কলকাতা পুরসভার টক টু মেয়র অনুষ্ঠানের শেষে রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র কলবাসীবাসী তথা রাজ্যবাসীর কাছে অনুরোধ রাখেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সকলকে বুস্টার ডোজ নিতে। ২২ জুলাই তিনি জানান, ‘সামনেই দুর্গাপুজো। এই পুজোকে সাফল্য মণ্ডিত করার জন্য সকলকে করোনার বুস্টার ডোজ নেবার অনুরোধ করছি। কলকাতা পুরসভা বেশ কিছু জায়গা থেকে বিনামূল্যে এই পরিষেবা দিচ্ছে। আপনারা সকলে বাড়ির কাছাকাছি সেন্টারে এসে বুস্টার নিন।কলকাতার বাইরে থেকেও আসলেও আমরা বুস্টার দিয়ে দেব। ক্লাব সংগঠন বা হাউজিং কমিটির কাছে অনুরোধ করছি, তাঁরা যদি ক্যাম্প করতে চায়, তাহলে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে বুস্টার পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে সেক্ষেত্রে গ্রহৃতার সংখ্যা কমপক্ষে ১০০ জন হতে হবে এবং উক্ত জায়গায় এসি ও নেট কানেক্সান থাকতে হবে। কেউ আগ্রহী হলে কলকাতা পুরসভার সিএমএইচও-কে বা আমার অফিসে জানান। আমরা তাঁদের কাছে নির্দিষ্ট দিনে পোঁছে যাব ও ক্যাম্প করব।
স্কুলের শিশুদেরও আমরা বুস্টার দিচ্ছি। এই বছর সেপ্টেম্বরের শেষ দিন (৩০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বিনামূল্যে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে। এর পর নিতি হলে মানুষকে বেসরকারী সংস্থা থেকে টাকা দিয়ে নিতে হবে। তাই আমরা চাই সেপ্টেম্বরের মধ্যে সকল কলকাতাবাসীকে বুস্টার দিয়ে দিতে। এই মুহূর্তে বুস্টার প্রদান। আমার কাছে সব থেকে বেশি প্রায়রিটি। এখনও পর্যন্ত বুস্টার ডোজ নেবার ক্ষেত্রে কলকাতায় ভালোই সাড়া পাওয়া যাচ্ছ। দৈনিক প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বুস্টার নিচ্ছেন। আজ পর্যন্ত ২৫ লাখ মানুষকে কলকাতা পুরসভা বুস্টার ডোজ বিনামূল্যে দিয়েছে। কলকাতার লোক সংখ্যা প্রায় ১ কোটি। বাকী নাগরিকদেরও আমরা বুস্টারের আওতায় আনতে চাই।

বাড়িতে অসুস্থ ও বয়স্ক কেউ থাকলে এবং সেই বাড়ির অন্য সকল সদস্যের বুস্টার নেওয়া হয়ে গেলে আমরা উক্ত অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসকের উপস্থিতিতে তাঁর বাড়িতে গিয়েও বুস্টার দিয়ে আসব। প্রথম ও দ্বিতীয় ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও আমরা কিছু ক্ষেত্রে তাই করেছিলাম। বুস্টার ডোজ নেবার পরে একজনও করোনায় ভয়াবহ অসুস্থ হয়ে যাননি বা করোনা বুস্টার ডোজ নেওয়া ব্যক্তিকে মৃত্যু মুখে ফেলতে পারেনি। মার্কেটের মধ্যেও যদি কোনো জায়গায় নেট কানেক্সানের ব্যবস্থা থাকে তাহলে সেখানে গিয়েও আমরা বুস্টার দেব। ৮ আগস্ট চেতলাতে একটি মহিলা সংগঠন ক্যাম্প করতে চাইছে। আমি সিএমএইচও কে বলে তার ব্যবস্থা করব।’
প্রসঙ্গত, শুধু কলকাতাবাসী নয়, যে কোনো ভারতবাসী তাঁর আধার কার্ড ও ফোন নম্বর নিয়ে এলে কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও মেগা সেন্টার থেকে কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাক্সিন পাওয়া যাচ্ছে। তবে পৃথক পৃথক সেন্টারে পৃথক ডোজ মিলছে। আগামী দিনে ক্যাম্পের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতামত বুস্টার নিলে আসন্ন দুর্গোৎসবে করোনাকে হারানো সম্ভব হবে।