| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১০১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৩৫৬ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

[এই কিস্তিতে হেস্টিংসের তৈরি ১৭৭৬এর কমিশনের কথা বলা হয়েছে, যা উপনিবেশিক ইতিহাসে আমিনি কমিশন নামে খ্যাত। সেই সময়ের কর্মকাণ্ড আরও গভীরে বুঝতে বাংলাপিডিয়া সূত্রে আমিনি কমিশন নিয়ে একটি ছোট নোট দেওয়া গেল।

আমিনি কমিশন ১৭৭৬ – যথাযথ কর ধার্যের সুবিধার্থে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতের ভূ-সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণের জন্য কমিশন গঠন করেন। করদাতা কৃষকদের মধ্যে নিলাম ডাকের ভিত্তিতে বিদ্যমান পাঁচসনা বন্দোবস্তের (১৭৭২-১৭৭৬) বদলে ১৭৭৭ থেকে একটি নতুন বন্দোবস্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। ওয়ারেন হেস্টিংস ভূ-সম্পত্তি জরিপ (যাকে বলা হয় ‘আমিনি’) করার জন্য একটি কর কমিশন গঠন এবং পরবর্তী বন্দোবস্তের জন্য ভূমির যথাযথ কর নির্ণয়ের সুপারিশ করেন। চুক্তিভিত্তিক দুজন কর্মকর্তা এবং একজন স্থানীয় দেওয়ান সমন্বয়ে এই কমিশন গঠিত হয়। চুক্তিভিত্তিক দুই কর্মকর্তা ডেভিড অ্যান্ডারসন এবং জর্জ বোগলে কমিশনার হিসেবে এবং দেওয়ান গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ পেশকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গভর্নর জেনারেল ও কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যগণ কর নির্ণয়ে একটি স্থিরমূল্য-হিসাব নির্ধারণের বিষয়ে একমত হন, যাতে নমুনামাফিক কিছু কাট-ছাঁটের পর তা স্থায়ী কর আরোপণ পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এ লক্ষ্য অর্জনে কমিশনকে বাস্তবসম্মত কর্মপরামর্শ প্রণয়ন করতে বলা হয়। আমিনি কমিশন নিম্নোক্ত সুপারিশ ও মন্তব্য পেশ করে: (১) জমিদারদের অনাদায়ি কর পরিশোধে অনীহার কারণে কর মওকুফযোগ্য হবে না; (২) একটি কর বিলুপ্ত হলে আরেকটি কর সৃষ্টি হয়; ফলত কর ছাঁটাই কিংবা কর বিলোপ কোনোটাই রায়তদের জন্য সুফলদায়ক হয় না; (৩) নদী, নতুন হাট-বাজার পার্শ্ববর্তী জমিদারের হাতে বেদখল হওয়ার অজুহাতে কর হ্রাসের দাবি সমর্থনযোগ্য নয়; (৪) স্থানীয় বিষয়-আশয় সম্পর্কে সরকারি উদাসীনতার সুযোগে জমিদাররা অকল্পনীয় পরিমাণে জমিজমা আলাদা করে নিয়েছে; (৫) কোম্পানির দেওয়ানির ধারণার চেয়ে কর পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আমিনি কমিশন রিপোর্ট নিয়ে কাউন্সিল সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক হয় এবং চূড়ান্ত বন্দোবস্ত প্রস্তুত করার আগে আরও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য কোর্ট অব ডিরেক্টরস-এর কাছে এক বা তিন বছরের জন্য মেয়াদি বন্দোবস্ত প্রদানের সুপারিশ করা হয়। এ রিপোর্টের কপি গভর্নর জেনারেলের সমর্থন ও সুপারিশসহ কোর্ট অব ডিরেক্টরস-এর কাছে পাঠানো হয়। ‘কোর্ট’ জমিদারদের সঙ্গে এক থেকে তিন বছরের একটি বন্দোবস্ত করার জন্য কলকাতা সরকারকে নির্দেশ দেয়। [সিরাজুল ইসলাম] সূত্র —

(https://bn.banglapedia.org/index.php?title=আমিনি_কমিশন_১৭৭৬)

