| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

মতলববাজ মিডিয়ার সঙ্গী টাউট তাসনিম খলিল : লিখছেন ড. মিল্টন বিশ্বাস

Reporter
ড. মিল্টন বিশ্বাস / ৬০২ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

১ ফেব্রুয়ারিতে (২০২১) আল জাজিরা টেলিভিশনে বাংলাদেশ বিরোধী প্রতিবেদন সম্প্রচার হওয়ার পর সুইডেন প্রবাসী নেত্র নিউজের সম্পাদক ৩৯ বছর বয়সী তাসনিম খলিলের নামটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। কেবল এই খলের খলামি নয় তার সঙ্গে ডেভিড বার্গম্যান ও সামিউলসহ অন্যান্য কুশিলবদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে ক্রমান্বয়ে।ইতোমধ্যে লন্ডনে অবস্থানরত সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এরা সকলে। অন্যদিকে দেশত্যাগের আগে তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী নানা অপতৎপরতার কথাও প্রকাশ পাচ্ছে বিচিত্রসূত্রে।

স্বঘোষিত নাস্তিক ও বাংলা ভাষার প্রতি বিতশ্রদ্ধ তাসনিম খলিলকে বিশ্ব মিডিয়ায় দেখা গেছে আল জাজিরার মাধ্যমেই। তবে তা সবসময়ই শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচক হিসেবে।এমনকি ২০১৯ সালে আল জাজিরার হেড টু হেড অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভীর বক্তব্যের মধ্যে তার মন্তব্য গ্রহণ করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাংলাদেশকে এক দলীয় রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।এ যাবৎ আল জাজিরা টেলিভিশন বাংলাদেশকে নিয়ে ৩৫টি প্রতিবেদন প্রচার করেছে।তার অধিকাংশই নেতিবাচক সংবাদে ভরপুর ছিল।উপরন্তু তার পিছনে ছিল জামায়াত-বিএনপি’র ইন্ধন এবং বিপুল টাকা খরচের রাজনৈতিক অভিলাষ।২০২১ সালে সেই একই ঘটনার পুনরাবির্ভাব ঘটল তাসনিম খলিল গংদের নেতৃত্বে। আসলে দেশ বিরোধী এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রকারীর নাম তাসনিম খলিল। বিভিন্ন সময়ে বিদেশী স্পাইয়ের কাছে দেশের স্বার্থ সংক্রান্ত নথি বিক্রি করাই তার পেশা।বিগত এক যুগ যাবত বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার যোগসাজশে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে সে।এর উদ্দেশ্য- দেশের ভাবমূর্তিকে বিদেশে নষ্ট করে দেওয়া।তাসনিম খলিল মনে-প্রাণে জামায়াত মতাদর্শে বিশ্বাসী একজন নামসর্বস্ব সাংবাদিক। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক বিএনপি-জামায়াত সরকারের দুর্নীতিবাজ সাবেক কর্মকর্তা শামসুল আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন বিএনপি-জামায়াতের ‘গুজব সেলে’র পেইড কর্মী হয়ে কাজ করছে সে।তার মূল কাজ হলো, প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরিতে উসকানি দেওয়া।২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ডেইলি স্টার পত্রিকায় চাকরিতে ছিল সে।কিন্তু বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও পক্ষপাতমূলক সংবাদের কারণে ডেইলি স্টার থেকে তাকে পদচ্যুত করা হয়।

এরপর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এ চাকরি করা অবস্থায় বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ বিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে উঠে। পরবর্তীতে ভিনদেশিরা বিপুল পরিমাণে অর্থ সহায়তার প্রলোভন দিলে তাসনিম বাংলাদেশের নানা গোপন নথি দেশবিরোধী শক্তিকে সরবরাহ করে দেয়।বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর, দেশের মাটিতে গাদ্দার হিসেবে পরিচিত হলে আত্মসম্মানের ভয়ে ২০০৭ সালে দেশ ছেড়ে পালাতে হয় তাকে। ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সে দেশের বিরুদ্ধে নানা প্রকারের ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে।সাংবাদিক নাম নিলেও সে আসলে প্রতারক।

