কলকাতা থেকে ৫৮ কিলোমিটার দূরে তারকেশ্বর কেবল হুগলী জেলারই নয় এই বাংলার একটি প্রসিদ্ধ হিন্দু তীর্থক্ষেত্র। বলা যায় এই রাজ্যের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শিবমন্দির স্থল। তারকেশ্বর শিবের মন্দিরটি এই শহরের প্রধান পর্যটক আকর্ষণ। সারাবছরই তারকেশ্বর মন্দিরে পূণ্যার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। এছাড়া শ্রাবণ মাসে শ্রাবণী মেলাতে প্রচুর জনসমাগম হয়। সমগ্র শ্রাবণ মাস জুড়ে প্রতি সোমবার শিবের বিশেষ পূজা হয়ে থাকে। এছাড়া ফাল্গুন মাসে শিবরাত্রি ও চৈত্র-সংক্রান্তিতে গাজন উৎসবেও বহু মানুষ আসেন। কিন্তু সম্প্রতি এলাকায় মদ, গাঁজা, সাট্টা, লোটো, চরসের ঠেকের রমরমা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে লজে অথিতি শালার নামে দেহ ব্যবসা। এতে ঐতিহ্যবাহী তারকেশ্বরের সংস্কৃতি নষ্ট হচ্ছে, স্থানীয় মানুষদের শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার তাকেশ্বর টাউন যুব তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এলাকায় মদ, গাঁজা, সাট্টা, লোটো, চরসের বিরুদ্ধে শুরু হয় বিশেষ অভিযান। এদিন বিকেলে তারকেশ্বর টাউন যুব তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা ও পুরুষ তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সেই অভিযান করেন টাউন যুব সভাপতি অনুপ পন্ডিত, সহ-সভাপতি রাহুল মুখার্জি, টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি উত্তম ভান্ডারী, তারকেশ্বর পৌরসভার বর্তমান পৌরমণ্ডলের ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীর চন্দ্র, প্রাক্তন কাউন্সিলর পুতুল ভট্টাচার্য্য। এদিন এলাকার বহু মদ, গাঁজা, সাট্টা, লোটোর ঠেকে ও লজে অভিযান চালিয়ে, বিভিন্ন ঠেক বন্ধ করা হয়।

বিপিআর গেট অঞ্চলের একটি লজে লাগিয়ে দেওয়া হয় তালা। অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এখানে দেহ ব্যবসা চলছে। এ বিষয়ে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুপ পণ্ডিত বলেন, মাননীয় বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়ের নির্দেশে এলাকার মানুষের স্বার্থে আমরা আজ পথে নেমেছি, এলাকার সাধারণ মানুষ এই সব নেশা করে সর্বনাশের পথে চলে যাচ্ছে, সাট্টা, লোটো, জুয়া খেলে পথে বসছে এবং লজে অথিতি শালার নামে দেহ ব্যবসা চলছে। তিনি এও জানান, কেবল আজ নয়, এই অভিযান এখন লাগাতার চলবে।