কৃষ্ণনগরে সার্কিট কমিটির কার্যবিবরণী বিশেষ গুরুত্ব বহন করে; কারণ গভর্নরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সেখানে যা কিছু করা হয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি “পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করা, যার ভিত্তিতে সমগ্র প্রদেশের রাজস্ব বন্দোবস্ত গড়ে তোলা হবে (an idea of the plan on which the settlement of the whole province will be formed)।” সম্ভাব্য ইজারাদারদের (ফারমার) থেকে প্রস্তাব আহ্বান জানিয়ে প্রকাশিত জনবিজ্ঞপ্তির জবাবে বেশ কিছু প্রস্তাব জমা পড়ল; কিন্তু কমিটি দেখতে পায় যে, এই প্রস্তাবগুলো “এতই অস্পষ্ট ও অনিশ্চিত ভাষায় বলা হয়েছে এবং গঠনশৈলীর দিক থেকে একে অপরের চেয়ে এতটাই ভিন্ন ছিল যে, সেগুলোর মধ্যে কোনো তুলনা করা কিংবা প্রতিটি প্রস্তাবের আনুপাতিক মূল্য নির্ধারণ করা অসম্ভব ছিল। আর যে অতি সামান্য কয়েকটি প্রস্তাব বোধগম্য হল, সেগুলোর শর্তগুলো ছিল অত্যন্ত নগণ্য ও লোকসানদায়ক (disadvantageous)।” নিজেদের মূল অভিপ্রায়ের পরিপন্থী হলেও, কমিটি শেষ পর্যন্ত একটি প্রকাশ্য নিলামের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তা করার পূর্বে, তাঁরা “রাজস্ব সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ও জটিল খাতগুলোর একটি সম্পূর্ণ নতুন ‘হস্তবুদ’ বা বিশদ বিবরণী [হস্তবুদ – হাতে যা আছে। জমির ‘জমা-খরচ’ বা ‘আসল বা প্রকৃত আয়’। জমিদারী বা এস্টেটের মোট জমির সম্ভাব্য বা প্রকৃত আয়ের বিস্তারিত হিসাব। মুর্শিদকুলি খানের আমলে এই প্রথাটি বাংলার ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং বোঝা যাচ্ছে, হেস্টিংসের আমলেও এই জমিদারি প্রথা বোঝা এবং প্রযুক্ত করার যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল – অনুবাদক] প্রণয়নের কাজে হাত দেবেন (an entire new hustabood or explanation of the diverse and complex articles which were to compose the collections)”। এই পর্যালোচনা সূত্রে রাজস্বের সেইসব খাতগুলোর মধ্যে পার্থক্য বোঝার সুযোগ তৈরি হল, যেসব “দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত ছিল এবং রায়তরা (প্রজারা) সানন্দে মেনে নিয়েছিল,” এবং সেইসব খাতের মধ্যে, যেগুলো “রায়তদের অত্যন্ত পীড়াদায়ক মনে হয়েছিল কিংবা যেগুলো অতি সম্প্রতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।” প্রথম শ্রেণীর মধ্যে হেস্টিংস তাঁর ১৭৭২-এর ৩রা নভেম্বরের পত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে উল্লেখ করেছেন: —

১. দেশের অভ্যন্তর দিয়ে জলপথে চলাচলকারী সমস্ত পণ্য এবং জীবনধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর উপর জমিদার এবং ইজারাদারদের যথেচ্ছ চাপানো শুল্ক।

২. বাজি জমা বা জরিমানা, ছোটখাটো অপরাধ বা অসদাচরণের জন্য।

৩. হালদারি — বা বিবাহের ওপর ধার্য কর — ”এই বাবদে সরকারের কোষাগারে অতি নগণ্য রাজস্ব আসত, সেটা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকরও ছিল; এবং এর একমাত্র পরিণতি হতে পারত জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে নিরুৎসাহ করা এবং জনসংখ্যা হ্রাস — যা সর্বকালেই একটি সার্বজনীন গুরুত্বের বিষয়; বিশেষত এই সময়ে এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম, কারণ সাম্প্রতিক দুর্ভিক্ষের ফলে এই ভূখণ্ড অধিবাসীদের এক বিশাল অংশ হারিয়েছিল এবং সেই দুর্ভিক্ষের সাথে যুক্ত হয়েছিল ব্যাপক প্রাণহানি।”

যদিও এমনটি ধারণা করা হচ্ছিল, এই অসাংবিধানিক উপশুল্কগুলো [আবওয়াব – অনুবাদক] লুপ্ত করলে সাময়িকভাবে রাজস্ব হ্রাস পাবে; তা সত্ত্বেও আশা করা হচ্ছিল, যে সব পদক্ষেপ বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে এবং দেশের সার্বিক স্বাচ্ছন্দ্য বিধান করতে প্রণইয়ন করা হয়েছে — কালক্রমে সে সব অত্যন্ত সন্তোষজনক সুফল বয়ে আনবে। (আমরা ১৭৭৬-এর [আমিনি] কমিশনের প্রতিবেদন ছিল এই সদয়ভাবে পরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলে কিছু সম্পূর্ণ নির্দোষ রাজস্বের উৎস, সেইসাথে কিছু ক্ষতিকর ধরনের উৎসও সরকারের হাতছাড়া হয়, এবং রায়তরা লাভবান হননি, জমিদার ইত্যাদিরা কর আদায় অব্যাহত রাখলেও আদায় করা অর্থ রাজকোষে জমা দেননি।)