এমনকি পারিবারিকভাবেও তাসনিম শেখ হাসিনা বিরোধী শক্তির সঙ্গী। তার বাবা (মৃত) খলিলুর রহমান কাশেমীর ফেসবুক লাইকে রয়েছে, তারেক রহমান, আন্দালীব রহমান পার্থ, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রমুখ সরকারবিরোধী ব্যক্তি।তাসনিমের ভাই মুয়াজ খলিল নাভিদও আওয়ামী লীগ বিরোধী। স্ত্রী শারমিন আফসানা সূচী অতিরিক্ত রোহিঙ্গাপ্রীতি আপত্তিকর হয়ে উঠেছে।বোন লুবাবা নুসরাত খলিল ভাইদের মতাদর্শের সমর্থক। তাসনিমের ঘনিষ্ঠতা ও সম্পৃক্ততা রয়েছে ডেভিড বার্গম্যান, আলী রিয়াজ, শহীদুল আলম, জুলকারনাইন সায়ের খান, সারা হোসেন, আনু মোহাম্মদ, রেহনুমা আহমেদ, ড. ইউনূস, রাষ্ট্র চিন্তা, ইউপিডিএফ, আরসা প্রভৃতি ব্যক্তি ও সংস্থার সঙ্গে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ থেকে জানা গেছে, তাসনিম খলিলের বাবা খলিলুর রহমান কাসেমী বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী বামপন্থীদের চরমপন্থী অংশের রাজনীতিতে যুক্ত হন।১৯৭৪ সালে কাসেমী ‘সমীকরণ’ নামে সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেন যা ৯০ এর দশক পর্যন্ত চলে। নিজেকে সম্পাদক ঘোষণা করে তিনি ‘জনধারা’ নামের একটি দৈনিক পত্রিকা বের করার চেষ্টা করলে তা আর কখনো আলোর মুখ দেখেনি। তিনি কিংশুক মুদ্রায়ন নামে একটি ছাপাখানাকে অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে জানা যায়। জামায়াতপন্থী কবি বলে পরিচিত কবি আল-মাহমুদের সাথে তাসনিম খলিলের বাবা খলিলুর রহমান কাসেমীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিলো। কাসেমীর ফেসবুক লাইক লিস্টে বিএনপি-জামায়াতপন্থী বেশ কিছু নেতার পেইজ রয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, মানবকন্ঠে প্রকাশিত- ‘বিতর্কিত ৩ চরিত্র ও জোড়াতালি’ ষড়যন্ত্র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আল-বদর সদস্য ছিলেন। ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ক্যান্সার, কিডনী সমস্যায় ভুগে খলিলুর রহমান কাসেমী মৃত্যুবরণ করলে জামায়াতপন্থী বলে পরিচিত নয়া দিগন্ত, বিএনপিপন্থী বলে পরিচিত দৈনিক মানবজমিন ও যুগান্তর পত্রিকায় শোক সংবাদ প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ তিনি তীব্রভাবে আওয়ামী লীগ বিরোধী এবং বিএনপি-জামায়াত মতাদর্শের ছিলেন এটি নিঃসন্দেহে প্রতীয়মান হয়।

এই ব্যক্তির সন্তান তাসনিম খলিল আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ বিরোধী হবে- এটাই স্বাভাবিক। ২০০৪ সালে নিউজএজ পত্রিকায় ফিচার লেখক হিসেবে কর্মরত ছিল সে। মূলত ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি পায় তখন।২০০৬ সালে ডেইলি স্টার পত্রিকায় জুনিয়র সাংবাদিক হিসেবে কাজ করে তাসনিম, একই সময় সিএনএন সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করে।২০০৭ সালে রাষ্ট্রীয় মদদে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি জোরালো করা হচ্ছে এবং কাদিয়ানী বিরোধী গোষ্ঠীকে গোয়েন্দা সংস্থা উস্কানি ও অর্থের যোগান দিচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে আটক হয় তাসনিম খলিল। ২২ ঘণ্টা আটকের পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপরই সে সস্ত্রীক সুইডেন চলে যায় এবং রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে। ২০১৯ থেকে নিজেকে বাবার মতোই সম্পাদক ঘোষণা করে একটি অনলাইন পত্রিকা ‘‘নেত্র নিউজ’’ নামে প্রচার করে তাসনিম খলিল। নিউজ পোর্টাল নাম হলেও নিয়মিত কোনো সংবাদ এখানে প্রকাশিত হয় না। মূলত এজেন্ডা ভিত্তিক প্রচারে ব্যবহৃত হয় পোর্টালটি।

সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক আনোয়ার কবিরের সূত্রে জানা যায়, ২০০৬-০৭ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য কাজ করছে এমন কিছু সাংবাদিকের সাথে কাজ করতে তাসনিম খলিলকে দেখা গিয়েছিলো। বিভিন্ন সময় তাসনিম খলিলের প্রতিবেদন এখনও সেই লক্ষ্যেই প্রচারিত। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কার্যক্রমকে বিকৃতভাবে বহিঃবিশ্বে তুলে ধরে সে।পাহাড়ের বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে এবং তাদের প্রপাগান্ডা টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাসনিম খলিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এমন সব অপপ্রচারে নিয়মিত লিপ্ত তাসনিম খলিল।

এজেন্ডা ভিত্তিক সাংবাদিকতায় নিয়োজিত তাসনিম আসলে জন্মভূমির প্রতি অকৃতজ্ঞ। এমনকি বাংলা ভাষা ভুলে যাওয়ায় গৌরব অনুভব করে সে। মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্যের এই অংশটি স্মরণ করা যায়- ‘যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।/সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি॥’ প্রকৃতপক্ষে তাসনিমের জন্ম নির্ণয় করা সহজ। সে বাংলা ভাষা বিরোধী, সে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী ‘জারজ সন্তান’।

