের দিন আরেক শীর্ষ আমলা বিনোদ পান্ডেও তাঁর কাছে এই একই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি বিনোদকে বলেছিলেন, “বিনোদ, তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? ওই নির্বাচন সদনে কে যাবে!” জবাব দিয়েছিলেন মি. সেশন।
কিন্তু সুব্রহ্মনিয়াম স্বামী ছাড়ার পাত্র নন। দু-ঘণ্টা ধরে তিনি মি. সেশনকে বোঝাতে লাগলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদটা নেওয়ার জন্য। শেষমেশ মি. সেশন বলেন যে কয়েকজনের সঙ্গে পরামর্শ করে জানাবেন তিনি।
মি. স্বামী বেরিয়ে যাওয়ার পরেই অত রাতে রাজীব গান্ধীকে ফোন করেন মি. সেশন। তখনই একবার দেখা করতে চান তিনি। রাজীব গান্ধী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই তার সঙ্গে টি এন সেশনের সুসম্পর্ক ছিল। বন এবং পরিবেশ দপ্তরের সচিব হিসাবে মি. সেশনের কাজে খুশি হয়ে মি. গান্ধী তাকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব দেন। তখন থেকেই দুজনের ঘনিষ্ঠতা। সেই সূত্রেই ভোর রাতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে পরামর্শ করতে পৌঁছিয়ে গিয়েছিলেন মি. সেশন।
প্রথমে মি. সেশন পাঁচ মিনিট সময় চেয়েছিলেন, কিন্তু সেটা খুব দ্রুতই পেরিয়ে গেল। চকোলেট দুজনেরই খুব পছন্দের জিনিস ছিল। চকোলেট খেতে খেতে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনার পরে রাজীব গান্ধী মি. সেশনকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ গ্রহণের জন্য সম্মতি দিতে বলেন। মি. সেশন রাজীব গান্ধীর এই সিদ্ধান্তে খুব একটা খুশি হন নি।
দরজার দিকে অতিথিকে এগিয়ে দিতে গিয়ে রাজীব গান্ধী বলেছিলেন, “দাড়িওয়ালা কিছুদিন পরে সেই দিনটাকে দোষ দেবে, যেদিন তিনি আপনাকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।” দাড়িওয়ালা বলতে মি. গান্ধী সেই সময়কার প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখরকে বুঝিয়েছিলেন।
তাঁর অধীনেই (১৯৯০ থেকে ১৯৯৬) ভারতের নির্বাচনের সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন আসে৷ তামিলনাড়ুর এই সাবেক প্রশাসনিক ক্যাডারকে অনেকে ‘চেঞ্জমেকার’ বা পরিবর্তনের রূপকার হিসেবে চেনেন৷ সেশনের নেতৃত্বে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আসে স্বচ্ছতা, করা হয় নির্বাচনী আইনের ব্যাপক সংস্কার৷ আমলাতান্ত্রিকতা ও রাজনীতিকদের একাধিপত্য থেকে মুক্ত করেছিলেন তিনি ভারতের নির্বাচনকে৷ পুলিশ-প্রশাসনের ওপর ক্ষমতা ধরে রেখে আইন শৃঙ্খলা ও গণতন্ত্রের রক্ষায় নামেন৷ টি এন সেশনের হাত ধরেই ভারতে শুরু হয় ভোটার পরিচয়পত্রের প্রচলন-দুর্নীতিমুক্ত হয় বিশাল ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা৷ তিরুনেল্লাই নারায়ন আইয়ার সেশন। সংক্ষেপে টি এন সেশন। চেয়ারে বসেই তিনি দেশকে প্রথমেই জানালেন নির্বাচন আচরণবিধি। নতুন কিছু যে করলেন তা নয়! কিন্তু তার প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে মানুষকে সচেতন করা ও মিডিয়ার মাধ্যমে সর্বজনের গোচরে আনার প্রাথমিক কাজটাই করলেন সেশন। রাজনৈতিক দলগুলিকে বোঝালেন কড়াভাবেই। আর জনগণের উদ্দেশে প্রচার করলেন: ভোট কোনও উৎসব নয়, আপনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাবার পদ্ধতি। অফিসে তাঁর মন্ত্র ছিল, ‘Zero delay, zero deficiency’।