কমিটি এমন পদক্ষেপও নিয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল “বাসিন্দাদের জমির ওপর শান্তিপূর্ণ দখল নিশ্চিত করা — যতদিন তারা চাষাবাদের শর্তে সেই জমি ভোগদখল করবে।” কৃষকদের অনুকূলে প্রদত্ত ‘আমিলনামা’ বা ইজারা দলিলে রায়তদের (প্রজাদের) ওপর আরোপিত সুনির্দিষ্ট দাবি-দাওয়ার বিবরণ স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকার কথা ছিল; এবং আমিলনামায় উল্লিখিত নয় — এমন কোনো অতিরিক্ত দাবি যদি কৃষকরা করত, তবে তাদের কঠোরতম শাস্তির সম্মুখীন হতে হতো। অন্যদিকে, রায়তদেরও কৃষকদের কাছ থেকে ‘পট্টা’ (বা পাট্টা দলিল) গ্রহণ করার কথা ছিল; এই পট্টাগুলো কমিটির নির্ধারিত ছকে প্রস্তুত করতে হতো এবং তাতে জমির ভোগদখল সংক্রান্ত শর্তাবলি ও রাজস্বের বিভিন্ন খাতের পাওনাগুলো বিশ্বস্ততার সাথে লিপিবদ্ধ থাকত। এছাড়া, জেলার কাছারিগুলোর (রাজস্ব দপ্তরগুলোর) জন্য নিয়মিত বরাদ্দ বা ‘এস্টাবলিশমেন্ট’ (কর্মচারী ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ অর্থ) নির্ধারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের খরচ নির্দিষ্ট ও জানা সীমার মধ্যে নিয়ে আসার পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়।

যখন ইজারা বা ‘ফার্ম’-এর বিক্রয়ের কাজকর্ম চলছিল, ঠিক সেই সময়েই কৃষ্ণনগরের রাজা বা জমিদার সমগ্র জেলার ইজারা গ্রহণের জন্য বিলম্বিত প্রস্তাব পেশ করেন। বিক্রয় কার্যক্রম যতটুকু অগ্রসর হয়েছিল, তা পর্যালোচনা করে দেখা গেল যে — রাজার প্রস্তাবটি ন্যায্য বা যুক্তিসঙ্গত হওয়ার ধারেকাছেও ছিল না; অধিকন্তু, কমিটি মনে করল যে — ইতিমধ্যে গৃহীত অন্যান্য প্রস্তাব মেনে নেওয়ার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব মর্যাদা ও প্রতিশ্রুতি (honour) জড়িয়ে রয়েছে। এই কারণগুলোর পাশাপাশি — ”জমিদারের সুপরিচিত ধূর্ত ও অবিশ্বস্ত চরিত্রের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে” — তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো। তবে এই ঘটনা কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে হেস্টিংসের বিবরণীতে জমিদার ও তালুকদারদের অধিকার প্রসঙ্গে কিছু মন্তব্য করার সুযোগ করে দেয়; পরবর্তীকালে এই বিষয় নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে হেস্টিংসের সেই মন্তব্যগুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

হেস্টিংস উল্লেখ করেন যে, জমিদার ও তালুকদারদের সাথে লেনদেন বা সম্পর্ক স্থাপনের মাত্র দুটি পদ্ধতি বিদ্যমান ছিল:

১. “জমিগুলো ইজারা বা ‘ফার্ম’ হিসেবে প্রদান করা; ইজারাদারদের জমির ওপর পূর্ণ দখল ও কর্তৃত্ব অর্পণ করা; এবং বিনিময়ে ইজারাদারদের বাধ্য করা যেন তারা প্রত্যেক জমিদার বা তালুকদারকে — তাদের নিজেদের ও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য — একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা বা শতকরা হারে অর্থ প্রদান করে।”