তাসনিম খলিল বিভিন্ন অন-লাইন টক-শোতে নাস্তিকতা, সমকামিতার পক্ষে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি তীব্রভাবে আওয়ামী লীগ বিরোধী অপপ্রচার চালায়।তার অপপ্রচারের কয়েকটি দৃষ্টান্ত এরকম- ‘‘বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের জেলে বন্দি ছিলেন; তাই তিনি নন তাজউদ্দীনই মূলত মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। রক্ষী বাহিনী ও আল-বদর একই আদলে গড়া। র‌্যাবের কালো পোশাক এসেছে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পোশাকের রঙ থেকে। বাংলাদেশের সব সন্ত্রাসী ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি এবং ‘র’ এর  আশ্রয়ে থাকে। ডিজিএফআই পাকিস্তানি আইএসআইএর আদলে গঠিত ও পরিচালিত। এমনকি, করোনা মোকাবেলার শুরুর দিকে তাসনিম দাবি করে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে, ২০-৩০ লাখ লোক মরে যাবে। বাংলাদেশের সেনা বাহিনী ইসরাইলের তৈরি নজরদারী যন্ত্র কিনেছে’’ প্রভৃতি। এসব অপপ্রচারের প্রতিটিরই জবাব আছে এবং বিষয়গুলো মীমাংসিত। কারো বুঝতে অসুবিধা হবে না যে, কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরার সাথে সমান্তরালভাবে বাংলাদেশবিরোধী অপতৎপরতা চালাচ্ছে নেত্র নিউজের সম্পাদক তাসনিম খলিল। ২০০৭ সালের ৬ জুন স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ ছেড়ে ইউরোপে চলে যাওয়া তাসনিম খলিলের টার্গেট বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার, সেনাবাহিনী, পুলিশ-প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ।

এরই মধ্যে আল জাজিরায় প্রচারিত বিতর্কিত প্রতিবেদনের পক্ষে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাসনিম। ‘‘সেনাসদরের দাবি প্রত্যাখান, জাতিসংঘের দুর্নীতির তদন্তের আহ্বান’’- শিরোনামে নেত্র নিউজের প্রতিবেদনটি লক্ষ্য করলে পাঠক সহজেই বাংলাদেশের গৌরবময় সেনাবাহিনীর প্রশংসিত কাজের বিরুদ্ধে তাসনিমের অবস্থান টের পাবেন।আসল তথ্য হলো-জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার মন্তব্যকে নেত্র নিউজ জাতিসংঘের বক্তব্য হিসেবে প্রচার করেছে। জাতিসংঘ কোনো বিষয়ে বক্তব্য দিলে তা তারা বিবৃতি আকারেই প্রকাশ করে। কিন্তু নেত্র নিউজ সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতাকে ডোন্ট কেয়ার করে কর্মকর্তার মন্তব্যকে জাতিসংঘের বক্তব্য হিসেবে প্রচার করেছে। জাতিসংঘের বরাতে অপপ্রচার চালাচ্ছে নেত্র নিউজ। অন্যদিকে ইসরাইলের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আছে- এরকম অসত্য তথ্য প্রতিষ্ঠা করতেও ব্যস্ত নেত্র। সরকারের পক্ষ বিবৃতি দিয়ে ইসরাইলের সাথে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই স্পষ্ট করে বলা হলেও তা মানতে নারাজ নেত্র নিউজ। এই অপকর্মে নেত্র নিউজের তাসনিম খলিলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান, ইউরোপ প্রবাসী পিনাকী ভট্টাচার্য ও সামিউল। এই চক্র কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরায় বিভিন্ন সময় ভূয়া তথ্য দিয়ে এক ডজনেরও বেশি প্রতিবেদন প্রচার করেছে। রাষ্ট্রবিরোধী সংবাদ পরিবেশনের দায়ে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও মিশরে এখনও নিষিদ্ধ আল জাজিরা।

আল জাজিরা টেলিভিশন দুমুখো সাপ। তারা আরবি ভাষায় প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সমকামিতার বিপক্ষে বলে আবার ইংরেজিতে একই বিষয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচারে সমকামিতার পক্ষে মতামত হাজির করে।তাদের সঙ্গী হলো নেত্র নিউজের সম্পাদক তাসনিম খলিল, যে ইউরোপে বসে চালাচ্ছে দেশবিরোধী অপতৎপরতা। সে বাংলাদেশকে মাফিয়া স্টেট বলে। ভিনদেশী শক্তি ও টাকার কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিয়ে তাসনিম খলিল এখন দেশের শত্রু বিভীষণ।তারেক জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত তথা জঙ্গিগোষ্ঠীর পক্ষে নৃত্য করছে সে। আর বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে অঢেল অর্থদাতা আল-জাজিরা মিডিয়ার সাজানো প্ল্যাটফর্মে টাউট তাসনিম খলিলের নাম অক্ষয় হয়ে থাকল।এদেশবাসীর কাছে তার জন্মের ঠিকানা অজানা।তার এজেন্ডাভিত্তিক সাংবাদিকতা কখনই সফল হবার নয়।

লেখক : ড. মিল্টন বিশ্বাস,  ইউজিসি পোস্ট ডক ফেলো এবং বিশিষ্ট লেখক, কবি, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এবং অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, email-drmiltonbiswas1971@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev