আজ থেকে ৩ বছর আগে ২০১৯ সালের জুলাই মাসেই প্রথম শুরু হয়েছিল টক টু মেয়র অনুষ্ঠানটি। এখনও তা জনপ্রিয়তার শীর্ষস্থানে আছে। ১৬ জুলাই ২০২২ শনিবার ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিমকে এক সহনাগরিক সাজেসান দেন মিড ডে মিলের বিষয়ে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম ফোনের ওপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির কথা শুনতে শুনতেই সিদ্ধান্ত নিলেন উক্ত বিষয়টির ক্ষেত্রে। বিষয়টি কী? কলকাতা পুরসভার এক বাসিন্দা টক টু মেয়রে ফোন করে জানান, মিড ডে মিলের প্রতি পড়ুয়াদের যাতে বেশি আকর্ষণ সৃষ্টি হয় তার জন্য খাবারকে একদিকে যেমন গুণমাণে পরিপূর্ণ হতে হবে অন্যদিকে স্বাদেও ভালো হতে হবে। এর ফলে পড়ুয়াদের স্কুলে যাবার আগ্রহ বাড়বে বলে উক্ত ব্যক্তি তাঁর অভিমত জানান। মেয়র ফিরহাদ হাকিম বিষয়টি অনুধাবন করে ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা শিক্ষা বিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপণ সাহার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন পৌর প্রাথমিক স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল প্রথম টেস্ট করবেন উক্ত স্কুলের কোন মাস্টারমশাই বা দিদিমণি। তার পর তাঁরা খাবারের মাণ ও স্বাদ কেমন তা নির্ণয় করে খাতায় লিখবেন ও স্বাক্ষর করবেন। এর পর সেই খাবার পড়ুয়াদের দেওয়া হবে।

এটা তো গেল শুধু একটা উদাহরণ। এই রকম অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়, যা মেয়র ফিরহাদ হাকিম টক টু মেয়রে শুনে সঙ্গে সঙ্গে দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা নিচ্ছেন। এর ফলে উপকৃত হচ্ছেন কলকাতাবাসী। শুধু অভিযোগ নয়, অনেকে ফোন করছেন মেয়রকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য। আসলে সরাসরি নাগরিকদের সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন মেয়র ফিরহাদ হাকিমই প্রথম শুরু করেন এই কর্মসূচি। বর্তমানে এই অনুষ্ঠানটি যথেষ্ট সাফল্য লাভ করেছে। রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি, জন্ম-মৃত্যুর সংসাপত্র, আলো, শিক্ষা, উদ্যান — কলকাতা পুরসভার সব পরিষেবার ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে মেয়র তক্ষনাৎ পদক্ষেপ নিয়ে কলকাতাবাসীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এর ফলে পুরসভায় কাজের গতি বেড়েছে বিপুল পরিমাণে। শুধু কলকাতা নয়, সারা রাজ্য থেকে মানুষ ফোন করছেন টক টু মেয়রে। কিন্তু যেহেতু এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বা পরামর্শের কথা মাথায় রেখে তাই শহরের বাইরের ফোন অনেক সময়ই সময়ঘটিত কারণে শুনে সমাধান করতে পারছেন না মেয়র। তবে তাতে জনগণের হতোদ্দম হবার কারণ নেই কারণ শহর কলকাতার সমস্যা না হলেও মেয়র ফিরহাদ হাকিম সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হোয়াসট অ্যাপ নম্বরে সমস্যাটি জানাতে বলছেন। নম্বরটি হলো ৯৮৩০০৩৭৪৯৩। এই নম্বরের মাধ্যমে সরাসরি নাগরিকরা তাঁদের সমস্যার কথা মেয়রকে জানাতে পারছেন। তবে যেহেতু এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নম্বর তাই নাগরিকদের কাছে আবেদন রাখা হচ্ছে অযথা এই নম্বরে শুপ্রভাত বা শুভরাত্রীর মতো মেসেজ না পাঠাতে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১ জুলাই প্রথম শুরু হয়েছিল টক টু মেয়র কর্মসূচি। এমন কর্মসূচি যে সাফল্যের সঙ্গে করা যায়, সেটা বাস্তবায়িত না হলে অনেকে বিশ্বাসই করতেন না। কিন্তু বিগত ৩ বছর ধরে সেটাই সম্ভব হচ্ছে কলকাতা পুরসভায়। রাজ্যের মন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল কিছু কিছু বিষয়ে সরাসরি মেয়রের সঙ্গে কথা বলতে পারলে নাগরিকদের অনেক সুবিধা হতে পারে। বিশেষ করে যে বিষয় কিছুটা জটিলতা প্রাপ্ত হয়েছে, বা সর্বচ্চো স্তরের হস্তক্ষেপ দরকার — সেই সব বিষয়গুলিতে নাগরিকরা অনেক সময়ই প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। এই সব কথা ভেবেই মেয়র ফিরহাদ হাকিম টক টু মেয়র অনুষ্ঠানটি চালু করেছিলেন ৩ বছর আগে। এখন এই অনুষ্ঠানটি প্রতি শনিবার দুপুর ১টা থেকে ২টো পর্যন্ত চলে।