২. “জমিদারদের সাথেই সরাসরি ‘কৃষক’ বা ইজারাদারের মর্যাদায় বন্দোবস্ত করা — যাতে তাঁদের ওপর নিম্নলিখিত শর্তাবলি পালন করা বাধ্যতামূলক হয়: প্রথমত, একজন কৃষকের ইজারা চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত সমস্ত শর্ত মেনে নেওয়া; দ্বিতীয়ত, সাধারণ কৃষকদের থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব প্রত্যাশা করা হতো, তাঁদেরও ঠিক সেই পরিমাণ রাজস্বই প্রদান করা; তৃতীয়ত, নির্ভরযোগ্য জামানত দেওয়া; এবং চতুর্থত, সরকারের অনুকূলে একটা বিশেষ অধিকার বা ‘সংরক্ষণ’ মেনে নেওয়া — যাতে বর্তমান ইজারা চলাকালীন সময়েই, যদি বর্তমান হিসাব-নিকাশ ত্রুটিপূর্ণ মনে হয় কিংবা তথ্য গোপনের সন্দেহ জাগে, তবে ভবিষ্যতে নতুন বন্দোবস্তের সময় সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকার তাঁদের দখলভুক্ত জমির একটি সঠিক ‘হস্তবুদ’ (হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে মূল্যায়ন) প্রস্তুত করতে পারে অথবা জমিটি জরিপ করে পরিমাপ করে নিতে পারে।”

প্রথম পদ্ধতিটির বিষয়ে হেস্টিংস এই আপত্তি তোলেন যে, এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হলে জমিদাররা অন্যায্য ঝুঁকির মুখে পড়বেন। প্রথমত, এই পদ্ধতি তাঁদের নিছক পেনশনভোগীর অবস্থানে নামিয়ে আনবে এবং ভূস্বামী হিসেবে তাঁদের দাবিদাওয়া মুছে ফেলার উপক্রম করবে। দ্বিতীয়ত, ইজারাদারেরা (farmers) যখন এস্টেট বা ভূসম্পত্তির ওপর নিজেদের দখল পাকাপোক্ত করে নেবেন, তখন মূল জমিদারদের বংশধারা কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে; আর নাবালক উত্তরাধিকারীদের পালা যখন চলবে, তখন উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়টি অস্পষ্টতা, সন্দেহ এবং বিতর্কের আবর্তে জড়িয়ে পড়বে। “জমিদার ও তালুকদারদের এই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া আমাদের ন্যায়বিচারের ধারণার সাথে যেমন সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তেমনি আপনাদের [অর্থাৎ, পরিচালকদের] আদেশের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় — যে আদেশে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ‘আমরা যেন আকস্মিক পরিবর্তনের মাধ্যমে শাসনকাঠামোকে বদলে না ফেলি, কিংবা জমিদার প্রমুখকে তাঁদের প্রাচীন বিশেষাধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না করি’।”

দ্বিতীয় পদ্ধতিটির সমর্থনে হেস্টিংস এই যুক্তি উপস্থাপন করেন:

“দীর্ঘকাল ধরে তাঁদের পরিবারগুলোর হাতেই জমিজমা থাকার সুবাদে, এটিই ধরে নেওয়া সঙ্গত যে, তাঁরা সংশ্লিষ্ট জেলায় নিজেদের কর্তৃত্বকে সুদৃঢ় করেছেন, রায়ত বা প্রজাদের মনোজগতের ওপর এক ধরনের প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং তাঁদের স্নেহ-ভালোবাসা অর্জন করেছেন। এই ধরনের কারণগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে, যদি তাঁদেরকে সম্পূর্ণভাবে অধিকারচ্যুত করা হয়, তবে এর ফলাফল হিসেবে এমন সব গুরুতর অশুভ প্রভাব দেখা দিতে পারে — যা বিভক্ত কর্তৃত্বের যাবতীয় কুফলের চেয়ে কোনো অংশে কম হবে না; এটা রাজস্ব আয়ের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং জমিজমা পরিত্যক্ত ও জনশূন্য হয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। উল্টোদিকে, জমিজমা যদি তাঁদেরই ব্যবস্থাপনায় রাখা হয় — যাঁদের এই ভূসম্পত্তির সমৃদ্ধির প্রতি একটি স্বাভাবিক ও চিরস্থায়ী স্বার্থ বা আগ্রহ রয়েছে (অবশ্য শর্ত থাকে যে, সেই ভূসম্পত্তির মূল্য যেন অত্যধিক না হয়) — তবে এর ফলে সুদৃঢ় ও বাস্তবসম্মত সুফল লাভের আশা করা যেতে পারে। এমতাবস্থায়, প্রতিটি বিবেচনাই আমাদের সেই দিকেই ধাবিত করে যে — যেখানে পূর্বোল্লিখিত সুফল লাভের সম্ভাবনা বিদ্যমান — সেখানে নিম্নবর্গীয় জমিদার ও তালুকদারদের সাথে বন্দোবস্ত করার ক্ষেত্রে আমরা যেন দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই গ্রহণ করি।”

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev