কেন জানিনা রাউতারার এই অনুপম (অতীতে) রথটি দেখতে গিয়ে আমার বারবার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত কবিতার লাইনটি মনে পরছিল….কেউ কথা রাখেনি….। রাউতারা আর ঝিকিড়া। মন্দিরময় দুই গ্রাম হাওড়ার গর্ব। এখানকার জমিদার রায় পরিবার ছিল জেলার অন্যতম প্রাচীন ও বিখ্যাত পরিবার। এনাদের বিশাল বাড়ী আজও তার সাক্ষী দেয়। অন্যান্য বর্ধিষ্ণু পরিবারের মতন এই পরিবারেও একসময় দোল দুর্গোৎসব আর রথযাত্রা শুরু হয়েছিল।

সময়টা ইংরেজীর ১৮৫৩ সাল। জমিদার রাম চৌধুরী রায় তৈরী করালেন পঞ্চরত্ন শৈলীর দারু নির্মিত এই তিনতলা রথ যার সারা গায়ে শিল্প নৈপুন্যের ছোয়ায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে কৃষ্ণলীলা। এর পর কেটে গেছে প্রায় ১৭০ বছর। এক সময় সারা রাজ্যের মতোই রাউতারাতেও জমিদারী বিলুপ্ত হলো। খর্ব হলো রথযাত্রার আড়ম্বর। ধিরে ধিরে একসময় আর্থিক অনিশচয়তার জন্য রথযাত্রার অনুষ্টান বন্ধ হয়ে যায়। পরিত্যক্ত হয় রথটি।

ভাবুন শতাব্দী প্রাচীন রথ যা বাংলার দারু তক্ষন শিল্পের এক অনুপম নিদর্শন হয়ে সংরক্ষিত হতে পারতো তার স্থান হলো উন্মুক্ত আকাশ। বছরের পর বছর ঝড় জল আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করতে করতে ঝোপ জঙ্গলে ঢেকে যায় সারা রথ। খসে পরতে থাকে অপুর্ব কৃষ্ণেলীলার কাজ আর বিবর্ন হতে থাকে সারা দেওয়াল জোড়া রঙিন ফ্রেসকোগুলি। যদিও প্রাচীন রথটি একাধিক বার সংস্কার হয়েছে।

প্রথমে ১৯২৮ সালে ও দ্বীতীয় বার ১৯৮১ সালে। এই সব সাল তারিখ ওই রথের গায়েই লেখা আছে। এবার আর সেরকম কেউ এগিয়ে এলো না। সীমাহীন অবহেলা আর ঔদাসিন্যর চিহ্ন নিয়ে যা আজ চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। এই এখনও যদি এটির পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়, হয়তো এটি বাঁচানো যেতেও পারে। এলাকাটি আমতা ২ ব্লকের অন্তর্গত।