তখন সংবাদের শিরোনামে রোজ তাঁর নাম। তাঁর সরাসরি কথা বলার সাহস, বাকপটুতা, ক্ষুরধার ব্যঙ্গ তখন ট্রামে-বাসে-ট্রেনের আলোচনার বিষয়। রাজনৈতিক দলগুলি ক্রমশই খাপ্পা তাঁর আচরণে। আর সেশনের সেই মহান উক্তি, ‘আমি একটি ফুটবলের মতো। যত জোরে লাথি মারবে তত জোরে ঠিকরে আসব’। তাইই ঘটেছিল বাস্তবে। তিনি এবং তাঁর অফিসাররা গোটা দেশের জেলায় জেলায় প্রশাসনিক সভা করলেন। প্রশাসনের যেসব আধিকারিকরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাঁদের বোঝালেন স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা। তিনিই প্রথম হাত দিলেন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে খরচ বেঁধে দেওয়ার প্রয়োগবিধি। সে ক্ষেত্রেও সংবাদ শিরোনামে ছিল তাঁর সেই অসামান্য উক্তি: ‘তু চিজ বড়ি হ্যায় ভ্রষ্ট্ ভ্রষ্ট্’। চটুল হিন্দি সিনেমার গান থেকে সংলাপ উঠে আসত তাঁর কথায়। আর রেভিনিউ সার্ভিসের দক্ষ অফিসারদের নিয়োগ করলেন দেশব্যাপী। রাজনৈতিক দলের প্রতিটি প্রার্থী তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে খরচ করার সীমা বেঁধে দেওয়াই শুধু নয়, সেই খরচের সরকারি হিসেব রাখা এবং রাখলেন পুঙ্খানুপুঙ্খ নজরদারি। নির্বাচনের সময় নানারকম টাকা-মদ-উপহার বিলি, যথেচ্ছ গাড়ির ব্যবহার আর মুড়ি-মুরকির মতো টাকা ওড়াবার প্রথা ছিল দেশের প্রায় সব গ্রাম ও অনুন্নত অঞ্চলগুলিতে। কড়া পর্যবেক্ষণ আর কড়া শাস্তির দাওয়াই চালু হল। তিনিই প্রথম চালু করলেন ভিডিওগ্রাফি করে রাখার পদ্বতি। সমস্ত মিটিং, উত্তেজনাপ্রবণ বুথে ভোট গ্রহণ এবং নির্বাচনের সমস্ত ধাপগুলি ভিডিওগ্রাফ করে সংগ্রহে রাখার প্রচলন শুরু করলেন। ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক দলগুলি। মডেল কোড অব কন্ডাক্টে লিখিত প্রতিটি আদেশনামা প্রয়োগ করলেন দেশের কোণে কোণে।
ভোটার আইডি কার্ড। ভারতের নির্বাচন ইতিহাসে একটি মাইল-ফলক। নির্বাচন কমিশনারের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার পরেই মি. সেশন নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং ভোটারদের নির্দ্দিষ্ট পরিচয়পত্র তৈরি করার ওপর জোর দিলেন। তার সঙ্গে ছিল নির্বাচন কেন্দ্র পুনর্গঠন (Delimitation) এবং ভোটার তালিকা ঝাড়াই-বাছাই। বাধাদান ও আপত্তি এসেছিল সব রাজনৈতিক স্তর থেকেই। প্রশ্ন তোলা হয়েছিল এই গরিব দেশে এই কাজে অনর্থক অর্থ অপচয় করছেন সেশন। আর এই অর্থ অপচয়ের অপবাদকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল সবকটি দল। যখন সেশন ঘোষণা করলেন, ভারতের সকল ভোটারদের জন্য ছবিসহ ভোটার পরিচয়পত্র তৈরি করতে হবে সরকারকে। আর তা হবে নির্বাচন কমিশনারের তত্ত্বাবধানে।
১৯৯৩ সালের ২রা অগাস্ট টি এন সেশন একটা ১৭ পাতার নির্দেশ জারি করে। লেখা হয়, যতদিন না নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাকে সরকার মান্যতা দিচ্ছে, ততদিন দেশে কোনও নির্বাচন হবে না। ভারত সরকারের নিজেই এমন কিছু প্রথা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে নির্বাচন কমিশন তার নিজের সাংবিধানিক কর্তব্য পালন করতে অসমর্থ হচ্ছে। তাই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কমিশনের অধীনে যত নির্বাচন হওয়ার কথা, সেই সব ভোট প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত, ওই আদেশে লিখেছিলেন মি. সেশন।
আঠারো মাস কেটে গেল সরকার ভোটার পরিচয়পত্র নিয়ে কোনও আইন প্রণয়ন করল না। সরকারের কোনও গরজ লক্ষ্য করলেন না সেশন। কোনও রাজনৈতিক দলেরও কোনও গরজ দেখা গেল না। অবশেষে সেশনের ঘোষণা, ‘…if voter identity cards were not issued, no election would be held after January 1, 1995.’ তাই করলেন তিনি। দেশের নানা প্রান্তে বিধানসভা ও লোকসভার উপনির্বাচনগুলি আটকে রইল। সেশন অনড়। শেষ পর্যন্ত আবার সুপ্রিম কোর্টে গেল বিষয়টি। নির্বাচন বন্ধ রাখা যায় না। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিল সেশনের EPIC বা Electoral Photo Identity Card-এর পক্ষে। দেশজুড়ে শুরু হল ভোটার আইডি কার্ড তৈরির ধুম। বুথে বুথে লাইন। ছবি উঠছে একের পর এক ভোটারদের। কর্মযজ্ঞ। ভোটার কার্ড। ১৯৯৬ সালে সেশনের মেয়াদ উত্তীর্ণের আগেই ভারতের প্রায় দু’কোটি ভোটারের ভোটার কার্ডের কাজ শেষ করেছিলেন সেশন। তারপর তো ইতিহাস। আধার কার্ড আসার আগে ভোটার কার্ড ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকত্বের প্রমাণ। এখনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৩২ সালের ডিসেম্বর মাসে কেরলের পলাক্কড় জেলার তিরুনেল্লাইয়ে জন্ম তিরুনেল্লাই নারায়ণ আইয়ার শেষনের। পদার্থবিদ্যার স্নাতক সেশন এক সময়ে কাজ করতেন মাদ্রাজ খ্রিস্টান কলেজে। ১৯৫৫ সালে যোগ দেন সিভিল সার্ভিসে। পরে এডওয়ার্ড ম্যাসন ফেলোশিপ পেয়ে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন প্রশাসন সম্পর্কে। প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য পেয়েছিলেন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার আগে ক্যাবিনেট সচিবের দায়িত্ব সামলেছেন সেশন। কিন্তু স্মরণীয় হয়ে আছে ১৯৯০ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তাঁর কার্যকালই। সেশনকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন না পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসুও। ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে সচিত্র পরিচয়পত্র চালু না হলে, ভোট করতে দেবেন না বলে জানিয়েছিলেন সেশন। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জ্যোতিবাবু বলেছিলেন, ‘‘আমাদের দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে এক জন পাগল বসে রয়েছেন বলেই যত সব ঝামেলা হচ্ছে।’’
‘সেশন বনাম নেশন’। এক সময়ে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশন সম্পর্কে এমনই স্লোগান দিতেন রাজনীতিকদের একাংশ। মি. সেশনের পরবর্তী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এম এস গিল, এক সাক্ষাৎকারে বলছেন, মি. সেশনের সব থেকে বড় অবদান এটাই যে তিনি নির্বাচন কমিশনকে ‘সেন্টর স্টেজে’ নিয়ে এসেছিলেন। তার আগে কেউ তো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নামই জানত না। আর প্রত্যেকেই নির্বাচন কমিশনকে হেলাফেলা করে চলতো। বলা হয়ে থাকে টি এন সেশনই ভারতের নির্বাচন কমিশনকে বলতে গেলে তার সংবিধান স্বীকৃত স্থানে বসিয়ে গেছেন। এখন যে ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটের ব্যাপারে যে কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তা মি. শেষনের আমল থেকেই শুরু হয়।
সূত্র্র : ইন্টারনেট
কাজলদিঘি পীর সাহেবের থান এর আপডেট দিবেন না?
কাজলদিঘি পীর সাহেবের থান এর ২৪০ কিস্তির পর আর আপডেট দিবেন না?